বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তব্য | বিজয় দিবসের উপস্থাপনা - Victory Day presentation

বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তব্য নিয়ে নিওটেরিক আইটির এই চমৎকার আর্টিকেলে আপনাকে স্বাগতম । এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিষ্টানে সুন্দর উপস্থআপন করতে পারবেন । বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তব্য - বিজয় দিবসের উপস্থাপনা - Victory Day presentation - NeotericIT.com

বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তব্য - বিজয় দিবসের উপস্থাপনা - Victory Day presentation - NeotericIT.com


বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তব্য

আপনি যদি আপনার প্রতিষ্টান কিংবা কোন এক অনুষ্টানে বিজয় দিবস নিয়ে বক্তব্য রাখতে যান অথবা কিছু সুন্দর কথাবার্তা বলতে চান সবার সামনে তাহলে বিজয় দিবস নিয়ে আপনাকেও ভালো কিছু ধারনা করে নিতে হবে । আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনারা বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে বক্তব্য রাখার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য সঠিক কিছু তথ্য খুজে পাবেন । এবং কিভাবে বক্তব্য শুরু করবেন শেষ করবেন । তাছাড়া কিভাবে গুছিয়ে কথা বলবেন , তা নিয়ে সংক্ষেপে বিস্তারিত নিয়ে হাজির হয়েছি আমি নিওটেরিক আইটির একজন সদস্য । চলুন শুরু করি । 

বিজয় দিবসের উপস্থাপনা


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম


আজ "মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য" শীর্ষক আলোচনা সভার সম্মানিত সভাপতি এবং মঞ্চে উপবিষ্ট সকল অতিথিবৃন্দকে জানাই আমার আন্তরিক সালাম আস-সালামু আলাইকুম এবং "মহান বিজয় দিবসের" অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। 

সুধী,আজ ১৬ই ডিসেম্বর, বাঙালি জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসের যে মহান বিজয় অর্জিত হয়েছে তা চির অম্লান।  যুগ যুগ ধরে তা আমাদের জীবনে অনুপ্রেরণা দান করতে থাকবে। 

আমাদের জাতীয় জীবনে বিষয়টির গুরুত্ব যে অপরিসীম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন একটি বিষয়ে বক্তৃতা দিতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি।  

আমাকে এ দুর্লভ সুযোগ দেওয়ার জন্য আজকে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। 

প্রিয় সুধীবৃন্দ, আপনারা নিশ্চিয় অবগত আছেন যে, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে কালরাতে যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সৃষ্টি হয়েছিল তার গৌরজনক সমাপ্তি ঘটে সেট  বছরেই ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি পরাজিত জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বে প্রায় ৯২ হাজার সেন্য নিয়ে ঢাকা রেসকোর্স ময়দানে সন্মেলিত বাহিনী বাঙালির কাছে আত্নসমার্পনের মাধ্যমে সেদিন প্রমাণিত হয়েছিল আমরা দেশের আয়তনের বিচারে ছোট হতে পারি, কিন্তুু জাতি হিসেবে আমরা মোটেও ছোট নই। 


সুধীবৃন্দ,আজ ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের মহান বিজয় দিবসে। এ দেশের জাতীয় জীবনে এ দিবসটি সবচাইতে গৌরবদীপ্ত ও পবিত্রতম দিন। বিজয় দিবসের আন্দোচ্ছ্বল এ মূহুর্তে প্রথমেই যাদের কথা মনে পড়ে তারা হলেন, এ দেশের অসংখ্য দেশপ্রেমিক শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, যারা বুকের তাঁজা রক্ত ঢেলে এ দিনে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। আজ এ পুন্য দিবসে প্রথমেই সালাম জানাই এ- দেশের সেইসব বীরসন্তান স্বাধীনতার শহীদের, আর স্মরণ করি আমাদের জাতীয় নেতাদের যারা স্বাধীনতা আন্দোলনকে চূড়ান্ত বিজয়ের পথে পরিচালিত করেছিল। 


১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার মানুষ পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক স্বৈরশাসনের ২৪ বছরের গ্লানি থেকে মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছিল। 


বিশ্বের মানচিত্রে আজ বাংলাদেশ আজ একটি স্বাধীন দেশ, আমরা এ স্বাধীন দেশের নাগরিক। জাতীয় অগ্রগতি ও চেতনার মূলে বিজয় দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। 


সুধী,যে এিশ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে তার মহান গৌরব এ দিবসটির সঙ্গে জড়িত থেকে একে জাতীয় জীবনের সীমাহীন প্রেরণা উৎস করেছে। এই বিজয় দিবস আমাদের গর্বের নিদর্শন। 


বাঙালি জাতি এই দিনে বিজয়ের সূত্রেই বীর জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এই দিনে স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙালির জয়যাত্রার শুরু। 


আমাদের এ কথাটি ভুলে গেলে চলবে না সমগ্র দেশবাসীর আকাঙ্ক্ষা ও আত্নত্যাগের ফলেই এই বিজয় সম্ভবপর হয়েছিল। স্বাধীনতা অর্জিত হলেই সংগ্রাম শেষ হয়ে যায় না। তখন বিজয়ী জাতির সামনে আসে স্বাধীনতা রক্ষার সংগ্রাম। এ সংগ্রামে আরও বেশি ত্যাগ-তিতিক্ষা ও শক্তি সামর্থোর প্রয়োজন হয়। 


প্রিয় সুধীবৃন্দ, বিজয় শব্দটির সঙ্গে যে স্বপ্ন একদা দেশবাসী দেখেছিল আজও তা বাস্তবে রূপায়িত করা সম্ভব হয়নিই। সম্প্রতি আপনারা লক্ষ করেছেন। পারস্পরিক দ্বন্দৃ, পরমত সহিংসতা, রাজনৈতিক উগ্র উম্মাদনা, সামাজিক অবক্ষয়, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও সংঘাতের সশন্ত্র বিক্ষোভ যা আমাদের জাতীয় জীবনের উপসর্গরূপে দেখা দিয়েছে। এ সকল অপশক্তি দেশে এনেছে অশান্তি বিশৃঙ্খলতা, 

রক্তক্ষয়ী সংঘাত, নিরাপওাহীন সন্ত্রাস।

স্বাভাবিক ভাবে মনে প্রশ্ন জাগে, আমরা কী এ স্বাধীন দেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম ? এ কী আমাদের ইতিহাস ও সভ্যতার মূলমন্ত্র। 

এভাবে কী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা হবে ? 

স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পর এখনো দেশের  অসংখ্য ব্যাক্তি অশিক্ষিত ও দরিদ্র অবস্থায় রয়েছে। জনগণের জীবনের  নিরাপত্তার বিঘ্নিত হচ্ছে। বেকারত্বের জালে বেঁধে অসংখ্য যুবক বেছে নিচ্ছে সন্ত্রাস আর ড্রাগের মরণনেশা। 


এক কথায় এখনো আমরা আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে পারিনিই। আমরা বিজয় অর্জন করেছি, স্বাধীন দেশ পেয়েছি। কিন্তুু তার তাৎপর্যের সঠিকভাবে বাস্তবয়ন ঘটাতে পারি নি বলে এ দেশের জনগণের এখনো মুক্তি মেলে নিই! 

আসুন আমরা আমাদের সকল দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের মধ্য দিয়ে দেশকে গড়ে তুলি। কারণ সমাজের কাছে আমরা প্রতিটি ব্যাক্তিই দায়বদ্ধ। ঋণ পরিশোধের দায়-দায়িত্ব ও কর্তব্য ও আছে আমাদের। অন্নহীনকে অন্ন এবং  নিরক্ষরকে শিক্ষা দিয়ে এই স্বাধীনতা কে সার্থক করে তুলতে হবে। 


তাই সবরকম বিভেদ-বিচ্ছেদ ভুলে, হানাহানি সংঘাত দূর করে দেশে গড়ার কাজে ব্রতী হই। দেশ ও দেশের স্বার্থের প্রশ্নে সমাজের সকল বিবেকবান মহলেরেই উচিত একযোগে কাজ করা এখানে বিভেদ নয় ঐক্য কাম্য। 

সুধীবৃন্দ, এতক্ষণ যারা অসীম ধৈর্য নিয়ে আমার বক্তব্য শুনেছেন আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এবং আমার বক্তব্য তে  যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে। তাহলে আপনারা দয়া করে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। এ বলে আমি আমার বক্তব্য এখানেই শেষ করছি। "আল্লাহ হাফেজ" 


আস-সালামু আলাইকুম।



বিজয় দিবসের উপস্থাপনা করতে আরো জানুন

বিজয় দিবসের ইতিহাস | ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ এর ইতিহাস | বিজয় দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য - History of Victory Day বিজয় দিবস পোস্টার ডিজাইন | মহান বিজয় দিবসের পোস্টার | বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা পোস্টার বিজয় দিবসের দেশাত্মবোধক গান | জনপ্রিয় দেশাত্মবোধক গান | বিজয়ের গান - bijoyer gan বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা ব্যানার | মহান বিজয় দিবসের ব্যানার | বিজয় দিবস ব্যানার - bijoy dibosh banner বিজয় দিবস ব্যানার ডিজাইন | বিজয় দিবসের ব্যানার ব্যাকগ্রাউন্ড | বিজয় দিবস শুভেচ্ছা ব্যানার ছবি বিজয় দিবস নিয়ে বিখ্যাত কবিতা | বিজয় দিবসের কবিতা আবৃত্তি | বিজয় দিবসের কবিতা ২০২২ বিজয় দিবসের ছবি ডাউনলোড | বিজয় দিবসের ছবি অংকন | বিজয় দিবসের দৃশ্য আঁকা ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস নিয়ে কবিতা, ছন্দ, স্ট্যাটাস , উক্তি , চিঠি, বক্তব্য ইত্যাদি
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url