শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story

ভালোবাসার গল্প,আবেগি ভালোবাসার গল্প,রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প,আবেগি ভালোবাসা,রাগী মেয়ের ভালোবাসার গল্প,ভালোবাসার গল্প কষ্টের,ভালোবাসার কষ্টের গল্প,

আচ্ছালামু আলাইকুম প্রিয় ভিজিটর - নিওটেরিক আইটির পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম । আপনি নিশ্চয় শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story সম্পর্কে জানার জন্য নিওটেরিক আইটিতে এসেছেন । আজকে আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story নিয়ে আলোচনা করে এই আর্টিকেল সম্পন্ন করব । শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story সম্পর্কে আরো জানতে গুগলে সার্চ করুন - শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story লিখে অথবা NeotericIT.com এ ভিসিট করুন । নিওটেরিক আইটির নতুন পোস্ট ইমেইলের মাধ্যমে পেতে আপনার ইমেইল দিয়ে সাবস্ক্রাইব করুন । আর্টিকেলের মূল বিষয় বস্তু সম্পর্কে জানতে পেইজ সূচি তালিকা দেখুন।

আপনারা যারা প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসার গল্প পরতে চান তাদের জন্য আমদের এই পেইজে নিয়ে সেছি ভালোবাসার সুন্দর একটা গল্প । অনেকেই ভালোবাসার গল্প,আবেগি ভালোবাসার গল্প,রোমান্টিক ভালোবাসার গল্প,আবেগি ভালোবাসা,রাগী মেয়ের ভালোবাসার গল্প,ভালোবাসার গল্প কষ্টের,ভালোবাসার কষ্টের গল্প,অবহেলিত ভালোবাসার গল্প,প্রেমের গল্প,অনেক কষ্টের ভালোবাসার গল্প,আবেগি মনের ভালোবাসার গল্প,গুন্ডি মেয়ের ভালোবাসার গল্প,আবেগি অনুভূতি ভালোবাসার গল্প,অহংকারী মেয়ের ভালোবাসার গল্প,অহংকারী মেয়ের ভালোবাসা,ভালবাসার কষ্টের গল্প,ভালোবাসার প্রতিশোধ,আবেগি কষ্টের ভালোবাসার গল্প💔,অসমাপ্ত ভালোবাসা,প্রেমের গল্প কষ্টের ইত্যাদি লিখে গুগলে সার্চ করে থাকেন তাদের জন্য আজকেই এই গল্প । আমাদের নিওটেরিক আইটিতে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু গল্প পোস্ট শেয়ার করা হয় আপনি আমাদের ওয়েবসাইটে ভিসিট করেই দেখলেই নতুন কিছু খুজে পাবেন । 
শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প  -  Emotional love story


শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প 

একটি আবেগি ভালোবাসার গল্প

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১

বসন্তের এক দুপুরে তাদের প্রথম দেখা।
আকাশী পাঞ্জাবী সাথে ব্লু জিন্স,চোখে চশমা আর হাতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী কাব্যগ্রন্থ শুভ্রকে এতো সুন্দর লাগছিল যে শ্রীয়াঙ্কা চোখ ফেরাতে পারছিল না।কিন্তু হুঁশ ফেরে শুভ্রর ডাকে।
এই কী ভাবছ?ফার্স্ট ইয়ার?ক্লাস খুঁজে পাচ্ছ না।-শুভ্র 
না,মানে-----শ্রীয়াঙ্কা
মানে মানে করছো কেন?ওইদিকে নোটিশ বোর্ড টাঙানো আছে,তাতে রুটিন লেখা আছে।যাও গিয়ে দেখে নাও কত রুমে ক্লাস-শুভ্র 
আমি থার্ড ইয়ারে পড়ি-আমতা আমতা করে বলে শ্রীয়াঙ্কা
তাহলে অমনভাবে তাকিয়ে আছো কেন?দেখে মনে হচ্ছে কলেজে নতুন এসেছো-শুভ্র 
আসলে আমি ---- শ্রীয়াঙ্কা
যাও,ক্লাসে যাও- বলে শুভ্র চলে যায়।
এক মুহুর্তে কী যে ঘটল শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারল না। কে এই ছেলেটি?কোনোদিন তো কলেজে দেখিনি।এই সব ভাবতে ভাবতে ক্লাসে যায় শ্রীয়াঙ্কা।
শ্রীয়াঙ্কা বাংলা সাম্মানিকের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।মা,বাবা আর বোনের সাথে কলকাতায় থাকে।
এ বছরই সে তৃতীয় বর্ষে  উঠেছে।পড়াশোনাতে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্রী শ্রীয়াঙ্কা।কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকারা শ্রীয়াঙ্কাকে খুব ভালোবাসেন।শুধু মাত্র পড়াশোনার জন্য নয়,তার মিষ্টি স্বভাবের জন্য সে সবার প্রিয়।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার একটাই দোষ সেটি হলো তার রাগ।অবশ্যই তার কারণ থাকে।কোনো কারনে কারোর উপর রেগে গেলে সে যদি এসে শ্রীয়াঙ্কার কাছে ক্ষমা চায় তাহলে শ্রীয়াঙ্কা মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারে না।কিন্তু সেই রাগ যদি কেউ না ভাঙায় তাহলে সেই রাগের পাহাড় বাড়তেই থাকে।আর তা পরিনত হয় অভিমানে।যা ভাঙানো খুবই কষ্টকর।
ক্লাসে ঢুকতে যাবে এমন সময় বান্ধবীরা তাকে ঘিরে ধরল।
কী রে কাল আসলি না কেন?-মনি
কেন কী হয়েছে?কাল কী শ্রাবন্তী ম্যাডাম কোনো পড়া বুঝিয়েছেন?-শ্রীয়াঙ্কা
কাকে কী বলছিস মনি,ও কী পড়া ছাড়া কিছু জানে-সুপর্ণা
কী ব্যাপার বলতো?-শ্রীয়াঙ্কা
কাল আমাদের এক নতুন স্যার ক্লাস নিয়েছেন-মনি
স্যার?-শ্রীয়াঙ্কা
হ্যাঁ রে,কী দেখতে স্যার বলে মনে হয় না- সুপর্ণা
কিন্তু আমাদের ডিপার্টমেন্টে তো কোনো স্যার ছিল না।-শ্রীয়াঙ্কা 
হ্যাঁ,এ বছর নতুন জয়েন করেছে।-মনি
পার্মানেন্ট নয়, পার্ট টাইম লেকচার হিসাবে,সপ্তাহে চারদিন ক্লাস-সুপর্ণা
শ্রীয়াঙ্কার ভাবতে থাকে তাহলে কী  একটু আগে যার সাথে দেখা হল সেই।হতেই পারে কারণ তার হাতে তো তাদের এ বারের পাঠ্য সোনার তরী ছিল।শ্রীয়াঙ্কার ভাবনার ছেদ ঘটে এরমধ্যেই ক্লাসে যে এসেছে তাকে দেখে।
  GOOD MORNING SIR--ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা  বলে ওঠে।
                     GOOD MORNING ALL --
ক্লাসরুমে যে এসেছে তাকে দেখে শ্রীয়াঙ্কা অবাক হয়ে যায়।সে যা ভেবেছে তাই,যার সাথে কিছুক্ষণ আগে দেখা হয়েছিল সেই এখন তার সামনে দাঁড়িয়ে।
সবাই বসো।আমাকে হয়তো অনেকেই চেনো না।কাল যারা এসেছিল তারা সবাই জানে।আমি তোমাদের কলেজে নতুন জয়েন  করেছি।তোমাদের পাঠ্য সোনার তরী আমি পড়াব।-শুভ্র
অনেকেই বলে জানি স্যার।আর যারা জানে না তারা কৌতূহলী হয়ে তাদের বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে থাকে।অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কা শুধু শুভ্রকে দেখে চলেছে।শুভ্র পড়ানো আরম্ভ করেছে।এতো সুন্দর করে শুভ্র পড়াচ্ছে যে শ্রীয়াঙ্কা মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে আছে।আসলে প্রথম দেখাতেই শুভ্রকে ভালোলেগে গেছে শ্রীয়াঙ্কার।একে দেখতে সুন্দর,তার উপর চলাফেরা,কথাবার্তা আর অসম্ভব সুন্দরভাবে পড়ানো
যে কোনো মেয়েই শুভ্রর প্রেমে পড়ে যাবে।শ্রীয়াঙ্কার ক্ষেত্রে এই ঘটনাই ঘটেছে।
শুভ্র লক্ষ্য করে একটি মেয়ে তার দিকে অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে আছে।সামনে বই নেই।দেখেও তো মনে হচ্ছে শুনছে না।
অনেকক্ষন ধরে লক্ষ্য করার পর শ্রীয়াঙ্কাকে উদ্দেশ্য করে বলে-এই তোমার নাম কী?
কিন্তু শুভ্র যে তাকে কিছু বলছে সেইদিকে শ্রীয়াঙ্কার কোনো হুঁশ নেই।সে সেরকমভাবেই শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে।
পাশে থেকে মনি ধাক্কা দিয়ে বলে -এই শ্রী,স্যার ডাকছেন।(কাছের মানুষেরা ভালোবেসে শ্রীয়াঙ্কাকে শ্রী বলে ডাকে)
মনির ধাক্কাতে শ্রীয়াঙ্কার সম্বিত ফেরে।
কী রে,কী হয়েছে-শ্রীয়াঙ্কা মনির দিকে ফেরে।
স্যার তোকে ডাকছেন-শ্রীয়াঙ্কা
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।দেখে শুভ্র তার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।শ্রীয়াঙ্কা দাঁড়িয়ে মাথা নীচু করে থাকে।
শুভ্র-পড়াশোনার ইচ্ছা নেই তো কলেজে এসছো কেন?
শ্রীয়াঙ্কা--------
শুভ্র-কী  হল চুপ করে আছো কেন?
শ্রীয়াঙ্কা-না,মানে 
শুভ্র-বলো তো আমি কোন কবিতা পড়াচ্ছি।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে থাকে।
শুভ্র-পরের বার থেকে এরকম যেন না দেখি।বসো আর বইটা সামনে রাখো।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নেড়ে বসে থাকে।অন্যদিকে ক্লাসের সবাই অবাকভাবে তাকিয়ে আছে।স্যার শ্রীয়াঙ্কাকে বকলেন!ক্লাসের সবচেয়ে ভালো ছাত্রী যার প্রশংসায় কলেজের ম্যাডামরা পঞ্চমুখ স্যার তাকে বকলেন।
এদিকে ঘন্টা পড়ে যায়।শুভ্র ক্লাস থেকে বেরিয়ে গেলে শ্রীয়াঙ্কার বান্ধবীরা তাকে ঘিরে ধরে।
শ্রীয়াঙ্কা তখনও বইয়ের দিকে তাকিয়ে।
সুপর্ণা-কী রে কী হয়েছে?
শ্রীয়াঙ্কা বইটা ব্যাগে রাখতে রাখতে বলে-কিছু না।চল,ছন্দা ম্যাম যেটা লিখতে দিয়েছিলেন সেটা  গিয়ে দেখিয়ে আসি।
মনি-আমি কাল দেখিয়েছি।
সুপর্ণা-আমি কাল দেখাবো।
শ্রীয়াঙ্কা-আচ্ছা,তাহলে আমি যাচ্ছি।
যেতে গিয়েও সে আবার ঘুরে আসে।
শ্রীয়াঙ্কা-ওই,মাম্পি এলো না কেন?
সুপর্ণা-ওর শরীরটা খারাপ।
শ্রীয়াঙ্কা-হুম,শুনেছিলাম জ্বর হয়েছিল।কমেনি?
মনি-জানিস তো ওর অবস্থা।বাবা নেই,মার উপর সব।তাই অনেক পরে ডাক্তার দেখিয়েছিল।শুনলাম ডাক্তার দেখিয়েছে একটু সুস্থ।
শ্রীয়াঙ্কা-ও,আজ কলেজ ছুটির পর যাবি ওদের বাড়ি?
মনি ও সুপর্ণা-হ্যাঁ 
তারপর শ্রীয়াঙ্কা চলে যায়।টিচার্স রুমের দরজার কাছে গিয়ে ভিতরের দিকে দেখতে থাকে ছন্দা ম্যাডাম  আছেন কিনা।অবশেষে ম্যাডামকে দেখতে পেয়ে বলে-ম্যাম আসব।
ছন্দা ম্যাম-এসো
শ্রীয়াঙ্কা ঘরে ঢুকতেই দেখে সেখানে শুভ্রও বসে।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করে ম্যামের কাছে যায়।
ছন্দা ম্যাম-কিছু বলবে শ্রীয়াঙ্কা।
শ্রীয়াঙ্কা- আপনি যেটা লিখতে দিয়েছিলেন সেটা লিখে  এনেছি।
ছন্দা ম্যাম-আচ্ছা,দাও ছুটির আগে নিয়ে যেও।
শ্রীয়াঙ্কা-ঠিক আছে।
শ্রীয়াঙ্কা ঘর থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল।ছন্দা ম্যাম ডাকে।শ্রীয়াঙ্কা ঘুরে আসে।
ছন্দা ম্যাম-কলেজে নবীন বরণের অনুষ্ঠান করতে হবে।তাই এবারও সব দায়িত্ব তোমার।
পাশে থেকে শ্রাবন্তী ম্যাম  হেসে বলে-আগের বারের মতো অনুষ্ঠান চাই।
শ্রীয়াঙ্কা- হ্যাঁ ম্যাম,চেষ্টা করবো।
শ্রীয়াঙ্কাকে দেখিয়ে ছন্দা ম্যাম শুভ্রকে বলে-এ আমাদের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী।খুব ভালো মেয়ে।তুমি তো ওদের ক্লাস নিচ্ছ কেমন দেখলে?
শ্রীয়াঙ্কা আর শুভ্র পরস্পরের দিকে তাকায়।শুভ্রর চোখে চোখ পরতেই শ্রীয়াঙ্কা চোখ নামিয়ে নেয়।
ছন্দা ম্যামের কথায় শুভ্র অবাক হয়ে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা-তাহলে ম্যাম আমি আসি।ক্লাস আছে।  
ছন্দা ম্যাম-হ্যাঁ এসো।
শ্রীয়াঙ্কা চলে যায়।শ্রাবন্তী ম্যাম বলে-সত্যি মেয়েটা খুব ভালো।পড়াশোনা তো করেই,তার পাশপাশি সমস্ত অনুষ্ঠানেও সমান আগ্রহ।
ছন্দা ম্যাম-হ্যাঁ,যা বলেছো।
শুভ্র ওদের কথা শোনে।ভাবতে থাকে যাকে কিনা সে কিছুক্ষণ আগে বকে এলো তার প্রশংসা!তাহলে কী মেয়েটাকে সে ভুল বুঝল।
শুভ্র মনে মনে বলে-আমি অতো ভাবছি কেন।দোষ করেছিল বকেছি।তাছাড়া আমি এখানে শুধুমাত্র পড়াতে এসেছি তাও বেশিদিনের জন্য নয়।
আসলে শুভর এটা পার্মানেন্ট চাকরি নয়।সে আরো ভালো কিছুর জন্য পড়াশোনা করছে।সে একে কলকাতায় ভাড়া থাকে।মা বাবা দেশে থাকে।সে জ্ঞান হওয়ার পর থেকে দেখছে বাবা মার কতো কষ্ট।কতো কষ্ট করে তাকে বড় করেছে।তাই তার এখন একমাত্র
কর্তব্য বাবা মার কষ্ট দূর করা।তাই শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার ভাবনাকে সরিয়ে পরের ক্লাসের জন্য চলে যায়।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ২

আজ রবিবার, কলেজ ছুটি।এইদিনে শ্রীয়াঙ্কা বাড়িতে থাকতে পছন্দ করে।সবাই একসাথে বাড়িতে থাকার মজাই আলাদা।কিন্তু আজ বাড়িতে তার মন বসে না।ঘুরতে ফিরতে এক কথা।কলেজটা কবে খুলবে।
সে সব শুনে ওর বোন বলে-কালই তো গেলি।এমন বলছিস যেন কত্তদিন কলেজ যাচ্ছিস না।
সেসব শুনেও শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।চুপ করে জানলার বাইরে চোখ রাখে।কিন্তু সেও মনে ভাবে সত্যি তো তার কেন এমন মনে হচ্ছে।
পরদিন শ্রীয়াঙ্কা তাড়াতাড়ি কলেজে আসে।কারন আগের দিন তারা মাম্পির বাড়িতে গিয়েছিল।মাম্পির একটি বই পড়ার জন্য লাগবে। কিন্তু সে অসুস্থ কলেজে যেতে পারছে না। তাই শ্রীয়াঙ্কা মাম্পির জন্য  বই তুলতে একাই লাইব্রেরীতে আসে।মনি সুপর্ণা তখনও আসেনি।তাই ও মনির বইটা নিয়ে নিজের জন্য একটি বই নিতে গেলে দেখে একজনও নেবে বলে বইটা ধরেছে।সে আর কেউ নয়,শুভ্র।
শুভ্র  আজ শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে চোখ ফেরাতে পারছে না। দুধে আলতা রঙের একটা টপ, সাদা রঙের একটা লংস্কার্ট আর চুলগুলো হালকা করে একটা ক্লিপ দিয়ে বাঁধা। এতো সাধারন সাজ তাও তাকে অসাধারণ লাগছে।
শ্রীয়াঙ্কা-স্যার আপনি বইটা নিন।
শ্রীয়াঙ্কার কথাতে শুভ্রর হুঁশ ফেরে।
শুভ্র-না,ঠিক আছে।আমি পরে নেব।
শ্রীয়াঙ্কা-কিন্তু---
শুভ্র কিছু না বলে শ্রীয়াঙ্কার হাতে বইটা দিয়ে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কার হাতে বইটা দেওয়ার সময় শুভ্রর হাত শ্রীয়াঙ্কার হাতকে স্পর্শ করে।শ্রীয়াঙ্কা শিহরিত হয়ে ওঠে।বুকের ভিতর কেমন যেন হতে থাকে।বইটা হাতে নিয়ে বুকে হাত দিয়ে শুভ্রর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।
ক্লাসরুমে এসে নিজের জায়গাতে আনমনা হয়ে বসে থাকে।মনি সুপর্ণাও কলেজে চলে এসেছে।
সুপর্ণা ওকে দেখতে পেয়ে বলে-এই কী রে,কোথায় গিয়েছিলিস?
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা তখন এ জগতে নেই।
মনি এগিয়ে আসে-দেখ সুপর্ণা,শ্রী দিন দিন যেন ভাবুক হয়ে যাচ্ছে।
সুপর্ণা-তুই চুপ কর।এই শ্রী---
শ্রীয়াঙ্কা-নিরুত্তর।
মনি-কী বলেছিলাম।দেখ,দাঁড়া--
এই বলে মনি শ্রীয়াঙ্কার কাঁধ ধরে ঝাঁকিয়ে দেয়।
শ্রীয়াঙ্কা-এই কে?
মনি-ভুত।
শ্রীয়াঙ্কা-এমন করলি কেন?
সুপর্ণা-তোকে এ জগতে আনতে ও করেছে।তোর কী হয়েছে বলতো?
শ্রীয়াঙ্কা-কিছু নয় রে।
সুপর্ণা-কোথায় ছিলিস?
মনি-তোর মনে নেই,ও তো মাম্পির জন্য বই তুলতে যাবে বলেছিল।আমাদের আসতে আজ দেরি হবে তাই ওই যাবে বলল।
সুপর্ণা-ওও
মনি-এই আজ কৌশিক তোকে খুঁজছিল।
শ্রীয়াঙ্কা-ওর কথা বাদ দে।
ওদের কথার মাঝেই কৌশিক এগিয়ে আসে।
কৌশিক-কী রে পরশু আসলি না কেন?
মনি ব্যঙ্গ করে -তুই কাল আসিস নি কেন রে?
শ্রীয়াঙ্কা- মনি চুপ কর।
কৌশিক-তোকে যেটা বলেছিলাম---
শ্রীয়াঙ্কা-কৌশিক তুই যা এখন।
কৌশিক শ্রীয়াঙ্কার সাথে পড়ে।অনেকদিন ধরে সে শ্রীয়াঙ্কাকে বলছে সে শ্রীয়াঙ্কাকে ভালোবাসে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা ততবার না বলেছে।কিন্তু ও শোনে না।
কৌশিক কিছু বলতে যাবে ম্যাডাম ক্লাসরুমে আসেন।তারপর ক্লাস শুরু হয়।আর অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কার উপর নবীন বরণের দায়িত্ব পড়ায় কে কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতে উৎসাহী নামের তালিকা করতে থাকে।তার জন্য সে দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাসরুমের দিকে জানতে যায়।কিন্তু সে শুভ্রকে  সে দেখতে পায়নি।শুভ্র ক্লাস রুমের পিছনের দিকে একজনের খাতা দেখছিল।শ্রীয়াঙ্কা ক্লাসে ঢুকে পড়েছে।শ্রীয়াঙ্কা ক্লাসরুমে ঢুকে শুভ্রকে দেখা মাত্রই বলে-
সরি স্যার,আসলে আমি বুঝতে পারিনি।
এই বলে সে চলে যাচ্ছিল।পিছন থেকে শুভ্র ডেকে  বলে-কিছু কী বলবে?
হ্যাঁ,আমি জানতে এসেছিলাম কারা নবীনবরণে অংশগ্রহণ করবে-শ্রীয়াঙ্কা
আচ্ছা-শুভ্র
তাহলে আমি পরে আসবো-শ্রীয়াঙ্কা
কেন?এসেছো যখন নামগুলো নিয়ে যাও-শুভ্র
তারপর শুভ্র সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলে তোমরা যারা যারা অংশগ্রহণ করতে চাও তারা ওর কাছে গিয়ে নাম বলো।শুভ্রর বলার সাথে সাথে অনেকেই শ্রীয়াঙ্কা দি,শ্রীয়াঙ্কা দি বলে শ্রীয়াঙ্কাকে ঘিরে ধরে।শুভ্র অবাক হয়ে যায় মেয়েটিকে সবাই চেনে,সবাই ভালোবাসে।শ্রীয়াঙ্কাকে ঘিরে ধরার ফলে শ্রীয়াঙ্কা সকলকে অনুরোধ করে চুপ করতে বলে।কারন সে কারোর কথা বুঝতে পারছে না।কিন্তু কে শোনে কার কথা।সবাই সেই একই ভাবে কথা বলতে থাকে।বার বার সে সবাইকে চুপ করতে বলে।
কিন্তু কেউ না শুনলে হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কা চিৎকার করে বলে-কাউকে কিছু করতে হবে না।আমি কারোর নাম নেবো না।
শুভ্র এতক্ষণ একটি ছেলের খাতা দেখছিল।শ্রীয়াঙ্কার চিৎকারে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে তার চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে।শুভ্র বুঝতে পারে।তাই থমথমে পরিবেশে শুভ্র প্রথমেই বলে-তোমরা কে কী করবে এক একজন করে ওর কাছে বলো।
শ্রীয়াঙ্কা বলে-স্যার,ওরা পরে গিয়ে নাম দিয়ে আসবে। আপনি ক্লাসটা করিয়ে নিন।
শুভ্রকে কিছু বলতে না দিয়ে শ্রীয়াঙ্কা ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার ব্যবহারে অবাক হয়ে যায়।ভাবে এত রাগ দেখলে বোঝা যায় না।
অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কা নিজের ক্লাসরুমে চলে আসে।নিজের জায়গায়  চুপচাপ বসে থাকে।মনি আর সুপর্ণা ওর চোখ দেখে বুঝতে পারে কিছু তো হয়েছে।আর ও আসতেই কৌশিক আবার আসে।
কী রে,কী করছিস?-কৌশিক
শ্রীয়াঙ্কা চুপ।
কী রে শ্রী-কৌশিক
তোকে না কতো বার বলেছি আমাকে শ্রী বলে ডাকবি না।-শ্রীয়াঙ্কা
কারন ও চায় না ওর কাছের লোক ছাড়া ওকে কেউ ওই নাম ডাকে।ও কথাটা এতো জোরে বলে সবাই ওদের দিকে তাকায়।ওর ব্যবহারে কৌশিক চলে যায়।
তারপর দ্বিতীয় বর্ষের ছেলে মেয়েরা এসে নাম লিখিয়ে যায়।তারপর ওদের ক্লাস চলে।ছুটির সময় ম্যাডামদের সাথে অনুষ্ঠানের বিষয়ে শ্রীয়াঙ্কা কথা বলতে যায়।আর বান্ধবীদের বলে বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে ওর জন্য অপেক্ষা করতে।আর বাস পেয়ে গেলে যেন চলে যায়।ওরা যেতে চায় না।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা ঠেলে ঠেলে পাঠায়।
ম্যাডামদের কাছ থেকে আসার সময় সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে একজনের সাথে ধাক্কা।পড়ে যাচ্ছিল
কিন্তু কেউ ধরে ফেলে।দুটো বলিষ্ঠ হাত তার কাঁধটা ধরে ফেলে।সে আর কেউ নয়,আমাদের শুভ্র স্যার।
শুভ্র তাকিয়ে আছে শ্রীয়াঙ্কার দিকে।শ্রীয়াঙ্কা তো চোখ বন্ধ করে।আর শুভ্র দেখছে শ্রীয়াঙ্কাকে।
হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কাকে ছেড়ে দিয়ে বলে-চোখটা খোলো।পড়ে যাও নি।ঠিক আছো।
শ্রীয়াঙ্কা চোখ খুলে নিজিকে সরিয়ে নেয়।
দেখে চলতে পারো না।-শুভ্র
ভুল হয়ে গেছে-শ্রীয়াঙ্কা
আচ্ছা,যাও- বলে শুভ্র ঘড়ির দিকে তাকায়।মনে মনে বলে আজ আর বাসটা পাবো।
শুভ্র বাস পেয়ে যায়।আর বসার জায়গাও পেয়ে যায়।হঠাৎ তার পিছনে থেকে একটা মেয়ে বলে-এই মনি এদিকে আয়,এদিকে ভিড় কম।
মেয়েটি হল সুপর্ণা।শুভ্র দেখে তার একটু পিছনের দিকে সুপর্ণা।মনিকে ডাকছে।আর তাদের থেকে একটু দূরে শ্রীয়াঙ্কা।সে হেসে হেসে একটা বাচ্চা ছেলের সাথে কথা বলছে।
মনি শুভ্রর সামনে এসে দেখতে পেয়ে বলে-স্যার,আপনি?
হ্যাঁ,তোমরা কী রোজ বাসে ফেরো?-শুভ্র
হ্যাঁ,স্যার-মনি
আচ্ছা,তুমি বসো।-শুভ্র
এই বলে সে উঠে পরে।সে উঠে দাঁড়ালে দেখে শ্রীয়াঙ্কা তার দিকে তাকিয়ে।দুইজনের চোখে চোখ পরে যায়।শ্রীয়াঙ্কা চোখ নামিয়ে নেয়।
না,স্যার আপনি বসুন।-মনি
কিন্তু-শুভ্র
আপনি বসুন স্যার।আমি ওদের কাছে যাচ্ছি।-মনি
শুভ্র বসতে গিয়ে একবার শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।দেখে সে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে।
তারপর শ্রীয়াঙ্কা,মনি আর সুপর্ণা নেমে যায়।শুভ্র তখনও বাসে।তাকে আরও কিছুটা পথ যেতে হবে।
চলবে----
গুরুত্বপুর্ণ কথা-
গল্পটি যারা এখন পড়ছেন বা পরবর্তীকালে পড়বেন তারা তাদের মতামত প্রতি পর্বে দিয়ে আমাকে উৎসাহ দেবেন।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ৩

মা তাড়তাড়ি করো।দেরি হয়ে যাবে তো।-শ্রীয়াঙ্কা।
উফ্,মেয়ের যেন আর তর সইছে না।-শ্রীয়াঙ্কার মা শতরূপা দেবী।
যেন কোনো মিশনে যাবে।-শ্রীয়াঙ্কার বোন শ্রীরুপা।
শ্রীরুপা,অমন বলে না।দিদি হয় তোমার।-পেপার পরতে পরতে বলেন শ্রীয়াঙ্কার বাবা সুব্রত বাবু।
দেখ বোনু কেমন বকা খেলি,কেমন লাগল-শ্রীয়াঙ্কা শ্রীরুপাকে বলে।
শ্রীরুপা দিদির দিকে মুখ ভেংচায়।শ্রীয়াঙ্কা আবার মাকে তাড়া দিতে থাকে।আসলে শ্রীয়াঙ্কা কলেজে যাবে।তাই সকালের খাবারের জন্য মাকে তাড়া দিচ্ছে।
এই নে,পুরোটা খেয়ে যাবি।-শতরূপা দেবী।
হুমম-খেতে খেতে শ্রীয়াঙ্কা বলে।
আজ না গেলে পারতিস।বিকালে মাসির বাড়ি যাবো।-শতরূপা দেবী।
তোমরা যাও ঘুরে এসো।কলেজে নবীন বরণের অনুষ্ঠান তাই আজ রিহার্সাল করা হবে।-শ্রীয়াঙ্কা।
তারপর শ্রীয়াঙ্কা বেড়িয়ে যায়।আর শতরূপা দেবী সুব্রত বাবুকে বলেন-আমাদের শ্রীকে এবার সব বলে দেওয়া উচিত।
সুব্রত বাবু নিশ্বাস ফেলে বলেন-হুমম,বলবো।কিন্তু শ্রীর মতের বিরুদ্ধে আমি কিছু করবো না।
শতরূপা দেবী-আমাদের ওকে অনেক আগেই বলে দেওয়া উচিত ছিল।
সুব্রত বাবু-হ্যাঁ,কিন্তু আমি ওকে কষ্ট পেতে দেবো না।আমাকে ছোটো হতে হয় আমি হবো।
শতরূপা দেবী-হ্যাঁ,ঠিক বলেছো।
অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কা কলেজে আসে।ক্লাস শুরু হয়।কিন্তু তার চোখ অজান্তেই কাউকে খুঁজতে থাকে।পড়াতে তার মন নেই।একটা ক্লাস শুরু হবে ভাবে এই বুঝি সে এলো।কিন্তু না,নিরাশ হতে থাকে।
অবশেষে সে বলেই বসল-এই মনি শুভ্র স্যারের ক্লাস কখন রে?
এই তুই কী রাতে ঘুমাস না।রুটিন দেখিস নি।-মনি।
কেন?-শ্রীয়াঙ্কা।
আজ তো শুভ্র স্যারের ক্লাস নেই।-মনি।
ওও-মন খারাপ করে বলে শ্রীয়াঙ্কা।
তারপর ওরা অনুষ্ঠানের রিহার্সাল শুরু করে।ও আর মনি নাচের মেয়েদের রিহার্সাল করাতে থাকে।তখন বাইরে দেখে কৌশিক আর ওর বন্ধুরা দাঁড়িয়ে দেখছে।
মনি ওদের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে- তোরা এখানে কী করছিস।জানিস না এখানে মেয়েদের রিহার্সাল চলছে।
আমরাও তো নাটক করব।-কৌশিক।
জানি,কিন্তু সেখানে তো শুনলাম শুধু ছেলেরা করবে।-মনি।
এতক্ষণে সুপর্ণা আর শ্রীয়াঙ্কা চলে এসেছে।
তোরা অন্য জায়গাতে রিহার্সাল কর।-শ্রীয়াঙ্কা।
কৌশিক কিছু বলতে যাবে।তখন একজন এসে বলে-কী রে কৌশিক এখানে কী করছিস?চল আমরা অন্য জায়গাতে রিহার্সাল শুরু করি।
ভাবছেন এ আবার কে।এ হল রাহুল।কৌশিকের মতো নয়।খুবই ভদ্র ছেলে।এতো তাই ভদ্র যে দু বছর ধরে সুপর্ণাকে ভালোবাসে বলতে পারেনি।আর সুপর্ণাও সব বোঝে।কিন্তু প্রকাশ করে না।
দেখ রাহুলকে,কেমন ভাবে সুপর্ণার দিকে তাকিয়ে আছে।-শ্রীয়াঙ্কার কাছে গিয়ে আস্তে আস্তে করে বলে মনি।
চুপ কর না মনি।সবাই শুনতে পাবে।-শ্রীয়াঙ্কা।
এদিকে সুপর্নাও তাকিয়ে আছে রাহুলের দিকে।রাহুল যাওয়ার সময় একবার সুপর্ণার দিকে তাকিয়ে চলে যায়।সেদিনের মতো রিহার্সাল শেষ করে সবাই বাড়ি চলে যায়।
পরের দিন শ্রীয়াঙ্কা আর তার বান্ধবীরা তাদের ক্লাসের দিকে যাচ্ছে দেখে উল্টোদিক দিয়ে শুভ্র আসছে।শ্রীয়াঙ্কা দেখতে পেয়ে মনের মধ্যে একটা ভালোলাগা কাজ করে।শুভ্র যখন তার পাশ দিয়ে যায় তার যেন আর পা টা চলে না।শরীরে যেন বিদ্যুত খেলে যায়।অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে শুভ্রর যেন সব কিছু গোলমাল হয়ে যায়।সে অস্বস্তিতে পরে।শ্রীয়াঙ্কার চোখের দিকে তাকালে সে খেই হারিয়ে ফেলে।   
শ্রীয়াঙ্কা আজ ভীষণ খুশি।সারাক্ষণ বক্ বক্ করতে থাকে।
এই তোর কী হয়েছে? কাল মন খারাপ আজ এতো বকর বকর করছিস-মনি।
কিছু নয় তো।-শ্রীয়াঙ্কা।
কয়েকটা ক্লাসের পর শুভ্র আসে।শ্রীয়াঙ্কা সেই প্রথমদিনের মতো একভাবে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।তার চোখ সরছে না।শুভ্র এতো সুন্দর করে কবিতা পড়ছে যে অন্য সবাইও চেয়ে রয়েছে-
                " আর কত দূরে নিয়ে যাবে মোরে
                             হে সুন্দরী?
                 বলো,কোন পারে ভিড়িবে তোমার 
                              সোনার তরী।
                  যখনি শুধাই,ওগো বিদেশিনী,
                  তুমি হাস শুধু,মধুরহাসিনী-
                  বুঝিতে না পারি ,কী জানি কী আছে 
                               তোমার মনে।"
শুভ্র কবিতাটা পড়ছে আর অর্থ বলছে।শুভ্র দেখেছে শ্রীয়াঙ্কা ওর দিকে তাকিয়ে আছে।কিন্তু যতবার ওর চোখের দিকে তাকিয়েছে ততবার পড়ার খেই হারিয়ে ফেলেছে।আর বলেছে-হ্যাঁ ,কী যেন বলছিলাম?
এই বলে আবার পড়া শুরু করেছে।কিন্তু আজ সে শ্রীয়াঙ্কাকে কিছু বলতে পারিনি।যতবার ওর দিকে তাকিয়েছে নিজেই অস্বস্তিতে পড়েছে।
ক্লাস শেষ হয়ে যায়।শুভ্র চলে যায়।আর শ্রীয়াঙ্কা বলে-আজ ক্লাসটা তাড়তাড়ি শেষ হয়ে গেল।
সুপর্ণা-হ্যাঁ রে,এবার থেকে দুইঘন্টার ক্লাস হবে।
শ্রীয়াঙ্কা-সত্যি তাই।
তারপর দেখে ওরা হাসছে।বুঝতে পারে ও কী বলে ফেলেছে।কথা ঘোরাবার জন্য বলে-রিহার্সালে চল।
ওরা রিহার্সাল শুরু করে।মনি,শ্রীয়াঙ্কা আর কিছু মেয়েরা গ্রুপে ডান্স করবে।তার প্রাকটিস চলছে।একটি মেয়ে বার বার ভুল করছে।মনি ওকে বাদ দিতে বলে।
শ্রীয়াঙ্কা মেয়েটিকে বলে- আমি করছি তুমি দেখো।
শ্রীয়াঙ্কা নাচছে।
                 ও রঙ্গবতী রে রঙ্গবতী 
                  আরে রঙ্গবতী কনকলতা
                  হসি পদে কহন কথা
                  হায় গো লাজে লাজে,লাজে লাজে
                  হে লাজে লাজে,লাজে লাজে
                   লাজে লাজে লাই যাউছে মাথা মোর 
                   নাই করো,নাই করো কথা।
সেইসময় ওখান থেকে যাচ্ছিল শুভ্র।ঘরের দিকে চোখ যেতেই সে দাঁড়িয়ে পরে।শ্রীয়াঙ্কা গানের তালে তালে নাচছে।তার নাচের সময় যে অদ্ভুত ভঙ্গিমা তা দেখে যে কোনো কেউ থমকে দাঁড়িয়ে দেখবে।
শ্রীয়াঙ্কা নাচ শেষ করলে মনি এগিয়ে এসে বলে-শ্রী দেখ ও পারবে না।
মনির কথাতে অনেকে হ্যাঁ মেলায়।যে মেয়েটিকে বলছে সে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা-ও শিখে যাবে।কয়েকদিন প্রাকটিস করলে।
মনি-কিন্তু---
শ্রীয়াঙ্কা নাচের মেয়েটিকে কাছে টেনে নিয়ে বলে-ওই পারবে।আর অনুষ্ঠানের দিন তোরাই চমকে যাবি ওর নাচ দেখে।
কী আমি ঠিক বললাম তো।মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলে।মনমরা মেয়েটির চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।
মেয়েটি বলে-হ্যাঁ,শ্রীয়াঙ্কা দি।
শুভ্র এতক্ষণ ওদের কথা শুনছিল।সত্যিই মেয়েটা অদ্ভুত।এই শান্ত,এই রাগ,আবার ভালোবেসে কাছে টেনে নিচ্ছে।
সেইদিন রাত্রে শুভ্র নিজের পড়া করতে বসে।কিন্তু বারেবারে শ্রীয়াঙ্কার মুখটা ভেসে ওঠে।অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কার ও এক অবস্থা।শুভ্রর পড়ানোর ছবিটা সে চোখ বুজলেও দেখতে পায়।
নিশুতি রাতে দুই নরনারী দুই প্রান্তে বসে তাদের প্রথম ভালোলাগাকে মনের অজান্তেই মনে করে।তারা কী বুঝতে পারবে এ তাদের ভালোলাগা?এই ভালোলাগা কী পরিণত হবে ভালোবাসাতে?না,তা অধরাই থেকে যাবে?


আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ৪

প্রত্যেকদিনের মতো কাল রাতেও শুভ্র ফোনে অ্যালার্ম দেয়।আজ সকালে শুভ্রর ফোনে অ্যালার্ম বেজে ওঠে।তাড়াতাড়ি করে উঠে ফোনটা হাতে নিয়ে অ্যালার্ম বন্ধ করে।কিন্তু ফোনে আজকের দিনটা দেখে চমকে যায়।এরকম ভুলও হয়!আজ তো তার কলেজে অফ ডে।মনে মনে ভাবে কী করে যে এরকম ভুল হল।ভাবতে ভাবতে আবার সে শুয়ে পরে।
অন্যদিকে একজন ঘুম থেকে উঠে ফোনে রুটিন চেক করে বান্ধবীদের জানিয়ে দেয় সে শুধু রিহার্সাল করতে যাবে।সে হল আমাদের শ্রীয়াঙ্কা।
ভালোবাসার প্রথম ধাপ।যে কাজ নিয়মিত করা হয় তা ভুলে যাওয়া।ভালোবাসার মানুষটা না থাকলে,না আসলে সেখানে আর একজনের অনুপস্থিতি।
এরকমভাবেই দিন এগোতে থাকে।
কলেজে নবীন বরণ এগিয়ে আসে।নবীন বরণের আগের দিন কলেজটা সুন্দর করে সাজানোর প্রস্তুতি চলে।আর সব ঠিকঠাক হচ্ছে কিনা তা দেখার দায়িত্ব এবার শুভ্র আর ছন্দা ম্যাডামের।
কিন্তু আজ ছন্দা ম্যাডাম আসেন নি।তাই সব দায়িত্ব শুভ্রর।সে দেখতে যায় কেমন হয়েছে সাজানো তা দেখার জন্য।
শুভ্র কলেজের হলঘরে ঢুকতে যাবে তখন একসাথে  দুটি গানের গলা শুনতে পায় দেখে সুপর্ণা আর শ্রীয়াঙ্কা গাইছে।
গান হয়ে গেলে সুপর্ণা বলে-দেখ শ্রী তুইও আমার সাথে গাইতে পারতিস।
শ্রীয়াঙ্কা-না রে,আমার গানের গলা তোর মতো অতো সুন্দর নয়।
সুপর্ণা-কে বলেছে তোকে?
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা দেখে শুভ্র দাঁড়িয়ে।শুভ্রও তখন ঘরে এসে পড়েছে।সবাই বসেছিল।স্যার কে দেখে সবাই দাঁড়িয়ে পরে।
শুভ্র সবাইকে বলে-বসে বসে গল্প হচ্ছে।কাজ হয়ে গেছে?যে দায়িত্ব নিয়েছ তোমরা তা ঠিক মতো করছো?
শুভ্র সবাইকে বললেও আসলে সে শ্রীয়াঙ্কাকে শুনিয়ে বলছে তা শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পেরেছে।কারন বেশিরভাগ কাজের দায়িত্ব শ্রীয়াঙ্কার উপর।
রাহুল বলে-হ্যাঁ স্যার হয়ে যাবে।
শুভ্র-হলে ভালো।আমি ছুটির আগে দেখে যাব।আর কোনো দরকার পরলে আমাকে ডাকবে।
রাহুল-হ্যাঁ,স্যার।
শুভ্র চলে যায়।কিন্তু যাওয়ার আগে একবার রাগী চোখে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করে নেয়।
আজ কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠান।শ্রীয়াঙ্কা হালকা সবুজ রঙের জামদানী পড়েছে।হালকা মেকাপ, চোখে কাজল,কপালে ছোট্ট টিপ,কানে ছোটো ঝুমকো,গলায় সরু চেন,চুলটা ছেড়ে দেওয়া এতো সুন্দর লাগছে যে কোনো ছেলে দেখলে ওর প্রেমে পরে যাবে।
বাসে আসতে আসতে মনি তো বলেই ফেলল-আজ কলেজের ছেলেগুলো দেখবি অজ্ঞান হয়ে যাবে।
শ্রীয়াঙ্কা-কেন?
মনি-তোকে দেখে।
সুপর্ণা-কলেজে কী,এখনই দেখ ওই ছেলেটাকে কেমন ভাবে শ্রীর দিকে তাকিয়ে আছে।
মনি-হ্যাঁ তো রে।
শ্রীয়াঙ্কা-মোটেও নয়।ও তোদের দিকে তাকিয়ে আছে।
ছেলেটি শ্রীয়াঙ্কার দিকেই তাকিয়েছিল।শ্রীয়াঙ্কাকে আজ খুবই সুন্দর লাগছে।তাই বাসের অনেকেরই চোখ তার দিকেই ছিল।
তারপর তারা কলেজে আসে।আগের দিন কলেজটা অর্ধেক করে সাজিয়ে গিয়েছিল।আজ ছেলেদের উপর দায়িত্ব ছিল বাকি কাজটা করার। তাই ওরা আগে এসেই তা করে দিয়েছে।শ্রীয়াঙ্কা সব ঠিকঠাক আছে কিনা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগে।শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে কৌশিক এগিয়ে আসে।
কৌশিক-কী রে ঠিক হয়েছে তো?
শ্রীয়াঙ্কা-ঠিক আছে।কিন্তু এখানে সাদা ফুল দিলে আরো ভালো লাগত।
কৌশিক-হুমম,তোর তো আমার খুঁত ধরার অভ্যাস।
শ্রীয়াঙ্কা-আমি তা বলিনি।আচ্ছা, যেরকম  আছে থাক।
শ্রীয়াঙ্কা চলে যাচ্ছিল।কৌশিকের কথা শুনে দাঁড়িয়ে পরে।
কৌশিক-তোকে না হেব্বি লাগছে।
শ্রীয়াঙ্কা একবার কৌশিকের দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে চলে যায়।কারন আজকের দিনে সে কোনো ঝামেলা চায় না।
তারপর সে ম্যাডামদের সাথে দেখা করে আসে।সেখান থেকে এসে যারা যারা অনুষ্ঠান করবে তারা এসেছে কিনা দেখতে যায়।কিন্তু স্যার ম্যাডামরা রাহুলকে বলে অনুষ্ঠান শুরু করতে।কিন্তু সঞ্চালক শ্রীয়াঙ্কা।ওকে খুঁজে না পেয়ে রাহুল শ্রীয়াঙ্কার নাম মাইকে ঘোষনা করে।যেন সে এখনই চলে আসে।
শ্রীয়াঙ্কা শুনতে পেয়ে ছুটতে ছুটতে আসে।কিন্তু আসার সময় কারোর সাথে ধাক্কা লাগে।শ্রীয়াঙ্কা পরে যাচ্ছিল কিন্তু নিজেকে সামলে নেয়।আর যার সাথে ধাক্কা লাগে তার হাতে লাগে।সে নিজের হাত দেখতে থাকে আর শ্রীয়াঙ্কার দিকে না তাকিয়েই বলতে শুরু করে-দেখে যেতে পারো না।
কিন্তু শুভ্র তাকিয়ে যাকে দেখে তার থেকে চোখ সরাতে পারছে না।এতো সাধারন সাজেও এতো সুন্দরও লাগে!শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে তার সব গুলিয়ে যায়। 
শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কার চোখে জল।সে যে জোরে বকে ফেলেছে বুঝতে পারে।সে কী বলবে বুঝতে পারে না।
শুভ্র-পরের বার থেকে যেন না হয়।দেখে চলাফেরা করো।পরেরবার হলে তখন কিন্তু----
শ্রীয়াঙ্কা কাঁদতে কাঁদতে বলে-আর হবে না।
শুভ্র-যাও।
শ্রীয়াঙ্কা চলে যায়।শুভ্র কিছুক্ষণের জন্য ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকে।তারপর অনুষ্ঠান শুরু হয়।শ্রীয়াঙ্কা অনুষ্ঠান শুরু করে।মাঝে মাঝে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে ফেলে।কারন শুভ্র সামনের দিকেই বসে আছে।শ্রীয়াঙ্কা  আর অন্য মেয়েরা মিলে নৃত্য পরিবেশন করে।শুভ্র সেই মেয়েটিকে দেখে যাকে অনেকে নেবে না বলেছিল।কিন্তু দেখে মনে হয় না সে সবার থেকে খারাপ নাচছে।হয়তো সে অতো নাচের ব্যাপারে বোঝে না।কিন্তু যখন শ্রাবন্তী ম্যাডাম বলেন ভালো হয়েছে।কারন শ্রাবন্তী ম্যাডাম ভালো নাচ জানেন।তখনই বোঝা যায়।এরপর হয় সুপর্ণার গান।
সুপর্ণা আসলে রাহুল এগিয়ে গিয়ে বলে-খুব সুন্দর গেয়েছ।
সুপর্ণা হাসে।
মনি গিয়ে শ্রীয়াঙ্কার কাছে গিয়ে বলে-এই এরা কবে বলবে রে।
শ্রীয়াঙ্কা-মনে হয় আমাদের কিছু করতে হবে।
এই বলে দুজনে হাসতে শুরু করে।অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যায়।সবাই বাড়ির দিকে রওনা হয়ে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা আর তার বান্ধবীরাও বাসে ওঠে।আজ শুভ্রও ওই একই বাসে ।শ্রীয়াঙ্কার বান্ধবীরা আজ ভিতরের দিকে এগিয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা যেতে পারে না।সামনে একটা বসার জায়গা পেয়ে গিয়ে বসে পরে।কিন্তু একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে আর বারবার তার গায়ের কাছে সরে আসছে।শ্রীয়াঙ্কা কাপড়টা গায়ে জড়িয়ে নেয় আর বলে একটু সরে দাঁড়াতে।কিন্তু সে শোনে না।শ্রীয়াঙ্কার ভয় করে।শুভ্র দেখে বুঝতে পারে।সে আজ দাঁড়িয়ে ছিল।এগিয়ে এসে ছেলেটিকে একটু ঠেলে সরিয়ে নিজে সেখানে দাঁড়ায়।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখে।কিন্তু সে বুঝতে পারে না যে ওর অসুবিধার জন্য এসেছে।কারন বাসে খুব ভিড়।ভাবে ভিড়ে সে হয়তো দেখতে পায়নি,পিছনের দিকেই ছিল।
শ্রীয়াঙ্কা বুঝবে বা কী করে?শুভ্র তো ধরা দেয়নি।সে শ্রীয়াঙ্কার পাশে দাঁড়িয়ে শুধু নিজের ফোনের দিকেই তাকিয়ে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা নেমে যায়।কিন্তু তাও শুভ্র তার দিকে তাকায় না।
বাড়ি এসে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথা মনে করে।কারণ আজ শুভ্রকেও সুন্দর লাগছিল।তা সে লক্ষ্য করেছিল।অন্যদিকে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কান্নার মুখটা মনে পরে যায়।অজান্তেই সে হেসে বলে-পাগলী একটা।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ৫

আজ তো ভীষণ আনন্দ।কারন আজ মাম্পি কলেজে এসেছে।চার বন্ধু কতদিন পর একসাথে হয়েছে।তাদের গল্পই যেন শেষ হচ্ছে না।কিন্তু দেখা যায় একটু পরে আজ রাহুল আর সুপর্ণা একটু দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলছে।
মাম্পি বলে-এই ওরা কী এখন----
মনি-না,রে।ওদের কী কথা হচ্ছে আমি বলছি শোন।
শ্রীয়াঙ্কা-তুই ওদের কথা লুকিয়ে শুনেছিস।
মনি-ওই একটু।
শ্রীয়াঙ্কা-ওরকম করা ঠিক নয়।
মনি-আচ্ছা ঠিক আছে।আর শুনবো না।কিন্তু শোন তো ওরা কী বলছে।
মাম্পি-কী?
মনি-রাহুল বলছে তুমি খুব ভালো গান গেয়েছ,কতো ছোটো থেকে গান শিখছ,কার কাছে গান শিখেছ,কেন গান শেখার ইচ্ছা হল,তোমার কী গান পছন্দ----
শ্রীয়াঙ্কা-কী এইসব বলছে!
মনি-হ্যাঁ রে।
মাম্পি-আজ রাহুল সুপর্ণার গান নিয়ে একটা বই লিখে ফেলবে।
মাম্পির এই কথা শুনে ওরা হাসতে থাকে।
মনি বলে-শ্রী,তোকেই ওদের জন্য কিছু করতে হবে।
শ্রীয়াঙ্কা-কী?
মাম্পি-হ্যাঁ ও ঠিক বলছে।রাহুল তো তোর সাথে কথা বলে।তুই বলবি।
শ্রীয়াঙ্কা-কিন্তু আমি কী বলব?
মাম্পি-তুই ভাব আর আমরাও ভাবি।দেখা যাক কী করা যায়।
মনি হাসতে হাসতে বলে-হ্যাঁ,এই নির্বাক প্রেমিক প্রেমিকাদের জন্য।
ওরা হাসতে থাকে।সেসময় ক্লাসে এসে পরে ওদের ডিপার্টমেন্টের সব ম্যাডাম আর স্যার।কারন নবীন বরণে তারা এতো সুন্দর করে অনুষ্ঠান করেছে যে তাদের অভিনন্দন জানাতে আসে।তাছাড়া তারা কলেজে বেশিদিন নেই।তাই তাদেরকে খুশি করতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।আর বলেন তারা যেন কলেজের কথা মনে রাখে।কারন তারা কলেজের কথা মনে রাখলে কলেজও তাদের কথা মনে রাখবে।
তারপর সবার প্রশংসা করে।সুপর্ণার গানের,মনি ও শ্রীয়াঙ্কার নাচের,আর শ্রীয়াঙ্কার সঞ্চালকের,আরও অনেকের।
কিন্তু সবাই কিছু বললেও শুভ্র কিছু বলে না।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে চেয়ে থাকে।তার ইচ্ছা শুভ্র কিছু বলুক।কিন্তু বলে না,চলে যায়।
তারপর ক্লাস শুরু হয়।একসময় শুভ্র ক্লাসে আসে।আজ সে সবাইকে কবিতা পরে তার অর্থ বলতে বলে।এক এক করে সবাই বলে।এবার শ্রীয়াঙ্কার পালা।শ্রীয়াঙ্কা কিছুটা ভয় পায়।কিন্তু শুভ্র তার চোখ দিয়ে তাকে ইশারা করে।সেই চোখে আজ রাগ নয়,ভরসা আছে।
শ্রীয়াঙ্কা পড়তে শুরু করে-
             "আমারে ফিরিয়ে লহো,অয়ি বসুন্ধরে
             কোলের সন্তানে তব কোলের ভিতরে
              বিপুল অঞ্চল-তলে।ওগো মা মৃন্ময়ী,
              তোমার মৃত্তিকা-মাঝে ব্যাপ্ত হয়ে রই;"
তার অর্থও বলে।কিন্তু সবাই অবাক হয়ে যায়।এমনকি শুভ্রও।ওর কবিতা পড়া আর অর্থ বলা দেখে।কবিতা তো সে শুভ্র যে ভাবে পড়ে হুবুহু সেরকম পড়ছে।সেরকমই সুরে।কারন শ্রীয়াঙ্কা শুভ্র যে ভাবে কবিতা পড়ে ও তা বাড়িতে প্রাকটিস করত।আর অর্থ পুরো যে ভাবে শুভ্র বুঝিয়েছিল পুরো সেরকম বলে।একটা লাইনও বাদ দেয় না।
শুভ্র অবাক হয়ে যায়।কী বলবে বুঝতে পারে না।শ্রীয়াঙ্কার পড়া হয়ে যায় কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে বলে-খুব ভালো হয়েছে।
শুভ্রর মুখে এই কথা শুনে শ্রীয়াঙ্কা বিশ্বাস করতে পারে না।শুভ্র চলে যায়।
তারপর শ্রীয়াঙ্কা নিজের কাজে ক্লাসরুমের বাইরে যায়। সিঁড়ি দিয়ে নামছে হঠাৎ দেখে অন্যদিক থেকে শুভ্র আসছে।সে দাঁড়িয়ে পরে।তখন পাশ থেকে যাওয়ার সময় একটু শুভ্র দাঁড়ায়।আর বলে-অনুষ্ঠানটা খুব ভালো হয়েছে।
শুভ্র বলেই চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা কিছুক্ষণ অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।সে ভাবে কী বলে গেল!সে নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারে না।এ আজ ওর সাথে কী হচ্ছে।প্রথম ক্লাসে তারপর এখন----
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার মনটা নেচে ওঠে।আনন্দ আর তার ধরে না।বান্ধবীদের সাথে আবোল তাবোল বকতে থাকে।ক্লাসের পর বান্ধবীদের সাথে কিছুক্ষণ বসে থাকার পর সে একটু একলা থাকতে ক্লাসের বাইরে দাঁড়ায়।
   এ হল বসন্ত ঋতু।এ ঋতু কখনও আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।আবার কখনও নিয়ে যায় মনখারাপের দেশে।কিন্তু কেন মনখারাপ তার উত্তর অনেকেরই জানে থাকে না।তাই শ্রীয়াঙ্কার মনটা হঠাৎ উদাস হয়ে যায়।তাই একা বাইরে এসে দাঁড়ায়।আর শুভ্রর কথা মনে করে অজান্তেই হাসতে থাকে।
  বসন্তের এই নিস্তব্ধ দুপুরে কোকিলের মায়াময়   
  অজানা ডাকে মন হারানোর অদ্ভুত খেলায়       
  হেরে যাওয়ার নেশায় শুধু হেরে যেতে চাই।
                                   ❣
                                          (আমার নিজস্ব ভাবনা)
শ্রীয়াঙ্কার জীবনে এখন এই ঘটনাই ঘটে চলেছে।
সেইসময় একজন পাশে এসে দাঁড়ায়।
কী রে,কী ব্যাপার?----
শ্রীয়াঙ্কা পাশে তাকিয়ে দেখে কৌশিক দাঁড়িয়ে।
মনে মনে বলে-আবার এলো।কী জ্বালা।
কৌশিক-কী রে হাসছিস কেন?
শ্রীয়াঙ্কা-কিছু নয়।
কৌশিক-তোর নাচটা কাল খুব ভালো হয়েছে।
শ্রীয়াঙ্কা-thank you।
কৌশিক-তুই কী ভাবলি?
শ্রীয়াঙ্কা-তুই আবার শুরু করলি।দেখ এসব কথা বলবি তো আমার সাথে কথা বলবি না।
কৌশিক কিছু বলতে যাবে।দেখে তাদের পাশ থেকে শুভ্র অন্য ক্লাসরুমে চলে যায়।হঠাৎ এভাবে দেখার ফলে তারা আর সরে দাঁড়াতে পারে না।শুভ্র একবার তাদের দিকে তাকিয়ে চলে যায়।কিছু বলে না।
ছুটির পরে সবাই বাসের জন্য দাঁড়িয়ে।শুভ্রও দাঁড়িয়ে।
বাস আসলে সবাই উঠতে থাকে।কিন্তু শুভ্র ওঠে না।
মনি দেখে জিজ্ঞাসা করে-স্যার যাবেন না?
শুভ্র-তোমরা যাও।আমার দরকার আছে।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখে।সে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।বাস চলে যায়।সেদিন শুভ্র বাসে ওঠে না।কেন ওঠে না সে নিজেও জানে না।



আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ৬

শ্রীয়াঙ্কার সেদিন বাড়ি ফিরে শুধু শুভ্রর মুখটা মনে পরতে থাকে।আর ভাবে যে সারাদিন এতো ভালো ভাবে কথা বলল কিন্তু আসার সময় একবারও তার দিকে কেন তাকাল না।
উফফ,আর ভালো লাগছে না।কী দিয়ে তৈরি যে বোঝাই মুশকিল।বাজে একদম বাজে।-অজান্তেই বলতে থাকে শ্রীয়াঙ্কা।
অন্যদিকে শুভ্র পরের বাসে বাড়ি ফেরে।আর বাড়ি ফিরতে তার দেরিও হয়ে যায়।যে কিনা সময় নিয়ে ভীষণ সচেতন।একটুও অকারণে সময় অপচয় করে না।সে আজ কী কারনে সময়ে আসা বাসটা সামনে দিয়ে চলে গেলেও ধরলো না সে নিজেই বুঝতে পারছে না।বাড়ি এসে শুভ্র সেই চিন্তাই করছে।আর নিজের কিছু পড়া করতে বসে শুধু বইয়ের পৃষ্টা ওলটাচ্ছে।আজ বইটাও তার অজানা।
     আসলে শুভ্র আজ কৌশিকের সাথে শ্রীয়াঙ্কাকে কথা বলতে দেখে অন্য কিছু ভেবেছে।তাই সে আর শ্রীয়াঙ্কার সাথে কথা বলেনি,ওর চোখের দিকেও তাকায়নি।কিন্তু শুভ্র আজ অজান্তেই এ সব করেছে।
ভাবছেন এ কেমন ভালোবাসা?ভালোবাসে তো বলে দিলেই হয়।হ্যাঁ,এরকম ভালোবাসাও হয়।প্রথম ভালোবাসা বুঝে তাকে কাছে পাওয়া অনেকেরই ভাগ্যে থাকে না।সবচেয়ে বড় কথা তাকে প্রকাশ করা তা সবাই পারে না।আর যখন তারা বুঝতে পারে তখন দেখা যায় তাদের পথ হয়তো ভিন্ন দিশা নিয়েছে।অনেকেরই জীবনে এরকম ঘটনা ঘটে।
                 ভালোবেসে প্রকাশ করা 
                              অনেকেই পারে না।
                  ভালোবেসে কাছে পাওয়া
                              অনেকেরই জোটে না।
                  ভালোবাসি কথাটি 
                              থাকে যদি গোপনে
                   ভালোবাসার মানুষটি  
                              রয়ে যায় হৃদয়ে।
                                        ❣
                                     (আমার নিজস্ব ভাবনা)
ওদের জীবনে কী এই ঘটনাই ঘটবে?নাকি,তারা কী বলতে পারবে-আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
এই ভাবে কিছু দিন যায়।সেদিনের পর থেকে শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কার সাথে কথা বলেনি।কথা বলেনি বলা ভুল শ্রীয়াঙ্কার দিকেই আর তাকায়নি।আর আবার একদিন কৌশিককে ওর সাথে দেখে তো সে আর ক্লাসে গিয়েও ওর দিকে চায়নি।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা কিছু বুঝতে পারছে না।
কলেজে শিক্ষক দিবস অনুষ্ঠিত হয়।একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।তারপর শিক্ষক শিক্ষিকাদের উপহার দেওয়া হয়।আর ছাত্রছাত্রীরা তাদের প্রিয় স্যার ম্যাডামদের হাতে তা তুলে দিচ্ছে।সবাইকে এক একজন করে দিচ্ছে।আর অদ্ভুতভাবে শ্রীয়াঙ্কার হাতে শুভ্রর উপহার।শ্রীয়াঙ্কার শুভ্রর হাতে দেয়।শুভ্র নিয়ে নেয়।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায় না।অন্যদিকে ফিরে বলে-ধন্যবাদ।
শ্রীয়াঙ্কার চোখে জল চলে আসে।কিন্তু সে কোনোরকমে নিজেকে সামলে নেয়।
এইভাবেই এগোতে থাকে সময়।
আর অন্যদিকে মনি আর মাম্পি শ্রীয়াঙ্কাকে রাহুল আর সুপর্ণার ব্যাপারটা নিয়ে তাকে কিছু করার জন্য অস্থির করে তুলেছে।কারন তারা বেশিদিন আর কলেজে নেই।আর সুপর্ণা এখন করে মন খারাপ করে বসে থাকে।তাই আজও বসে আছে।
মনি শ্রীয়াঙ্কাকে বলে-কী রে কিছু ভেবেছিস?
শ্রীয়াঙ্কা- হ্যাঁ ভেবেছি।কিন্তু রাহুল কোথায়?
মনি-রাহুলকে নিয়ে কী হবে?তুই কী ভেবেছিস বল না।
শ্রীয়াঙ্কা-পরে বলছি।কিন্তু সুপর্ণা তো বলতে পারে।যখন রাহুল বলছে না।ওতো বোঝে রাহুল ওকে ভালোবাসে।
মনি-কী বলিস ও বলবে।একটা ছেলে হয়ে পারছে না ও কিনা একটা মেয়ে হয়ে ----
শ্রীয়াঙ্কা-কেন বলা যায় না?
মনি-শ্রী তোর মুখে এই কথা।ভাবাই যাচ্ছে না।মেয়ে বড় হয়ে গেছে।
এই বলে সে হাসতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।
মনি আবার বলে-আচ্ছা শ্রী তোর যদি কাউকে পছন্দ হয় তুই বলতে পারবি তো।
মাম্পি এতক্ষণ ওদের কথা শুনছিল।ও ভাবে এবার না শ্রী রেগে যায়।তাই মনিকে ধাক্কা দিয়ে বলে-তুই চুপ করবি।
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।মনির কথার জবাব আজ তার কাছে নেই।
ওইদিকে ক্লাসে রাহুল ঢোকে।মাম্পি বলে-ওই তো রাহুল এসছে।
শ্রীয়াঙ্কা-আচ্ছা আমি একটু আসছি।
এইবলে সে প্রথমে সুপর্ণার কাছে যায়।গিয়ে বলে শ্রীয়াঙ্কা-জানিস রাহুল কোয়েলের সাথে প্রেম করছে।
সুপর্ণা-কী?
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যাঁ রে,দেখ কেমন হেসে কথা বলছে।
সত্যি তখন সে রাহুল কোয়েলের সাথেই কথা বলছিল।তা দেখে সুপর্ণা মাথা নীচু করে কাঁদতে থাকে।
এবার শ্রীয়াঙ্কা রাহুলের কাছে যায়।বলে-এই রাহুল তোর সাথে আমার কিছু কথা আছে।
রাহুল-হ্যাঁ,বল না।
শ্রীয়াঙ্কা-এখানে নয়।ক্লাসের বাইরে চল।
রাহুল-চল।
দুইজনে বাইরে এসে দাঁড়ায়।
রাহুল-বল কী বলবি।কিছু কী প্রবলেম হয়েছে?
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যাঁ হয়েছে।ভীষণ বড় প্রবলেম।
রাহুল-কী?
শ্রীয়াঙ্কা-সুপর্ণার বাড়ি থেকে ছেলে দেখছে।
রাহুল আঁতকে উঠে বলে-কী?
শ্রীয়াঙ্কা-হুম,আর আমি যা বুঝেছি তুই সুপর্ণাকে----।কী ঠিক বলছি তো।
রাহুল মাথা নীচু করে বলে-হ্যাঁ।
শ্রীয়াঙ্কা-কিন্তু কবে বলবি।কলেজ শেষ হয়ে গেলে।
রাহুল-বিশ্বাস কর আমি বলতাম।কিন্তু সুপর্ণা----
শ্রীয়াঙ্কা-তুই একটা গাধা।তোর দ্বারা কিছু হবে না।
(শ্রীয়াঙ্কা আর রাহুল খুব ভালো বন্ধু,একমাত্র শ্রীয়াঙ্কা রাহুলের সাথে এরকম ভাবেই কথা বলে।তাই শ্রীয়াঙ্কা ওকে এরকম বললেও রাহুল কিছু মনে করে না।কারন রাহুল শ্রীয়াঙ্কাকে খুব সম্মান করে,ভালো বন্ধু ভাবে।)
রাহুল-তুই কী এখন এইসব বলবি।বল না কী করব।
শ্রীয়াঙ্কা-বলবি,আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
রাহুল-ও যদি না করে।তখন----
শ্রীয়াঙ্কা-তখন তোর জন্য একটা মেয়ে খুঁজে দেব।
এই বলে সে হাসতে থাকে।রাহুলও ওর কথায় হাসতে থাকে।
এদিকে শুভ্র ওদের ক্লাস নিতে চলে এসেছে।রাহুল তা দেখে বলে-এই শ্রী,স্যার আসছেন।চল।
এই বলে রাহুল চলে যায়।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা যেতে পারে না।তার পা যেন চলে না।এদিকে শুভ্র এসে পড়েছে।সে দূর থেকে রাহুল আর শ্রীয়াঙ্কাকে একসাথে হাসতে দেখেছে।
শ্রীয়াঙ্কার সামনে এসে বলে-কী হল সারা বছর কী  এখানেই দাঁড়িয়ে হাসিমজা করে কাটিয়ে দেবে?পড়াশোনা করার ইচ্ছা আচ্ছে?
শ্রীয়াঙ্কা ঘরে চলে যায়।কিন্তু তার চোখ দুটো জলে ভরে গেছে।তাই কোনোরকমে মুছে চলে যায়।আর শুভ্র ক্লাসে গিয়ে বলে-ক্লাস হয়ে গেলে কেউ যেন বাইরে না বের হয়।বাইরে দাঁড়িয়ে আড্ডা মারা যেন বন্ধ করে।
শ্রীয়াঙ্কা জানে শুভ্র কথাগুলো তাকেই বলছে।তার চোখ থেকে অঝোরে জল গড়িয়ে বইয়ের পাতা ভিজিয়ে দিতে থাকে।
সেদিন শুভ্রর ক্লাস করানোর পরে শ্রীয়াঙ্কা আর ক্লাস করে না।বান্ধবীদের বলে তার একটু কাজ আছে।এই বলে সে বাড়ি চলে আসে।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ৭

শ্রীয়াঙ্কা সেদিন বাড়ি ফিরে শুধুই কেঁদেছে।কলেজ থেকে ফিরে সে নিজেকে যে ঘরবন্দি করেছে আর দরজা খোলেনি।মা বাবা এসে দরজার কাছ থেকেই ফিরে গেছে।তারা বুঝতে পেরেছে আজ কলেজে কিছু  হয়েছে।তাই তারা আর ওকে কিচ্ছু বলেননি।জানে রাগ পরে গেলে আস্তে আস্তে সে নিজেই বেড়িয়ে আসবে।
রাতের দিকে শ্রীয়াঙ্কা বেড়িয়ে এসেছিল।শ্রীরূপার  ডাকে।কারন শ্রীরূপার এক কথা দিদি তুই না এলে আমরা আজ রাতে কেউ খাব না।তাই শ্রীয়াঙ্কা বেড়িয়ে আসে।কিন্তু তার মুখে কোনো কথা নেই।নিজের মতো খেয়ে চলে যায়।আর সারারাত তার শুধু শুভ্রর কথাগুলো মনে পরতে থাকে।চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরে।সে ঠিক করে নেয় আর কোনোদিন সে শুভ্রর দিকে তাকাবে না।বিনা দোষে আজ তাকে বকা খেতে হয়েছে।
তারপর দুদিন কলেজ ছুটি থাকে।
আজ শ্রীয়াঙ্কা কলেজে যায় কিন্তু আজ সে বড় শান্ত।কোনো কথা বলে না।কিন্তু মনি সে তো বকর বকর করে চলেছে।তার বকর বকরের কারন সুপর্ণা আর রাহুল একে অপরকে ভালোবাসে বলেছে।তাই শ্রীয়াঙ্কাকে সে সেটাই বলে চলেছে।কিন্তু যাকে বলছে সে তো শুনছে না।
কিন্তু আপনারা শুনতে চাইবেন না?যে নীরব প্রেম কাহিনী আমি শুরু করেছিলাম।তা কী করে পূর্ণতা পেল তা তো বলা দরকার।
শ্রীয়াঙ্কা সেদিন সুপর্ণা আর  রাহুল ওসব বলার পর একদিকে সুপর্ণা তো মাথা নীচু করে কেঁদেই চলেছে।আর অন্যদিকে রাহুল এসেছে সুপর্ণার সাথে কথা বলতে।
সুপর্ণা তোমার সাথে কিছু কথা আছে।-রাহুল
সুপর্ণা মাথা তুলে একবার রাহুলের দিকে তাকায়।তারপর আবার মাথা নামিয়ে নেয়।রাহুল দেখে সুপর্ণার চোখ দুটো লাল হয়ে আছে।
এই,তোমার কী হয়েছে?-রাহুল
সুপর্ণা এবার রেগে যায়।বলে-তখন থেকে ডিসটার্ব করছ কেন।
রাহুল-আমি ডিসটার্ব করছি।আমি তো শুধু----
সুপর্ণা কাঁদতে কাঁদতে বলে-এখানে কেন,যাও না তোমার কোয়েলের কাছে।
রাহুল-আমার কোয়েল!
সুপর্ণা-হ্যাঁ,তোমারই তো কোয়েল।বাজে ছেলে একটা।
রাহুল রেগে গিয়ে-কী বাজে ছেলে আমি।তুমি আমাকে বাজে বললে।আমি জানতাম তুমি আমাকে এটাই ভাব।আমি শ্রীকে বললাম যে এ মেয়ে আমাকে ভালোবাসে না।আর শ্রী বলে কিনা আমি বোকা----।তুমি খুব বাজে।
সুপর্ণা রেগে যায়।বলে-তুমি আমাকে বাজে বললে।আর তুমি তো একটা বোকাই।কে বলেছে ভালোবাসি না,আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।বাজে ছেলে যাও তো এখান থেকে।
রাহুল সুপর্ণার কথাগুলো শুনে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।বলে-কী বললে তুমি।
সুপর্ণা এতক্ষণে বুঝতে পারে সে কী বলে ফেলেছে।সে চুপ করে থাকে।রাহুল তখন একটু হেসে বলে তোমার ফোন নাম্বার আমার কাছে আছে।আজ----।এই বলে সে চলে যায়।
সুপর্ণা রাহুলকে দেখতে থাকে।সেদিন রাত্রে রাহুলও তার মনের কথা মুখ ফুটে সুপর্ণাকে বলে।
মনিকে সুপর্ণা সব বলেছে।তাই সে শ্রীয়াঙ্কাকে বলতে থাকে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার সেসবে হুঁশ নেই।আর আজ শুভ্রর ক্লাস থাকে।সে ক্লাসে আসে।পড়ানো শুরু করে।আর একটা জিনিস লক্ষ্য করে যে আজ শ্রীয়াঙ্কা তার দিকে একবারও তাকায় নি।বইয়ের দিকেই তার চোখ।কিন্তু আজ শুভ্র রেগে যায়।বাড়ি ফিরে শ্রীয়াঙ্কার মুখটা মনে করে রাগে ফুঁসতে থাকে।আর মনে মনে বলে-এতো রাগ।কী ভাবে নিজেকে।দোষ করবে কিছু বলা যাবে না।
শুধু সেদিন নয়,সেদিনের পর শ্রীয়াঙ্কা আর শুভ্রর দিকে তাকায় নি।আর শুভ্র তাতে ভিতরে ভিতরে ভীষণ রেগে যাচ্ছে।
কলেজে পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।সামনে তাদের টেস্ট আর ফাইনাল পরীক্ষা।তাই ছাত্রছাত্রীরা কতটা পড়াশোনা করছে তার জন্য এই ব্যাবস্থা। দুটো পরীক্ষা বাকি।শ্রীয়াঙ্কা পড়াশোনাতে ফাঁকি দেয় না।তাই মন দিয়ে পড়ছে।আজ তাদের ঘরে শুভ্র আসে।পরীক্ষা শুরু হয়।কিন্তু কিছুক্ষণ পর থেকে মনির শরীর খারাপ করতে থাকে।সে শ্রীয়াঙ্কাকে ডাকে।
এই,শ্রী আমার কেমন হচ্ছে রে।-মনি
কেন,কী হয়েছে?-শ্রীয়াঙ্কা
ওরা যখন কথা বলছে তখন শুভ্র ওদেরকে দেখতে পায়।তখন সে চীৎকার করে বলে-এই কী হচ্ছে।পড়া না করে পরীক্ষা দিতে আসো কেন?
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলতে যাবে।
শুভ্র-কী হল?কতক্ষণ দুজনে দেখে লিখছ।তোমাদের বলছি।শুনতে পাচ্ছ না।
শ্রীয়াঙ্কা আর মনি উঠে দাঁড়ায়।এসবের মাঝখানে মনি আরো অসুস্থ হয়ে যায়।সে পরে যাচ্ছিল।শ্রীয়াঙ্কা ধরে নেয়।দেখে মনির জ্বর এসছে।শুভ্রও ছুটে আসে।
কী হয়েছে?-শুভ্র
এদিকে মনিকে দেখে শ্রীয়াঙ্কা কেঁদে ফেলে।কাঁদতে কাঁদতে বলে-স্যার,ওর জ্বর----
শুভ্র মনিকে ধরে বসায়।দেখে সত্যি জ্বর এসছে।
শুভ্র-কেঁদো না।আমি দেখছি।
শুভ্র অন্য ম্যাডামদের ডেকে আনে।মনিকে ওষুধ দেওয়া হয়।তাকে নিয়ে চলে যায়।আর অন্যদের বলা হয় পরীক্ষা দিতে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা মনিকে দেখে ভয় পেয়ে গেছে।সে লিখতে পারছে না।শুভ্র বুঝতে পেরে এগিয়ে এসে বলে-চিন্তা কর না।তুমি লিখে নাও।ও ঠিক হয়ে যাবে।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।শুভ্র ইশারাতে তাকে লিখতে বলে।পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়।মাম্পি আর সুপর্ণা তখন মনির বাড়িতে ফোন করছে।ও কেমন আছে জানার জন্য।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা সেখানেই বসে থাকে।শুভ্র দেখে তার দিকে এগিয়ে যায়।বলে-বাড়ি যাও।
এই বলে সে চলে যাচ্ছিল।কিন্তু আবার ফিরে আসে।শ্রীয়াঙ্কার সামনে গিয়ে বলে-ভুল হয়ে গেছে।আসলে তখন ওভাবে আমার বলা----।
আর কিছু বলতে পারে না।কারন তখন শ্রীয়াঙ্কা তার চোখের দিকে তাকিয়ে।আর শ্রীয়াঙ্কার চোখের দিকে তাকালে শুভ্র বাক্য হারিয়ে ফেলে।
তখন শ্রীয়াঙ্কাই বলে-না,ঠিক আছে।
শুভ্র চলে যায়।কিন্তু সেদিন আবার তাদের দেখা হয়।এক বাসে শ্রীয়াঙ্কা,মাম্পি,সুপর্ণা আর শুভ্র।শুভ্র আজ প্রথম ওদের সাথে কথা বলে।
শুভ্র সুপর্ণাকে জিজ্ঞাসা করে-মনির কী খবর?
সুপর্ণা-স্যার,ফোন করেছিলাম একটু ভালো আছে।
শুভ্র-ও আচ্ছা।
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।দেখে সেও তার দিকে তাকিয়ে।শুভ্র ওর দিকে তাকাতেই ও অন্য দিকে তাকায়।
সেদিন শুভ্র বাড়ি ফিরে লক্ষ্য করে শ্রীয়াঙ্কা এতদিন তার দিকে তাকাচ্ছিল না।তখন সে কেন শ্রীয়াঙ্কার উপর রেগে গিয়েছিল।আজ শ্রীয়াঙ্কার কষ্টে সে কেন কষ্ট পেয়েছে?এইসব প্রশ্ন আজ তাকে ভাবাচ্ছে।কেন সে আজ  শ্রীয়াঙ্কার চোখের দিকে তাকাতে পারল না।কেন?কেন?আর আজ যখন শ্রীয়াঙ্কা কথা বলল তখন কেন মনে হল ভিতর থেকে কোনো পাথর যেন নেবে গেল।কী হচ্ছে তার জীবনে।তাহলে কী আমি----।মনের কথাটাকে শুভ্র বাইরে বার হতে দিল না।নিজেই নিজেই বলে উঠল ভুল ভুল সব ভুল।আমি কী সব ভাবছি।আমার বাবা মার প্রতি অনেক দায়িত্ব তাদেরকে সুখী করা।এ সব ভাবনা আমাকে মানায় না।
শুভ্র দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ভালোবাসার চোখে কালো কাপড় পড়িয়ে দিল।আর নাম দিল ভুল ভাবনা।
অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর চোখে অন্যকিছু দেখেছে।শ্রীয়াঙ্কা কী পারবে শুভ্রর চোখের ভাষা পড়তে?



আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ৮

মন' এই শব্দটির সাথে সবাই পরিচিত।এই অগোছালো ঘরটিকে বোঝা অনেকেরই সাধ্যে থাকে না।আর একে তুমি যেভাবে সাজাতে চাও তার ঠিক উল্টোই হয়।মনকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সময় নিজের সাধ্যের বাইরে চলে যায়।
আমাদের শুভ্রর ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।দায়িত্ত্ব পালন করতে গিয়ে সে আজ মনের বিরুদ্ধে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।কিন্তু মনকে কী সে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে?
আজ শ্রীয়াঙ্কার পরীক্ষার শেষ দিন।আজও শুভ্র ওর ঘরে।ওদের পরীক্ষার গার্ড।পরীক্ষার গার্ড শুভ্র দেবে!ধরতে পারবে যদি কেউ টুকলি করে।কী জানি!যার নিজের মন চুরি হয়ে গেল ধরতে পেরেও ছেড়ে দিল সে দেবে পরীক্ষার----।দেখা যাক কী হয়।
পরীক্ষা শুরু হয়েছে।আজ শ্রীয়াঙ্কার মুখে অন্যরকমের হাসি।পরীক্ষার প্রশ্ন ভালো এসেছে তার জন্য নয়।পরীক্ষাহলের গার্ডকে দেখে।মনের ভিতর এক অজানা ঢেউ খেলে যাচ্ছে।
অন্যদিকে শুভ্র স্থির করেছিল কোনোদিন শ্রীয়াঙ্কাকে দেখবে না।ওর চোখের দিকে তাকাবে না।কারন সে লক্ষ্য করেছে ওই চোখ তাকে সব কিছু ভুলিয়ে দেয়।
কিন্তু এ কী!শ্রীয়াঙ্কা পরীক্ষা দিতে ব্যস্ত আর শুভ্র ওর দিকেই তাকিয়ে।মনকে সে নিয়ন্তণ করতে আজ সে মনের কাছে পরাজিত।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে দেখছে।হলুদ রংয়ের একটা কুর্তি,আর গোলাপি রংয়ের পার্টিয়ালা আর ওড়নাতে তার সৌন্দর্যে আজ শুভ্র অপলকে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।কোনোদিকে আজ তার খেয়াল নেই।হঠাৎ----
স্যার,পেজ দিন----
শুভ্র চমকে ওঠে।দেখে একটি ছেলে তারই টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে।
স্যার,পেজ----
হ্যাঁ,হ্যাঁ,এই নাও-শুভ্র পেজে সই করে দেয়।ছেলেটি নিয়ে চলে যায়।
শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা তার দিকেই তাকিয়ে।ঠোঁটের কোনে তার হাসি লেগে রয়েছে।শুভ্র দেখে অন্য দিকে ফিরে যায়।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখে আরো হাসি পায়।কিন্তু পরীক্ষা দিতে হবে।সে লিখতে আরম্ভ করে।
যথারীতি পরীক্ষা শেষ হয়ে যায়।শুভ্র খাতা তুলতে থাকে।মনির কাছে গিয়ে ওর খাতা নিচ্ছে তখনও দেখছে শ্রীয়াঙ্কা মুচকি মুচকি হাসছে।শুভ্র অল্প রেগে যায়।সে মনিকে দেখে বলে-তোমার শরীর কেমন?
মনি-ভালো স্যার।
শুভ্র-ঠিক আছে।দেখে শুনে থাক।
শ্রীয়াঙ্কার খাতা নিতে এসে বলে-এতো হাসি কীসের?বন্ধু ঠিক হয়ে গেছে তাই কী আনন্দ ধরছে না।নাকি ফেল করবে বলে।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথায় শুভ্র দিকে ছোটো ছোটো চোখ করে তাকায়।কিন্তু শুভ্র ওর দিকে না তাকিয়েই চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা রাগে গজগজ করতে থাকে।বলে এতো বড় সাহস বলে ফেল করব।
এদিকে শুভ্র যে ভেবেছিল শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকাবে না,কথা বলবে না।সে আজ কী করল!মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারল না।
                      মন বড় খামখেয়ালি
                                  শোনে না কোনো বারণ 
                        নিজের নিয়মে নিজেই চলে
                                 শোনে না কারন।
                                         ❣          
আবার কলেজ শুরু হয়।একদিকে পরীক্ষা শেষ হবার উত্তেজনা।এমন ভাব ওদের মধ্যে যেন ফাইনাল হয়ে গেছে।এদিকে সুপর্ণা আর রাহুল তো প্রেমের সাগরে ভাসছে।তাই কলেজ আসেনি।আর মনি আর মাম্পিও আসেনি।কলেজে সারাদিন শ্রীয়াঙ্কার ভালো লাগছে না।তাই সে আজ লাইব্রেরীতে যায়।কিছুক্ষণ ওখানে সময় কাটিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য বের হয়ে পরে।বাস আসলে উঠে পরে কিন্তু একী বসতে যাবে দেখে পাশের সিটে একজন বসে।সেও তাকায় শ্রীয়াঙ্কার দিকে।
দাঁড়িয়ে কেন বসো।----
শ্রীয়াঙ্কা কী করবে বুঝতে পারে না।বসেই পরে।অনেকক্ষন চুপ থাকার পরে শ্রীয়াঙ্কাই প্রথম কথা বলে-স্যার,আপনি কোথাও গিয়েছিলেন?
হ্যাঁ,ঠিকই বুঝেছেন পাশে শুভ্র বসে।
একটু দরকার ছিল।তাই একজায়গায় গিয়েছিলাম।-শুভ্র
আসলে শুভ্রর আজ কলেজ ছিল না।তাই সে অন্য দরকারে গিয়েছিল।আসার সময় এই বাসেই ফিরছিল।আর শ্রীয়াঙ্কাও এই বাসেই ওঠে।
শ্রীয়াঙ্কা-ওও।
তারপর দুজনেই চুপ।এভাবে কতক্ষণ চুপ থাকা যায়।
তাই শুভ্র বলে-পড়াশোনা কেমন চলছে?
শ্রীয়াঙ্কা-ভালো।
কিছুক্ষণ আবার চুপ।
আবার শুভ্র বলে-তোমার নাম তো শ্রীয়াঙ্কা।কিন্তু তোমাকে তো কলেজে অনেকেই শ্রী বলে ডাকে।তাই না----
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে বলতে থাকে-হ্যাঁ,আমার কাছের মানুষেরা আমাকে শ্রী বলেই ডাকে।আপনিও ডাকতে পারেন।
শ্রীয়াঙ্কা কথাটা বলার সাথে সাথে শুভ্র ওর দিক চায়।এতক্ষণে শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারে সে কী বলে ফেলেছে।মনে মনে নিজেকেই গালাগালি দিতে থাকে।এ কী সে বলে ফেলল।এবার না রেগে যায়।
কিন্তু শুভ্র কী বলবে বুঝতে পারে না।চুপ করে থাকে।শ্রীয়াঙ্কাও মাথা নীচু করে নেয়।যতক্ষণ না নেমে যায়  মাথা নীচু করে থাকে।নেমে যাওয়ার সময় কী বলবে বুঝতে পারে না।কারন শুভ্র তখন জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে।শ্রীয়াঙ্কা নেমে যায়।
শুভ্র অন্যদিকে তাকিয়ে থাকলেও সে জানে।কিন্তু সে তাকায় না।
বাড়ি ফিরে শুভ্র ভাবতে থাকে এ কোন জালে সে জড়িয়ে পড়ছে।যতই ভাবছি দূরে যাব ততই যেন----।কেন আমি পারছি না।না,না আমাকে পারতেই হবে।আমাকে আরো অনেক কিছু করতে হবে।যারা নিজে না খাইয়ে আমাকে এই কলকাতা শহরে রেখেছে।তাদের সামনে আমি কী করে দাঁড়াব।এই সব ভেবে সময় নষ্ট করার কোনো মানে হয় না।
আসলে এই সব ভাবতে ভাবতে শুভ্রর পড়াশোনা আর হয় না।সে বুঝতে পারছে সে ফাঁকি দিচ্ছে।যে ভবিষ্যত সে চিন্তা করেছে সেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনাতে ফাঁক থেকে যাচ্ছে।তাই চিন্তা করে আর নয়।এ ভুল সে করবে না।আসলে কষ্টের মধ্যে বড় হওয়া শুভ্র কোনোদিনই এই প্রেম ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেয়নি।তার দুচোখে যে স্বপ্ন সেই স্বপ্নে আজ কোথাও খামতি।তার বুঝতে পারার কারন সে আজ একটি সরকারি চাকরির পরীক্ষা দিতে গিয়েছিল।আর পরীক্ষা হলেই 
সে বুঝে গেছে তার কী অবস্থা।তাই তার আজ এই সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কা বাড়ি এসে ভাবে সে আজ কী করে অমন কথা বলল।আর ভাবে এই কথা বলার জন্য শুভ্র আর কী তার সাথে কথা বলবে।
(তাহলে কী আলাদা হবে তাদের জীবন।বন্ধ করে দেবে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার সাথে কথা বলা।দায়িত্ব পালনের সাথে সাথে ভালোবাসাও যে যায়।তা কী শুভ্র বুঝবে না।ভালবাসার মানুষটিকে সে কী বলবে তার মনের কথা।)

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ৯

শ্রীয়াঙ্কা সেদিন যে কথা বলে ফেলেছিল তার জন্য নিজেকে দোষারোপ করতে থাকে।কারন শুভ্র সেদিনের পর থেকে আর তেমন শ্রীয়াঙ্কার সাথে কথা বলেনি।তাই শ্রীয়াঙ্কা মনে মনে কষ্ট পেতে থাকে।সে ভাবে তার কথাতেই হয়তো শুভ্র এরকম ব্যবহার করছে।
এদিকে শুভ্রর চাকরির প্রস্তুতিতে কোনো খামতি রাখে না।নিজের লক্ষ্যে সে এবার স্থির।কলেজের অফ টাইমেও সে নিজের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।আজও তাই করেছে।একটি পেপারে কিছু প্রশ্নের সমাধান করছিল।হঠাৎ ছন্দা ম্যাম এসে বলেন-তোমার না এখন থার্ড ইয়ারের ক্লাস?
শুভ্র মুখটা তুলে বলে-হ্যাঁ,১২ টা থেকে।দেরি আছে।
ছন্দা ম্যাম-১২টা ১০ বাজে।
শুভ্র ঘড়ির দিকে তাকায়।আর বলে-সরি,বুঝতে পারিনি।ধন্যবাদ।
ছন্দা ম্যাম-ঠিক আছে।
শুভ্র চলে যায়।কিন্তু ক্লাসে ঢুকতে যাবে।এ কী সবাই একসাথে-HAPPY BIRTHDAY TO YOU 
শুভ্র বুঝতে পারে না কী হচ্ছে।এদিকে শুভ্রকে দেখে সবাই চুপ হয়ে যায়।
শুভ্র-কী হচ্ছে?
মনি বলে ওঠে-স্যার আজ মাম্পির জন্মদিন তাই আমরা বন্ধুরা মিলে----
শুভ্র কী বলবে বুঝতে পারে না।জন্মদিনে কারোর মন খারাপ করে দেওয়ার ইচ্ছা তার নেই।
তাই শুভ্র বলে-যেটা করছিলে সবাই করে নাও।
স্যারের অনুমতি পেয়ে সবাই মাম্পিকে কেক কাটতে বলে।কিন্তু এরমধ্যে একজন চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।মনি এসে বলে-কী রে শ্রী,চুপ কেন এদিকে আয়।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে চায়।দেখে সে অন্যদিকে তাকিয়ে আছে।
মাম্পির কেক কাটা হয়ে যায়।মাম্পি শুভ্রকে দেয় তারপর সবাইকে দেয়।এরমধ্যে একজনের মুখে কোনো কথা নেই।এমনকি মাম্পির দেওয়া কেকও খায় না।গলাটা যেন বুজে আসে।বলে পরে খাবে।
শুভ্র নিজের মতো ক্লাস করিয়ে চলে যায়।
এরকম করে দিন যেতে থাকে।বাঙালিদের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা এসে পরে।কলেজে এবার আগমনীর অনুষ্ঠান করা হবে তার প্রস্তুতিতে সবাই মেতেছে।
উৎসবের দিন শ্রীয়াঙ্কা হলুদ রঙের শাড়ি পরে।অনুষ্ঠানও শুরু করতে হবে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা একজনকেই খুঁজতে থাকে।কিন্তু সে আসে না।
শুভ্র অনুষ্ঠান শুরুর অনেক পরে আসে।শুভ্রকে দেখে শ্রীয়াঙ্কার মন আনন্দে নেচে ওঠে।কিন্তু এ কী অনুষ্ঠান শেষের আগে তাকে দেখতে পায় না।কারন তার আগেই শুভ্র চলে যায়।আসলে শুভ্র বুঝতে পেরেছে সেখানে থাকলে শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে হবে।আর শ্রীয়াঙ্কাকে আজ এতো সুন্দর লাগছে যে শুভ্র চোখ তার দিকেই চলে যাচ্ছিল।
শ্রীয়াঙ্কার মন খারাপ করতে থাকে।
পূজার ছুটি পরে যায়।যে ঢাকের বাজনাতে আগে তাদের মন আনন্দিত হয়ে উঠত।আজ সে বাজনা তাদেরকে দুঃখের মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।কারন আর তাদের দেখা হবে না।
শ্রীয়াঙ্কার মন খারাপ করতে থাকে।বান্ধবীদের সাথে পুজাতে বার হতে না করে দেয়।কিন্তু বাবা মার জোরাজুরিতে একদিন বের হলেও তার মন পূজা প্যাণ্ডেলে ছিল না।
অন্যদিকে শুভ্র তারও কী সেই অবস্থা।হ্যাঁ,আমাদের শুভ্রর ও মনখারাপ।যখন শ্রীয়ঙ্কাকে দেখতে পেয়েও অন্য দিকে তাকিয়ে থাকত।আজ একবার তার মুখ দেখার জন্য সে ছটফট করছে।
আসলে যখন সে কাছে ছিল তখন তাকে শুভ্র দূরে ঠেলে দিতে চেয়েছিল।আজ সে দূরে তাকে কাছে আনার বৃথা ভাবনা তাকে কষ্ট দিচ্ছে।পুজাতে সে বাড়ি গেলেও বেশিদিন থাকে না ফিরে আসে।
দুইজন দুইজনের ভাবনাতে পূজা কাটিয়ে দেয়।শুভ্র এই কয়েকদিনে বুঝে যায় সে শ্রীয়ঙ্কাকে ছেড়ে থাকা তার পক্ষে অসম্ভব।সে ভাবে তাকে বলে দেবে।কিন্তু আরেক ভাবনা তার মনে উঁকি দেয়।আচ্ছা শ্রীয়াঙ্কারও কী তাকে নিয়ে একী অনুভূতি কাজ করে।এই কয়েকদিনে সেও কী তাকে নিয়ে ভাবছে।আর যদি না করে----।
কিন্তু পূজার ছুটির পরে তার মুখ দিয়ে কথা বার হয় না।কী করে বলবে সে।বার বার বলতে গিয়েও ফিরে আসে। শ্রীয়াঙ্কা কী ভাববে?
তাছাড়া সামনে শ্রীয়াঙ্কার টেস্ট পরীক্ষা।কী করবে সে।
এদিকে ওদের টেস্ট পরীক্ষা হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কাও কষ্ট পেতে থাকে।ফাইনাল পরীক্ষার আগে বান্ধবীরা জোর করতে থাকে সবাই একসাথে একদিন ঘুরতে যাবে।অনেক জোর করে শ্রীয়াঙ্কাকে রাজি করায়।
শ্রীয়াঙ্কা সেদিন মামার বাড়ি থেকে এসে তাদের বলা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে।কিন্তু ওদের আসার নাম নেই।এদিকে আকাশের অবস্থাও খারাপ।বার বার ফোন করতে থাকে।কিন্তু কারোর ফোনে ফোন যাচ্ছে না।শেষে মনি ফোন ধরে-এই,শ্রী,আমাদের এখানে খুব বৃষ্টি হচ্ছে।আমি বের হতে পারিনি।তুই কী চলে এসেছিস?
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যাঁ,আর ওদের কী খবর?
মনি-সুপর্ণা তো মাম্পির বাড়িতে গিয়েছিল।একসাথে যাবে বলে।কিন্তু ওরাও বার হতে পারিনি।
শ্রীয়াঙ্কা-আচ্ছা,এদিকের অবস্থাও খুব খারাপ রে।বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।
মনি-কী করি বলত।
শ্রীয়াঙ্কা-চিন্তা করিস না।আমি বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।তুই সুপর্ণাকে ফোনে পেলে বলে দিস।
মনি-আচ্ছা।
শ্রীয়াঙ্কা ফোন রেখে দেয়।এদিকে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।ওর খুব ভয় করতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা বিদ্যুৎ চমকানো আর বাজ পরাকে খুব ভয় পায়।
সবে রাস্তা পার হবে।দেখে রাস্তার অপার থেকে একজন তার দিকেই আসছে।সে হল শুভ্র।
তুমি এখানে?-শুভ্র
আসলে,বান্ধবীরা আসবে বলে----শ্রীয়াঙ্কা
ওও,তারা কোথায়?-শুভ্র
ওরা আসতে পারবে না।বৃষ্টিতে আটকে পড়েছে-শ্রীয়াঙ্কা।
তুমি ছাতা এনেছ?-শুভ্র
আসলে তখন তো বৃষ্টির কোনো----।তাই-শ্রীয়াঙ্কা
এদিকে আকাশ কালো করে আসে।শুভ্র কী করবে বুঝতে পারে না।
অনেক সংকোচের পর হঠাৎ বলে-এখানে দাঁড়িয়ে থাকলে তো তুমি ভিজে যাবে।তাই বলছি আমার বাড়ি পাশে তোমার যদি অসুবিধা না হয়।তাহলে----।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কাছ থেকে এরকম কথা আশা করেনি।তাই তার বুঝতে সময় লাগে।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার চুপ করা দেখে ভাবে সে হয়তো কিছু ভুল বলে ফেলেছে।তাই বলে-চল,ওই দোকানের ভিতর দাঁড়াই।
শ্রীয়াঙ্কা একটু ইতস্তত করে বলে-চলুন,আপনার বাড়ি।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে চায়।
শ্রীয়াঙ্কা-বৃষ্টি তো শুরু হয়ে গেল।
হ্যাঁ,চল-শুভ্র
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে তার বাড়িতে নিয়ে আসে।এদিকে বৃষ্টি খুব জোরে এসে পড়ায় দুজনে ভিজেও গেছে।
শ্রীয়াঙ্কা দেখে ছোটো ঘর।কিন্তু খুব সুন্দর করে সাজানো।আর তার আকর্ষণ করে শুভ্রর বইয়ের তাক।কতো বই।সে বই গুলো দেখতে থাকে।এদিকে শুভ্র তো নিয়ে আসে। কিন্তু সে অস্বস্তিতে পরে।
শ্রীয়াঙ্কা বই দেখতে দেখতে বলে-আপনি এখানে কী----
শুভ্র-ভাড়া থাকি।
শ্রীয়াঙ্কা-ঘরটি কিন্তু খুব সুন্দর।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা দেখে শুভ্রর চুলগুলো থেকে অল্প অল্প জল গড়িয়ে পড়ছে।আর শুভ্র মাথা মুচছে।চোখের চশমা খুলে রেখেছে।আরো সুন্দর লাগছে।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কার চুল থেকেও জল পড়ছে।শুভ্র তা দেখতে পেয়ে একটা টাওয়াল এনে বলে মুছে নাও।
শ্রীয়াঙ্কা-না,ঠিক আছে।আমার ওড়না আছে হয়ে যাবে।
শুভ্র-ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।তাই----।সামনে তোমার পরীক্ষা।
শ্রীয়াঙ্কা কী করবে।টাওয়ালটা নেয়।চুল মুছতে মুছতে বলে-আপনি এতো বই কখন পড়েন।
শুভ্র হেসে বলে-ওই আর কী।
শ্রীয়াঙ্কা এই প্রথম শুভ্রকে এতো সুন্দর করে হাসতে দেখে।হাসলে যে আরো সুন্দর লাগে শ্রীয়াঙ্কা তাকিয়ে থাকে শুভ্রর দিকে।
হঠাৎ কারেন্ট চলে যায়।আলো নিভে যাওয়াতে শ্রীয়াঙ্কা ভয় পেয়ে যায়।
শুভ্র বলে-দাঁড়াও,আমি কিছু জ্বালাছি।
দেশলাইটা নিয়ে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে টেবিলের উপর রেখে শ্রীয়াঙ্কার দিকে ফেরে।
হঠাৎ কাছে কোথাও বাজ পরার শব্দ আর ভয়ে শ্রীয়াঙ্কা ছুটে এসে শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে।শ্রীয়াঙ্কা যে বাজ পড়ার শব্দকে ভীষণ ভয় পায়।
শুভ্র অবাক হয়ে যায়।তার বুকের উপর শ্রীয়াঙ্কার মুখ।ঠকঠক করে কাঁপছে।আর দুহাত দিয়ে শুভ্রকে জড়িয়ে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে।কিন্তু আর একটা বাজ পরার শব্দে শ্রীয়াঙ্কা আরো শুভ্রকে আঁকড়ে ধরে।শ্রীয়াঙ্কাকে সে কিছুতেই ছাড়াতে পারে না।শ্রীয়াঙ্কার বুকের ভিতরের শব্দ সে শুনতে পাচ্ছে,নিশ্বাস পড়ছে শুভ্রর বুকের উপর।এ এক অজানা অনুভূতি।ভালোবাসার মানুষটি আজ তার এতো কাছে।শুভ্র যেন আর নিজের মধ্যে নেই।
শ্রীয়াঙ্কাকে বলে-ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।শুভ্রকে শক্ত করে ধরে।
শুভ্র অজান্তেই ধীরে ধীরে শ্রীয়াঙ্কার মুখটা তোলে।দুহাতের মাঝখানে এখন শ্রীয়াঙ্কার মুখ।শ্রীয়াঙ্কা কিন্তু চোখ খোলে না।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে থাকে।শুভ্র অদ্ভুত এক ঘোরের মধ্যে চলে যায়।আস্তে আস্তে শুভ্রর ঠোঁট এগিয়ে যায় শ্রীয়াঙ্কার কপালের দিকে।শুভ্রর ঠোঁট শ্রীয়াঙ্কার কপাল ছোঁয়।শুভ্রর ছোঁয়াতে শ্রীয়াঙ্কা চোখ খুলে তাকায়।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কা দুইজন দুইজনের চোখের দিকে তাকিয়ে।
আবার বাজ পড়ার শব্দ আর শুভ্রর তাতে হুঁশ ফেরে।সে বুঝতে পারে সে কী করে ফেলেছে।শ্রীয়াঙ্কাকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বারান্দায় গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা তখন অবুঝের মতো দাঁড়িয়ে।কী হয়ে গেল।কী করল শুভ্র।শ্রীয়াঙ্কা কী করবে।তার পা চলছে না।অন্যদিকে শুভ্র নিজের কাজের জন্য নিজের কাছে ছোটো হয়ে যাচ্ছে।কী করল সে।শ্রীয়াঙ্কা কী ভাবছে তাকে।হয়তো ভাবছে এইজন্যই তাকে এখানে নিয়ে এসেছে।কী করে সে দাঁড়াবে শ্রীয়াঙ্কার সামনে।
এদিকে বৃষ্টি কমে এসেছে।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে কিন্তু সে আসে না।বাধ্য হয়ে ঘর থেকে বার হয়ে যায়।দেখে অন্ধকারে শুভ্র দাঁড়িয়ে।শ্রীয়াঙ্কা ডাকে না।চলে যায়।কিন্তু শুভ্র টের পায় না।
কিছুক্ষণ পর শুভ্র এসে দেখে ঘরে শ্রীয়াঙ্কা নেই।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১০

শুভ্র ঘরে গিয়ে দেখে শ্রীয়াঙ্কা নেই।শ্রীয়াঙ্কা চলে গেছে।সে বসে পরে।বুকের ভিতর অসহ্য কষ্ট হচ্ছে।শ্রীয়াঙ্কাকে বলতে পারল না যে সে ইচ্ছা করে নি।নিজের কাছে নিজেই ছোটো হয়ে যাচ্ছে।
শ্রীয়াঙ্কাকে দেওয়া টাওয়ালটা পরে আছে।হাতে তুলে নেয় টাওয়ালটা।দুচোখ জ্বালা করতে থাকে।আজ শুভ্র অনুভব করে শ্রীয়াঙ্কাকে সে কতটা ভালোবাসে।হাত মুঠো করে খাটের গায়ে মারতে থাকে।নিজের ভুলের জন্য নিজেকেই কষ্ট দিতে থাকে।
কিছুক্ষণ বসে থাকার পর সে সিদ্ধান্ত নেয় আর নয়।কালকেই শ্রীয়াঙ্কাকে সে তার মনের কথা বলে দেবে।টাওয়ালটাকে শক্ত করে ধরে বলে- আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি শ্রী,খুব ভালোবেসে ফেলেছি।তুমিই আমার প্রথম ভালবাসা।আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি আর ভালোবেসে যাব।
অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কার মামার বাড়ি যাওয়ার কথা ছিল।কিন্তু সে বাড়ি চলে আসে।মা,বাবা কেন ফিরে এল জানতে চাইলে সে বলে ভালো লাগছে না তাই ফিরে এসেছে।বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে চুপ করে বসে থাকে।শুভ্রর ঠোঁটের ছোঁয়া সে এখনও যেন অনুভব করছে।চোখ বন্ধ করলেই শুভ্রর চোখটা যেন ভেসে উঠছে।
এদিকে শতরূপা দেবী মেয়ের হাবেভাবে কিছু লক্ষ্য করেন।তাই সুব্রত বাবুর কাছে গিয়ে বলেন-এবার শ্রীকে বলে দেওয়া উচিত।না হলে বড্ড দেরি হয়ে যাবে।
সুব্রত বাবু-কিন্তু আমার খুব ভয় করছে।শ্রীকে কী ভাবে বলব।ও যদি আমাকে ভুল বোঝে।
শতরূপা দেবী-কিন্তু শ্রী এখন বড় হয়েছে।আমাদের অনেক আগেই বলে দেওয়া উচিত ছিল।
সুব্রত বাবু-শ্রীর অমতে আমি কিছু করতে পারব না।
শতরূপা দেবী-আচ্ছা,ঠিক আছে।চল,আজই শ্রীকে সব বলি।
সুব্রত বাবু আঁতকে ওঠেন।-আজ!
শতরূপা দেবী-হ্যাঁ,ওনাদেরকেও বলে দাও ছোট্টুকে বলে দিতে।
সুব্রত বাবু একটু চুপ থেকে বলেন-আচ্ছা,আমি ফোন করে দিচ্ছি।তুমি শ্রীর ঘরে চল।
শতরুপা দেবী শ্রীর ঘরের দিকে এগিয়ে যান।দেখে শ্রী বসে আছেন।এখনও জামা পাল্টায়নি।ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলেন-কী রে,শরীর খারাপ?
মায়ের ডাকে শ্রী মায়ের দিকে তাকায়।কিন্তু কিছু বলে না।এদিকে সুব্রত বাবুও চলে এসেছেন।উনি শ্রীর কাছে এসে ওর মাথায় হাত রাখেন।
কী হয়েছে শ্রী,তোর জামা তো ভিজে গেছে।যা চেঞ্জ করে আয়।ঠান্ডা লেগে যাবে।-সুব্রত বাবু
বাবার কথায় শ্রী উঠে যায়।গিয়ে চেঞ্জ করে আসে।এসে বাবার পাশে বসে।কিন্তু মুখে কিছু বলে না।
সুব্রত বাবু বলতে থাকেন-শ্রী এখন তুই বড় হয়েছিস।তাই তোকে----।আর কিছু বলেন না।
শতরুপা দেবী ইশারাতে বলতে বলেন।
সুব্রত বাবু-শ্রী আজ তোকে কিছু কথা বলার আছে।জানি না তুই তা শোনার পর তোর এই বাবার সাথে কথা বলবি কিনা।
শ্রীয়াঙ্কা এবার বলে-কী হয়েছে বাবা?
সুব্রত বাবু-শ্রী বড় রাস্তার ওপারে যে বাড়িটা আছে জানিস তো----
শ্রীয়াঙ্কা-কাদের বাবা।মৃত্তিকাদের বাড়ি।
সুব্রত বাবু-না,নীলুদের বাড়ি।
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যাঁ,জানি তো।তাতে কী হয়েছে বাবা।
সুব্রত বাবু-ওটা আগে নীলুদের ছিল না।
শ্রীয়াঙ্কা-কিন্তু আমি বড় হওয়ার পর থেকে তো নীলুদের দেখছি।
সুব্রত বাবু-ওটা আগে ছোট্টুদের বাড়ি ছিল।
শ্রীয়াঙ্কা-ছোট্টু কে বাবা?
সুব্রত বাবু বলতে থাকেন-তখন তোর মা আমার সবে বিয়ে হয়েছে।চাকরির দরুন এখানে এসেছি।তার কিছুদিন পরে ওখানে আসেন মমতা দেবী আর কল্যান বাবু।ওদের বড় ছেলে সাগ্নিককে নিয়ে।তখন তোর  জন্ম হয়নি।ওদের সাথে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে।সাগ্নিক একটু বড় ছিল।তারপর ওর ছোটো ভাই ছোট্টু হল।
এইটুকু বলে সুব্রত বাবু একটু থামেন।আর শ্রীয়াঙ্কা ওর বাবার দিকে চেয়ে থাকে।যেন কোনো গল্প শুনছে।কিন্তু এই গল্পের পরিণাম কী হতে চলেছে ওর ভাবনার বাইরে।
সুব্রত বাবু  আবার বলতে শুরু করেন-ছোট্টু হওয়ার কিছু বছর পরে তুই হলি।তোকে ওর সাথে খেলতে বসালে দুজনের বন্ধুত্ব দেখে আমরা অবাক হতাম।ওতো ছোটো বয়সেও তোদের মধ্যে খেলনা নিয়ে কোনো ঝগড়া নেই।দুজন দুজনের মুখে খাবার তুলে দিতিস।তোকে ছোট্টুর মা বাবা ছুটকি বলে ডাকত।আর সাগ্নিক তার ভাই বোনকে পেয়ে ইস্কুলে যেতে চাইত না।কিন্তু----সব শেষ হয়ে গেল।
শ্রীয়াঙ্কা-কেন বাবা?
সুব্রত বাবু-কল্যান বাবুর কোম্পানি হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল।আর তার দুদিন পরে সাগ্নিক অ্যাকসিডেন্টটে মারা গেল।
শ্রীয়াঙ্কা-বাবা!
সুব্রত বাবু-তারপর ওরা আর এখান থেকে ওদের দেশের বাড়িতে ফিরে গেলেন।আমরা ওদেরকে থাকতে বললেও শুনলেন না।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে শোনে।
আর ছোটবেলায় ছোট্টুর নামের সাথে মিলিয়ে ওরা তোকে ছুটকি বলে ডাকত।আমরাও তাতে খুশি হতাম।কারন----।-সুব্রত বাবু কথাগুলো কেটে কেটে বললেন।
কেন বাবা?-শ্রীয়াঙ্কা।
আমরা ঠিক করেছিলাম তোর আর ছোট্টুকে একসাথে দেখতে,তোদেরকে একসুতোয় বাঁধতে।তোদের বিয়ে দিতে।এরকম কথা আমরা দুপরিবার দুই পরিবারকে দিয়েছিলাম।-এক নিশ্বাসে বলে গেলেন সুব্রত বাবু।
বাবা!-শ্রীয়াঙ্কা চিৎকার করে ওঠে।
আবার ঝড় উঠেছে বাইরে।কাছে কথাও কোনো বড় গাছ ভেঙ্গে পড়ল।সাথে সাথে শ্রীয়াঙ্কার বুকের ভিতর কিছু যেন মোচড় দিয়ে উঠল।
হুম রে মা,আমি যে কথা দিয়েছিলাম।আর ওরা আর এইখানে আসেন নি।তাই তোর সাথে দেখা হয়নি।আমরা আসতে বললেও আসেন নি।বড় ছেলেকে হারিয়ে তারা আর এখানে আসেন নি।তাই আমরা কিছু বছর আগে তোদের মামার বাড়িতে রেখে ওদের দেশে গিয়েছিলাম।ওরাও ওদের ছেলেকে এখনও বলেন নি।আমরা চাই না তোদের অমতে কিছু হক।ছোট্টুকে আমরাও আর দেখিনি।দেশে যখন গিয়েছিলাম সেও অনেক বছর আগেকার কথা।এখন শুনেছি সে কলকাতায় পড়াশোনা করে।চাকরির চেষ্টায় আছে।দেশে থাকলে অসুবিধা হয়।কিন্তু ওর মা বাবা আসতে দেয় না।ও জোর করে আছে।
এসব শুনে শ্রীয়াঙ্কার মাথা ঘুরতে থাকে।
সুব্রত বাবু শ্রীয়াঙ্কার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলেন-তোর অমতে আমি কিচ্ছু করব না শ্রী।আমি কথা দিলাম।তুই ভেবে দেখ।আর যদি ছোট্টুর সাথে কথা বলতে চাস তো----।আমি বুঝতে পারছি তোকে আগে বলা উচিত ছিল।
এই বলে তিনি চলে গেলেন।সাথে শতরূপা দেবীও মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেলেন।
শ্রীয়াঙ্কার মাথা ঘুরতে থাকে।আজ ঝড় বাইরে নয় তার বুকের ভিতর উঠেছে।
শ্রীয়াঙ্কা কাঁদতে থাকে।এ কী হল।আজ কী হচ্ছে তার সাথে।
কী করব আমি,কী করব।-এই বলে সে কাঁদতে থাকে।অনেকক্ষন ধরে চিন্তা করে সে বুঝতে পারে-শুভ্রকে ছাড়া সে থাকতে পারবে না।তাই শুভ্রকে সে কাল ওর মনের কথা বলে দেবে।কারন সে বুঝেছে  শুভ্রও তাকে ভালোবাসে।আজ ওর মধ্যে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।ওর চোখ তাই বলেছে।
তাই ভাবে ওই বলবে শুভ্রকে।আর ভাবে তাছাড়া তো বাবা বলেছে ও যা বলবে তাই হবে।কে এই ছোট্টু!কী বাজে নাম।কোথায় শুভ্র।কতো সুন্দর।এই ভেবে তার ঠোঁটের কোনে হাসি ফুটে ওঠে।সে চিন্তা করে শুভ্র তাকে না করবে না।
শ্রীয়াঙ্কা বলতে থাকে- আমি তোমাকে ভালোবাসি।তোমাকে ছাড়া আর কাউকে ভালোবাসতে পারব না।শুধু তোমাকেই ভালোবাসি,আর ভালোবেসে যাব।
মনে এক আলাদা অনুভূতি হতে থাকে।কখন সকাল হবে সে সেই চিন্তাই করতে থাকে।
অন্যদিকে শুভ্রও তার ভালোবাসার মানুষটিকে মনের কথা বলার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে।এদিকে ফোনটা বেজে ওঠে।ফোনের আওয়াজে সে চমকে ওঠে।উঠে গিয়ে ফোনটা ধরে।



আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১১

শ্রীয়াঙ্কা সারারাত ঘুমাতে পারেনি।সারারাত সে শুধু শুভ্রর কথাই ভেবেছে।কী ভাবে সে শুভ্রকে মনের কথা বলবে সেই চিন্তাই করেছে।তার মনে হয়েছে শুভ্র হয়তো বলতে পারছে না।সেও তাকে ভালোবাসে।তাই ঠিক করে সেই তার মনের কথা বলবে।এদিকে সকালে বান্ধবীরা ফোন করলে সে বলে আজ কলেজে যাবে না।ওইদিকে ওরাও বলে যে যাবে না।
শ্রীয়াঙ্কা তো কলেজ যাবে।কিন্তু সে আজ বান্ধবীদের কাছ থেকে লুকিয়ে যায়।সকালবেলা স্নান সেরে উঠে কোন ড্রেস পরবে তা নিয়ে আধঘন্টা কাটিয়ে দেয়।তারপর নিজের পছন্দের সবথেকে প্রিয় ড্রেসটা পরে বেড়িয়ে পরে।
কলেজে গিয়ে তার দুচোখ শুধু একজনকেই খুঁজতে থাকে।কিন্তু তার দেখা মেলে না।অস্থির হতে থাকে মন।এদিকে আজ শুভ্রর কোনো ক্লাস নেই।শ্রীয়াঙ্কা ভাবে তাহলে কী আসেনি।কলেজে ছুটির সময়ও এসে পরে।শ্রীয়াঙ্কা আর থাকতে না পেরে বেড়িয়ে পরে শুভ্রকে খুঁজতে।সারা কলেজে তন্নতন্ন করে খুঁজেও সে শুভ্রর দেখা পায় না।অবশেষে ব্যর্থ হয়ে মন খারাপ করে যখন নিজের ক্লাসরুমের দিকে আসতে থাকে তখন দেখা মেলে তার ভালোবাসার মানুষটির সাথে।একদিকে যেমন আনন্দ অন্যদিকে তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়।
শুভ্র অন্যদিক দিয়ে আসতে থাকে।সেও শ্রীয়াঙ্কাকে লক্ষ্য করে।শ্রীয়াঙ্কা একেবারে শুভ্রর সামনে এসে পরে।সে আজ তো ঠিক করেই নিয়েছে শুভ্রকে আজ বলবে।সে এমনভাবে শুভ্রর পথ আটকে দাঁড়ায় যে শুভ্র যেতে পারে না।সেও দাঁড়িয়ে পরে।
শ্রীয়াঙ্কা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে-আমার কিছু বলার আছে আপনাকে।
শুভ্র  তার দিকে তাকিয়ে থাকে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার গলা দিয়ে স্বর বার হচ্ছে না।সে মাথা নীচু করে থাকে।
অনেক কষ্টে সে বলতে থাকে-কাল মানে----আমি আপনাকে ভালোবাসি----
শুভ্র বুঝতে পারে শ্রীয়াঙ্কা কী বলছে।তাই সে শেষ পর্যন্ত আর শোনে না।
শ্রীয়াঙ্কাকে থামিয়ে দিয়ে বলে- কী সব বলছ।লজ্জা করে না।কলেজে এইসব করতে আসো।পড়াশোনা তো করো না,বাদ দাও।কিন্তু এইসব কী?আর ভালোবাসার কী বোঝ?নিজেকে খুব বড় ভাব না।সামনে পরীক্ষা তার কোনো চিন্তা নেই,আর উনি ভালোবাসার কথা বলতে এসেছেন।
শুভ্র কথাগুলো খুব জোরেই বলে ফেলে।তার ফলে কলেজের অনেকেই তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে।অনেকে ব্যাপার কী আন্দাজ করতে পারে।এদিকে শুভ্রর কথা শুনে শ্রীয়াঙ্কার পায়ের তলার মাটি যেন সরে যায়।সে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে দেখে।শুভ্র তার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে আছে।শ্রীয়াঙ্কার চোখের সামনে সব ঝাপসা হয়ে যায়।এদিকে শুভ্র কথাগুলো বলে চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা দেখে অনেকেই তার দিকে তাকিয়ে আছে।সে একছুটে নিজের ক্লাসে চলে যায়।কোনোরকমে নিজের ব্যাগটা নিয়ে বেড়িয়ে পরে।
জানে না সে কোথায় যাচ্ছে।বেখেয়ালে সে হাঁটতে থাকে।চোখ থেকে টপটপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে।রাস্তার কৌতূহলী চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে।কিন্তু সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই।কিছুদূর যাওয়ার পর সে একটা পার্কের কাছে এসে পরে।আনমনা ভাবে একটা বেঞ্চিতে গিয়ে বসে।শুভ্রর বলা কথাগুলো তার কানে এখনও বাজছে।বুকের ভিতরে খুব কষ্ট হতে থাকে।চুপ করে সে বসেই থাকে।
এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসে।শ্রীয়াঙ্কা বাড়ি না ফেরায় তার  বাবা মা চিন্তা করতে থাকে।তাই শ্রীয়াঙ্কার ফোনে ফোন করে।ফোনের আওয়াজে শ্রীয়াঙ্কার হুঁশ ফেরে।ফোনটা ধরে।ওপার থেকে-কী রে,কোথায় তুই?
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।আবার ওপার থেকে-কী রে,শুনতে পাচ্ছিস না।
এবার শ্রীয়াঙ্কা বলে-হ্যাঁ,বল।
----কী রে কোথায় তুই?কখন ফিরবি?
----হ্যাঁ,আসছি।এই বলে সে ফোনটা রেখে দেয়।
এতক্ষণ সে খেয়াল করেনি।দেখে সন্ধ্যা হয়ে গেছে।চোখ দুটোকে মুঝে নেয়।কিন্তু বার বার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়ছে।
শ্রীয়াঙ্কা মনে মনে বলে-আমি ঘেন্না করি আপনাকে।ভালোবাসা তো দূরের কথা।ঘৃণা করি।আপনার মুখও আমি আর কোনোদিন দেখব না।
এই বলে সে আবার কেঁদে ফেলে।আবার নিজেই বলে-কেন আমি কাদঁছি।আমি কাঁদব না।আমি কাঁদব না।এই বলে সে চোখ মুছে নিয়ে বাড়ির দিকে পা বাড়ায়।
বাড়িতে গিয়ে নিজের ঘরে চলে যায়।কারোর সাথে কথা বলে না।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার বাবা মা চিন্তা করতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা তো এতো দেরিতে বাড়ি ফেরে না।কী হল?
এইসব প্রশ্ন নিয়ে শ্রীয়াঙ্কার কাছে আসে।শ্রীয়াঙ্কা জানলার ধারে দাঁড়িয়ে আছে।সুব্রত বাবু এসে শ্রীয়াঙ্কার পাশে দাঁড়ান।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার সেদিকে খেয়াল নেই।
শ্রীয়াঙ্কার মাথায় হাত রাখেন সুব্রত বাবু।সুব্রত বাবু খুব চিন্তায় আছেন শ্রীয়াঙ্কাকে নিয়ে।তিনি ভাবছেন কালকের বলা কথা গুলো হয়তো শ্রীয়াঙ্কাকে কষ্ট দিচ্ছে।
এই শ্রী কী করছিস?-সুব্রত বাবু
শ্রীয়াঙ্কা বাবার দিকে তাকিয়ে আবার বাইরের দিকে চোখ রাখে আর বলে-কিছু নয়।
তোর পরীক্ষার প্রিপারেশন কেমন?-সুব্রত বাবু
ভালো বাবা-শ্রীয়াঙ্কা
সুব্রত বাবু মেয়ের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে।তারপর বলে-তুই কী কষ্ট পাচ্ছিস কালকের কথা গুলো নিয়ে।দেখ শ্রী তোর অমতে আমি কিছু করব না।তুই যদি অন্য কাউকে----।
এই বলে সুব্রত বাবু থেমে যান।শ্রীয়াঙ্কা বাবার দিকে তাকায় আর বলে-কিসের কষ্ট বাবা।আমি জানি তুমি যা করবে সব আমার ভালোর জন্য।তুমি যা বলবে আমি তাই করব।
সুব্রত বাবু-তার মানে তুই----
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যাঁ,বাবা তুমি যে কথা দিয়েছ আমি তা রাখব।
সুব্রত বাবু-তুই ভালো করে ভেবেছিস শ্রী?
শ্রীয়াঙ্কা-এতে ভাবাভাবির কী আছে।কিন্তু বাবা আমি এখন বিয়ে করতে চাই না।মাস্টার ডিগ্রি করতে চাই।
সুব্রত বাবু-হ্যাঁ,তোর পড়াশোনাতে আমি কোনো বাঁধা দেব না।তুই যা চাইবি তাই হবে।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে থাকে।
সুব্রত বাবু আবার বলতে শুরু করেন-তুই যদি চাস ছোট্টুর সাথে দেখা করতে পারিস।
শ্রীয়াঙ্কা-না,বাবা তার কোনো দরকার নেই।সামনে আমার পরীক্ষা।
সুব্রত বাবু-আচ্ছা,ঠিক আছে।তোর যা ইচ্ছা।
এই বলে সুব্রত বাবু চলে গেলেন।আর শ্রী জানলা দিয়ে দূরের দিকে চেয়ে থাকে।আর মনে মনে একটা কথাই বলে-আমি আপনাকে ভুল ভেবেছিলাম।জীবনে কতো বড় ভুল করলাম।আমি ঘৃণা করি আপনাকে।খুব ঘৃণা করি।
শ্রীয়াঙ্কার চোখ থেকে জল গড়িয়ে পরে।সে মুছে নেয়।আর গিয়ে পড়তে বসে।
অন্যদিকে একজন সে কেন এমন করল?কেন সরিয়ে দিল তার  ভালোবাসাকে।কীসের জন্য?কী চলছে তার মনে?আগে তো দায়িত্ব কর্তব্য এই সব ভেবে ভালোবাসার চোখটাকে অন্ধ করে রেখেছিল।কিন্তু এখন কী কারনে?
একজন ভালোবাসার কাছ থেকে আঘাত পেয়ে বাবার দেওয়া প্রতিশ্রুতিকে নিজের করে নিল।অন্যজন ভালোবাসাকে আঘাত করে আবার কী কোনো দায়িত্বে বাঁধা পড়ল?
এদিকে শ্রীয়াঙ্কার পরীক্ষা এসে যায়।পরীক্ষার আগে সে আর কলেজে যায়নি।জীবনের কিছু সময়কে সে জীবনের খারাপ সময় বলে ধরে নেয়।নিজের মনকে শক্ত করে।
এইভাবে তার তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা হয়ে যায় এবং পরীক্ষাতে সে খুব ভালো ভাবে পাশ করে।
শ্রীয়াঙ্কা আর তার বান্ধবীরা একসাথে ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্সে ভর্তি হয়।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১২


সময় কখনও থেমে থাকে না।সে নিজের মতো বয়ে যায়।
                      সময় ভেসে যায় 
                 নিজের মতো ভেসে যায় 
                   মানে না কোনো বারণ 
                  শোনে না কোনো কারন।
               সুতোর টানে বাঁধা এ জীবন
               খুলে দিল হাজারো কারনে
               উড়িয়ে দিল বন্ধ পাখিটিকে
                 মুছিয়া দিল মান অভিমান
                 শিকল খুলে উড়তে দিল
                      নিজের মতো করে।
                               (আমার নিজস্ব ভাবনা)
আমাদের শ্রীয়াঙ্কাও জীবনটা কে ছেড়ে দিয়েছে।নিজের মতো করে বয়ে যাওয়ার জন্য।জীবনটাকে নিজের মতো করে আর ধরে রাখেনি।মন বলে কোনো বস্তু যে আছে সে তাকে ভুলে যেতে চেয়েছে।জীবনে পাওয়া দুঃখকে সে ভুলে যেতে চেয়েছে।কিন্তু পেরেছে কী?আর জীবনে সে একজনকেই সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে।সে হল শুভ্র।
এদিকে পেরিয়ে গেছে দেড় বছর।এই দেড় বছরে শ্রীয়াঙ্কা অনেক পাল্টিয়ে গেছে।এখন সে অনেক শান্ত।বান্ধবীদের সাথে তার সম্পর্কের বন্ধনটা অনেকটাই আলগা।যে শ্রীয়াঙ্কা বান্ধবীদের মাঝে থাকতে ভালোবাসে তার এখন একা থাকাটা প্রিয়।
শ্রীয়াঙ্কা এখন মাস্টার্স করছে।ইউনিভার্সিটি তার বাড়ি থেকে একটু দূরে বলে সে এখন মাসির বাড়িতে থাকে।কারন মাসির বাড়ি ইউনিভার্সিটির পাশে।আর সবচেয়ে বড় কারন সে বাড়ি থাকতে পছন্দ করে না।কারন সামনে তার বিয়ে এই নিয়েই সারাক্ষণ বাড়িতে কথাবার্তা লেগেই চলেছে।বাড়িতে সে সপ্তাহে একবার যায়।কারন সে একটা বাচ্চাদের নাচের ইস্কুল খুলেছে।তাই একবেলা থেকেই আবার পালিয়ে আসে।বাবা মা থাকতে বললেও শোনে না।মাসির বাড়িতেও সে কিছু বাচ্চাদের নাচ শেখায়।এই ভাবেই সে তার জীবনকে গুছিয়ে নিয়েছে।
এরমধ্যে তার শ্বশুর শাশুড়ি তার সাথে দেখা করতে এসেছিল।তারা শ্রীকে খুব আদর করতে থাকে।বলে-ছুটকি কতো বড় হয়ে গেছে। 
কিন্তু সে তাদের সামনে দশ মিনিটও বসে থাকেনি।এমন উশখুশ করছিল যে তাঁরা তাকে ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছিল।ভেবেছিল লজ্জা পেয়েছে।সত্যি সে কী লজ্জা পেয়েছিল?না,অন্যকিছু।
শ্রীয়াঙ্কার বাবা ছোট্টুর সাথে শ্রীয়াঙ্কার দেখা করার কথা বলেন।শ্রীয়াঙ্কা প্রত্যেকবার কিছু বলে এড়িয়ে যায়।শেষে বলে-বাবা তোমরা তো দেখেছ।তাতেই হবে।এই বলে সে বাবার গলা জড়িয়ে ধরে।
একবার বাড়িতে আনার কথা বললে শ্রীয়াঙ্কা বলে ওর কলেজ থেকে আসতে দেরি হবে।
শ্রীয়াঙ্কার বাবা ভাবেন হয়তো শ্রী সত্যি কথা বলছে।কিন্তু এদিকে শ্রীর চোখে কিছু যেন পরে।চোখ জ্বালা করতে থাকে।
বিয়ের শপিং করতে যাওয়া নিয়েও সে উদাসীন।বাবা মায়ের কথাতে সে যায়।কিন্তু কিছু বলে না।
শতরূপা দেবী যদি বলেন-এটা পছন্দ?
ও মাথা নাড়ায়।সব কথাতেই মাথা নাড়াতে থাকে।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে শ্রীরুপা বলে-দিদির তো সব পছন্দ।পুরো দোকানটাই মনে হয় তুলে নিয়ে যাবে।
অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কার বাবা ছোট্টুর জন্য কোনটা ভালো সেটা দেখতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা আর বসে থাকতে পারে না।চলে যায়।
আজ সবাই ইউনিভার্সিটি গিয়েছে।ক্লাস অফ থাকায় বসে বসে গল্প করছে।রাহুলও আছে।এখন রাহুল সুপর্ণার কথা ওদের বাড়িতে জেনে গেছে।আর তাদের সম্পর্কটা মেনেও নিয়েছে।সবাই বসে আড্ডা দিলেও শ্রীয়াঙ্কা কিন্তু চুপ।ওর বান্ধবীরা এখন ওর সাথে কথা বলতে ভয় পায়।আগে এমন হত না।আগে শ্রীয়াঙ্কা কারনে রেগে যেত ঠিক কিন্তু এখন বিনা কারনে রেগে যায়।সুপর্ণা সেদিনের কথা কানাঘুশো শুনেছিল।কিন্তু শ্রীয়ঙ্কাকে জিজ্ঞাসা করেনি।বান্ধবীকে সে কিছুতেই কষ্ট দিতে চায় না।তাছাড়া তো  নিজের চোখে দেখেনি তাই ওত বিশ্বাস করেনি।
সবাই বসে কথা বলছে হঠাৎ একটা ছেলে এগিয়ে আসে শ্রীয়াঙ্কার দিকে।এসে একেবারে বলে যে শ্রীয়াঙ্কাকে ভালোবাসে।কিছুক্ষণ শ্রীয়াঙ্কা তাকিয়ে থাকে।তারপর বলে-ভালোবাসা বলে কিছু হয় না।এসব মিথ্যা।
ছেলেটি অবাক হয়ে যায়।তার সাথে ওর বান্ধবীরা।এদিকে মনি বলে-কাকে ভালোবাসার কথা বলছিস রে,ওর একমাস পরে বিয়ে।ছেলে সরকারি চাকরি করে রে।
এই বলে সে হাসতে থাকে।ছেলেটি চলে যায়।কিন্তু রাহুল সুপর্ণা পরস্পর পরস্পরের দিকে চায়।
রাহুল বলে-এই শ্রী,কী বলছিস!ভালোবাসা বলে কিছু হয় না?
শ্রীয়াঙ্কা-হয় না রে,ওসব মনের ভুল।
রাহুল-কিন্তু আমি জানি তুই আমাদের মিল করিয়েছিস।তোর জন্যই আজ আমরা এখানে।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।বলে-কাল তোদের বিয়ের কার্ডটা দেব সবাই আসিস।
সুপর্ণা বলে-শ্রী কাল না রাহুলের বাড়ির লোকজন আসবে।তাই বলছি----।
এদিকে মাম্পি বলে-সেও আসতে পারবে না।
শ্রীয়াঙ্কা বলে-আমি মনে হয় বিয়ের আগে আর আসব না।
রাহুল-দেখ শ্রী,তুই না বললেও আমরা যাব।এতে কার্ডের কী আছে।
শ্রীয়াঙ্কা-কিন্তু----
মনি-তুই কার্ডটা আমাকে নয় দিস।
শ্রীয়াঙ্কা-আচ্ছা।
এদিকে পরদিন শ্রীয়াঙ্কা মনির হাতে কার্ডটা দেয়।শ্রীয়াঙ্কাকে কার্ডটা তার মাসি এনে দিয়েছিল।সে তো কার্ডটা খুলেই দেখেনি।আর মনি আপনারা তো জানেন মনি কী রকম।একটু দুষ্টু একটু ছটফটে।সেও কার্ডটা খুলে দেখেনি।কার্ড নিয়ে ব্যাগের ভিতর রেখে দেয়।আর বলে-কার্ড দেখে কী হবে।বিয়ের তারিখ  থেকে বার লগ্ন সবই তো জানা।
শ্রীই বলেছিল।ওরা এতো জোরাজুরি করছিল।সে যা মাসির কাছ থেকে শুনেছে তাই বলেছে।
আজ শ্রীয়াঙ্কার বিয়ে।কিন্তু সে এতো চুপ যে বলার কথা নয়।সে নিজের ঘরেই বসে থাকে।যতবেলা বাড়তে থাকে সে আরো যেন শান্ত হয়ে যায়।মেয়েকে দেখে সুব্রত বাবুর খুব কষ্ট হয়।
শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে বলেন-কী রে কষ্ট হচ্ছে?
শ্রীয়াঙ্কার চোখ ছলছল করতে থাকে।
সুব্রত বাবু মেয়ের মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলেন-চিন্তা কী?ছোট্টু তো কলকাতায় থাকে।নতুন বাড়ি কিনেছে।তুই ওখানেই থাকবি।যখন ইচ্ছা হবে চলে আসবি।
শ্রীয়াঙ্কা হাউহাউ করে কেঁদে ফেলে।
সন্ধ্যা হয়ে আসে।শ্রীয়াঙ্কাকে সাজিয়ে দেওয়া হয়।এতো সুন্দর লাগছে যে ধারণার বাইরে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার বুকের ভিতর খুব কষ্ট হয়।এদিকে ওর বন্ধু বান্ধবীরাও এসে পরে।সুপর্ণাকে দেখে তো রাহুল চোখ ফেরাতেই পারছে না।সারা রাস্তা তার দিকেই চোখ।এদিকে আমাদের মনির চোখে কিছু পরে।তা হল বিয়ের গেটে একটা নাম।সে নামটা দেখে।কিন্তু তার কিছু মনে হয় না।
এদিকে বরও এসে যায়।বর দেখে ওরা সবাই অবাক।শ্রীয়াঙ্কাকে ছুটে খবর দিতে যায়।
মনি-জানিস শ্রী তোর বর----
শ্রীয়াঙ্কা আর কিছু শোনে না।সকাল থেকেই তার মন মেজাজ খারাপ।বলে-দেখেছিস তো বর যা এবার।প্লিজ আমাকে একা থাকতে দে।প্লিজ,প্লিজ তোরা চলে যা।
আগে শ্রীয়াঙ্কা এরকম ব্যবহার করত না।এখন করে।তাই ওরাও আর কিছু বলে না।
বিয়ে শুরু করতে হবে।পুরোহিতের ডাকে শ্রীয়াঙ্কাকে নিয়ে যেতে আসে।মন না মানলেও সে বসে পিঁড়িতে।বিয়ের মন্ডপে যায়।চারিদিকে উলুধ্বনি শাঁখের আওয়াজে মনে হতে থাকে তার প্রাণটা বুঝি এই বেড়িয়ে গেল।সাত পাঁকের পর আসে শুভদৃষ্টির পালা।শ্রীয়াঙ্কা তো চোখ তুলে তাকাবেই না।অন্যদিকে যার সাথে বিয়ে তাকেও তাকাবার কথা বলা হয়।তার ও একই অবস্থা।শেষে অনেকের জোরজুরিতে সেই প্রথম তার হবু বউয়ের দিকে চায়।কিন্তু দেখে তার চোখের পাতাই পরছে না।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১৩

শ্রীয়াঙ্কাকে শুভদৃষ্টির সময় চাইতে বলা হয় কিন্তু সে কিছুতেই তার হবু বরের দিকে চায় না।অন্যদিকে একজন সকলের জোরাজুরিতে তার হবু বউয়ের  দিকে চায়।কিন্তু দেখে তার চোখের পাতাই পরছে না।নিজের দুচোখকে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না।কী দেখছে সে!সত্যিই কী সে!বুঝতে পারে না।কী হচ্ছে।
লাল টুকটুকে বেনারসিতে বিয়ের সাজে সজ্জিত কাকে দেখছে তার সামনে!মাথাটা ঝিমঝিম করতে থাকে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা তার চোখ দুটো নামিয়েই রেখেছে।কিছুতেই সামনের দিকে চায় না।অন্যদিকে একজন তাকিয়েই থাকে।কী অপরূপ লাগছে।চোখ ফেরাতেই পারছে না।এই মুখ যে সে সারাজীবন দেখতে চেয়েছিল।কিন্তু পারেনি ধরে রাখতে ----।
আলাদা একটা ভালোলাগা কাজ করে।তার বুঝতে বাকি না।যে এই ছুটকি আর এই তার প্রথম----।সে আর ভাবতে পারছে না।মনটা অস্থির হয়ে ওঠে।মনের ভিতর আনন্দের ঢেউ খেলে যায়।
এদিকে মালা বদল শুরু হয়।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা তো মুখ তুলছেই না।একজন চাইছে মুখ তুলুক তাকে দেখুক।কিন্তু না,শ্রীয়াঙ্কা মুখ তোলে না।মুখ নীচু করেই করে মালা বদল।যাকে মালাবদল করছে তার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে হয়তো তার গলায় মালা ঠিক মতো পরত না।কিন্তু এখন যে আছে তার গলাতে মালা ঠিক মতই পরছে।কারন সে নিজে থেকেই মালাটা পরে নিচ্ছে।শ্রীয়াঙ্কার হাত অন্যদিকে গেলেও মালা কিন্তু তার গলায় পরছে।
সবাই চেঁচাতে থাকে-এই মুখ টা তোল।এতো লজ্জা পেলে হয়।বর তো তোর দিকেই তাকিয়ে আছে।
একজন অপেক্ষা করতে থাকে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা ঘামতে শুরু করে।ভয়ে তার শরীর যেন অবশ হয়ে যেতে থাকে।সবাইয়ের চীৎকারে আরো তার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়।
শ্রীয়াঙ্কার বান্ধবীরাও শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে থাকে।তার এমন আচরনে  তারা অবাক হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কার কাছে অনেক লোকজন  থাকার ফলে তারা শ্রীয়াঙ্কার কাছে আসতে পারে না।দূরেই দাঁড়িয়ে থাকে।
মালা বদলের পর দুজনকে সামনা সামনি বসানো হয়।শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করে বসে থাকে।ওর মাসি শ্রীয়াঙ্কাকে এমন ভাবে দেখে ওর কাছে আসে।
এই শ্রী,কী হয়েছে?তুই এমন করে আছিস কেন?-শ্রীয়াঙ্কার মাসি অন্নপূর্ণা দেবী
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।
এই কী রে কিছু তো বল?সবাই কী ভাবছে বল তো।-অন্নপূর্ণা দেবী
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করেই নিজের হাতে থাকা কাজললতা নিজের হাতের মুঠোয় আরো চেপে ধরে।আর বলে-মাসি আসলে শরীরটা খারাপ লাগছে।তাই----
অন্নপূর্ণা দেবী ভয় পেয়ে যায়।
কী হয়েছে?-অন্নপূর্ণা দেবী
শরীরটা কেমন যেন হচ্ছে-শ্রীয়াঙ্কা
খুব খারাপ লাগছে?-অন্নপূর্ণা দেবী
না,মাসি তেমন কিছু নয়।-শ্রীয়াঙ্কা
আচ্ছা,বিয়ের আর বেশি বাকি নেই।একটু নিজেকে ঠিক রাখ।সকাল থেকে কিছু খাসনি তাই হয়তো এরকম হচ্ছে।-অন্নপূর্ণা দেবী
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়ায়। 
এদিকে একজন দেখেই চলেছে।অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে।এই বুঝি মাথা উঁচু করল,এই বুঝি দেখল।কিন্তু বারবার নিরাশ হতে থাকে।মনে হয় একবার ডাকবে।কিন্তু না,সবাই কী ভাববে।অপেক্ষা করতে থাকে।
পুরোহিত একটা ঘটের উপর আগে বরের হাত রাখে।শ্রীয়াঙ্কাকে বলে ওর হাত দিতে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।শ্রীয়াঙ্কার বোন পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল।সে দিদির হাতটা এগিয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কার হাতটা তার হাতের উপর রাখে।একজন তো ভালোলাগার সব মুহূর্তকে ধরে রাখে নিজের মনে।
শ্রীয়াঙ্কা মনকে শক্ত করে।ভাবতে থাকে যা হয় ভালোর জন্য হয়।মনে মনে বলে-ঘৃণা করি আপনাকে।যে কষ্ট আপনি দিয়েছিলেন,যে অপমানিত আমি হয়েছি তা আমি কখনও ভুলতে পারব না।চেষ্টা করব ভোলার।জীবনটাকে নতুন করে শুরু করব।জীবনে যেন আর কখনও আপনার মতো লোকের মুখ দেখতে না হয়।জীবনের সব থেকে ঘৃণা আমি আপনাকে করি। I HATE YOU, I  HATE YOU 
এদিকে বিয়ের সমস্ত নিয়ম রীতি একে একে হয়ে যায়।এবার আসে সিঁন্দুর দানের পালা।আরো একবার অপেক্ষা।কিন্তু না,তাকায় না শ্রীয়াঙ্কা।চারিদিকে উলুধ্বনি,শঙ্খ বেজে ওঠে।শ্রীয়াঙ্কার সিঁথিতে তুলে দেয় একজন তার নামের সিঁন্দুর।লজ্জাবস্ত্রে শ্রীয়াঙ্কার মুখ ঢেকে দেওয়া হয়।
বাচ্চারা সবাই হাততালি দিয়ে ওঠে।বলে-হয়ে গেছে,হয়ে গেছে বিয়ে হয়ে গেছে।
শ্রীয়াঙ্কার বান্ধবীরা শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে সত্যিই শ্রীয়াঙ্কাকে কী সুন্দর লাগছে।সিঁন্দুরে রাঙানো শ্রীয়াঙ্কার সিঁথি।বিয়ের আগে তো সুন্দর লাগছিল কিন্তু এখন যেন আরো অপূর্ব লাগছে।
অল্প সিঁন্দুর নাকেও পড়েছে।অনেকে বলছে-এই দেখ শ্রীয়াঙ্কার নাকে সিঁন্দুর পড়েছে।এমন হলে কী হয় জানিস তো।বর খুব ভালোবাসে।
এই বলে তারা হাসাহাসি করতে থাকে।
বিয়ে শেষ হয়।ওদেরকে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।একজনকে  খাওয়ার কথা জিজ্ঞাসা করা হয়।সে তো না বলে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা চুপচাপ বসে থাকে।কোনো কথাই তার কানে আসছে না।
অন্নপূর্ণা দেবী এসে বলেন-শ্রী,কিছু খেয়ে নে,শরীর খারাপ করবে।
অবশেষে সবাইয়ের চাপে দুজনেই মিষ্টি খায়।শ্রীয়াঙ্কা অন্যদিকে তাকিয়ে থাকে।পাশে থাকা মানুষটার দিকে একবারের জন্যও তাকায় না।এবার সবাই বাসর রাত জাগবে বলে হইচই করতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কার বান্ধবীদেরও এক মত।তাই সবাই একসাথে বসে।বরপক্ষের একজন বলে-কী রে ছোট্টু কথা বল।
মনি শ্রীয়াঙ্কার পাশে বসে ছিল।হঠাৎ মনি শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে-তোর বরকে কী  বলে ডাকব বুঝতে পারছি না।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বুঝতে পারে না।
মনি আবার বরের দিকে তাকিয়ে বলে-বলছি আপনাকে কী বলে ডাকব,মানে আপনি তো আগে আমাদের  স্যার ছিলেন,এখন আপনি শ্রীয়াঙ্কার বর তাই দাদা কিংবা জামাই বাবু হবেন।কী বলব বলুন না স্যার।
এদিকে যাকে বলছে সে কিছু বলে না।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা মনির কথাতে অবাক হয়ে যায়।সে মনির দিকে ফেরে।
মনি বলে-কী রে বল তোর বরকে কী বলব?স্যার বলতে হবে নাকি?
এদিকে রাহুল বলে-হ্যাঁ,রে কী বলে ডাকব?
শ্রীয়াঙ্কা এবার ধীরে ধীরে তার বরের দিকে চায়।বরকে দেখে তার মাথা ঘুরতে থাকে।সে সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যায়।
সবাই কী হল কী হল করে ছুটে আসে।আর একজন সে তো শ্রীয়াঙ্কার এই অবস্থা দেখে ভয় পেয়ে যায়।
এদিকে সবাই বলে শ্রীয়াঙ্কাকে অন্যঘরে নিয়ে যেতে।নব বিবাহিত স্ত্রীকে কোলে তুলে নিয়ে ঘরে আনে।শ্রীয়াঙ্কার মাসি চোখ মুখে জলের ছিটা দিতে থাকে।বাবা মা দেখে ভয় পেয়ে যায়।ভাবে এতো ধকলে এরকম হয়েছে।
কিছুক্ষণ পরে শ্রীয়াঙ্কার জ্ঞান ফেরে।এদিকে ছোট্টুর বাবা শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে বলে-কী হয়েছে মা?শরীর খারাপ করছে?তুমি একটু একা এই ঘরেই বিশ্রাম নাও।
শ্রীয়াঙ্কার বাবা বলে-ছোট্টু কোথায়?
ও বাইরে আছে।এখানে এতো লোকজন ছিল যে----ছোট্টুর বাবা
এদিকে শ্রীয়াঙ্কার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে যায়।সবাই ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়।সে চুপচাপ নীচের দিকে তাকিয়ে বসে থাকে।
মনে মনে বলতে থাকে তার মানে এই ছোট্টু আর এই সেই শুভ্র।
দুহাতের মুঠোয় বিছানার চাদরকে শক্ত করে ধরে।
এবার কী করবে শ্রীয়াঙ্কা?




আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১৪

শ্রীয়াঙ্কা দু হাতের মুঠোতে ভিতর বিছানার চাদরকে শক্ত করে ধরল।শরীরটা থরথর করে কাঁপছে।চুপ করে বসে আছে।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কার মাসি অন্নপূর্ণা দেবী ঘরে এসে-কি রে শরীর কেমন?
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা নীরব।নীচের দিকে চেয়ে আছে।
অন্নপূর্ণা দেবী শ্রীয়াঙ্কার গায়ে হাত রাখেন।তাতে শ্রীয়াঙ্কার হুঁশ ফেরে।
কিছু বলবে?-শ্রীয়াঙ্কা
তোর শরীর কেমন?-অন্নপূর্ণা দেবী
হুম-এই বলে শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়ায়।
তুই কী ওখানে----
অন্নপূর্ণা দেবীর কথা শেষ করতে দেয় না শ্রীয়াঙ্কা।
বলছি মাসি আমি একটু এখানেই থাকি।মাথাটা ভীষণ ব্যথা করছে।-শ্রীয়াঙ্কা
কিন্তু তুই এখানে থাকবি আর তোর বর----অন্নপূর্ণা দেবী।
আচ্ছা ঠিক আছে,চল-শ্রীয়াঙ্কা
শ্রীয়াঙ্কা বাসর ঘরের দিকে যায়।কিন্তু সবাই ক্লান্ত তাই কারোর আর রাত জাগার ইচ্ছা নেই।শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে শুভ্র ওর তাকিয়ে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর পাশে গিয়ে বসে।শ্রীয়াঙ্কার বন্ধুরা ও ঠিক আছে কিনা জিজ্ঞাসা করে।ও মাথা নাড়ায়।কিন্তু কেউ আর রাত জাগার ইচ্ছা প্রকাশ করে না।সবাই যে যার মতো জায়গা পেয়ে শুয়ে পরে।
শুভ্র দেখতে থাকে শ্রীয়াঙ্কাকে।কী সুন্দর লাগছে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা তো কথা বলছে না।শুভ্র কিছু বলতে যাবে শ্রীয়াঙ্কা পাশ ফিরে শুয়ে পরে।শুভ্র তাকিয়ে থাকে বুঝতে পারছে না।কী করবে।কী করে শ্রীয়াঙ্কার সাথে কথা বলবে।
সবাই শুয়ে পরে।কিন্তু শুভ্র শুতে পারে না।ঘর থেকে বেড়িয়ে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকে।চাঁদের আলোয় রাতের নিস্তব্ধ প্রকৃতির মোহময় রূপ দেখে শুভ্র যেন কোথাও হারিয়ে যায়।দু চোখ বন্ধ করে।শ্রীয়াঙ্কার মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
শুভ্র মনে মনে বলতে থাকে-সত্যি কী একেই বলে ভাগ্য।একেই বলে ঈশ্বরের খেলা।যার কাছ থেকে পালাব ভেবেছিলাম সেই আজ আমার কাছে।আমি আজ ভীষণ খুশি।আমি যে সত্যি ওকে ভালোবেসে ছিলাম।ওকে নিজের কাছে রাখতে চেয়েছিলাম।কিন্তু সেই দিনের সেই ফোন আমার সব চিন্তাকে বদলে দিয়েছিল।তাই তার পরদিন আমি ওকে ওভাবে কষ্ট দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।যাতে ও আমাকে ভুলে যায়।ওকে কষ্ট দিয়ে আমি যে আরো ভীষণ কষ্ট পেয়েছিলাম।ওর সেই জলভরা চোখের দিকে আমি যে তাকাতে পারেনি।কী করে জানব ওই ছুটকি হল শ্রীয়াঙ্কা।কী করে জানব।তাই তো ওকে কষ্ট দেওয়ার পর আমার আর কলেজে যেতে ইচ্ছা করত না।ও কেমন আছে সেই চিন্তা বারবার হয়েছে।কিন্তু ওকে আর দেখতে পায়নি।তারপর তো কলেজের চাকরিটা ছেড়ে দিলাম।কারন ওখানে গেলে যে আমার খুব কষ্ট হত।
শুভ্র নিশ্বাস ফেলে বলে তাই তো আমি বিয়ের আগে দেখা করতে চাইনি।বিয়ের ইচ্ছা যে আমার ছিল না।কিন্তু বাবা মায়ের দেওয়া কথা আমি কী করে ফেলতাম।তাই তো নিজের বিয়ের কোনো দায়িত্ব নিতে চাইনি।সব তাই আশিস দার(শুভ্রর মাসির ছেলে) উপর দিয়েছিলাম।বিয়ের কার্ড থেকে প্যান্ডেল সব।
বিয়ের কার্ড!শুভ্র বলে ওঠে।
ইশ,আগে যদি বিয়ের কার্ডটা দেখতাম তাহলে তো----কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা কী সব জানত?ও যে কিছু বলছে না।সবথেকে বড় কথা ও আমার দিকে তাকাচ্ছে না।কিন্তু কেন?কেন এমন করছে ও?ওকে যে আমার অনেক কিছু বলার আছে।-শুভ্র
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে মনে মনে বলে-হ্যাঁ,ওকে অনেক কিছু বলার আছে।আমার ভালোবাসার কথা বলার আছে।আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি শ্রী,খুব ভালোবাসি।শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
শুভ্র আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।মনে হয় আজ বৃষ্টি হবে।আকাশের অবস্থা খারাপ।
অন্যদিকে শ্রীয়াঙ্কা তো শুয়ে পরে।কিন্তু ঘুমায় না।ঘুম আসবে কী করে।শুধু ভাবতে থাকে এ কী হল!দাঁতে দাঁত চেপে শক্ত করে ধরে চোখ দুটো বন্ধ করে নেয়।কিন্তু কোনোভাবেই ঘুম আসে না।
কিছুক্ষণ পরে শুভ্র ঘরে আসে।দেখে শ্রীয়াঙ্কা অন্য দিকে ফিরে আছে।ভাবে ঘুমিয়ে আছে।সেও পাশে এসে শুয়ে পরে।কিন্তু মাঝে রাখে অনেকটা দূরত্ব।দুজন দুদিকে ফিরে থাকে।কিন্তু কারোর চোখে ঘুম নেই।
রাত শেষে ক্লান্ত দুজনের চোখে ঘুম নামে।ভোর হয়ে আসে।জানলা দিয়ে ভোরের আলো ঘরে এসে পরে।
শুভ্রর ঘুম ভেঙ্গে যায়।ঘুমের ঘোরে সে অন্য পাশে ঘুরে গিয়েছিল।চোখ খুলে দেখে শ্রীয়াঙ্কার ঘুমন্ত মুখ।সেও শুভ্রর দিকে ফিরে শুয়েছিল।শুভ্র চেয়ে থাকে।চুলগুলো এলোমেলো হয়ে গেছে।মাথার সিঁদুর একটু বেশি যেন কপালে লেগে গেছে।শাড়িটাও একটু অগোছালো।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কার চোখে আলো এসে পড়েছে।সেই আলোতে তার নববিবাহিত স্ত্রীকে আরো যেন অপূর্ব লাগছে।
শ্রীয়াঙ্কার বন্ধুদের ঘুম ভেঙ্গে যায়।মনি তো উঠেই সুপর্ণাকে ডাকতে থাকে।মনির ডাকে সবাইয়ের ঘুম ভেঙ্গে যায়।শ্রীয়াঙ্কার ও।সে ঘুম ঘুম চোখে তাকাতে থাকে।শুভ্রর চোখে চোখ পরে যায়।কিন্তু সে তাড়াতাড়ি করে উঠে চলে যায়।শুভ্র তাকিয়ে থাকে শ্রীয়াঙ্কার চলে যাওয়ার দিকে।
বিদায়ের মুহূর্ত এসে পরে।শ্রীয়াঙ্কা কাঁদতেই থাকে।ওর বাবা মাও কাঁদতে থাকে।শুভ্রকে বারবার বলে সে যেন শ্রীয়াঙ্কার খেয়াল রাখে।শুভ্র কথা দেয়।চোখের জলে শ্রীয়াঙ্কা বিদায় নেয়।
শুভ্র সরকারি চাকরি পাওয়ার পর কলকাতাতে একটা ছোটো বাড়ি কিনেছে।সেখানেই শ্রীয়াঙ্কাকে নিয়ে আসা হয়।মমতা দেবী খুব আদরের সাথে তার বৌমাকে বরণ করে নেয়।
সারাদিন সবাই শ্রীয়াঙ্কার খুব খেয়াল রাখে।কিন্তু শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কাছে যেতে পারে না।রাত নেমে আসে।কালরাত্রিতে আলাদা ঘরে থাকার জন্য শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার সাথে কথা বলা হয় না।
পরদিনও শুভ্র কথা বলার চেষ্টা করে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার কাছে যেতে পারে না।
ভাত কাপড়ের অনুষ্ঠানে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার হাতে ভাত কাপড় তুলে দেয়।অজান্তেই শুভ্রর হাত শ্রীয়াঙ্কার হাত ছুঁলে শ্রীয়াঙ্কা হাত সরিয়ে নেয়।
রাতে রিসেপশানের পার্টিতে শ্রীয়াঙ্কাকে সাজানো হয়।শুভ্র তো শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে চোখ ফেরাতেই পারছে না।গোলাপি রঙের শাড়িতে শ্রীয়াঙ্কার সৌন্দর্য দেখার মতো।
শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা সবার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে।সবাইকে সে আপন করে নিয়েছে।শুভ্রর দেখে খুব ভালো লাগে।রাত বাড়তে থাকে আর লোকজনও চলে যেতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কাকে শুভ্রর ঘরে দিয়ে আসা হয়।কিন্তু শুভ্র ঘরের ভিতর যেতে পারে না।বাইরে পাইচারি করতে থাকে।অনেকক্ষণ পরে সে ঘরে আসে।দেখে শ্রীয়াঙ্কা খাটের একধারে বসে আছে।শুভ্র দরজা লাগিয়ে ধীর পায়ে শ্রীয়াঙ্কার দিকে এগিয়ে যায়।তারও হাত পা ঠান্ডা হয়ে গেছে।কী বলবে বুঝতে পারে না।অনেক কষ্টে শ্রীয়াঙ্কার সামনে বসে।শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করে আছে।
শুভ্রর গলা থেকে কথা বার হয় না।অনেক কষ্টে গলার স্বর এনে বলে-কেমন আছো?
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।
শুভ্র আবার বলে-কেমন আছো তুমি?
শ্রীয়াঙ্কা এবার চোখ তুলে বলে-কী ভেবেছিলেন খারাপ থাকব।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার চোখের দিকে তাকায়।যে চোখে আগে সে অন্য কিছু অনুভব করত আজ ওই চোখে সে অন্য কিছু দেখছে।
শ্রীয়াঙ্কা আবার বলে-কী হল,কী ভেবেছিলেন আমি খুব খারাপ আছি।
আমি তা বলিনি।-শুভ্র
তাহলে কী বোঝাতে চাইছেন।আর হ্যাঁ,আপনি জানতেন আমার সাথে বিয়ে হচ্ছে?-শ্রীয়াঙ্কা
না,আমি জানতাম না।আসলে----শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা উঠে দাঁড়ায়।
ওও-শ্রীয়াঙ্কা
আমি জানি সেইদিন আমি তোমাকে যে কথা বলেছিলাম তার জন্য আমি----।তার আগের দিন আমি জেনেছিলাম তাই তোমাকে----শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথা শেষ করতে দেয় না।
সেইজন্যই আপনি আমাকে সবার সামনে অপমান করলেন।তাই তো।নিজের বিয়ের সুখবরে মনের কথাটা আমাকে বলেই ফেললেন।নিজের চেহারা দেখিয়ে দিলেন।তাই তো-শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র দেখতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কার চোখে আগুন ঝড়ছে।বুঝতে পারে না এ কোন শ্রীয়াঙ্কা।রাগে চোখ মুখ লাল হয়ে গেছে।
আমি সেদিন ইচ্ছা করে ওই কথাগুলো বলিনি।শুধু তোমাকে দূ----শুভ্র
এখন আপনি অনেক কথা বানিয়ে বলবেন তা আমার জানা আছে মিস্টার শুভ্র রয়।-শ্রীয়াঙ্কা
শ্রীয়াঙ্কার মুখে এরকম কথা শুনে শুভ্র হতচকিয়ে যায়।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার সামনে এসে বলে-বিশ্বাস কর আমি তোমাকে ভালোবাসি।সেইদিনও ভালোবাসতাম।
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কা হাসতে থাকে।
ভালোবাসা!-শ্রীয়াঙ্কা
কেন তুমি আমাকে ভালোবাস না?আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবাসো।-শুভ্র
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কা হাসতে হাসতে বলে-ভালোবাসা সেটা আবার কী!তাছাড়া আমি তো ভালোবাসা মানে কীই বা বুঝি?তাই না?আর ওসব ভালোবাসা বলে কিছু নেই।সব মিথ্যা।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কথায় অবাক হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথা গুলো শুভ্রকেই ফিরিয়ে দিচ্ছে।
শুভ্র তাও শ্রীয়াঙ্কাকে বোঝানোর চেষ্টা করে।বলে-সত্যি আমি তোমাকে ভালো----
শ্রীয়াঙ্কা বলে-এখন এতো ভালো সাজছেন কেন?কী মতলবে? আর একটা কথা তখন থেকে কী সব ভালোবাসি ভালোবাসি।কী সব মিথ্যা বানিয়ে বানিয়ে বলেই চলেছেন।আচ্ছা আপনি তো বললেন যে  আমার সাথে বিয়ে হচ্ছে আপনি জানেন না।তার মানে আপনি আমাকে বিয়ে করতে আসেন নি এসেছিলেন অন্য একজনকে বিয়ে করতে।কিন্তু ভাগ্যক্রমে আমি সেই।তাই বুঝি এই প্ল্যান।আমার সাথে ভালোবাসার অভিনয় করা।আপনি কিন্তু খুব ভালো খেলোয়াড়।কী ঠিক বললাম তো।
শুভ্র নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারে না।এ কোন শ্রীয়াঙ্কা!কী শুনছে সে।মনে হচ্ছে পায়ের তলার মাটিটা যেন দু ভাগ হয়ে যাচ্ছে।
শুভ্র কিন্তু রেগে যায় না।শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে শ্রীয়াঙ্কার হাত ধরে কিছু বলতে যাবে তখন শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে ঠেলে দেয় আর বলে-কী করতে চাইছেন কী?স্বামীর অধিকার দেখাচ্ছেন?আর এতো বড় সাহস আমাকে স্পর্শ করেন।কী ভাবেন যখন তখন আমাকে ছোঁয়া যায়।আমি এতই ফেলনা।
শ্রীয়াঙ্কার কথায় শুভ্রর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১৫

শ্রীয়াঙ্কার কথায় শুভ্রর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে।
শুভ্র অনেক কষ্টে গলার জোর এনে বলে-কী বলছ তুমি?
ঠিকই বলছি,কী ভেবেছেন আমাকে।আমাকে যখন খুশি ছোঁয়া যায়।আর যখন খুশি ঠেলে ফেলা দেওয়া যায়।একদম আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।-শ্রীয়াঙ্কা এক নিশ্বাসে কথাগুলো বলে যায়।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকে।ওর বুঝতে অসুবিধা হয় না শ্রীয়াঙ্কা কী বলছে।শ্রীয়াঙ্কা সেই ঝড় জলের রাতের কথা বলছে।
শুভ্র কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলে।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর একেবারে সামনে এসে বলে-নিজেকে যতই চালাক ভাবুন না কেন আমি কিন্তু আপনার ফাঁদে পা দেব না।জীবনে যে অপমান আমি পেয়েছি তা আমি ভুলতে পারব না।পরীক্ষার দিন সবাই আমাকে দেখে কানাকানি করেছে।আমাকে দেখে অনেকেই হাসাহাসি করেছে।সত্যি আমি তখন ভুল করেছিলাম।জীবনের বড় ভুল।
শুভ্র-আমার কথাটা ----
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে কথা বলতে দেয় না।নিজে বলতে থাকে- আমি আপনাকে ঘৃণা করি।জীবনের সবথেকে ঘৃণা আমি আপনাকে করি।
শ্রীয়াঙ্কার প্রতিটা কথা শুভ্রর কানে বাজতে থাকে।
শ্রীয়ঙ্কা একটু হেসে বলে-আজকের রাত সব ছেলে মেয়ের কাছে এক বিশেষ রাত।নতুন জীবন শুরু করার দিন।আপনিও হয়তো অনেক কিছু ভেবে রেখেছিলেন আপনার নতুন বৌয়ের জন্য।দেখুন কথা থেকে কী হয়ে গেল।সব ভেস্তে গেল।
শ্রীয়াঙ্কা হাসতে থাকে।
শুভ্র-তুমি এসব কী বলছ।আর তুমিও কী জানতে আমার সাথে বিয়ে হচ্ছে?
শ্রীয়াঙ্কা-না,জানতাম না।জানলে আপনাকে বিয়ে কর‌তাম না।কখনই বিয়ে করতাম না।
শুভ্র-তাহলে তুমি আমার সাথে এলে কেন?
শ্রীয়াঙ্কা-কী বলতাম বাবা মাকে?তাই এসেছি।
শুভ্র-তুমি আমাকে ভু----
শ্রীয়াঙ্কা-প্লিজ চুপ করুন আমার ভালো লাগছে না।
শুভ্র-বিশ্বাস কর সত্যি আমি----
শ্রীয়াঙ্কা-একটা কথা কান খুলে শুনে রাখুন কোনোদিন আপনি আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।আসলে কিন্তু তার ফল ভালো হবে না মিস্টার শুভ্র রয়।
শুভ্র-একটু বোঝার চেষ্টা কর।
শ্রীয়াঙ্কা-কী বুঝব আমি।কী।আর কতো ভুল বোঝাবেন।প্লিজ আমার সামনে থেকে চলে যান।আপনাকে আমি আর সহ্য করতে পাচ্ছি না।প্লিজ 
এই বলে শ্রীয়াঙ্কা ছুটে খাটের উপর চলে যায়।আর উপুর হয়ে কাঁদতে শুরু করে।
শুভ্র চোখের সামনে সব আপছা হয়ে যায়।সে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা কাঁদতে থাকে।ওইদিকে শুভ্র ছাদে চলে যায়।অন্ধকারে ছাদের এক কোনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।ভাবতে থাকে কী হয়ে গেল।ও আমাকে এতোটা অপছন্দ করে।
শ্রীয়াঙ্কার একটা কথা শুভ্রর মনে পরে যায়।
আমি তোমাকে ঘৃণা করি,জীবনের সব থেকে ঘৃণা আমি তোমাকে করি।
শুভ্র দুকান চাপা দিয়ে বলে-তুমি আমাকে এতো ঘৃণা কর।আমি ভাবতেই পারিনি।
শুভ্রর আজ খুব কষ্ট হতে থাকে।
আমি ভেবেছিলাম তুমি আমাকে দেখে খুশি হবে।কিন্তু----।তুমি তো আমাকে সহ্য করতে পাচ্ছ না।আমি তোমাকে কী করে বোঝাব যে সেদিন আমি যা করেছি ইচ্ছা করে করিনি।আজ তুমিও যে কারনে আমার সাথে এসেছ।সেই কারনে আমিও সেদিন----।কিন্তু কী করে বোঝাব।তুমি তো আমার কোনো কথা শুনছ না-শুভ্র
শুভ্র চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।আর বলে-আমি তোমাকে যে ভালোবাসি আমি তোমাকে বোঝাব।কিন্তু কী করে বোঝাব।তোমার চোখে মুখে আমার উপর যে রাগ আমি দেখেছি তা কী করে দূর করব।আমি যে  কিছুই বুঝতে পারছি না।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা কাঁদতে থাকে।বলে-এমন কেন হল।আমি কী করে এখানে থাকব।
দুজনে সেই রাতে ঘুমায় না।সকাল হতে শ্রীয়াঙ্কা ফ্রেশ হতে চলে যায়।আর শুভ্র সবার চোখের আড়ালে ছাদ থেকে নেমে আসে।
শ্রীয়াঙ্কাকে না দেখতে পেয়ে বুঝতে পারে সে ওয়াশরুমে গেছে।তাই শুভ্র গিয়ে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা বেড়িয়ে আয়ানার সামনে দাঁড়িয়ে তার চুল আঁচড়াতে থাকে।এদিকে শুভ্র দেখতে পায় শ্রীয়াঙ্কা বেড়িয়ে গেছে।সে আড়াল থেকে শ্রীয়ঙ্কাকে দেখতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা একটা লাল রঙের জামদানি পড়েছে।চুলটা কোমর পর্যন্ত ছাড়া।আর মাথায় সিঁদুর পরছে।শুভ্র দেখতে থাকে শ্রীয়াঙ্কাকে।নিজের মনে মনে বলে-তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।
এদিকে শুভ্রর পিসির মেয়ে লিলি ঘরে আসে।
বৌদি,কী করছ?-শ্রীয়াঙ্কা
এই তো-শ্রীয়াঙ্কা
তুমি তো পুরো রেডি বৌদি-লিলি
হুম,চল নীচে যাই।সবাই কী উঠে পড়েছে?-শ্রীয়াঙ্কা
হ্যাঁ-এই বলে লিলি ঘরের চারিদিক দেখতে থাকে।
দাদা কোথায় বৌদি?-লিলি
শ্রীয়াঙ্কা এর উত্তর কী দেবে বুঝতে পারছে না।তখনই শুভ্র বেড়িয়ে আসে।
কী হয়েছে?-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখে অবাক হয়ে যায়।ভাবে ইনি আবার কখন এলেন।
তোদেরকে নীচে ডাকছে।-লিলি
আচ্ছা-শুভ্র
লিলি চলে যাচ্ছে।শ্রীয়াঙ্কা বলে-চল আমিও তোমার সাথে যাব।
লিলির সাথে শ্রীয়াঙ্কা চলে যায়।
শুভ্র কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে ফ্রেশ হতে চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা আসলে সবাই শ্রীয়াঙ্কাকে বলতে থাকে-কী মিষ্টি লাগছে।
এদিকে মমতা দেবী এগিয়ে এসে বলেন-তোমরা আমার ছুটকির দিকে একদম নজর দেবে না।
এই বলে তিনি শ্রীয়াঙ্কার আঙুল কামড়িয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা শুধু চেয়ে থাকে।
কল্যান বাবু শ্রীয়াঙ্কার পাশে বসে বলেন-তোর কোনো অসুবিধা হলে আমাদের ফোন করে বলবি।
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারে না।বলে-ফোন করে কেন?
আমরা আজ দেশে ফিরে যাব।ছোট্টু আর তুই এখানে থাকবি-মমতা দেবী
আপনারা কেন থাকবেন না?-শ্রীয়াঙ্কা
আমরা এখানে থাকি না।শুভ্র চাকরি করে তাই এখানে থাকে।আমরা দেশে থাকি।-মমতা দেবী
কিন্তু আপনারা----শ্রীয়াঙ্কা
কী তখন থেকে আপনি আপনি করছিস রে।তুমি বল আর মা বল-মমতা দেবী
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।এদিকে শুভ্রও আসে।
শুভ্রকে দেখে মমতা দেবী বলেন-আজ আমরা চলে যাব।তোরা সাবধানে থাকিস।
শুভ্র-মা,তোমাদের বলছি এখানে থাকতে।আর তোমরা শুধু চলে যাবে বলছ।এখানেই থেকে যাও।
না,আমরা ওখানেই ঠিক আছি রে।-মমতা দেবী
কিন্তু মা আজ যাবে না।কাল যাবে।-শুভ্র
কিন্তু----মমতা দেবী
কোনো কিন্তু নয়।-শুভ্র
আচ্ছা-মমতা দেবী
কল্যান বাবু শ্রীয়াঙ্কার পাশ থেকে উঠে এসে বলেন-তুই কিন্তু ছুটকিকে কোনো কষ্ট দিবি না।আমি যদি জানতে পারি তাহলে কিন্তু----
হুম,একদম।যদি জানতে পারি ও কিছুতে কষ্ট পেয়েছে তাহলে কিন্তু তোর খবর আছে।-মমতা দেবী
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে চায়।আর মনে মনে বলে-ওকে যে আমি আগেই অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি।জানিনা সেই কষ্ট আমি কী করে দূর করব।
এদিকে আশিসের বৌ নীলিমা শ্রীয়াঙ্কাকে জিজ্ঞাসা করে-বৌদি তুমি রান্না করতে জানো।(আশিস শুভ্রর থেকে বড় হলেও নীলিমা ছোটো তাই সে আয়ানকে দাদা বলে)
শ্রীয়াঙ্কা কী উত্তর দেবে ভেবে পায় না।সে তো অতো রান্না পারে না।
মমতা দেবী তখন বলেন-ও কেন রান্না করবে।রান্না করবে শুভ্র।ও তো আগে একা থাকত।ওর অভ্যাস আছে।
মমতা দেবী শুভ্রর দিকে চেয়ে বলেন-কী রে করবি তো।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কাও শুভ্রর দিকে তাকিয়ে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে বলে-হুম,করব।
শুভ্রর চোখে চোখ পরতেই শ্রীয়াঙ্কা চোখ নামিয়ে নেয়।
সকালের জলখাবারের আয়োজন করা হয়।মমতা দেবী শ্রীয়াঙ্কা কী খাবে তা জিজ্ঞাসা করে ওর পছন্দ মতো খাবার রেডি করে।
সবাই খেতে বসে।নীলিমা বসে শ্রীয়াঙ্কার পাশে আর আশিস বসে শুভ্রর পাশে।
নীলিমা শ্রীয়াঙ্কাকে আস্তে আস্তে বলে-বৌদি কাল দাদা কী উপহার দিল?
নীলিমার কথায় শ্রীয়াঙ্কা রেগে যায়।কিন্তু কিছু বলে না।এদিকে আশিস শুভ্রকে বলে-কী রে আজ এতো সকালে ঘুম থেকে উঠলি?
প্রথমে শুভ্র কথাটা বুঝতে পারে না।বলে-কেন?
আশিস একটু অবাক হওয়ার ভান করে বলে-কেন?কাল রাতে তো আমরা লুডো খেলছিলাম।তাই শুতে রাত হল।তাই জিজ্ঞাসা করলাম।এতো সকালে কেন উঠলি।
শুভ্র এবার কথার মানে বুঝতে পারে।সবে সে খাবার টা মুখে দিয়েছে আশিসের কথাতে তার বিষম লেগে যায়।সে কাশতে শুরু করে।
মমতা দেবী জলের গ্লাসটা এগিয়ে দেন।শুভ্র জল টা খেয়ে নেয়।শুভ্র ভাবতে পারেনি আশিসদা এমন কথা জিজ্ঞাসা করতে পারে।
শুভ্র একবার শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে।দেখে সে খাচ্ছে।একবারের জন্য তার দিকে তাকায় নি। আশিসকে বলে-কী সব বলছো দাদা।
বাবা এতো লজ্জা।শোন আমার ও নতুন বিয়ে হয়েছে।কিন্তু তোর মতো লজ্জা আমি পায়নি।-আশিস
শুভ্র কিছু বলে না।চুপ করে থাকে।শ্রীয়াঙ্কার মুখের কঠিন ভাবের দিকে তাকিয়ে সে আর কিছু বলে না।
সারাদিন কেটে যায়।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলে।কিন্তু একবারের জন্য শুভ্রর দিকে তাকায় না।এসব দেখে শুভ্র নিশ্বাস ফেলে চলে যায়।
আজ সন্ধ্যাতে আশিস,নীলিমা,লিলি,শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কা একসাথে বসে গল্প করতে থাকে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা আসতে চায়নি নীলিমা জোর করে এনেছে।আবার জোর শুভ্রর পাশে বসিয়েছে।
শ্রীয়াঙ্কা বসতে না চাইলে নীলিমা বলেছে-লজ্জা পেতে হবে না।আমি জানি তোমার দাদার পাশেই বসার ইচ্ছা।
শ্রীয়াঙ্কা আর কথা বাড়ায় না।
লিলির ইচ্ছা সবাই একসাথে গানের লড়াই খেলবে।
প্রথমে নীলিমা গায়-
                 মনে রবে কিনা রবে আমারে
                  সে আমার মনে নাই।
নীলিমা গাইতে থাকে আর আশিস চেয়ে থাকে।নীলিমার গান গাওয়া শেষ হলে আশিস বলে-খুব সুন্দর হয়েছে।তা শুনে নীলিমা লজ্জা পায়।
আশিস বলে-দেখ আমি নিজের মতো অক্ষর দিয়ে গাইব।
সবাই মত দেয়।আর বলে এবার এরকম হবে।কিন্তু শুভ্র শ্রীয়াঙ্কা দুজনেই চুপ।
আশিস গাইতে থাকে-
                    আমার পরান যাহা চায়
                    তুমি তাই,তুমি তাই গো
আশিস নীলিমার দিকে চেয়ে চেয়ে গান গাইতে থাকে।নীলিমা লজ্জা পেয়ে মুখ নীচু করে নেয়।এদিকে শুভ্রও চেয়ে থাকে শ্রীয়াঙ্কার দিকে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা অন্য দিকে চেয়ে আছে।
এবার লিলিও গান গায়।তারপর আসে শুভ্রর পালা।কিন্তু শুভ্র গান গাইতে চায় না।
নীলিমা বলে-আমাদের কথাতে দাদা গাইবে না।একজন না বললে।
নীলিমার কথায় শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে রেগে তাকায়।শুভ্র মাথা নীচু করে নেয়।আর গাইতে শুরু করে-
                 ভালোবাসি ভালোবাসি 
          এই সুরে কাছে দূরে জলে স্থলে বাজায় 
                        বাজায় বাঁশি 
                  ভালোবাসি ভালোবাসি
শুভ্রর গান শেষ হলে নীলিমা আশিস আর লিলি হাততালি দিয়ে ওঠে।
আশিস-তুই এতো ভালো গান করিস আমি তো জানতাম না রে।
লিলি-হ্যাঁ,খুব সুন্দর হয়েছে।
এবার শ্রীয়াঙ্কার গাইতে বলা হয়।কিন্তু কিছুতেই সে গায় না।শেষে লিলি বলে-দাদা তুই বৌদির হয়ে গেয়ে দে।শুভ্র শুনে চুপ করে থাকে।
কী রে কর।-আশিস
শুভ্র গাইতে থাকে-
              আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
             দেখতে আমি পায়নি
             তোমায় দেখতে আমি পায়নি
            আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে
শুভ্র পুরো গানটা গাইতে থাকে-
                  আমার সকল ভালোবাসায় 
                  সকল আঘাত,সকল আশায় 
                  তুমি ছিলে আমার কাছে
                  তুমি ছিলে
শুভ্র এই লাইনটা গেয়েছে আর তখনই শ্রীয়াঙ্কা কটমট করে শুভ্রর দিকে তাকায়।শুভ্র দেখতে পেয়ে গান থামিয়ে দেয়।
আশিস-থামলি কেন।খুব ভালো লাগছিল।
শুভ্র কিছু বলে না।
এদিকে আবার নীলিমা,আশিস আর লিলির গান করার পর আবার শুভ্রর গাওয়ার পালা।কিন্তু লিলি বলে-দাদা আর নয় এবার বৌদি গাইবে।প্লিজ প্লিজ বৌদি গাও না।
শ্রীয়াঙ্কা বলে-আমি গান গাইতে পারি না।
লিলি-যে রকম পারো গাও।আমরা তাই শুনব।
শ্রীয়াঙ্কা-কিন্তু----
নীলিমা-প্লিজ 
শ্রীয়াঙ্কা আর না করতে পারে না।কারন তাতে সন্দেহ করতে পারে।
সে গাইতে শুরু করে-
                 সখী,ভাবনা কাহারে বলে
                সখী,যাতনা কাহারে বলে
                তোমরা যে বলো দিবস-রজনী,
                'ভালোবাসা' 'ভালোবাসা' ----
                সখী,ভালোবাসা কারে কয়!
                সে কী কেবলই যাতনাময়!
             ----
শ্রীয়াঙ্কা গান গাইতে থাকে।আর শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে চেয়ে থাকে।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১৬

শ্রীয়াঙ্কা গান গাইতে থাকে।আর শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে চেয়ে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কার গানটা শুনে শুভ্র অবাক হয়ে যায়।এ কী গাইছে!শ্রীয়াঙ্কার চোখের দিকে তাকানোর চেষ্টা করছে।কিন্তু পারে না।চোখ দুটো নামিয়ে নেয়।শ্রীয়াঙ্কার গান শেষ হয়।
তুমি বললে গান পার না।কী সুন্দর গাইলে।-নীলিমা
হ্যাঁ,বৌদি ভীষণ সুন্দর তোমার গানের গলা-লিলি
শুভ্র ভাবতে থাকে সেদিন প্রথম দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে শুনেছিল শ্রীয়াঙ্কার গান।তখন দুটি গানের গলা একসাথে ছিল তাই বুঝতে পারে নি।
শুভ্র মনে মনে বলে-সত্যি তুমি ভীষণ সুন্দর গাও।
এদিকে আশিস শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে-কী রে তুইও কিছু বল।এতক্ষণ তো মন দিয়ে শুনছিলিস।
শুভ্র কী উত্তর দেবে বুঝতে পারে না।
কী রে শুনিস নি।-আশিস 
শুভ্র আমতা আমতা করতে থাকে।
আমি দেখেছি তুই কেমন ভাবে তাকাছিলিস-আশিস 
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।কারোর কোনো কথার উত্তর দেয় না।
শুভ্র বুঝতে পারে শ্রীয়াঙ্কা রেগে যাচ্ছে।
দাদা  আমাদের সামনে বলতে লজ্জা করছে।-এই বলে লিলি হাসতে থাকে।
শুভ্র তখন বলে-খুব সুন্দর হয়েছে।
শুভ্রর কথায় সবাই হেসে ফেলে।আর শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে একবার রাগী ভাবে চেয়ে অন্যদিকে ফিরে যায়।
এদিকে মমতা দেবী সবাইকে ডিনারের জন্য ডাকতে আসেন।
শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে বলেন-কী রে অমন মুখ কেন?বাড়ির জন্য মন খারাপ করছে?
শ্রীয়াঙ্কার বাড়ির কথা শুনে মনটা খারাপ হয়ে যায়।চোখটা জ্বালা করতে থাকে।কিন্তু সবার সামনে কাঁদতে পারে না।তাই মাথা নীচু করে নেয়।
মমতা দেবী শ্রীয়াঙ্কার পাশে বসে বলেন-মন খারাপ কোরিস না।তোর যখন ইচ্ছা হবে তুই ছোট্টুকে বলবি ও দিয়ে আসবে।
শ্রীয়াঙ্কার চোখ থেকে একফোঁটা জল গড়িয়ে পরে।সে কোনোরকমে মুছে নেয়।কিন্তু শুভ্রর চোখ তা এড়ায় না।শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে শুভ্রর খুব কষ্ট হয়।
মমতা দেবী শ্রীয়াঙ্কার মাথায় হাত বোলাতে বোলাতে বলেন-তোকে কত্ত ছোটো দেখেছিলাম রে কিন্তু সেবার তোকে দেখতে গিয়ে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম।সেদিনের সেই ছুটকি কত বড় হয়ে গেছে।তোকে কাছে পেয়ে আমি ভীষণ খুশি।
হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কা বলে-তাহলে কাল  চলে যাবেন কেন?
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কথায় অবাক হয়ে যায়।
মমতা দেবী হেসে বলেন-এই শহরে থাকতে আমার ভালো লাগে না রে।সাগ্নিক চলে যাওয়ার পর এখানে থাকলে খুব কষ্ট হয়।ছোট্টুকেও আসতে দিতাম না।ও জোর করে আছে।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে যায়।
মমতা দেবী বলেন-চিন্তা করিস না।আমি আবার আসব।মন খারাপ করলে শুভ্রকে বলবি।কী রে বলবি তো।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।
মমতা দেবী হেসে বলেন-আমার ছুটকি মায়ের কী রাগ হল আমি চলে যাব শুনে।
এই বলে মমতা দেবী কেঁদে ফেলেন।
শ্রীয়াঙ্কা আর চুপ করে থাকতে পারে না।
কাঁদছেন কেন,আমি ঠিক আছি।-শ্রীয়াঙ্কা 
মমতা দেবী চোখের জল মুঝে নেয়।আর বলে-তুই আবার আপনি বললি।
শ্রীয়াঙ্কা মমতা দেবীর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
কী রে-মমতা দেবী
আচ্ছা,ঠিক আছে আমি এবার থেকে আপনাকে মানি বলে ডাকবো-শ্রীয়াঙ্কা 
নীলিমা বলে-মানি খুব সুন্দর।কিন্তু আবার তুমি আপনি বললে তো।
মমতা দেবী হেসে বলেন-পাগলী একটা।
শ্রীয়াঙ্কাও মিচকে মিচকে হাসতে থাকে।এদিকে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে থাকে।কতো তাড়াতাড়ি সবার সাথে মিশে যায়।
সবাই ডিনার করতে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা আর শুভ্র ডিনার করে নিজের ঘরে চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা ঘরে এসে মেঝেতে বিছানা করতে থাকে।শুভ্র প্রথম বুঝতে পারে না।তারপর বুঝতে পেরে বলে-তুমি নীচে বিছানা করছ কেন?
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।
কী হল,তুমি খাটে শুয়ে পড়।আমি নীচে শুয়ে পড়ছি।-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে-হ্যাঁ,তা তো বলবেন।শেষে মেঝেতে শোবেন আর আমাকে পরে কথাও শোনাবেন।
তোমার মনে হয় আমি এরকম করব-শুভ্র
আপনাকে দেখে কিছু মনে হয় না।কিন্তু আপনি অনেক কিছু করতে পারেন।যা ধারণার বাইরে।-শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র চুপ করে যায়।কী আর বলবে।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা বালিশ নিয়ে যাচ্ছে।শুভ্র তখন গিয়ে বালিশটা কেড়ে নিয়ে বলে-তুমি ওপরে থাকো আমি নীচে শুয়ে পরছি।
শ্রীয়াঙ্কা রেগে গিয়ে-কী ভাবেন বলুন তো নিজেকে।আপনি যা বলবেন আমি তাই করব।
এই বলে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কাছ থেকে বালিশটা নিয়ে শুয়ে পরে।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে থাকে।মনে মনে বলে-আমি যা বলছি ও তো সবকিছুতেই রেগে যাচ্ছে।
শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা শুয়ে পড়েছে।কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর শুভ্রও মেঝেতে বিছানা করতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা দেখতে পেয়ে আরো রেগে যায়।উঠে এসে বলে-কী হচ্ছে এসব?
শুভ্র বিছানা করতে করতে বলে-তুমি ওপরে শুয়ে পড়।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।নিজের জায়গাতে গিয়ে শুয়ে পরে।শুভ্র দেখে।আর কিছু বলে না।শুভ্রও নিজের মতো বিছানা করে শুয়ে পরে।
এমন জায়গায় বিছানা দুজনকে এক পাশ হয়ে শুতে হবে।অন্য পাশে ফিরলেই দুজন মুখোমুখি।
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারেনি।অন্য পাশ ফিরেছে।শুভ্রকে দেখা মাত্র সে আবার অন্য দিকে ফিরে যায়।আর রাগে গজগজ করতে থাকে।এদিকে শুভ্র বুঝতে পেরে অন্য দিকে ফিরে থাকে।
ধীরে ধীরে দুজনেই ঘুমিয়ে পরে।সকাল হয়ে যায়।এদিকে দুজন এক দিকে ফিরে।প্রথম ঘুম ভাঙ্গে শুভ্রর।শ্রীয়াঙ্কা মুখটা দেখে সে তাকিয়ে থাকে।কিন্তু বেশিক্ষণ পারে না।দরজার বাইরে-এই দাদা,দাদা আটটা বাজে তো।
শুভ্র তাড়াতাড়ি করে উঠে যায়।দরজা খুলতে যায়।কিন্তু কী ভেবে ফিরে আসে।শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে বলে-এই উঠে পড়।
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা তো ঘুমিয়ে কাদা।শুভ্র বুঝতে পারে না কী করবে।দরজা খুললে দুটো বিছানা।তখন কী হবে।আবার সে শ্রীয়াঙ্কাকে ডাকে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা ওঠে না।শুভ্র ঠিক করে নেয় কী করবে।কিন্তু সংকোচ করতে থাকে।বার বার গিয়েও ফিরে আসে।এদিকে লিলি ডেকেই চলেছে।তাই কোনো উপায় না দেখে শ্রীয়াঙ্কাকে কোলে তুলে নিয়ে খাটে শুইয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা ঘুমিয়েই থাকে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকে।কপালের উপরের চুলগুলোকে সরিয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা একটু নড়ে ওঠে।শুভ্র ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায়।
বাইরে থেকে এখনও লিলি ডাকছে।শুভ্র তাড়াতাড়ি দুটো বিছানা তুলে দিয়ে দরজা খোলে।
কী রে,নীচে চল।কখন থেকে ডাকছি।-লিলি
আমি ওয়াশরুমে ছিলাম।-শুভ্র
ওও,বৌদি-লিলি
ও তো ঘুমাচ্ছে-শুভ্র
তোরা তাড়াতাড়ি চলে আয়।আমরা কখন থেকে ওয়েট করছি-লিলি
এই বলে লিলি চলে যায়।এদিকে শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা এখনও ঘুমিয়ে।কী করে ডাকবে।আবার যদি রেগে যায়।
শুভ্র ভাবতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে আবার ডাকে-বলছি নীচে ডাকছে।
এবার কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা উঠে পরে।ধড়পড় করে বিছানার উপর উঠে বসে বলে-কী কী হয়েছে?
শুভ্র-নীচে সবাই ডাকছে।
শ্রীয়াঙ্কা চোখ ঘষতে থাকে।শুভ্র ওয়াশরুমের দিকে চলে যাচ্ছে।
তখন শ্রীয়াঙ্কা জোরে বলে-আমি উপরে এলাম কী করে?আমি তো নীচে শুয়েছিলাম।
শুভ্র শুনে দাঁড়িয়ে পরে।কিন্তু পিছনে তাকায় না।মনে মনে বলে-হয়ে গেল।এবার যে কী হবে।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর সামনে এসে বলে-কী ব্যাপার চুপ করে আছেন কেন?আমি উপরে গেলাম কী করে?
শুভ্র আমতা আমতা করে বলে-আমি জানব কী করে?
শ্রীয়াঙ্কা-আপনিই জানেন।এই আপনি আমাকে তুলে শুইয়ে দেননি তো।
শুভ্র-না,মানে----
শ্রীয়াঙ্কা-সত্যি কথা বলুন।আপনি কী করেছিলেন।
শুভ্র জানে শ্রীয়াঙ্কাকে বললে রেগে যাবে।কারন ও বিশ্বাস করবে না।ওকে এতো বার ডেকেছি।তাই বলে-তুমি কেন উপরে তুমি জানো।
এই বলে সে তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমে ঢুকে পরে।শ্রীয়াঙ্কা তাকিয়ে থাকে আর ভাবতে থাকে কখন আমি উপরে এলাম।
এদিকে শুভ্র বেড়িয়ে আসে।শ্রীয়াঙ্কা কথা বলতে যাবে তখন শুভ্র ফোন নিয়ে কাকে ফোন করতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলতে পারে না।ও রেডি হতে চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা চলে গেলে শুভ্র ফোনটা রেখে বলে-যাক বাঁচলাম।উফ্ফ এই মেয়েকে নিয়ে আমি যে কী করব।এতো রাগ যে কোথায় রাখে।
দুজনে রেডি হয়ে নীচে আসে।এদিকে ব্রেকফ্রাস্ট করা  হয়ে গেলে শুভ্রর বাবা মা আর সবাই চলে যাবার জন্য রেডি হয়ে যায়।
কল্যান বাবু আর মমতা দেবী শ্রীয়াঙ্কার কাছে বলেন-সাবধানে থাকবি।
শ্রীয়াঙ্কার খুব কষ্ট হয়।এটা ভেবে যে ওরা চলে যাচ্ছে। আর ওকে এখন এই বাড়িতে একা থাকতে হবে।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়ায়।
শুভ্রকে শ্রীয়াঙ্কার খেয়াল রাখার কথা বলা হয়।সবাই চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা রুমে চলে যায়।মনটা তার খারাপ হতে থাকে।এদিকে শুভ্র নিজের স্টাডি রুমে চলে যায়।চাকরি পেয়ে গেলেও বই পড়ার নেশা সে ছাড়তে পারেনি।তাছাড়া সে জানে শ্রীয়াঙ্কা তার সাথে কথা বলবে না।কথা বলতে গেলে রেগেও যাবে।
শ্রীয়াঙ্কা কিছুক্ষণ বসে থাকার পর কী করবে ভেবে পায় না।তাই একবার ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ায়।আবার খাটে এসে বসে পরে।শেষে এ ঘর ও ঘর ঘুরতে থাকে।সে বুঝতে পারেনি।শুভ্রর স্টাডি রুমে ঢুকে পরে।শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে শুভ্র দাঁড়িয়ে পরে।
কিছু বলবে,মানে তোমার কিছু লাগবে?-শুভ্র
না,আমি ভুল করে এসে পড়েছি।-এই বলে শ্রীয়াঙ্কা চলে যাচ্ছে।আবার ফিরে এসে বলে-আমার কিন্তু মনে আছে আমি একা গিয়ে খাটে শুইনি।
শুভ্র ভিরমি খেয়ে যায়।এখনও শ্রীয়াঙ্কার মনে আছে ভেবে।কিন্তু কিছু বলে না।
শ্রীয়াঙ্কা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে বইগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকে।কারন শ্রীয়াঙ্কা বই পড়তে ভালোবাসে।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে বলে-তুমি পড়তে চাইলে নিতে পার।
শ্রীয়াঙ্কা হঠাৎ রেগে যায়।বলে-দরকার নেই।আপনার কোনো জিনিসে আমার দরকার নেই।
এই বলে সে ঘরে চলে আসে।শুভ্রর মন খারাপ হয়ে যায়।সে বইয়ের দিকে তাকিয়েই থাকে।পড়তে পারে না।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা ঘরে চলে আসে।
কিন্তু কী করবে তার মাথায় আসছে না।টি ভি টা চালায়।কিন্তু আবার বন্ধ করে দেয়।এদিকে শুভ্রর ফোনে ফোন আসে।কিন্তু কথা শুনতে পায় না।হ্যালো,হ্যালো করতে করতে ফোনটা নিয়ে একটু বাইরের দিকে যায়।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা দেখতে পায়।শুভ্র বাইরের দিকে চলে যাচ্ছে।সে তাড়াতাড়ি করে শুভ্রর স্টাডি রুমে যায়।নিজের পছন্দ মতো একটা ভালো উপন্যাসের বই নিয়ে চলে আসে।কিন্তু সে বুঝতে পারেনি।ও যখন বই খুঁজছিল তখনই শুভ্র এসে পড়েছে।ওকে দেখে আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা বই  নিয়ে চলে গেলে।শুভ্র  বলে-এতো রাগ আমার উপর।আমি যখন বললাম তখন তুমি-----।
শুভ্র একটা নিশ্বাস ফেলে বলে-তাও ভালো।বই টা নিয়ে গেছো।আমি এতেই খুশি।




আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১৭

শুভ্র একটা নিশ্বাস ফেলে বলে-তাও ভালো,বইটা নিয়ে গেছ।আমি তাতেই খুশি।
শুভ্র স্টাডি রুমের ভিতরে চলে যায়।জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়ায়।আর ভাবতে থাকে কী করে সব ঠিক করবে।তার মাথায় কিছু আসে না।
অনেক ভেবে শুভ্র ঠিক করে-আর নয়,ওকে বোঝাতে যাব না যে আমি ঠিক ছিলাম,ওকে বোঝাব আমি কতটা ওকে ভালোবাসি।ও বলেছিল আমাকে ভালোবাসার কথা।নানাভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিল।কিন্তু আমি কী বোঝাতে পেরেছিলাম আমি ওকে ভালোবাসি।পারিনি বোঝাতে।বলতেও পারিনি।তাই এবার ওকে যে ভালোবাসি তা ওকে অনুভব করাব।যাতে ওই এসে ভালোবাসার কথা বলবে।আচ্ছা,আমি পারব তো?
শুভ্র নিজেকেই প্রশ্ন করে।তারপর সে চেয়ারে বসে।একটি বই হাতে নেয়।
শ্রীয়াঙ্কা এদিকে বইটা নিয়ে খাটের উপর বসে।যেন কী মহৎ কাজ করে এসেছে।কেউ ধরতেই পারেনি।আর  যেন আনন্দও ধরছে না।বইটা খুলে সে পড়তে শুরু করে।
এদিকে দুপুর গড়িয়ে যায়।
শুভ্রর ও খেয়াল নেই।সেও পড়তে পড়তে অন্য জগতে চলে গেছে।
মমতা দেবী ফোন করেন।তাতে শুভ্রর হুঁশ ফেরে।ফোনটা ধরে বলে-হ্যাঁ,বল মা।তোমরা পৌঁছে গেছ?
হ্যাঁ,তোরা কী করছিস?-মমতা দেবী
আমি এই বই----
শুভ্রর কথাকে শেষ করতে দেয় না মমতা দেবী।
কী তুই বই পড়ছিস!-মমতা দেবী
না,মানে-শুভ্র আমতা আমতা করে বলে।
ছুটকি কোথায়?-মমতা দেবী
ও মনে হয় ওই ঘরে-শুভ্র
কী ওকে একা রেখে তুই বই পড়তে বসে গেছিস-মমতা দেবী
শুভ্র চুপ করে থাকে।
এই তোরা খাওয়া দাওয়া করেছিস-মমতা দেবী
না,মানে মা----শুভ্র
বুঝে গেছি,তুই কী রে।মেয়েটাকে না খাইয়ে রেখে দিয়েছিস।ও কী এসে বলবে যে আমার খিদে পেয়েছে-মমতা দেবী
শুভ্র বুঝতে পারে মা রেগে গেছে।
রেগে গেছ।ঠিক আছে আমি এখনই যাচ্ছি-শুভ্র
যা তাড়াতাড়ি।-মমতা দেবী
শুভ্র তাও একবার বলে-মা তুমি রেগে যেও না।
মমতা দেবী-যা,আমি রেগে নেই।আমি পরে ফোন করব।
এই বলে তিনি ফোন কেটে দেয়।
শুভ্র উঠে পরে।রুমের সামনে গিয়ে দেখে শ্রীয়াঙ্কা বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছে।বইটা খোলা।আর শ্রীয়াঙ্কা পাশে গুটিসুটি মেরে ঘুমিয়ে আছে।
শুভ্র কাছে যায়।ভাবে ঘুমাচ্ছে পরে ডাকবে।আবার ভাবে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।তাই ডাকার জন্য আরো কাছে আসে।
শ্রীয়াঙ্কা শুনতে পাচ্ছ।এই শ্রী-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা আরো ভালো করে শোয়।
উঠে খেয়ে নাও।এই শুনতে পাচ্ছ।-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কার ঘুম ভেঙ্গে যায়।অল্প অল্প চোখ খুলে তাকায়।
শুভ্রকে দেখে তাড়াতাড়ি করে উঠে পরে।
খাবে এসো-শ্রীয়াঙ্কা 
আমি খাব না।-শ্রীয়াঙ্কা
প্লিজ এরকম কর না।না খেলে শরীর অসুস্থ হবে।-শুভ্র
তাতে আপনার কী?আপনি চলে যান-শ্রীয়াঙ্কা
এদিকে আবার শুভ্রর মা আবার ফোন করে।
শুভ্র ফোনটা ধরে বলে-হ্যাঁ,মা বল 
মমতা দেবী-কী রে খেতে গিয়েছিস?ছুটকি কোথায়?ওকে ফোনটা দে।
শুভ্র ফোনটা শ্রীয়াঙ্কাকে এগিয়ে দেয়।
শ্রীয়াঙ্কা কৌতূহলী হয়ে তাকিয়ে থাকে।
মা,তোমার সাথে কথা বলতে চায়।-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা ফোনটা নিতে গিয়ে শুভ্রর হাতকে স্পর্শ করে।তাড়াতাড়ি হাত সরিয়ে নেয়।শুভ্র বুঝতে পেরে ফোনটা খাটে রাখে।
শ্রীয়াঙ্কা ফোনটা নিয়ে  বলে-হ্যাঁ,মানি বল।
তুই আর খেয়েছিস?-মমতা দেবী
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে থাকে।
শোন ওটা তোর বাড়ি।তাই নিজের খিদে পেলে খেয়ে নিবি।একজনের তো খাওয়ার নাম থাকে না।বই পড়লে হুঁশ থাকে না।তাই ও না খেতে চাইলে তুই খেয়ে নিবি।-মমতা দেবী
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে শোনে।কিন্তু কিচ্ছু বলে না।
কী রে শুনতে পেয়েছিস?-মমতা দেবী
শ্রীয়াঙ্কা এবার বলে-আচ্ছা,মানি
ঠিক আছে,যা দুজনে খেয়ে নে।-মমতা দেবী
মমতা দেবী ফোনটা কেটে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা ফোনটা রেখে দেয়। শুভ্রকে ফোনটা নিয়ে নেয়।
শুভ্র-তুমি এস।
এই বলে সে রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।আর শ্রীয়াঙ্কাও চোখে মুখে জল দিয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কার খেয়াল নেই যে সে বইটা এনেছিল তা শুভ্র দেখছে।কারন বইটা তো ওর পাশেই ছিল।
শুভ্র কিচেনে এসে খাবার গুলো দেখতে থাকে।মমতা দেবী খাবার বানিয়ে ফ্রিজে রেখে গিয়েছিলেন।চাকরি পেয়ে সে নিজে ছোটো একটা ফ্রিজ কিনেছিল।কারন সে খুব ভালো সরকারি পেয়েছে।মাইনেও খুব ভালো।তাই চাকরি পাওয়ার পর সে অনেক কিছুই করেছে।বাড়ি কিনেছে,তাও বাড়িটা নতুন।আরো অনেক কিছুই করেছে।
শুভ্র একবার খাবার তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিত।আর পরে গরম করে খেত।কিন্তু মাইক্রওভেনে নয়।বিয়েতে মাইক্রওভেন পেয়েছে সেটাকেই আশিস দা কিচেনে সেট করে দিয়েছে।তাই শুভ্র এসে তা গরম করতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা এসে দাঁড়ায়।শুভ্র তা দেখতে পায়নি।সে খাবার  গুলো গরম করে গ্যাস জ্বালায়।দুজনের জন্য ডিমের পোচ বানানোর জন্য।
শ্রীয়াঙ্কা দেখতে পেয়ে বলে-আমার টা আমি করে নিতে পারব।
শুভ্র একবার শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে নেয় আর বলে-আমি করে দিচ্ছি।
শ্রীয়াঙ্কা কাছে এসে বলে-দেখুন অতো ভালো মানুষের অভিনয় না করলেও হবে।আমি তো বললাম আমি করে নেব।
শুভ্র আর কিছু বলে না।একটা ডিমের পোচ হয়ে গেছে সেটা নিয়ে সরে আসে।দূরে দাঁড়িয়ে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা ডিমের পোচ বানাতে গেলেও সেটা ডিমের পোচ হয় না।সেটা প্লেটে তুলে ঘুরলেই দেখে শুভ্র ওর দিকে তাকিয়ে আছে।শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।টেবিলে গিয়ে বসে পরে।শুভ্রও বসে।শ্রীয়াঙ্কা নিজের মতো খাবার প্লেটে নিয়ে খেতে থাকে।অন্য দিকে চেয়ে চেয়েই সে খেতে থাকে।
শুভ্র দেখতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কাকে খুব মিষ্টি লাগছে।সে সেই দিকেই তাকিয়ে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা একটা হলুদ রংয়ের শাড়ি পরে আছে।চুল টা আলগা করে খোপা করা।কিছু চুল সামনের দিকে পড়েছে।আর মাথার সিঁদূর এখনও ইঙ্গিত দেয় সে নববিবাহিত।হাতে শাঁখা,পলা আর চুরিতে ভর্তি।তার রিনিঝিনি আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।সে যত হাত নাড়ছে তা তত বাড়ছে।
শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা ডিমটা গালে দিয়েছে।আর সাথে সাথে শ্রীয়াঙ্কা মুখটা অন্যরকম হয়ে যায়।আর জল খেয়ে নেয়।শুভ্র বুঝতে পারে ডিমে নুন বেশি হয়ে গেছে।
এদিকে শুভ্র কিছু বলতেও পারছে না।
শুভ্র খেতে খেতে বলে-ওখানে ডিম আছে ভেজে নিতে পার।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে-কেন?
তোমার ডিমে তো নুন বেশি।তাই----শুভ্র
কে বলল নুন বেশি।-শ্রীয়াঙ্কা রেগে বলে।
শুভ্র কিছু বলতে যাবে তখন শ্রীয়াঙ্কা বলে-আমার কোনো ব্যাপারে আপনার না কথা বললেই নয় কী।কতবার আপনাকে বলতে হবে।আপনি আমার সাথে কথা বলবেন না।
শুভ্র চুপ করে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা খেয়ে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা চলে যাওয়ার দিকে শুভ্র তাকিয়ে থেকে বলে-তুমি বড্ড রাগী।এ রাগ আমি ভাঙ্গব।
শ্রীয়াঙ্কা ঘরে এসে শুয়ে পরে।ঘুমিয়েও পরে।এদিকে শুভ্রও অন্য ঘরে এসে শুয়ে থাকে।কিন্তু ঘুম আসে না।উশখুশ করতে থাকে।বিভিন্ন চিন্তা মাথার ভিতর ঘুরপাক খায়।
কিছুক্ষণের মধ্যে শুভ্র ঘুমিয়ে পরে।ঘুম ভাঙ্গে সন্ধ্যার দিকে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা ঘুম থেকে উঠে ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে আছে।
শুভ্র উঠে ফ্রেশ হয়ে সন্ধ্যা দেয়।তারপর অন্য রুমে এসে দেখে শ্রীয়াঙ্কা নেই।সে ভয় পেয়ে যায়।রুমের আশপাশ ঘুরতে ঘুরতে গিয়ে শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে পায়।কিছু বলে না।ঘর থেকে বেড়িয়ে আসে।আবার স্টাডি রুমে চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা ব্যালকনি থেকে এসে ঘরের জানলা আটকিয়ে দেয়।সে ভীষণ ভূতে ভয় পায়।নিজের বাড়িতে আলাদা রুমে থাকলেও বোন তার সাথেই রাত্রে ঘুমাতো।খুব কমই সে একা ঘরে ঘুমাতো।যখন রাগ হত তখন।তাও তার ভয় করত।নিজের রুম তাই চাপাচুপি দিয়ে রাত কাটিয়ে দিত।
খাটের উপর বসে সে উপন্যাসের বইটা খোলে।কিন্তু যত না পড়ে এদিক ওদিক তাকাতে থাকে।কোথাও খুট করে আওয়াজ হলে সে কান পেতে থাকে।হঠাৎ ওর ফোনে ফোন আসলে আচমকা ভয় পেয়ে যায়।দেখে বাবা ফোন করেছে।
হ্যালো,কেমন আছিস মা।-সুব্রত বাবু।
শ্রীয়াঙ্কার গলা ধরে আসে।তাও নিজেকে সামলিয়ে বলে-ভালো আছি,তোমরা কেমন আছো?,
ভালো আছি রে মা।-সুব্রত বাবু
এদিকে শ্রীয়াঙ্কার বোন আর মা কথা বলবে বলে।শ্রীয়াঙ্কা কথা বলে।তারপর সুব্রত বাবুর ফোনটা নিয়ে বলে-ছোট্টু কোথায় রে?ওকে একটু দে না।
শ্রীয়াঙ্কা কী বলবে বুঝতে পারে না।তাই ফোনটা নিয়ে শুভ্রকে খুঁজতে থাকে।
কী রে কী হল-সুব্রত বাবু
হ্যাঁ,বাবা দিচ্ছি-শ্রীয়াঙ্কা
শ্রীয়াঙ্কা খুঁজতে খুঁজতে দেখতে পায় শুভ্রকে।শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে শুভ্র এগিয়ে আসে।
শ্রীয়াঙ্কা ফোনটা এগিয়ে দেয়।শুভ্র ফোনটা ধরে কানে দেয়।শুভ্র জানে ফোন নিতে গেলে যদি হাত লেগে যায় তাহলে শ্রীয়াঙ্কা----
তাই সে ফোনটা খুব সন্তর্পণে নেয়।
হ্যালো-শুভ্র
ছোট্টু ভালো আছো তো-সুব্রত বাবু
শুভ্র বুঝতে পারে কে ফোন করেছে।
হ্যাঁ,ভালো আছি।তোমরা কেমন আছ?-শুভ্র
আমরা ভালো আছি।বলছি একটু শ্রীয়াঙ্কার খেয়াল রাখবে।ও কী কান্নাকাটি করছে?-সুব্রত বাবু
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।দেখে শ্রীয়াঙ্কা ঘরের চারিদিকে চোখ বোলাচ্ছে।
হ্যাঁ,ভালো আছে।আপনি চিন্তা করবেন না।-শুভ্র
আচ্ছা,ঠিক আছে।সাবধানে থাকবে।-সুব্রত বাবু
সুব্রত বাবু ফোন রেখে দেয়।সুব্রত বাবু শুভ্রকে তুমি করে বলে।এখন শুভ্র অনেক বড় হয়ে গেছে তাই তুই বলতে পারে না।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে ফোনটা এগিয়ে দিয়ে বলে-ফোনটা
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথায় শুভ্রর দিকে চায় তারপর ফোনটা নিয়ে চলে যায়।
এদিকে রাত হয়ে আসে।রাতের খাবার বানানো নেই।শুভ্র কিচেনে যায়।ভাবে শ্রীয়াঙ্কা কী খাবে জিজ্ঞাসা করবে।কিন্তু আবার যদি বলে নিজের খাবার নিজে তৈরি করবে।শুভ্র আর জিজ্ঞাসা করতে যায় না।
ঠিক করে ডিমের কারি বানাবে।সেই মতো কাজে লেগে পরে।ঘন্টাখানেকের মধ্যে তা রেডি হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কাকে ডাকতে ঘরের দিকে যায়।কিন্তু ঘরের কাছে আস্তেই শুনতে পায় গানের গলা।
         আধেক ঘুমে নয়ন চুমে স্বপন দিয়ে যায়।
         শান্ত ভালে যূথীর মালে পরশে মৃদু বায়।।
        বনের ছায়া মনের সাথী বাসনা নাহি কিছু--
      পথের ধারে আসন পাতি না চাহি ফিরে পিছু--
শুভ্র রুমের সামনে গিয়ে দেখে শ্রীয়াঙ্কা উপুড় হয়ে শুয়ে আছে।আর সামনে বইটা রাখা।আর গুনগুন গান গাইছে।
শুভ্র তাকিয়ে থাকে শ্রীয়াঙ্কার দিকে একবারের জন্যও ডাকে না।শ্রীয়াঙ্কার ভাব ভঙ্গি শুভ্রর খুব ভালো লাগে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা গান গাইতে গাইতে হঠাৎ শুভ্রর দিকে চোখ পরে তাড়াতাড়ি করে উঠে বসে আর বইটা লুকিয়ে নেয়।
শুভ্র-খেতে এস।
এই বলে চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা বই লুকিয়ে রেখে চলে যায়।গিয়ে দেখে খাবার রেডি।
আমি আমার খাবার নিজে বানাব-শ্রীয়াঙ্কা
আজ দিনটা খেয়ে নাও।পরের দিন থেকে নিজে বানাবে।-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা না,না করতে থাকে।কিন্তু তার ভীষণ খিদে পেয়েছে তাই বলে-ঠিক আছে।পরের দিন থেকে আমার খাবার আমি বানাব।
শুভ্র মাথা নাড়ায়।
শ্রীয়াঙ্কা আর শুভ্র খেতে বসে।শ্রীয়াঙ্কা নিজেরটা প্লেটে নিয়ে খেতে শুরু করে।শুভ্র আড়ে আড়ে দেখতে থাকে।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা খেয়ে নিয়ে ওঠার সময় বলে যায়-একদম ভালো খেতে হয় নি।খুবই বাজে খেতে।
শুভ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১৮

শ্রীয়াঙ্কা খেয়ে নিয়ে ওঠার সময় বলে যায়-একদম ভালো খেতে হয়নি।খুব বাজে খেতে।
শুভ্র অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।খাবার টা যেন গলায় আটকিয়ে যায়।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা ঘরে এসে নীচে বিছানা করতে থাকে।শুভ্র এসে দেখে বলে-তোমার নীচে শুতে হবে না।তুমি খাটে শুয়ে পর।আমি অন্য ঘরে শুয়ে পড়ছি।
এই বলে শুভ্র চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা খাটে শুয়ে পরে।কিন্তু ঘুম আসে না।একে অচেনা জায়গা তার উপর একা একটা ঘরে শ্রীয়াঙ্কার ভয় করতে থাকে।লাইট নেভায় না।চোখটা কষ্ট করে বুজে থাকে।এদিকে কাছাকাছি কুকুর ডাকলে শ্রীয়াঙ্কা ধরপর করে উঠে বসে।কান খাড়া করে বসে থাকে।এদিকে বাইরে প্রচন্ড হাওয়া বইতে থাকে।তাতে বন্ধ জানলাগুলোতে আওয়াজ হতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা খাট থেকে উঠে পরে।জানলার কাছে গিয়ে ভালো করে জানলার ছিটকিনি গুলোকে দেখতে থাকে।কিন্তু দেখে সবই ঠিক আছে।আবার সে খাটের উপর বসে।পাশে থাকা বেড কভার টাকে নিয়ে মুড়ি দিয়ে শুয়ে পরে।কিন্তু চোখ বন্ধ করে না।একবার এপাশ ওপাশ করতে থাকে।এদিকে মুড়ি দেওয়ার ফলে সে ঘামতে থাকে।শেষে আর না পেরে উঠে বসে।
শ্রীয়াঙ্কা বলতে থাকে-মনে হচ্ছে যেন ভূতের বাড়ি।বাবা  গো কোথায় এসে পড়লাম।
এই বলে শ্রীয়াঙ্কা হাত জড়ো করে প্রনাম করে।
তাই জন্য আমাকে একা রেখে দেওয়া।বুঝতে পেরেছি।যাতে আমি ভয় পাই।বদমাশ কোথাকার।আমি এখানে ঘুমাতে পারছি না।আর উনি হয়তো মজাতে ঘুমাচ্ছেন।-শ্রীয়াঙ্কা আপনমনে বলে যেতে থাকে।
দেখাচ্ছি মজা।-এই বলে সে দরজা খুলে মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে অন্য ঘরের দিকে ধীর পায়ে এগোতে থাকে।আর মাঝে মাঝে পিছনে ঘুরে দেখতে থাকে।
এদিকে শুভ্র ঘুমিয়ে পড়েছে।অনেকক্ষণ সে স্টাডি রুমে বসে ছিল।তারপর ঘরে চলে এসেছে।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর ঘরের সামনে গিয়ে দরজাতে শব্দ করতে থাকে।কিন্তু মুখে কিছু বলে না।কিন্তু শুভ্র তো গভীর ঘুমে।সে শুনতেই পায় না।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার অবস্থা খুব খারাপ।দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সে ঘামতে থাকে আর দরজাতে আঘাত করতে থাকে।
উফ্ফ,আর ভালো লাগে না।এতো পুরো কুম্ভকর্ণ।-দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শ্রীয়াঙ্কা বলতে থাকে।
এদিকে সে লাইটও জ্বালাতে পারে না।সুইচ কোথায় খুঁজে পায় না।
শ্রীয়াঙ্কা এবার জোরে জোরে দরজাতে ধাক্কা দেয়।তাতে শুভ্রর ঘুম ভেঙ্গে যায়।সে তাড়াহুড়ো করে উঠে লাইট জ্বালায়।বুঝতে পারে না কী হল।এদিকে ধাক্কা আরো জোরে হতে থাকে।শুভ্র গিয়ে দরজা খোলে।আর সামনে শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে সে একটু অবাক হয়ে যায়।
তুমি!-শুভ্র
তা আপনি কী  ভেবেছিলেন ভুত।-শ্রীয়াঙ্কা
না,কিন্তু-শুভ্র
এই,শুনুন,আপনি জানতেন না এই বাড়িতে ভুত আছে।-এই বলে সে শুভ্রকে পাশ কাটিয়ে শুভ্রর ঘরে ঢুকে পরে।
শুভ্র আরো অবাক হয়ে যায়।
কী জানতেন তো?-এই শ্রীয়াঙ্কা ঘরের চারিদিকে ভয়ে ভয়ে তাকাতে থাকে।যেন ভুত কাছাকাছিই আছে।
ভুত!কী সব বলছ-শুভ্র
হ্যাঁ,হ্যাঁ,ভুত।তাই আপনি আমাকে বলেছেন একা থাকতে।যাতে আমি ভয়ে মরে যাই।-শ্রীয়াঙ্কা
কী!-শুভ্র
এই শুনুন ওতো কী কী করবেন না।আমি আপনার মতলব জানি।তাই আমি এইঘরেই থাকব।-শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র কী বলবে বুঝতে পারে না।
আচ্ছা,তুমি এই ঘরেই থাক।আমি অন্য ঘরে যাচ্ছি।-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা হঠাৎ চীৎকার করে বলে-না,না আপনিও এই ঘরেই থাকবেন।
শুভ্র শুনে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকে।
ওরকম ভাবে তাকাচ্ছেন কেন?আমি জানি আপনি চান আমি যেন ভয় পাই।কিন্তু এ হচ্ছে না।আপনি এখানেই থাকবেন।-শ্রীয়াঙ্কা
কিন্তু তুমিই তো বলেছিলে-শুভ্র
হ্যাঁ,বলেছিলাম।কিন্তু এখন এটা বলছি।-শ্রীয়াঙ্কা
কিন্তু কোথায় শোয়া হবে?এখানে তো সেই একটাই খাট-শুভ্র
কেন!নীচে।আমি নীচে শুয়ে পরব।আপনি খাটে।-শ্রীয়াঙ্কা
আবার এক কথা।-শুভ্র একটু রেগে যায়।
এই আমার উপর একদম রাগ দেখবেন না।-শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র একটু শান্ত স্বরে বলে-এভাবে নীচে শুলে তো ঠান্ডা লেগে যাবে।
কিছু হবে না।-শ্রীয়াঙ্কা
তাহলে তুমি ওপরে থাক-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে রাগী চোখে তাকায়।
শুভ্রর আর কিছু বলার থাকে না।সে অন্য ঘর থেকে নীচে বিছানা করার জিনিসপত্র আনতে যায়।তখন শ্রীয়াঙ্কা একবার দরজার কাছে আর একবার ঘরে এই করতে থাকে।
শুভ্র সব কিছু নিয়ে আসে।শ্রীয়াঙ্কা নিজের মত বিছানা করে নেয়।এদিকে শুভ্রও নীচে বিছানা করতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা দেখে শুভ্রর কাছে এসে বলে-আর কতো অভিনয় করবেন।আমার আর ভালো লাগছে না।আপনার এই অভিনয়ে কোনো কাজ হবে না।বুঝেছেন,তাই আপনি ওপরেই শুয়ে পড়ুন।
এই বলে শ্রীয়াঙ্কা নিজের জায়গায় চলে যায়।আর শুয়ে পরে।শুভ্র তাকিয়ে থাকে।তারপর সে নিজেও শুয়ে পরে।কিন্তু দুচোখে ঘুম আসতে চায় না।
সকালে শুভ্র আগেই ওঠে।শ্রীয়াঙ্কা তখনও ঘুমিয়ে।শ্রীয়াঙ্কার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।তারপর গত রাতের কথা ভেবে হেসে ফেলে।
শুভ্র মনে মনে বলে-এতো ভয়!কিন্তু এই ভয়ে একটা কাজ হয়েছে।আমি আর তুমি এক ঘরে।
শুভ্র আর বেশিক্ষণ বসে থাকে না।কারন আজ তার অফিস আছে।সে বেশিদিন ছুটি নেয়নি।ফ্রেশ হতে চলে যায়।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কাও উঠে পরে।সেও ইউনিভার্সিটি যাবে।তাড়াতাড়ি করে রেডি হয়ে নীচে আসে।
শুভ্র তো রান্নাতে ব্যস্ত।
একটু দূরে দাঁড়িয়ে বলে-আমি আমার রান্না নিজে করব।
শুভ্র একবার শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে নেয়।কিন্তু মুখে কিছু বলে না।কারন সে বুঝে গেছে বারণ করে লাভ নেই।
শুভ্রর রান্না হয়ে যায়।সে রুমে চলে যায়।শুভ্র চলে গেলে শ্রীয়াঙ্কা কিচেনে ঢোকে।কী করবে বুঝতে পারে না।কিচেনের চারিদিক দেখতে থাকে।কোথায় কী আছে।হঠাৎ তার চোখে পরে পাস্তার কৌটো।শ্রীয়াঙ্কা আনন্দে পাস্তার কৌটোটা কাছে নেয়।
এটাই করব।পাস্তা তো বানানো সহজ।-শ্রীয়াঙ্কা নিজে নিজে বলে।
কিন্তু সে কখনও পাস্তা বানায় নি।ভাবতে থাকে কী করবে।মাথায় তার বুদ্ধি আসে।তাড়াতাড়ি করে নিজের মোবাইলটা এনে পাস্তার রেসিপি দেখতে থাকে।কিন্তু দেখলেই যে পাস্তা সুন্দর হবে তার কোনো মানে নেই।কারন শ্রীয়াঙ্কা পাস্তা জলে সিদ্ধ করতে দিলেও বেশিক্ষণ করে না।তাতে পাস্তা কাঁচা থেকে যায়।এরকম ভাবে সে বানিয়ে ফেলে পাস্তা।পাস্তা বানানো হয়ে গেলে শ্রীয়াঙ্কা বলে-উফ্ফ কী সুন্দর দেখতে হয়েছে।আমি যে এতো ভালো রান্না পারি তা আমি নিজেই জানতাম না।
এদিকে শুভ্র অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে আসে।শ্রীয়াঙ্কা নিজের তৈরি পাস্তা খেতে বসে।শুভ্রও খেতে বসে পরে।আর শ্রীয়াঙ্কাকে আড়ে চোখে দেখতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা মহাআনন্দে পাস্তা মুখে দেয়।কিন্তু মুখে দিয়েই বুঝতে পারে সে রান্নায় কত পটু।কিন্তু সামনে শুভ্র আছে তাই খেতে থাকে।কিন্তু শুভ্র বুঝতে পারে পাস্তা খেতে ভালো হয়নি।কিছু বলতে যাবে।কালকের রাতে শ্রীয়াঙ্কার বলা কথা মনে পরে যায়।তাই কিছু বলে না।শুভ্র ভাবে অন্য ব্যাবস্থা করতে হবে।না হলে শ্রীয়াঙ্কা কোনোদিনই খাবে না।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা অনেক কষ্টে শক্ত নুনে পোড়া পাস্তা খেয়ে নেয়।আর মাঝে মাঝে শুভ্রর তৈরি খাবারের দিকে চায়।কারন শুভ্র রান্নাটা ভালোই পারে।আর গন্ধও সুন্দর বার হচ্ছে।
শুভ্রর খাওয়া হয়ে যায়।সে বাইকটা বের করতে থাকে।চাকরি পাওয়ার পর সে একটা পুরনো বাইক কিনেছে।তাতেই যাওয়া আসা করে।শ্রীয়াঙ্কাও বের হতে থাকে।শুভ্র বুঝতে পারে শ্রীয়াঙ্কা যাবে।
শ্রীয়াঙ্কাকে ঘরের একটা চাবি এগিয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা নিয়ে নেয়।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে বলে-তোমার এখান থেকে গাড়ি পেতে দেরি হবে।চল আমি তোমাকে নামিয়ে দিচ্ছি।
শুভ্রর বাড়ির কাছ থেকে গাড়ি খুব কম পাওয়া যায়।আর শ্রীয়াঙ্কা কলেজ যেতে দুটো গাড়ি পাল্টাতে হবে।তাই শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে এই কথা বলে।
শ্রীয়াঙ্কা শুনে-আমি আপনার গাড়িতে যাব!আপনি তা ভাবলেন কী করে?
দেখ,তোমার এখান থেকে গাড়ি পেতে সমস্যা হবে।তাতে কলেজ যেতেও দেরি হয়ে যাবে।-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা রেগে গিয়ে বলে-কেন এমন করছেন?আমার ভালো লাগছে না।কতবার বলেছি আপনি আমার ব্যাপারে কোনো কথা বলবেন না।আপনার কোনো অধিকার নেই।
শুভ্র চুপ করে যায়।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা দাঁড়িয়ে থাকে।একটাও গাড়ি আসে না।শুভ্র কিছু বলে না।কিন্তু সেও যায় না।কিছুক্ষণ বাদে একটা গাড়িকে আসতে দেখা যায়।
শ্রীয়াঙ্কা বলে-গাড়ি আবার পাব না।
সামনে গাড়ি এলে শ্রীয়াঙ্কা দাঁড় করায় আর উঠে পরে।শুভ্রও গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে পরে।
শ্রীয়াঙ্কা ইউনিভার্সিটি আসলে সবাই ঘিরে ধরে।অনেক কথা জিজ্ঞাসা করতে থাকে।তাদের তো অনেক কৌতূহল ওর বিয়ে নিয়ে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা চুপ।
সবাই বলে-আজ কেন সে আসতে গেল?
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।ক্লাস শুরু হলেও শ্রীয়াঙ্কা মন দিতে পারে না।পেটে তার ছুঁচো দৌড়াতে থাকে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার খিদে পায়।টিফিনে ক্যান্টিনে গিয়ে চিকেন বার্গার খেয়ে সে যেন শান্তি পায়।
এদিকে শুভ্র অফিসে এলেও চিন্তা হতে থাকে শ্রীয়ঙ্কার জন্য।কিছু না খেয়ে দুর্বল হয়ে না পরে।কলেজ ছুটির সময় হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা বাড়ি ফিরে আসে।সাথে মনি,সুপর্ণা,রাহুল আর মাম্পি আসে।শ্রীয়াঙ্কার বাড়ি দেখতে।শ্রীয়াঙ্কাও খুশি হয়।
সবাই এসে শ্রীয়াঙ্কাকে শুভ্র কখন আসবে জিজ্ঞাসা করে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা বলতে পারে না।নানা কথায় কথা ঘুরিয়ে দেয়।
সবাই আড্ডা দিতে থাকে।সন্ধ্যা হয়ে আসলে শুভ্রও এসে পরে।
স্যার,ভালো আছেন?-শুভ্রকে দেখে মনি প্রথম কথা বলে।
হ্যাঁ,ভালো আছি।তোমরা?-শুভ্র
শুভ্র ফ্রেশ হয়ে আসে।তখন সবাই চলে যাবে বলে উঠে পরে।
শুভ্র দেখে বলে-আরে কোথায় যাচ্ছ?শুধু মুখে গেলে হবে?
রাহুল-কিন্তু স্যার----
আরে বস,বস।আমি আসছি।-এই বলে শুভ্র কিচেনে যায়।
মাম্পি বলে-স্যারকে তখন কী রাগী রাগী মনে হত।কিন্তু স্যার কত ভালো।
মনি-হ্যাঁ রে।
শ্রীয়াঙ্কা ওদের কথা শুনতে থাকে।এদিকে শুভ্র কিচেনে গিয়ে সবার জন্য পাস্তা বানিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসে।
রাহুল তো দেখে-স্যার আপনি বানালেন?
শুভ্র শুনে হাসতে থাকে।সবাই খেতে শুরু করে।শ্রীয়াঙ্কাও।সবার সামনে না বলতে পারে না।শ্রীয়াঙ্কা পাস্তাটা মুখে দিয়ে বুঝতে পারে তার সকালের পাস্তাটা মোটেও পাস্তা ছিল না।কিন্তু মনে মনে রেগে যায়।ভাবে তাকে অপমান করার জন্য শুভ্র পাস্তা বানিয়েছে।কিন্তু শুভ্র তো অতো ভাবেনি।
এদিকে রাহুল খেতে খেতে বলে-স্যার একটা কথা বলব।
হুম,বল-শুভ্র
স্যার,বলছি আপনাকে স্যার না বলে দাদা বলতে পারি?-রাহুল
শুভ্র হেসে বলে-অবশ্যই।আমি তো এখন আর তোমাদের পড়াই না।
সবাই রাহুলের কথাতে সায় দেয়।সবাই চলেও যায়।আর শ্রীয়াঙ্কা নিজের ঘরে আর শুভ্র স্টাডি রুমে চলে যায়।রাতে শ্রীয়াঙ্কা কিছু খায় না।আর শুভ্রও শ্রীয়াঙ্কা খায় না দেখে সেও মুখে কিছু তোলে না।
পরদিন সকালে শ্রীয়াঙ্কার বাবা ফোন করে তাদের যাওয়ার জন্য।শুভ্র বলে সন্ধ্যাতে যাবে।এদিকে শুভ্র অফিস চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা আজ কলেজ যায় না।বাড়িতে যাবে তার আনন্দ ধরে না।কিন্তু বাড়িতে থেকে কী করবে ভেবে পায় না।এদিকে শুভ্রর তৈরি খাবার না খেয়ে সে নিজে কিছু বানালেও তা মুখে দিতে পারে না।
শুভ্র আজ একটু তাড়াতাড়ি ফিরে আসে।দেখে শ্রীয়াঙ্কা রেডি হচ্ছে।শুভ্রও ফ্রেশ হতে চলে যায়।ওয়াশরুম থেকে বের হচ্ছে তখন শ্রীয়াঙ্কার গলা শুনতে পায়।
শ্রীয়াঙ্কা নিজে নিজেই বলছে-ভালো লাগে না।কোথায় যে আটকিয়ে গেল।আমার সব চুল ছিঁড়ে যাচ্ছে।
শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কার গলার হার চুলে বেঁধে গেছে।আর শ্রীয়াঙ্কা টানাটানি করছে।কিছুতেই ছাড়াতে পারছে না।অনেকক্ষণ ধরে দেখার পর শুভ্র এগিয়ে এসে বলে-আমি কী হেল্প করব?
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে-দরকার নেই।
এই বলে আবার সে ছাড়বার চেষ্টা করে।কিন্তু পারে না।
শুভ্র আবার বলে-হাত সরাও আমি ঠিক করে দিচ্ছি।
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারে তার দিয়ে হবে না।সে হাত সরিয়ে নেয়।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার পিছনে এসে পিঠের চুলগুলোকে সরিয়ে দিতে থাকে।এদিকে শুভ্রর স্পর্শে শ্রীয়াঙ্কা চোখ  বন্ধ করে নেয়।শুভ্র হারটা ছাড়াতে থাকে।শুভ্রর হাত বার বার শ্রীয়াঙ্কাকে ছুঁতে থাকে।আর ততবার শ্রীয়াঙ্কা শিহরিত হয়।
শুভ্র হার টা ছাড়িয়ে দিয়ে বলে-হয়ে গেছে।
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কা চোখ খুলে তাকায়।আর সাথে সাথে আয়নার মধ্যে দিয়ে দুজনের চোখে চোখে পরে।দুজনেই দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে।শ্রীয়াঙ্কার বুকের ভিতর কেমন যেন হতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা আর তাকিয়ে থাকতে পারে না।তাড়াতাড়ি করে চলে যেতে গিয়ে পিছনে ফিরলে শুভ্রর সাথে ধাক্কা লাগে।শুভ্র ধরে নেয়।শ্রীয়াঙ্কা চোখ বন্ধ করে নেয়।শুভ্র একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।কিছু পরে বলে-তাকাও,পড়ে যাওনি।
শ্রীয়াঙ্কা তাকিয়ে সরে যায়।শুভ্র বলে-মনে আছে কী বলেছিলাম?
শ্রীয়াঙ্কা অবাক হয়ে বলে-কী 
এই নিয়ে তিনবার।আগে বলেছি আর একবার হলে তখন কিন্তু----শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারে কী বলছে।এই নিয়ে শুভ্র তাকে তিনবার ধরে নিয়েছে।
আমি ইচ্ছা করে পরি নি।আর আপনিই বা আমার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেন?-শ্রীয়াঙ্কা
হারটা কে ছাড়িয়ে দিল?-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা কিছু না বলে চলে যাচ্ছে।তখন শুভ্র বলে-আর  একবার হলে কিন্তু ছাড়ব না।
শ্রীয়াঙ্কা ফিরে তাকিয়ে বলে-কী করবেন?
দেখবে কী করি।-শুভ্র
আপনি কিন্তু খুব বাড়াবাড়ি----শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কথা শেষ করতে দেয় না।বলে-দেরি হয়ে যাচ্ছে।তুমি কী যেতে চাও?না চাইলে থেকে যেতে পার।
এই বলে শুভ্র রুম থেকে বেড়িয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা রাগে ফুঁসতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কাও রুম থেকে বেড়িয়ে আসে।দুজনে বাড়ি থেকে বার হয়।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা অবাক হয়ে যায় শুভ্রকে দেখে।
বাইক কী হবে?-শ্রীয়াঙ্কা
কেন?আমরা বাইকেই তো যাব।-শুভ্র
কী!বাইক!আমি বাইকে যাব না।-শ্রীয়াঙ্কা
ওও,তাহলে তুমি অন্য গাড়িতে যাও।আমি বাইকেই যাব।আর ওখানে কিছু জিজ্ঞাসা করলে তুমি বলবে আমরা কেন আলাদা গিয়েছি।-শুভ্র
কী!-শ্রীয়াঙ্কা
হুম,এবার দেখ কী করবে।-শুভ্র
এই বলে শুভ্র বাইকে বসে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।রাগে তার চোখ মুখ লাল হয়ে যেতে থাকে।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ১৯

শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।রাগে তার চোখ মুখ লাল হয়ে যেতে থাকে।শুভ্র দেখেও না দেখার ভান করে।
কী হল যাবে?নাকি আমি চলে যাব।-শুভ্র
বললাম তো যাব না।-শ্রীয়াঙ্কা
ওকে,তাহলে আমি যাচ্ছি,তুমি এসো।-এই বলে শুভ্র বাইক স্টার্ট দিতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা দেখে বলে-আপনি সত্যিই চলে যাচ্ছেন?
না,এমনি এমনি বাইক স্টার্ট দিচ্ছি।আমার হঠাৎ ইচ্ছা হল।আচ্ছা তোমার অসুবিধাটা কোথায় বলত।এই বললে চলে যেতে।আর এখন---।-এই বলে শুভ্র বাইক থেকে নেমে দাঁড়িয়ে শ্রীয়াঙ্কার দিকে চেয়ে থাকে।
আমরা তো অন্য গাড়িতেও যেতে পারি।-শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করে বলে।
না,যেতে পারিনা।গাড়ি থাকতে আবার অন্য গাড়ি কেন?তুমি অন্য গাড়িতে যেতে পার।-এই বলে শুভ্র বাইকে উঠতে যাবে তখন শ্রীয়াঙ্কা বলে-আমি যাব।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে বলে-কী?
শ্রীয়াঙ্কা রেগে বলে-একদম না শোনার ভান করবেন না।আমি যেতে রাজি হয়েছি কারণ----
শ্রীয়াঙ্কার কথাকে শুভ্র শেষ করতে না দিয়ে বলে-জানি,বাড়ির লোক কী ভাববে তাই জন্য তুমি রাজি হলে।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়িয়ে বলে-ঠিক বলেছেন।
শুভ্র বাইকে বসে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা উঠবে তো বলে কিন্তু সংকোচ করতে থাকে।
কী হল?-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে-ঠিক করে চালাতে পারেন তো।
শুভ্র-হুম,একটু আমার উপর বিশ্বাস করে দেখ।
শ্রীয়াঙ্কার চোখ শুভ্রর চোখে আটকে যায়।শ্রীয়াঙ্কা তাড়াতাড়ি চোখ সরিয়ে নিয়ে বাইকে বসে পরে।শুভ্র বাইক স্টার্ট দেয়।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা কিছু ধরে ছিল না।হঠাৎ বাইক সামনে যাওয়াতে সে ভয়ে শুভ্রকে ধরে।কিন্তু আবার সরিয়ে নেয়।
শুভ্র তা লক্ষ্য করে।শুভ্রর কিন্তু ভালোই লাগছে।তার প্রথম ভালোবাসা তার স্ত্রী আজ তার এতো কাছে।কিন্তু শুভ্র ভাবে শ্রীয়াঙ্কা স্ব ইচ্ছায় বসেনি।সবাই কী ভাববে তাই বসেছে।
শুভ্র বাইক চালাতে থাকে।কিন্তু মাঝে মাঝে রাস্তা এতো খারাপ যে শ্রীয়াঙ্কা পরে যাওয়ার ভয়ে মাঝে মাঝে শুভ্রকে ধরছে।
শ্রীয়াঙ্কা বাড়ির কিছুটা আগে শুভ্র দাঁড়ায়।শ্রীয়াঙ্কা বলে-দাঁড়ালেন কেন?
শুভ্র কিছু বলে না।কাছাকাছি একটি মিষ্টির দোকানে গিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরে আসে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা পাশে একটা ফুচকার দোকান দেখে আর লোভ সামলাতে পারে না।শুভ্র আসলে বলে-আপনি একটু দাঁড়ান,আমি আসছি।
শুভ্র কিছু বলার আগেই শ্রীয়াঙ্কা চলে যায়।শুভ্রও পিছনে পিছনে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা ফুচকার দোকানে গিয়ে বলে-কাকু ঝাল ঝাল করে দেবেন।
শুভ্র বুঝতে পারে।শ্রীয়াঙ্কার এদিকে আসার কারন।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা বাচ্চাদের মত বলতে থাকে। 
শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে ফুচকার দোকানের লোকটি বলেন-আরে দিদি ভাই।কতদিন পরে এলেন।
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যাঁ,কাকু তোমার দোকানের ফুচকাকে খুব মিস করছি।
এদিকে লোকটি একটু শ্রীয়াঙ্কাকে ভালোভাবে দেখে বলে-দিদিভাই তোমার বিয়ে কবে হল?তোমাকে কী মিষ্টি লাগছে।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আবার অন্য দিকে ফিরে যায়।
লোকটি শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে-এই বুঝি দাদাবাবু?
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।শ্রীয়াঙ্কা কী করবে।মাথা দোলায়।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কার বলার ইচ্ছা নেই।শুভ্রর দেখে ভীষণ কষ্ট হয়।
এদিকে লোকটি শ্রীয়াঙ্কাকে ফুচকা দিতে শুরু করে।শ্রীয়াঙ্কা একবার বলে ঝাল নেই ঝাল দিতে।আবার বলে টক কম।এভাবেই সে ফুচকা খেতে থাকে।শুভ্র দেখে অবাক।হঠাৎ লোকটি বলে-দাদাবাবু আপনিও খান না?
শুভ্র-না,না,ঠিক আছে।
আরে খেয়ে দেখুন না।দিদিভাই আমার এখান থেকেই ফুচকা খায়।খেয়ে দেখুন ভালো লাগবে।-লোকটি
লোকটির কথা শুনে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।দু জনের চোখে চোখ পড়তেই শ্রীয়াঙ্কা অন্য দিকে ফিরে যায়।
কী হল দাদাবাবু,এই নিন।-লোকটি
লোকটি শুভ্রর দিকে শাল পাতার বাটিটা এগিয়ে দেয়।শুভ্র আর না করে না।লোকটি ফুচকা দিতে থাকে।শুভ্র একটা খাওয়ার পরে বুঝতে পারে তার পক্ষে দ্বিতীয় ফুচকা গালে দেওয়া খুবই মুশকিল।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা আরো ঝাল ঝাল দাও এই বলতে থাকে।আর শুভ্রর একটা ফুচকা খেয়ে কান থেকে ধোঁয়া বার হতে থাকে।কিন্তু সকলের সামনে কী বলবে।সে ঝাল খাবে না!শুভ্র বলতে পারে না।কয়েকটা ফুচকা খাওয়ার পর তার অবস্থা বেহাল।সে শুধু শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে থাকে যেন ফুচকাতে ঝালই নেই।
সে আর একটা ফুচকা গালে দিয়েছে তখন এতো ঝাল লাগে যে সে বলেই ফেলে-আমি আর খাব না।ওকেই দিন।
কেন দাদাবাবু?-লোকটি
না,না,আপনার ফুচকা ভালো খেতে।আমি আর খেতে পাচ্ছি না।-শুভ্র
এদিকে শ্রীয়াঙ্কাও বলে সে আর খাবে না।টাকা দিয়ে দুজনেই চলে আসছে।হঠাৎ শুভ্র জোরে পা চালিয়ে বাইকের কাছে এসে জলের বোতল খুঁজতে থাকে।কিন্তু পায় না।শ্রীয়াঙ্কা দেখতে পায় শুভ্রর চোখ লাল হয়ে গেছে।এদিকে শুভ্র বাইকের ভিতরে রাখা জিনিসপত্র হাতড়াতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা শুধু বলে-চলুন।
শুভ্র শুধু মুখে হুম বলে।কিন্তু সে জলের বোতল খুঁজতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পেরে নিজের ব্যাগ থেকে জলের বোতলটা এগিয়ে দেয়।শুভ্র ঢকঢক করে খেয়ে নেয়।
শ্রীয়াঙ্কা-যখন ঝাল খেতেই পারেন না।তখন ফুচকা খাওয়ার দরকার কী।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কা দিকে চেয়ে বলে-ওকে শুধু ঝাল বলে না।
শ্রীয়াঙ্কা-কী ঝাল বলে না।তাহলে কী বলে।
শুভ্র মনে মনে বলে-একে তো নাকের ডগায় রাগ তার উপর এই ঝালে ওর কী কিছু হয়।
শ্রীয়াঙ্কা-কী হল।
শুভ্র-কোথায় ঝাল,একটুও ঝাল হয়নি।ভীষণ মিষ্টি খেতে।
শ্রীয়াঙ্কা চোখ ছোটো ছোটো করে তাকিয়ে শুভ্রর হাত থেকে জলের বোতলটা কেড়ে নিয়ে বলে-তাহলে জল খেলেন কেন?
শুভ্র-তুমি জানো না,শুধু কী ঝাল লাগলেই জল খায়।যখন বুকে মিষ্টি বিঁধে যায় তখনও জল খেতে হয়।
শ্রীয়াঙ্কা রেগে-কী।
শুভ্র বুঝতে পারে পরিস্থিতি খারাপ।বলে-চল,চল,দেরি হয়ে যাচ্ছে।
শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কা পোঁছে যায় বাড়িতে।শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে তার মার চোখে জল এসে যায়।সুব্রত বাবু শুভ্রকে রুমে নিয়ে গল্প করতে থাকে।আর শতরুপা দেবী মেয়ে জ্যামাইয়ের জন্য আগে থেকেই খাওয়ার রেডি করেছিলেন।শুভ্রকে শতরুপা দেবী লুচি,আলুর দম প্লেটে সাজিয়ে নিয়ে আসে।
এতো! আমি খেতে পারব না।-শুভ্র
পারবে পারবে।-সুব্রত বাবু
না,আমি সত্যি খেতে পারব না।তাছাড়া আসার সময়----শুভ্র
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।
কী আসার সময়-সুব্রত বাবু
এদিকে শ্রীরুপা বলে-আসার সময় দিদি আর শুভ্রদা ফুচকা খেয়ে এসেছে।
ফুচকা!তুই জানলি কী করে?-শতরুপা দেবী
আরে দিদি এসেই বলেছে জানিস বনু আজ কাকু ফুচকাটা কী দারুন বানিয়েছে।তাই ভাবলাম শুভ্রদাও----শ্রীরুপা
ওও,কিন্তু শ্রী তুই কীরে ছেলেটাকে ফুচকা খাইয়ে আনলি।আর ও এখন কিছু খেতে পারবে।-সুব্রত বাবু
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা রেগে যাচ্ছে।মনে মনে বলতে থাকে-আমি যেন ওনাকে খাওয়ার কথা বলেছি।কী বিপদ।সব দোষ এখন আমার!
শুভ্র বলে-না,না ঠিক আছে।ওই জন্য নয়।আমি এতো এমনিই খেতে পারি না।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে নিজের ঘরে চলে যায়।ওই দিকে শুভ্রর খাওয়া হয়ে গেলে শ্রীরুপা শুভ্রকে নিয়ে আসে শ্রীয়াঙ্কার ঘরে।শ্রীয়াঙ্কা ড্রেস চেঞ্জ করে বসেছিল।শুভ্র কে দেখে কিছু বলতে যাবে তখন দেখে শ্রীরুপাও আছে।
এই দিদি,বাইরে কী সুন্দর হাওয়া হচ্ছে।চল আমরা ছাদে যাই।-শ্রীরুপা
না,আমি যাব না।-শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্রদা তুমি যাবে?-শ্রীরুপা
কেন যাব না।আমি ড্রেসটা চেঞ্জ করে নিয়ে যাচ্ছি।-শুভ্র
ওকে-এই বলে শ্রীরুপা চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা তাও চুপ করে বসে আছে।শুভ্র কিছু না বলে ওয়াশরুম থেকে চেঞ্জ করে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কার ভীষণ রাগ হয়।সে যেতে চাইনি ঠিক কিন্তু শ্রীরুপা শুভ্রকে বলেছে যাওয়ার কথা তাতে ও ভাবে দিদিকে ছেড়ে এখন অন্যজনকে পাত্তা দেওয়া।সময় আসুক বোঝাব মজা।
শ্রীরুপা আর শুভ্র ছদে এসে বসে।শ্রীরুপা অনেক কথা বলতে থাকে।শুভ্র হাসে আর মাথা নাড়ে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা তার বাবার কাছে যায়।
সুব্র‌ত বাবু শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে কাছে ডাকে-শ্রী এখানে বস।
শ্রীয়াঙ্কা অভিমান করে বলে-আমার কথা মনে পড়ল।আমি ভাবলাম তুমি আমাকে ভুলেই গেছ।
সুব্রত বাবু মেয়ের কথাতে হেসে ফেলেন।মেয়ের মাথাতে হাত বোলাতে বোলাতে বলেন-ছোট্টু খুব ভালো ছেলে নারে শ্রী।আমি জানতাম ওর বাবা মা ওকে ঠিক মানুষ করবে।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে থাকে।
কী রে শ্রী তুই খুশি তো।-সুব্রত বাবু
হ্যাঁ,বাবা আমি খুশি।-এই বলে সে বাবার কোলে মাথা রাখে।
এদিকে রাত হয়ে যায়।শতরুপা দেবী ডিনারের ব্যাবস্থা করে সবাইকে ডাকেন।ডিনার টেবিলে বসে শ্রীরুপা বলে-আচ্ছা শুভ্রদা তোমাদের বাড়িতে কে রান্না করে?
সুব্রত বাবু-কেন তুই জেনে কী করবি?
দেখ বাবা আমার দিদি তো খুব ভালো রান্না পারে তাই জানার ইচ্ছা হল শুভ্রদাকে ও কী কী বানিয়ে খাওয়াল।-শ্রীরুপা
শ্রীরূপার কথাতে সুব্রত বাবু আর শতরুপা দেবী হাসতে থাকেন।
শ্রীয়াঙ্কা-তোর হচ্ছে।আর বাবা তুমিও হাসছ।
শুভ্র দেখতে থাকে শ্রীয়াঙ্কাকে।
সুব্রত বাবু-না,না আমি হাসিনি।এই বলে তিনি আবার হেসে ফেলেন
সবার খাওয়া হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা আর শুভ্র ঘরে আসে।
শ্রীয়াঙ্কা বলে-আপনি খাটে শুয়ে পড়ুন।আমি সোফাতে  শুয়ে পড়ছি।
শুভ্র দেখে ঘরে একটা ছোটো সোফা আছে।কিন্তু সোফাতে শোওয়া যাবে না।সোফাটা খুবই ছোটো।
শুভ্র-তুমি ওখানে শুতে পারবে?
শ্রীয়াঙ্কা কিছু না বলে শুয়ে পরে।শুভ্রও খাটে শুয়ে পরে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে থাকে ও ঠিক করে শুতেও পারছে না।কিন্তু কিছু বলারও নেই।শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে শুভ্র ঘুমিয়ে পরে।
ভোরের দিকে শুভ্রর ঘুম ভেঙ্গে যায়।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে পায় না।ঘর থেকে বেড়িয়ে দেখে কেউ ওঠে নি।শুভ্র ভাবে তাহলে শ্রীয়াঙ্কা গেল কোথায়?খুঁজতে খুঁজতে দেখে শ্রীয়াঙ্কা ছাদে দাঁড়িয়ে আছে।শুভ্র ভাবে হয়তো সাররাত ঘুমাতে পারেনি।তাই----।শুভ্রর দেখে খুব খারাপ লাগে।সে ধীরে ধীরে শ্রীয়াঙ্কার পাশে দাঁড়ায়।শ্রীয়াঙ্কা জানতে পারেনি।হঠাৎ নিজের হাতটা রেলিংয়ের উপর রাখতে গিয়ে শুভ্রর হাতে হাত পরে যায়।শ্রীয়াঙ্কা তাকিয়ে থাকে শুভ্রর দিকে।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা বেগুনি রংয়ের শাড়ি পরে আছে।হালকা একটা চাদর গায়ে জড়ানো।সারারাত যে ঘুমাতে পারে নি তা তার চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকেই চেয়ে আছে।
শ্রী-শুভ্র
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কা হুঁশ ফিরলে সে তাড়াতাড়ি করে হাতটা সরিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে।তখন শুভ্র পিছন থেকে বলে-জানি আমি তোমার সঙ্গে অন্যায় করেছি।কিন্তু আমার পাশে দাঁড়াতেও কী তোমার ঘেন্না করে।
শ্রীয়াঙ্কা পিছনে ফিরে তাকায় না।
কী হল।আমি কী এতোই ঘেন্নার পাত্র।-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে ফিরে বলে-প্লিজ ভালো লাগছে না।এসব কথা থাক।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে বলে-কেন শ্রী।কেন থাকবে এসব কথা।তুমি কেন আমার কথা শুনতে চাও না।কেন শ্রী বল।আমারও তো কিছু বলার আছে।
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারে শুভ্র তাকে শ্রী বলে ডাকছে।
কি হল বল-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা একটু হাসে।শুভ্র তাকিয়ে থাকে।
কী শুনব।সেই তো একি কথা বলবেন যে আপনি আমাকে ভালবাসেন।তাই তো----শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র চুপ করে থাকে।
বিশ্বাস করুন।আমি আর ভালোবাসাতে বিশ্বাস করি না।ভীষণ কষ্ট হয় এই ভালোবাসার নাম শুনলে।-শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র-আমি জানি শ্রী কিন্তু----
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথাকে শেষ করতে দেয় না।বলে-আমাকে শ্রী নামে ডাকবেন না।আমার ভালো লাগে না।ওই নামে ডাকার অধিকার আপনার নেই।
শুভ্র বলে-একদিন তুমিই বলেছিলে যে ওই নামে ডাকতে।কী বলনি?
ভুল করেছিলাম।তাছাড়া সেই ভুল আমি করব না।আমি আর আঘাত সহ্য করতে পারব না।জীবনের সেই একটা ভুল আমার জীবনকে যে ওলট পালট করে দিয়েছে।আপনি সেদিন ঠিকই বলেছিলেন-শ্রীয়াঙ্কা 
শুভ্র দেখতে পায় শ্রীয়াঙ্কার চোখে জল।শুভ্র কিছু বলতে যাবে শ্রীয়াঙ্কা চলে যায়।শুভ্র দুরের দিকে তাকিয়ে থাকে।কিছু পরে সে নীচে নেমে আসে।তার অফিস আছে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা এখানে থাকবে কাল বাড়ি যাবে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে আনতে আসার কথা বললে শ্রীয়াঙ্কা না করে।
শুভ্র চলে যাবে কিন্তু দেখে শ্রীয়াঙ্কা ভীষণ চুপ করে আছে।
শুভ্র বেড়িয়ে পরে অফিসের দিকে।আর শ্রীয়াঙ্কা ঘরে এসে চুপ  করে বসে থাকে।শুভ্র অফিসে গেলেও তার মন যেন অশান্ত হয়ে আছে।সকালের কথাগুলো আর শ্রীয়াঙ্কার সেই মুখ যতবার মনে পরছে ততবার তার বুকের ভিতর কষ্ট হচ্ছে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা বাড়িতে থাকলেও চুপ করেই থাকে।কারোর সাথে কথা বলে না।রাতে সে ঠিক মত ঘুমাতে পারে না।পরদিন সন্ধ্যাতে সে শুভ্রর বাড়িতে চলে আসে।
শ্রীয়াঙ্কা এসে দেখে শুভ্র কিচেনে কী করছে।শ্রীয়াঙ্কাকে  দেখে সে ভীষণ খুশি হয়।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর চোখে চোখ পড়তেই ঘরে চলে আসে।
রাতে শুভ্র ডিনার তৈরি করে এসে শ্রীয়াঙ্কাকে ডাকতে এসে দেখে শ্রীয়াঙ্কা জানলার কাছে দাঁড়িয়ে আছে।শুভ্র কিছু না বলে চলে যাচ্ছে তখন শ্রীয়াঙ্কা বলে-আমি কিছু খাব না।আপনি খেয়ে নিন।
শুভ্র কিছু না বলে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা নিজের মত বিছানা করে শুয়ে পরে।শুভ্রও সেই রাতে না খেয়েই শোয়।
সকালে শ্রীয়াঙ্কা দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে।সে তাড়াতাড়ি করে ফ্রেশ হয়ে নিজের জন্য খাবার তৈরি করতে কিচেনে আসতে যাচ্ছে।তখন শুনতে পায় শুভ্র কার সাথে যেন কথা বলছে।
কিচেনের সামনে এসে দেখে একটি বৌকে শুভ্র কী বলছে।শ্রীয়াঙ্কা দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে।
বৌটি বলে-আচ্ছা দাদাবাবু,আমি কিছু খুঁজে না পেলে আপনাকে ডাকব।
শুভ্র-ঠিক আছে।
বৌটি কিচেনে চলে যায়।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা দাঁড়িয়ে আছে।কাছে এসে বলে-উনি এখন থেকে রান্না আর বাড়ির অন্যান কাজ করে দিয়ে যাবেন।আজ তুমি কী খেতে চাও ওনাকে বলে দিতে পার।
এই বলে শুভ্র চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা কিচেনে যায়।বৌটি শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে পেয়ে বলে-আরে বৌদি মনি,তুমি এসে গেছ।
শ্রীয়াঙ্কা একটু হাসে।
আচ্ছা,বৌদি মনি তুমি কী খাবে বল?-বৌটি
তুমি যা বানাবে।-শ্রীয়াঙ্কা
আমি যা বানাবো!কিন্তু দাদাবাবু বলে গেলেন তুমি যেটা খেতে চাইবে সেটা বানাতে উনিও তাই খাবেন।উনি নিজের জন্য আলাদা কিছু তো বললেন না।-বৌটি
শ্রীয়াঙ্কা অবাক হয়ে যায়।কিন্তু কিছু বলে না।
বৌদিমনি তোমাদের তো নতুন বিয়ে হয়েছে তাই না?-বৌটি
শ্রীয়াঙ্কা কথা ঘুরিয়ে বলে-আচ্ছা,তোমার নাম কী?
বৌটি হেসে বলে-নাম নিয়ে কী হবে?
আমি তোমাকে তো কিছু নামে ডাকব।নাম না বললে ডাকব কী দিয়ে?-শ্রীয়াঙ্কা
আমাকে তুমি রমা দি বলে ডেকো।-বৌটি বলে।
আচ্ছা,রমা দি তোমাকে কী উনি আনলেন?-শ্রীয়াঙ্কা অনেক সঙ্কোচ নিয়ে প্রশ্নটা করে।
হ্যাঁ,বৌদিমনি।আমি পাশের বাড়ি কাজ করি।ওখানকার বৌদি বলল যে এই দাদাবাবু একজনকে খুঁজছেন।কাল ওনাকে বলেছিলেন।তাই আমি শুনে----রমা 
ওও-শ্রীয়াঙ্কা
শ্রীয়াঙ্কার মনে হয় তার জন্যই কী শুভ্র রমাকে এনেছে।নাকি এমনই।এদিকে শুভ্র বুঝতে পেরেছিল শ্রীয়াঙ্কা তার হাতের খাবার খাবে না।তাই জন্য বাড়ি ফিরে এই ব্যাবস্থা করে।
এদিকে রমার খাবার তৈরি হয়ে যায়।শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কা দুজনেই বার হওয়ার জন্য রেডি হয়ে যায়।রমা চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা আজ তাড়াতাড়ি বার হবে তার একটু আগেই কলেজে যেতে হবে।তাড়াতাড়ি করে বার হয়েছে কিন্তু একটাও গাড়ি পায় না।শুভ্রও বেড়িয়ে পরে।দেখে শ্রীয়াঙ্কা দাঁড়িয়ে আছে আর বারবার হাতেরঘড়িটা দেখছে।




আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ২০

শ্রীয়াঙ্কা দাঁড়িয়ে আছে আর বারবার হাতের ঘড়িটা দেখছে।শুভ্রও দাঁড়িয়ে থাকে।তারও দেরি হয়ে যাচ্ছে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা দাঁড়িয়ে সে যেতেও পাচ্ছে না।শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে সে বুঝতে পারে তার আজ তাড়াতাড়ি যেতে হবে।কিন্তু একটাও গাড়ি আসছে না।শুভ্র কী করবে বুঝতে পারছে না।তার ক্লাস শুরু হয়ে যাবে এই চিন্তাই সে করে গেছে।অনেকক্ষণ হয়ে যাওয়ার পর যখন গাড়ি আসে না।তখন শুভ্র এগিয়ে আসে।
তোমার দেরি হয়ে যাচ্ছে তাই বলছি----শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথায় শুভ্রর দিকে চাইলে শুভ্র আর কথাটা শেষ করে না।শুভ্রর দেরি হয়ে যাচ্ছে।তাই তার কিছু করার নেই।সে যাওয়ার জন্য মনঃস্থির করে। শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে একবার তাকিয়ে আবার রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকে।সত্যিই তার দেরি হয়ে যাচ্ছে।কিন্তু কী করবে।আজকের ক্লাসটা খুব গুরুত্বপুর্ণ।না করলে তার অসুবিধা হবে।তাই সব দিক ভেবে সে শুভ্রর দিকে ফেরে।শ্রীয়াঙ্কা দেখে শুভ্র যাওয়ার জন্য রেডি।বাইকে স্টার্ট দেবে।শ্রীয়াঙ্কা ধীর পায়ে এগিয়ে যায়।
আমার একটা দরকারি ক্লাস আছে।না করলে----।তাই বলছি কী----।-শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করে কেটে কেটে কথা বলে।
শুভ্রর বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।কিছুক্ষণ শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকে।
উঠে বস।-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথায় আর দেরি না করে উঠে বসে।তার দেরি হয়ে যাচ্ছে।তাই সে আর দাঁড়িয়ে থাকে না।শ্রীয়াঙ্কা বসলে শুভ্র বাইক স্টার্ট দেয় আর বেড়িয়ে পরে।
দুজনেই চুপচাপ থাকে।অনেকটা রাস্তা আসার পর হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কা বলে-রমাকে হঠাৎ এভাবে কাজে নেওয়া হল কেন?
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কথায় চমকে গেলেও তার বুঝতে অসুবিধা হয় না শ্রীয়াঙ্কা কী বলতে চাইছে।তাই শুভ্র কিছু বলে না।
কী হল,কিছু বলছেন না যে?-শ্রীয়াঙ্কা 
শুভ্র তাও কিছু বলে না।এদিকে ইউনিভার্সিটি এসে যাওয়ায় শুভ্র গাড়ি থামায়।শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারেনি সে এসে পড়েছে।
কী হল থামলেন কেন?-শ্রীয়াঙ্কা
তোমার ইউনিভার্সিটি এসে গেছে।-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা দেখে সত্যিই তো।সে নেমে পরে।কিন্তু সে যাওয়ার সময় আবার বলে-আপনি কিন্তু আমার প্রশ্নের উত্তর দিলেন না।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার চোখের দিকে চেয়ে বলে-কিছু কথা বুঝে নিতে হয়।সব মুখে বলা যায় না।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথায় অবাক হয়ে শুভ্রর দিকে চেয়ে থাকে।এদিকে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে বাইক স্টার্ট দিয়ে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা তাও দাঁড়িয়ে থাকে।শুভ্রর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।তার এক পাও সরে না।
এই কী রে তুই এখানে এমনকরে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?-মনি শ্রীয়াঙ্কাকে বলে।
মনির কথায় শ্রীয়াঙ্কার হুঁশ ফেরে।
ওও তুই।-শ্রীয়াঙ্কা
হ্যাঁ,চল দেরি হয়ে যাচ্ছে।-মনি
হ্যাঁ চল।-শ্রীয়াঙ্কা
দুজনে ক্লাসে চলে যায়।একটা ক্লাস হওয়ার একটা অফ।তাই সবাই যে যার মত গল্প করতে থাকে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে বসে থাকে।যে ক্লাস করার জন্য সে এল সেটাও ঠিক মতো মাথায় ঢুকল না।সারাক্ষণ শুভ্রর বলা কথা ওর মাথায় ঘুরছে।এখনও সে সেটা নিয়েই চিন্তা করছে।
শ্রীয়াঙ্কা ভাবছে কী বলে গেল।কথাটার মানে কী।উফ্ফ ভালো লাগে না।এতো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে কথা সহ্য হয় না।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার মাথা ব্যথা করছে।শরীরটা খারাপ লাগছে।মনে হয় জ্বর আসবে।
এটা তো হওয়ার ছিল।কয়েকদিন মেঝেতে ঘুমিয়েছে  শরীর তো খারাপ করবেই।কারন তার তো অভ্যাস নেই।এদিকে শরীরটা খারাপ করতে থাকলে সে বাড়ি ফিরে আসে।আসার সময় ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ কিনে আনে।বাড়ি এসে ওষুধ খেয়ে সে ঘুমিয়ে পরে।শুভ্র বাড়ি ফিরে আসে।ঘরে এসে দেখে শ্রীয়াঙ্কা ঘুমিয়ে।সে ডাকে না চলে যায়।
এদিকে অনেকটা সময় হয়ে গেলে শ্রীয়াঙ্কার সাড়া না পেয়ে সে ঘরে আসে।শ্রীয়াঙ্কার কাছে আসে।তখনও শ্রীয়াঙ্কা ঘুমিয়ে।হঠাৎ সে দেখতে পায় খাটের পাশে রাখা টেবিলে ওষুধ।সে ওষুধগুলো উঠিয়ে দেখতে থাকে।প্রেসক্রিপশান দেখে সে সব বুঝতে পারে।শুভ্রর চিন্তা হয়।সে শ্রীয়াঙ্কার গায়ে হাত দিতে দেখতে যায়।কিন্তু হাত দেয় না।দিতে গিয়েও সরিয়ে নেয় আর শ্রীয়াঙ্কাকে ডাকতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা,তুমি ঠিক আছো।-শুভ্র
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা ঘুম থেকে ওঠে না।শুভ্রর ভয় করে।
এই শ্রীয়াঙ্কা কী হল কথা বলছ না কেন?-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কার ঘুম ভাঙ্গে।সে তাকায়।শুভ্রকে দেখে আস্তে আস্তে উঠে বসে।এদিকে একটু মাথা ধরেছে।
তোমার শরীর খারাপ।আমাকে বলনি কেন?-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে চায়।
আমি ঠিক আছি।-এই বলে শ্রীয়াঙ্কা কপাল টিপতে থাকে।
শুভ্র দেখে বলে-তুমি ঠিক আছো?
হুম,ঠিক আছি।আপনি যান।-শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে না ফিরেই কথা বলে।তার ভীষণ মাথা ব্যথা করছে কথা বলার ইচ্ছা নেই।
শুভ্র বুঝতে পারে উঠে চলে যায়।এদিকে রমাও এসে গেছে রাতের রান্না করতে।
শুভ্র গিয়ে বলে-রমাদি এককাপ ভালো করে আদা দিয়ে চা করে দাও।
রমা-আচ্ছা দাদা বাবু।আমি করে আপনাকে দিয়ে আসব।
শুভ্র-না,না আমাকে নয়।শ্রীয়াঙ্কাকে দিয়ে এসো।ও এইদিকের ঘরে আছে।
রমা-আচ্ছা
শুভ্র চলে যায়।শুভ্র স্টাডি রুমে যায় আর যাওয়ার সময় দরজার বাইরে দিয়ে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।শ্রীয়াঙ্কা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে।সে কিছুক্ষণ তাকিয়ে চলে যায়।
রমা চা করে শ্রীয়াঙ্কাকে দিতে আসে।শ্রীয়াঙ্কা মাথাতে হাত দিয়ে বসেছিল।
বৌদিমনি।-রমা
রমার কথায় শ্রীয়াঙ্কা তাকায়।
কিছু বলবে রমা দি?-শ্রীয়াঙ্কা
তোমার চা।-রমা
আমার!-শ্রীয়াঙ্কা
হুম-এই বলে রমা চায়ের কাপটা এগিয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা ভাবে হয়তো রমা সবার জন্য করেছে।সে চায়ের কাপটা নেয়।
এক চুমুক দিয়েছে তার খুব ভালো লাগে জ্বর মুখে।তার উপর মাথা ব্যথাও করছিল।
খুব ভালো হয়েছে রমাদি।আদা দিয়ে আরো ভালো লাগছে।-শ্রীয়াঙ্কা
রমা হেসে বলে-তোমার ভালো লেগেছে বৌদিমনি।আর আদা তো দাদা----
রমা কথা বলছে এদিকে শ্রীয়াঙ্কার ফোন বেজে ওঠে।শ্রীয়াঙ্কা ফোনটা নিয়ে বলে-রমাদি আমার ফোন----
হ্যাঁ,হ্যাঁ বৌদিমনি তুমি কথা বল।আমি রান্নাটা করে নি।-রমা
শ্রীয়াঙ্কা ফোনটা ধরে।রমা চলে যাচ্ছিল ফিরে এসে বলে-একটা কথা তুমি কী খাবে বৌদিমনি?
শ্রীয়াঙ্কা ফোনটা কানে ধরেই বলে-তুমি একটু স্যুপ বানিয়ে দেবে রমাদি।
রমা-হ্যাঁ
এই বলে রমা চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা কথা বলতে থাকে ফোনে।
হ্যাঁ,রে বল-শ্রীয়াঙ্কা
কিরে কেমন আছিস?-সুপর্ণা
ভালো রে।মাথাটা ব্যথা করছিল কিন্তু এখন অল্প  হচ্ছে-শ্রীয়াঙ্কা 
আচ্ছা,সাবধানে থাকবি।-সুপর্ণা
হুম-শ্রীয়াঙ্কা
শ্রীয়াঙ্কা ফোন রেখে দেয়।শরীরটা একটু ঠিক হলে সে নিজের পড়া পড়তে বসে।কিছুক্ষণ পড়ার পর তার ভালো লাগে না।রেখে দেয় আর বলে-এখন তো পরীক্ষার অনেক দেরি।এতো পড়ে কী হবে।তাই সে শুভ্রর থেকে আনা বইটা বার করে পড়তে থাকে।এদিকে রমাও চলে গেছে।
অনেক রাত হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কার খিদে পায়।সে অনেকক্ষণ কিছু খায়নি।তাই খাওয়ার জন্য কিচেনে যায়।এদিকে শুভ্রও এসে পরে।শ্রীয়াঙ্কা স্যুপ নিয়ে খেতে বসে পরে।শুভ্র দেখতে থাকে।সেও খেতে বসে পরে।
খাওয়া হয়ে গেলে শ্রীয়াঙ্কা ঘরে এসে নীচে বিছানা করতে থাকে।শুভ্র ঘরে সে দেখে শ্রীয়াঙ্কার হাত থেকে বালিশ কেড়ে নেয়।শুভ্রর ব্যবহারে শ্রীয়াঙ্কা অবাক হয়ে যায়।
তোমার কী মাথা খারাপ আছে?-শুভ্র রেগে গিয়ে বলে।
কী সব বলছেন?আমার মাথা খারাপ!মাথা খারাপের আপনি কী দেখলেন?-শ্রীয়াঙ্কা
তোমার না জ্বর,শরীর খারাপ।আর তুমি নীচে বিছানা করছ।-শুভ্র
আমার কিছু হবে না।-এই বলে সে শুভ্রর থেকে বালিশটা কেড়ে নেয়।
শুভ্র রেগে গিয়ে বলে-মরার ইচ্ছা হয়েছে।কথা বললে কেন শোনো না।আমার একটাও কথা কী তুমি শুনবে না।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে চেয়ে দেখে চলে যায়।কিছু বলে না।শুভ্র পথ আটকে দাঁড়ায়।
আজ তুমি খাটে শোবে।-শুভ্র
বলছি তো আমি ঠিক আছি।-শ্রীয়াঙ্কা
না,তুমি নীচে শোবে না।-শুভ্র
কিন্তু----শ্রীয়াঙ্কা
আর একটাও কথা বলবে না।শুধু কথা বলেই যাচ্ছ।-শুভ্র
এদিকে শ্রীয়াঙ্কার ঘুম পাচ্ছে।এতো কথা তার ভালো লাগছে না।সে শুভ্রর পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে।
তুমি আজ নীচে শুতে পারবে না।ওপরে না থাকলে তোমাকে আমি আজ ঘুমাতেই দেব না।-শুভ্র
কী!-শ্রীয়াঙ্কা
হুম,ভেবে দেখ কী করবে?-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা কী করবে ভেবে পায় না।তাই ঠিক করে ওপরেই থাকবে।কিন্তু সে যেতে গিয়েও ফিরে আসে।
আমি ওপরে শোব।আর আপনি পরে কিছু বলবেন না তো?-শ্রীয়াঙ্কা
তোমার এখনও তাই মনে হয়?-শুভ্র
না,মানে বলতেও পারেন।-শ্রীয়াঙ্কা 
আচ্ছা,তোমার শরীর ঠিক হলে তুমি নীচেই শোবে।-শুভ্র
এটা ঠিক।-এই বলে শ্রীয়াঙ্কা গিয়ে শুয়ে পরে।আর শুভ্র নীচে শুয়ে পরে।
সকাল হলে শ্রীয়াঙ্কা আগে উঠে যায়।কিন্তু শুভ্রর উঠতে দেরি হয়।আজ তার শরীরটা খারাপ লাগতে থাকে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা উঠে ফ্রেশ হয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে যায়।রমাও এসে পরে।সে রমার সাথে গল্প করতে থাকে।রমার সাথে গল্প করতে তার খুব ভালো লাগে।
শুভ্র ঘুম থেকে উঠে দেখে দেরি হয়ে গেছে।কিন্তু এতো শরীর খারাপ যে চুপ করে বসে থাকে।বারবার কাশি হতে থাকে।কিন্তু অফিস যেতে দেরি হয়ে যাবে তাই সে রেডি হয়ে চলে আসে।
শুভ্র এসে দেখে শ্রীয়াঙ্কা রমার সাথে হেসে হেসে কথা বলছে।শুভ্রকে দেখে প্রথম রমা।
আরে দাদাবাবু আপনি রেডি হয়ে গেছেন।আমারও হয়ে গেছে।-রমা 
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।
বৌদিমনি তুমি দাদাবাবুকে খেতে দাও।আমার এটা হলে হয়ে যাবে।-রমা
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা কী করবে ভেবে পায় না।কিন্তু রমা আছে।সে প্লেট এনে শুভ্রকে খেতে দেয়।শুভ্র বসে পরে।সে বলতে গিয়েছিল সে নিজেই নিয়ে নেবে।কিন্তু তার আগেই শ্রীয়াঙ্কা এসে গেছে
শ্রীয়াঙ্কা খাবার বেড়ে দিচ্ছে।আর দেখে শুভ্র কেশেই যাচ্ছে।এদিকে রমা চলে যায়।শুভ্র খেতে শুরু করে।কিন্তু হঠাৎ আশিস ফোন করলে সে ফোনটা ধরে।
হ্যাঁ,আশিস দা বল।-শুভ্র
ওদিক থেকে যা বলে তা শুনে শুভ্র খাওয়া ছেড়ে উঠে পরে।
কী সব বলছ?আমরা!-শুভ্র
হ্যাঁ,তোরা আর আমরা।-আশিস 
শুভ্র বুঝতে পারে না কী বলবে।
কিন্তু----।এই ওসব হবে না।আমার ছুটি নেই।-শুভ্র
এই তুই ফোনটা শ্রীয়াঙ্কাকে দে।-আশিস
কিন্তু----শুভ্র 
ফোনটা ওকে দে।-আশিস 
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে ফোনটা এগিয়ে দেয়।
আশিসদা-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা ফোনটা নেয়
হ্যাঁ,বলুন আশিস দা।ভালো আছেন?-শ্রীয়াঙ্কা
হ্যাঁ,ভালো আছি।আর শোনো তোমরা আমরা দার্জিলিং যাচ্ছি।দুদিন পরে ট্রেন।-আশিস দা
কী!-এই বলে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ২১

হ্যাঁ,শোনো আমরা ভালো আছি।আর শোনো তোমরা আর আমরা দার্জিলিং যাচ্ছি।দু দিন পরে ট্রেন।-আশিস 
কী!-এই বলে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।
হুম,বলছি আমরা কাল তোমাদের ওখানে যাচ্ছি।ওখান থেকে একসাথে যাব।শুভ্রকে অফিস থেকে ছুটি নিতে বল।-আশিস 
শ্রীয়াঙ্কার মুখের কথা হারিয়ে যায়।সে চুপ করে গেছে।
হ্যালো,হ্যালো-আশিস 
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করেই আছে।শুভ্র কাছে গিয়ে বলে-ফোনটা দাও।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে ফোনটা দিয়ে দেয়।আর শ্রীয়াঙ্কা চেয়ারে বসে পরে।শুভ্র দেখে ফোনটা কেটে গেছে।
শুভ্র ফোনটা করে বলে-হ্যাঁ,বল আশিস দা 
কাল আমরা ওখানে যাচ্ছি।তুই ছুটে নিয়ে রাখিস।-আশিস 
আমার ছুটি হবে না।-শুভ্র
কেন রে ছুটি হবে না।তুই তো বিয়ের জন্য পাঁচ দিন ছুটি নিয়েছিলিস।সব হবে।-আশিস 
না,আশিস দা সত্যি হবে না।-শুভ্র
তোকে আমি যাবি কী জিজ্ঞাসা করি নি।তুই যাচ্ছিস তাই প্যাকিং শুরু করে দে।-এই বলে আশিস ফোন কেটে  দেয়।
আশিস দা,আশিস দা-শুভ্র
শুভ্র দেখে আশিস ফোন কেটে দিয়েছে।সে আশিসকে ফোন করে কিন্তু আশিস আর ধরে না।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কাকে।সে চুপ করে নীচের দিকে তাকিয়ে আছে।
শুভ্র কাছে গিয়ে বলে-শ্রীয়াঙ্কা
শ্রীয়াঙ্কা মাথা উঁচু করে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে।তারপর উঠে বলে-আমি যাব না।
শুভ্র-আমি জানি।কিন্তু----
শ্রীয়াঙ্কা-কী কিন্তু।আপনি সব জানতেন।
শুভ্র-কী সব বলছ!আমি কী  করে জানব।
শ্রীয়াঙ্কা-আমি ওসব জানি না।আমি যাব না।
শুভ্র-ঠিক আছে।কিন্তু আশিস দা ফোন ধরছে না।
শ্রীয়াঙ্কা-মিথ্যা কথা একদম বলবেন না।
শুভ্র রেগে বলে-শ্রীয়াঙ্কা প্লিজ সবসময় সন্দেহ করা বন্ধ কর।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে থাকে।
এদিকে শুভ্র আবার আশিসকে ফোন করে।আশিস ধরে না।
শুভ্র-আশিস দা ধরছে না।আর আমার অফিসের দেরি হয়ে যাচ্ছে।আমি রাতে এসে ফোন করে বলে দেব।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।
শুভ্র-চিন্তা নেই।তোমাকে আমার সাথে কোথাও যেতে হবে না।জোর করে আমি তোমার সাথে কোনোদিন কিছু করব না।
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।এদিকে শুভ্র বাইক নিয়ে অফিসে যাবে বলে বার হয়ে যায়।সে একবারও জিজ্ঞাসা করেনি শ্রীয়াঙ্কা ইউনিভার্সিটি যাবে কিনা।আসলে শ্রীয়াঙ্কা কথায় শুভ্রর রাগ হয়েছে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা আজ বার হবে না স্থির করেছিল। খেয়ে দেয়ে নিয়ে ঘরে চলে আসে।কিন্তু বাড়িতে একা কী করবে সে ভেবে পাচ্ছে না।তাই শুভ্রর স্টাডি রুমে যায়।আর বইগুলো দেখতে থাকে।তারপর একটা বই নিয়ে চেয়ারে বসে পরে।আরাম করে চেয়ারে বসে সে বই পড়তে থাকে।
হঠাৎ সকালের শুভ্রর বলা কথাটা মনে পড়ে যায়।
"চিন্তা নেই।তোমাকে আমার সাথে কোথাও যেতে   হবে না।জোর করে আমি তোমার সাথে কোনোদিন কিছু করব না।"
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথা ভাবতে থাকে।বইটা তার সামনেই খোলা।পাখার হাওয়ায় বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টে যেতে থাকে।কিন্তু তার কোনো হুঁশ নেই।হঠাৎ ফোনের আওয়াজে তার হুঁশ ফেরে।ফোনটা সুপর্ণা করেছে।আজ সে কেন যায়নি তা জানার জন্য।
শ্রীয়াঙ্কা-শরীরটা খুব ভালো নেই তাই যায়নি।
সুপর্ণা-সাবধানে থাক।
ফোন কেটে যায়।এবার শ্রীয়াঙ্কা বইয়ের পাতায় চোখ রাখে।কিন্তু সে যেখানে পড়ছিল সেই পৃষ্ঠা খুঁজে বার করে।আর বলে-উফ্ফ পাখাটার জন্যই সব হয়েছে।
এই বলে সে পাখাটা বন্ধ করে দেয়।পাখাও যেন শ্রীয়াঙ্কার কথায় মনে মনে হাসে আর বলে-পাগলী, তোর মনটাই তো বইয়ের উপর নেই।আর আমার উপর সব দোষ!
আর অন্যদিকে শুভ্র অফিস গেলেও সময় পেলেই আশিসদা কে ফোন করে।অনেকবার করার পর একবার আশিস দা ধরে কিন্তু শুভ্রর কোনো কথাই শোনে না।তার এক কথা বিয়ের জন্য তো ছুটি নিস নি।তাই ছুটি হয়ে যাবে।এই বলে সে ফোন রেখে দেয়।শুভ্রর ফোন আর ধরে না।এদিকে শুভ্রর শরীরটা খারাপ।সে বাড়ি আসার সময় ওষুধ কিনে আনে।
শ্রীয়াঙ্কা এদিকে সারাদিন বই পড়ে,টি ভি দেখে দিন কাটিয়ে দেয়।আর সকালের কথা মনে পড়লে মনে মনে বলে-আমি যাব না।
সন্ধ্যা হয়ে আসে।শ্রীয়াঙ্কা জানলা দিয়ে দেখে আকাশের অবস্থা খুব খারাপ।তার একা থাকতে ভয় করে।এদিকে মনে মনে বলতে থাকে-এখনও আসার নাম নেই।অন্য দিন তো চলে আসে।আজ জানে আমি একা বাড়ি আছি।তাই যাতে ভয় পাই তাই জন্য এতো দেরি করছেন।
এদিকে শুভ্রর আস্তে দেরি হয়।এদিকে রমাও এসে গেছে।শ্রীয়াঙ্কা ওর সাথে গল্প করেছে।শুভ্র এসে ঘরে চলে আসে।শ্রীয়াঙ্কা তা দেখে।এদিকে শুভ্র চেঞ্জ করে এসে রমাকে আদা দিয়ে চা করতে বলে শুভ্র ঘরে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা দেখে শুভ্র তার দিকে তাকাচ্ছে না।এদিকে রমা চা করে বলে-বৌদিমনি চাটা দিয়ে এসো।
শ্রীয়াঙ্কা পরে মহা বিপদে।সকালে খাবার বেড়ে দেওয়া আবার এখন চা।
রমা-কী হল বৌদিমনি?নাও চাটা।
শ্রীয়াঙ্কা কী করবে।বলে-হ্যাঁ,দাও।
শ্রীয়াঙ্কা চায়ের কাপ নিয়ে ঘরের দিকে এগিয়ে যায়।ঘরের কাছাকাছাকাছি এসে  শুভ্রর গলা শুনতে পায়-হ্যাঁ,ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম।কিন্তু তিনি তখনও বসেন নি।আর রাত হয়ে যাচ্ছে তাই বলে ওষুধ কিনে আনলাম।
শুভ্র চুপ।ওদিক থেকে হয়তো কিছু বলছে।
আবার শুভ্র বলে-না রে ,তেমন কিছু হয়নি।বললাম না অফিসে শরীরটা একটু খারাপ।হুম,একটু কাশি হচ্ছে।আর জ্বর জ্বর মত।ঠিক হয়ে যাবে।
শুভ্র-আচ্ছা ঠিক আছে রাখছি।
শুভ্র ফোন রেখে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা উঁকি মেরে দেখে শুভ্র ওষুধের পাতা থেকে ওষুধ নিয়ে খেল।আর সত্যিই সে খুব কাশছে।
শ্রীয়াঙ্কা ঘরে ঢোকে।
আপনার চা।-শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র তাকিয়ে বলে-তুমি আনতে গেলে কেন?আমি তো যাচ্ছিলাম।
শ্রীয়াঙ্কা চায়ের কাপ টা এগিয়ে দেয়।শুভ্র নিয়ে অফিসের একটা কাগজ দেখতে থাকে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা দাঁড়িয়ে থাকে।শুভ্র লক্ষ্য করে বলে-আমি আশিসদাকে ফোন করে বলেছি।কিন্তু আশিস দা ফোনে কোনো কথা শুনছে না।ওরা কাল আসবে এখানে আমি তখন কিছু বলে মানা করে দেব।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে থাকে।সে এটা শোনার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল না।তার অন্য কিছু বোলার ছিল।কিন্তু কী বলবে সেটাই তার মনে পড়ে না।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে বলে-ঠিক আছে তো।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়িয়ে চলে যায়।বাইরে এসে সে ভাবতে থাকে আমি কী জন্য ওরকম ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলাম।শুধু কী ওই কথা শোনার জন্য।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে-আমার আবার ওনাকে কী বলার থাকবে।ওই কথাটাই তো আমি জিজ্ঞাসা করতে চেয়েছিলাম।
এদিকে রমা চলে যায়।শুভ্র অন্য ঘরে আর শ্রীয়াঙ্কা অন্য ঘরে।শ্রীয়াঙ্কা নিজের পড়া করছে।রাত হলে শ্রীয়াঙ্কা আগে গিয়ে খেতে বসে যায়।কিছুক্ষণের মধ্যে শুভ্র চলে আসে।কিন্তু সে খেতে বসে কিছু খেতে পারে না।শরীরটা খারাপ হওয়ার জন্য সে খেতে পারে না।উঠে যায়।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখে কিন্তু কিছু বলে না।  শ্রীয়াঙ্কা দেখে শুভ্রকে তার শরীর যে খারাপ তা চোখ মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে।
শুভ্র আগেই ঘরে চলে এসেছে।শ্রীয়াঙ্কা এসে দেখে শুভ্র মেঝেতে বিছানা করছে।শ্রীয়াঙ্কা এগিয়ে এসে বলে-আপনি আজ ওপরে থাকুন ।আমি নীচে শুয়ে পড়ছি।
শুভ্র বুঝতে না পেরে বলে-কেন?
শ্রীয়াঙ্কা অন্য দিকে ফিরে বলে-কাল যে কারনে আপনি বলেছিলেন আমি সেই কারনেই বলছি।
শুভ্র বুঝতে পেরে বলে-না ঠিক আছে।দরকার নেই।আমি ঠিক আছি।তুমি ওপরে শুয়ে পড়।
শ্রীয়াঙ্কা-শরীরটা আপনার খারাপ তাই আপনি ওপরে থাকবেন।
শুভ্র শুনেও না শোনার ভান করে চলে যায়।
কী হল শুনতে পান নি।শরীর খারাপ হলে তখন কী হবে?তখন তো আমার নামেই দোষ।-শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থেকে মনে মনে বলে-তুমি কিছু বোঝো না শ্রী।আমি যে তোমাকে কত ভালোবাসি সেটা তুমি জানোই না।জানি না কবে বুঝবে।
শ্রীয়াঙ্কা-কী হল?
শ্রীয়াঙ্কার কথায় শুভ্রর হুঁশ ফেরে আর বলে-আমার কিছু হবে না।তোমার শরীর খারাপ তুমি ওপরে শোবে।
শ্রীয়াঙ্কা-আমি ঠিক আছি।আপনি ওপরে থাকুন।
শুভ্র মহাবিপদে পড়েছে।সে জানে শ্রীয়াঙ্কার শরীর এখনও অতটা ঠিক হয় নি।নীচে থাকলে আরো খারাপ হবে।কিন্তু এ মেয়ে তো শুনছে না।
শুভ্র-আচ্ছা ঠিক আছে।এক কাজ করি।তোমার শরীর খারাপ তুমিও নীচে শুতে পারবে না।আর আমাকেও দিচ্ছ না তাই তুমি এই ঘরে খাটে থাক আর আমি অন্য ঘরে।
শ্রীয়াঙ্কা-কী!না এ হবে না।আমি একা।
এই বলে সে চারিদিকে তাকিয়ে ঢোক গেলে।
তারপর বলে-আমার কিছু হবে না।আমি নীচেই থাকব।
শুভ্র-কিন্তু আমি ওপরে থাকব না।
শ্রীয়াঙ্কা-কেন এত আমার খেয়াল রাখার অভিনয় করছেন।
শুভ্র কিছু বলে না।নীচে বিছানা করতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা হঠাৎ বলে-আচ্ছা,এক কাজ করলে হয়।দুজনের যখন শরীর খারাপ।তখন দুজনে খাটে থাকি।আমি একদিকে আর আপনি একদিকে।
শুভ্র নীচে শুয়েই পড়ছিল।শ্রীয়াঙ্কার কথা শুনে উঠে দাঁড়ায়।শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা-এমন করে কী দেখছেন।অন্য কিছু ভাবছেন নাকি।উল্টো পাল্টা চিন্তা মাথাতে আনবেন না।নিজেদের ভালোর জন্য বলেছি।আর মাঝখানে বালিশ রেখে দেওয়া হবে।আপনি এপারে আসবেন না আর আমি ও যাব না।
শুভ্র চুপ করে শোনে।
শ্রীয়াঙ্কা-কী রাজি?
শুভ্র মনে মনে ভাবে সে তো তাদের সম্পর্কটা ঠিক করতে চায়।আর যেখানে শ্রীয়াঙ্কা অজান্তেই অল্প এগিয়েছে সে কী করে না বলবে।
শ্রীয়াঙ্কা-কী হল?
শুভ্র-হুম,ঠিক আছে।
শ্রীয়াঙ্কা-কিন্তু একটা কথা----
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কা কথা শেষ করতে না দিয়ে বলে-জানি,চিন্তা কর না।আমি কখনও তোমার দিকে যাব না।এইটুকু বিশ্বাস আমি এই কয়েকদিনে অর্জন করেছি।কী তাই তো।
এই বলে শুভ্র নীচের বিছানা তুলতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।শুভ্রর বলা কথা এখন তাকে ভাবায়।তারপর সে খাটের কাছে গিয়ে একটি পাশ বালিশকে মাঝখানে রেখে শুয়ে পরে।শুভ্র আড়ে আড়ে দেখতে থাকে।সেও এসে অন্য দিকে ফিরে শুয়ে পরে।দুজনের চোখে ঘুম নেই।দুজনের বুকের মধ্যে তোলপার হতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কার কেন হয় সে বুঝতে পারে না।সে উঠে জল খায়।আবার শুয়ে পরে।
শুভ্র চুপ করে শুয়ে থাকে আর ভাবে-কাল যে কী হবে কে জানে?
দুজনে ঘুমিয়ে পরে।সকালে শুভ্রর আগে ঘুম ভাঙ্গে সে শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে।দুজন একদিকে।শুভ্র কিছুক্ষণ শ্রীয়াঙ্কার ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।হঠাৎ সে তার হাতের উপর কিছু অনুভব করে আর চেয়ে দেখে বালিশের উপর তার হাত আর তার হাতের উপর শ্রীয়াঙ্কা হাত রেখেছে।শুভ্র তাকিয়ে দেখে।হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কার হাতে একটা আংটি দেখতে পায়।আংটি তার চেনা চেনা লাগে।শুভ্রর মনে পড়ে এই আংটিটা শুভ্রর বাড়ি থেকে আশীর্বাদে শ্রীয়াঙ্কাকে দেওয়া হয়েছে।শুভ্র দেখতে না চাইলেও শুভ্রর মা মমতা দেবী জোর করে দেখিয়েছেন।বলেছিলেন নিজে তো গেলিনা কিনতে কিন্তু দেখতে কেমন হয়েছে সেটা তো বল।শুভ্র অনিচ্ছার সাথে হাতে নিয়ে বলেছিল ভালো।
শুভ্র দেখে আর ভাবে কী করে জানব এই আংটি আমি তোমার আঙ্গুলে দেখব।
শুভ্র আস্তে আস্তে শ্রীয়াঙ্কার হাতটা ধরে নিজের হাতটা সরিয়ে নিয়ে আবার শ্রীয়াঙ্কার হাতটা বালিশে রেখে দিয়ে চলে যায়।ফ্রেশ হয়ে নীচে এসে নিজের জন্য চা করে খায়।খবরের কাগজটা নিয়ে পড়তে থাকে।আজ রমা এখনও আসে নি।শুভ্র ঘড়ি দেখতে থাকে।এদিকে পাশের বাড়ি থেকে একজন আসে।যাদের বাড়িতে রমা কাজ করে।তিনি এসে বলে  যান রমার বাড়িতে অসুবিধার কারনে সে আজ আসবে না।
শুভ্র তাই নিজেই কিচেনে গিয়ে রান্না শুরু করে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা ঘুম থেকে ফ্রেশ হয়ে উঠে আসে।সে রান্নাঘরের দিকে না তাকিয়ে চেয়ারে বসতে বসতে বলে-রমাদি প্লিজ এক কাপ চা করে দেবে।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে পায়।সে কিছু বলে না।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা পেপারটা নিয়ে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখতে থাকে।আর নিজেই নিজেই বলে-কী সব খবর,শুধু খুনখারাপি।উফ্ফ এসব ভালো লাগে।দেশের অবস্থা জানো রমাদি একদম ভালো না।
এদিকে শুভ্র দেখতে থাকে শ্রীয়াঙ্কা এই মন খুলে কথা বলা।এদিকে চা হয়ে যায়।সে চাটা নিয়ে এগিয়ে এসে বলে-তোমার চা।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে ওঠে।
আপনি!-শ্রীয়াঙ্কা
আজ রমাদি আসবে না।-এই বলে শুভ্র চাটা টেবিলে রেখে চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।তারপর বলে-আপনি করতে গেলেন কেন?আমিই তো করে নিতাম।
শুভ্র একবার শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে আবার নিজের কাজ করতে থাকে আর বলে-ভালো না লাগলে খেও না।
শ্রীয়াঙ্কা আর কিছু বলে না।কিচেনের দিকে এগিয়ে এসে বলে-আমার খাবারটা আমি করে নেব।আমি বাড়িতে থাকব।তাই----
শুভ্র-হুম
শ্রীয়াঙ্কা চায়ের কাপটা নিয়ে ঘরে চলে যায়।ঘরে গিয়ে নিজেই নিজেই বলতে থাকে-সারাক্ষণ এমন ভাব করেন যেন উনি সব পারেন।যত্তসব।কী ভাবে নিজেকে।এমন ভাব করেন যেন আমার কত খেয়াল রাখেন,আমাকে কত ভালো----
আর বলতে পারে না।তার মনে পড়ে যায় শুভ্রর বলা কথাগুলো।এখনও যেন তার কানে বাজে।দুচোখ জলে ভরে আসে।
না,না,আমি কী ভাবছি।উনি কাউকে ভালোবাসতেই পারে না।-এই বলে সে তার হাত থেকে চায়ের কাপ টা রেখে দেয়।শুভ্রর উপর রাগটা সে শুভ্রর করা চায়ের উপর দেখায়।
শ্রীয়াঙ্কা ঘর থেকে বার হয় না।এদিকে শুভ্র অফিসে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা নিজের ঘরেই চুপ করে বসে থাকে।বেলা বাড়লে নিজের জন্য রান্না করে।যা মুখে দাওয়া খুবই কষ্টকর।কিন্তু তা সে খেয়ে নেয়।
এদিকে শুভ্র অফিসে এসে আশিসকে ফোন করে।কিন্তু ফোনে পায় না।কী  করবে ভেবে পায় না।এদিকে অফিস ছুটি হয়ে যায়।শুভ্র বাড়ির দিকে রওনা হয়।বাড়িতে এসে সে দেখে আশিস আর নীলিমা দাঁড়িয়ে।
শুভ্রকে দেখে আশিস বলে-কী রে তোর কথাই জিজ্ঞাসা করছিলাম।
শুভ্র-তোরা?
আশিস-এখনই তো এলাম।
শুভ্র ভুলেই গিয়েছিল আজ আশিস আসবে।সে শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে থাকে সে নীলিমার সাথে কথা বলছে।
কী রে প্যাকিং শুরু করেছিস?-আশিস 
না,মানে----শুভ্র
কী রে শুধু মানে মানে করিস।-আশিস 
আমার ছুটি নেই।তোমরা ঘুরে এসো।আমরা যাব না।-শুভ্র
নীলিমা শুনে এগিয়ে এসে বলে-কেন এমন করছ শুভ্রদা।শুধু কাজ কাজ।ওসব তো পরেও হবে।
শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা তার দিকেই তাকিয়ে।
কিন্তু----শুভ্র
এই তুই চুপ কর।-এই বলে আশিস শ্রীয়াঙ্কার দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে-তুমি রাজি তো?তারপরের টা আমি দেখে নেব।শুধু কাজ,জীবনে পড়া আর কেরিয়ার ছাড়া আর কিছুই দেখল না।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ।নীলিমা শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে বলে-দাদাই হয়তো যাবে না বলেছে তাই বৌদি কিছু বলতে পারছে না।
আশিস-এই ব্যাপার।
আশিস শুভ্রকে বলে-কাল গিয়ে ছুটি নিয়ে নে।আজ আমরা কেনাকাটা করতে যাব।
শুভ্র-কিন্তু----
আশিস-প্লিজ আর না করিস না।
শুভ্র চুপ করে যায়।
আশিস-যা ফ্রেশ হয়ে আয়।আমরা অপেক্ষা করছি।
শুভ্র-আমি কিছু কিনব না।
আশিস-আবার এক কথা।
শুভ্র আর কিছু বলে না।শুভ্র একবার শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে চলে যায়।শুভ্র রেডি হতে যায়।শ্রীয়াঙ্কাও ঘরে আসে।আশিস আর নীলিমাকে অন্য ঘরে থাকতে দেয়।শুভ্র ওয়াশরুম থেকে বার হয়ে দেখে শ্রীয়াঙ্কা ঘরে।শুভ্র কিছু বলতে যাবে তার আগেই শ্রীয়াঙ্কা ওয়াশরুমে চলে যায়।
শুভ্র রেডি হয়ে যায়।আর ভাবতে থাকে শ্রীয়াঙ্কাকে কী বলবে।আর ওই কী ভাবছে।এদিকে আশিস বাইরে থেকে ওদের ডাকতে থাকে।শুভ্র শুনতে পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।
আশিস আর নীলিমা রেডি হয়ে গেছে।
নীলিমা-শ্রীয়াঙ্কা কোথায়?
শুভ্র-ও----
শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা আসছে।একটা সাদা আর নীল রংয়ের শাড়ি পড়েছে।শুভ্র তাকিয়ে দেখতে থাকে।মনে মনে বলে-খুব সুন্দর লাগছে তোমাকে শ্রী।
নীলিমা শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে পেয়ে বলে-তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।
শ্রীয়াঙ্কা হেসে বলে-তোমাকেও
নীলিমা হাসে।
সবাই বেরিয়ে পরে।দার্জিলিং ঘুরতে যাওয়ার জন্য শপিং।এদিকে আশিস আর নীলিমা কেনাকাটা করলেও শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে দাঁড়িয়ে।
নীলিমা-তুমি কিছু কিনবে না।
শ্রীয়াঙ্কা-না আমি কিছু নেব না।
নীলিমা-কেন?
শ্রীয়াঙ্কা-তেমন কিছু নয়।আমার কিছু কিনতে লাগবে না।
আশিস এগিয়ে এসে বলে-কী হল তোমরা দাঁড়িয়ে চল।
নীলিমা-দেখ না শ্রীয়াঙ্কা কিছু কিনতে চাইছে না।আমরা কেনাকাটা করছি আর ওরা শুধু শুধু দাঁড়িয়ে।
আমার খুব খারাপ লাগছে।
শ্রীয়াঙ্কা-না,তোমরা কেনাকাটা কর।আমি দেখব।
আশিস শুনে শুভ্রর কাছে গিয়ে বলে-তুই কোনোদিন কিছু বুঝলি না।
শুভ্র-কেন?
আশিস-আচ্ছা ও কী বলবে ও কিনতে চায়।কী রে তুই।কয়েকদিন তো হল বিয়ের এখনও তোদের এতো লজ্জা।
শুভ্র-কী সব বলছ।
আশিস-ঠিকই।আমরা আছি তাই তোরা এতো দূরত্বে দাঁড়িয়ে।
শুভ্র-তেমন কিছু নয়।
আশিস-তাহলে পয়সা বাঁচাছিস?
এদিকে নীলিমা শ্রীয়াঙ্কাকে নিয়ে ওদের কাছে আসে।
নীলিমা হঠাৎ একটা লাল সোয়েটার দেখিয়ে বলে-বৌদি তোমাকে ওটা ভালো মানাবে।
শ্রীয়াঙ্কা হাসে।
আশিস-এবার তো পয়সা বার কর।তুই এতো কিপটে।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকাতেই দুজন দুজনের চোখে চোখ পড়ে যায়।
শুভ্র কী বলবে বুঝতে পারে না।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে বলে-তোমার কী পছন্দ তাহলে----
শুভ্রর কথা শুনে নীলিমা আর আশিস হাসে।
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারছে সে কিছু না বললে সবাই খারাপ ভাববে।
শ্রীয়াঙ্কা-হুম
শুভ্র অবাক হয়ে যায়।তারপর সোয়েটারটা কিনে নেয়।আর নীলিমা শ্রীয়াঙ্কাকে টানতে টানতে সারা শপিং মল ঘোরায়।আর সে যা কেনে শ্রীয়াঙ্কার জন্যও একটা করে বেছে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা না করলেও শোনে না।এদিকে নীলিমার সাথে কথা বলতে শ্রীয়াঙ্কার খুব ভালো লাগে।
নীলিমা সত্যি খুব ভালো।শ্রীয়াঙ্কার মতোই সে সবার সাথে মিশে যেতে পারে।
এদিকে শপিং করে তারা তাড়াতাড়ি বাড়িতে ফিরে আসে।কারন আকাশের অবস্থা ভালো নয়।বাড়িতে ফিরে আসলে শুভ্র বলে-তোমরা কখন এসেছ আর এখনও কিছুই খাওয়া হল না।আমি এখনই কিছু করছি।
আশিস বলে-না,না,তুই একা কেন আমিও যাচ্ছি।
নীলিমা-হ্যাঁ,চল
শ্রীয়াঙ্কা তখন ওদের কথা শুনছিল।সে বলে-তোমরা কেন?আমি যাচ্ছি।তোমরা রেস্ট নাও।কখন বাড়ি থেকে বেরিয়েছ।
শ্রীয়াঙ্কার কথায় শুভ্র অবাক হয়ে যায়।
নীলিমা-আমাদের কোনো অসুবিধা হবে না।
শ্রীয়াঙ্কা-না,নীলিমাদি তুমি বস।
শুভ্রও বলে-হ্যাঁ,তোমরা বস।
এই বলে শ্রীয়াঙ্কা আগে আর শুভ্র পিছনে পিছনে বেরিয়ে আসে।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ২২

শ্রীয়াঙ্কা আগে আর শুভ্র পিছনে পিছনে বেরিয়ে আসে।
শ্রীয়াঙ্কা কিচেনে ঢুকতে ঢুকতে বলে-ব ব-লছি,কী রান্না হবে,মানে----
শ্রীয়াঙ্কার কিন্তু কিন্তু ভাব দেখে শুভ্র বলে-ফ্রিজে চিকেন আছে।তাই ভাবছি ওরা এসেছে ফ্রাই রাইস আর চিলি চিকেন করলে তো ভালো হয়।
দুজনের মনে কিন্তু কিন্তু ভাব।দুজনেই দুজনকেই যেন জিজ্ঞাসা করছে।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়ে।শুভ্র ফ্রিজ থেকে সব বার করে আনে।সব্জি,চিকেন সব।সব্জি এনে সে কাটার ব্যাবস্থা করতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা-আমি করতে পারি?
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কা একবার দেখে নেয় আর বলে-তুমি পারবে?
শ্রীয়াঙ্কা-হুম
শুভ্র-ঠিক আছে।
এই বলে ওর দিকে সব্জি আর ছুড়ি এগিয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা সবে একটা বিনস কেটেছে।শুভ্র দেখে বলে-ও তো বড় বড়!
শ্রীয়াঙ্কা-কেন?ঠিকই তো আছে।
শুভ্র-না,মানে একটু বড় হয়ে গেছে।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।
শুভ্র-আমি দেখিয়ে দি।
শ্রীয়াঙ্কা সব্জিগুলো এগিয়ে দেয়।শুভ্র কাটতে থাকে আর শ্রীয়াঙ্কা দেখতে থাকে।শুভ্র আড়ে আড়ে দেখতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা-আমি পারব।
শ্রীয়াঙ্কার কথায় শুভ্রর চমকে গিয়ে বলে-হ্যাঁ,হ্যাঁ নাও।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কাছে দিয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা কাটতে থাকে।শুভ্র দেখে মোটামোটি  ঠিকই কাটছে।তাই শুভ্র অন্য কাজ করতে থাকে।সে চালটা বসিয়ে দেয়।আর অন্য ছুড়ি দিয়ে অন্যান্য জিনিস কাটতে থাকে।
শুভ্র মনে মনে ভাবতে থাকে শ্রীয়াঙ্কাকে কী ভাবছে।ঘুরতে যাওয়া নিয়ে।আমি তো কিছু করতে পারলাম না।
শুভ্র কিছু বলতে যাবে।হঠাৎ তার ফোন আসে।সে চলে যায়।অনেক ক্ষণ পর যখন সে কিচেনে ঢুকতে যাবে তখন দেখে শ্রীয়াঙ্কা সব্জি গুলো ফুটন্ত চালের হাঁড়ির মধ্যে দিয়ে দিচ্ছে।
শুভ্র দেখে-এই কী করছ?
শ্রীয়াঙ্কা-কেন?
শুভ্র-সব্জি গুলো ওর মধ্যে ঢেলে দিচ্ছ কেন?
শ্রীয়াঙ্কা-কেন?ফ্রাই রাইসে তো ভাতে সব্জি থাকে।
শুভ্র-তাই বলে এরকম ভাবে?
শ্রীয়াঙ্কা-কেন কী ভুল হয়েছে।
শুভ্র মনে মনে বলে-এতো ফ্রাই রাইসের 'ফ' জানে না।কী মেয়েরে বাবা।
শুভ্র-কিছু ভুল নেই।কিন্তু অন্য রকমে করলে বেশি ভালো লাগবে।
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারে।সে কিছু ভুল করেছে।তাই সে চুপ করে যায়।
শুভ্র-আমি করছি তুমি দেখ।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়ে।শুভ্র রান্না করতে থাকে।আর শ্রীয়াঙ্কা দেখতে থাকে শুভ্রর দিকে।শুভ্র মুখে অল্প ঘাম হচ্চে।আর সে একটা নীল গেঞ্জি পড়েছে।ফর্সা মুখ অল্প অল্প লাল হয়ে উঠেছে।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকেই তাকিয়ে থাকে।
এদিকে শুভ্রর রান্নাও হয়ে যায়।
শুভ্র-হয়ে গেছে।
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।সে দেখে শ্রীয়াঙ্কা তার দিকেই অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে আছে।
শুভ্র-কী হল?
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কার হুঁশ ফেরে।
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যাঁ,কিছু বলছেন?
শুভ্র-রান্না হয়ে গেছে।ওদেরকে ডেকে আনতে হবে।
শ্রীয়াঙ্কা-আমি আনছি।
এই বলে শ্রীয়াঙ্কা চলে যায়।যেতে যেতে ভাবতে থাকে আমার তখন কী হয়েছিল।আর আমি ওরকম ভাবেই বা----
এই সব ভাবতে ভাবতে সে ওদের ঘরে আসে।আর ওদেরকে ডেকে নিয়ে চলে যায়।
খেতে বসে আশিস বলে-মাসি বলেছে তোদের দার্জিলিং থেকে ফিরে একেবারে বাড়ি যেতে।বাড়িতে তোদের প্রতিষ্ঠিত রাধা কৃষ্ণর পূজা আছে।
শুভ্র-একেবারে!
আশিস-হুম আমাদের ফেরার একদিন পরে তো।
শুভ্র-ওও
সবাইয়ের খাওয়া হয়ে যায়।ওরা ওদের ঘরে চলে যায়।আর  শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রও নিজেদের ঘরে চলে আসে
আজ তারা কিন্তু নীচে বিছানা করে না।দুজনেই ওপরে শোয়।তাদের মাথাতে আসেই না নীচে শোওয়ার কথা।
দুজনে দুপাশে মুখ ফিরে।শুভ্র ভাবে শ্রীয়াঙ্কাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে সে কী ভাবছে।সে কী যাবে?নাকি----
শুভ্র অনেককষ্টে বলে-বলছি ওদেরকে তো আমি না করতে পারলাম না।মানে----
শ্রীয়াঙ্কা শুনেও কিছু বলে না।
শুভ্র-আমি অনেক চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু----
শ্রীয়াঙ্কা-থাক ওসব কথা।যা হওয়ার হয়ে গেছে।
শুভ্রর শুনে অবাক লাগে।কিন্তু কিছু বলে না।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা কেন যেতে চাইল সে নিজেই বুঝতে পারছে না।
সকালে আশিস উঠে শুভ্রকে বলে অফিস থেকে ছুটি নিতে।শুভ্রও তাই করে।প্রথম না না করলেও আশিস কোনো কথা শোনে না।আর শ্রীয়াঙ্কা সেদিন ওদের সাথে বাড়িতেই থাকে।শুভ্র অফিস থেকে ছুটি নেয়।রাত্রে ট্রেন।শ্রীয়াঙ্কা নিজের প্যাকিং করে।শুভ্র নিজের প্যাকিং।
রাত ৮ টায় ট্রেন।ট্রেনে উঠে সবাই মিলে কথা বলতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা বেশি নীলিমার সাথে কথা বলে।রাত হলে বাড়ি থেকে আনা খাবার খেয়ে যে যার মত শুয়ে পরে।সকাল ৮ টায় তারা ট্রেন থেকে নামে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশানে।সেখান থেকে গাড়ি বুক করে দার্জিলিং পৌঁছায়।
আশিস হোটেল বুক করে রাখেনি।ভেবেছিল এখানে এসে করে নেবে।কিন্তু অসুবিধাতে পড়ে যায়।কোনো হোটেল ফাঁকা নেই।শেষে একটা হোটেল পায় কিন্তু একটা মাত্র রুম।তখন হোটেলের ম্যানেজার বলে কিছুটা দূরে তাদেরই একটা হোটেল আছে ওখানে একটা রুম ফাঁকা।কিছু করার নেই।তাই আশিস ঠিক করে দুজন দুটো হোটেলেই থাকবে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার মন খারাপ হয়ে যায়।শুভ্র বুঝতে পারে।
আশিস আর নীলিমাকে হোটেলের একজন লোক চলে যায়।আর শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কা এখানেই থেকে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা ঘরে এসে ওয়াশরুমে চলে যায়।শুভ্র  আশিসের সাথে কথা বলে তারা ঠিক মত পৌঁছেছে কিনা।ওরা বলে তারা ঠিক মতই গেছে।আর আশিস বলে তারা ফ্রেশ হয়ে বার হবে।শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কা যেন রেডি থাকে।কারন খাওয়া দাওয়াটা তারা বাইরে করবে।
শ্রীয়াঙ্কা এলে শুভ্র বলে-তুমি রেডি হয়ে নাও।আশিস দা বলল একটু পরেই বার হবে।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।শুধু মাথা নাড়ে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা একটা বেগুনি রংয়ের শাড়ি পড়েছে।আর জানলা দিয়ে বাইরে চোখ রাখে।তার রুম থেকে দার্জিলিংকে সুন্দরভাবেই দেখা যায়।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা দেখতে থাকে বাইরের প্রকৃতিকে।খুব সুন্দর লাগছে তার।সে সেই অপূর্ব দৃশ্য দেখে হারিয়ে যায় নিজের মধ্যেই।দূরে পাহাড় দেখা যাচ্ছে।এদিকে শুভ্রর ফোন বেজে ওঠে।শ্রীয়াঙ্কা চমকে ওঠে।কিন্তু শুভ্র তো নেই।সে ফোনটা ধরে না।ফোনটা একবার বেজে যায়।আবার বেজে উঠলে শ্রীয়াঙ্কা ধরে-হ্যালো
ওপার থেকে-ও তুমি।শুভ্রকে বল আমরা হোটেল থেকে বেরিয়েছি।ওকে এগিয়ে আসতে।
শ্রীয়াঙ্কা-ঠিক আছে।
ফোন কেটে যায়।এদিকে শুভ্র ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে পরে।দেখে শ্রীয়াঙ্কার হাতে তার ফোন।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখে ফোনটা রেখে দেয় আর বলে-আশিস দাদা করেছিল।ওরা বেরিয়েছে।
শুভ্র-চল,আমিও রেডি।
শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কা বেরিয়ে যায়।আশিস ফোন করে শুভ্রকে কোথায় দাঁড়াতে হবে বলে।শুভ্র সেখানে যায়।তারপর তারা একটা রেস্ট্রুরেন্টে লাঞ্চ করে নেয়।আর এদিকে শ্রীয়াঙ্কা নীলিমাকে দেখতে পেয়ে খুব খুশি।কিন্তু হোটেলে ফেরার সময় আবার মন খারাপ হয়ে যায়।নীলিমা বুঝতে পারে আর বলে-আমরা একসাথে থাকলে কত মজা হত।
শ্রীয়াঙ্কা-ঠিক বলছ নীলিমাদি।
তারপর আশিস ঠিক করে তারা বিকালে ঘুরতে যাবে।সেইমত সবাই ফিরে আসে।আর শ্রীয়াঙ্কা এসে ঘরে চুপ করে বসে থাকে।শুভ্রও চুপ।দুজনের মুখে কথা নেই।শুভ্রর একটা ফোন আসলে সে ফোনে কথা বলতে থাকে।আর শ্রীয়াঙ্কা বসে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পরে।শুভ্র এসে শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে।শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে তাকিয়ে থাকে আর বলে-আমাকে তোমার বোঝাতেই হবে।আর আমি----
আর কিছু বলে না শুভ্র।শ্রীয়াঙ্কার পাশে একটা বালিশ রেখে শুয়ে পরে।বিকালে আশিসের ফোনে তাদের ঘুম ভেঙ্গে যায়।
আরে,কত আর ঘুমাবি।-আশিস 
না,না বল।কখন বার হবে?-শুভ্র
তোরা রেডি হো।আমরা ওখানে যাচ্ছি।-আশিস
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পেরে রেডি হতে চলে যায়।এদিকে কিছুক্ষণের মধ্যে আশিস আর নীলিমা চলে আসে।
নীলিমা-ও কোথায়?
শুভ্র-ও রেডি হতে গেছে।
শ্রীয়াঙ্কা এসে নীলিমাকে দেখে খুশি হয়।তারপর শুভ্র রেডি হলে ওরা বেরিয়ে পরে।প্রথম যায় মহাকালের মন্দিরের দিকে।পাইন গাছে ঘেরা সুন্দর একটা জায়গা।সেখান থেকে দার্জিলিং শহরকে অদ্ভুত সুন্দর লাগছে।আশিস আর নীলিমা দুজন পাশাপাশি দাঁড়িয়ে সেই দৃশ্য অনুভব করে।আর শ্রীয়াঙ্কা তো দেখতে দেখতে বলে ফেলে-কী অপরূপ দৃশ্য!
আশিস আর নীলিমা বলে-হ্যাঁ,সত্যি।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।শুভ্র মনে মনে বলে-তোমাকেও খুব সুন্দর লাগছে।
সন্ধ্যা হয়ে আসলে তারা হোটেলে ফিরে আসে।রাত্রে তারা হোটেলে খাবার অর্ডার করে খেয়ে নেয়।
তারপর দিন তারা যায় batasia loap,darjeeling zoo তে গিয়ে শ্রীয়াঙ্কা আর নীলিমা খাঁচার কাছে যেতে ভয় পায়।এতে আশিস হাসে।আর সাথে শুভ্রও।তাতে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।শুভ্র বুঝতে পেরে মাথা নীচু করে নেয়।এদিকে নীলিমা আর শ্রীয়াঙ্কা একসাথে ঘুরতে ঘুরতে অনেক দূর চলে আসে।হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কা নিজের অজান্তেই শুভ্রকে দেখতে না পেয়ে এদিক ওদিক তাকাতে থাকে।
নীলিমা-কাকে খুঁজছ?
শ্রীয়াঙ্কা-না,মানে----
নীলিমা-শুভ্রদা কে তো।ওরা তো ওইখানে।
এই বলে নীলিমা হাত দেখায়।
শ্রীয়াঙ্কা-না,না আমি কাউকে খুঁজছি না।
এই বলে সে নীলিমার থেকে একটু দূরে গিয়ে দাঁড়ায়।আর ভাবে-সত্যি তো আমি কেন ওনাকে খুঁজছিলাম!শ্রীয়াঙ্কা তারপর শুভ্রর দিকে তাকায়।শুভ্র আশিসের কোনো কথায় হাসছে।শ্রীয়াঙ্কা তাকিয়ে থাকে শুভ্রর হাসি মুখের দিকে।
তারপর তারা guru sakya monestry,বোটানিকাল গার্ডেন ঘোরে।তারপর নীলিমার ইচ্ছায় সবাই রোপওয়েতে চাপে।উপর থেকে দার্জিলিং এর সৌন্দর্য দেখে সবাই মোহিত হয়ে যায়।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার ভয় করতে থাকে।সে চোখ বন্ধ করে নেয়।যত উপরে উঠতে থাকে সে তত ভয় পায়।আর পাশে শুভ্রর জ্যাকেটা শক্ত করে ধরে।শুভ্র দেখতে পায় শ্রীয়াঙ্কা তার হাতের উপরে জায়গাতে শক্ত করে ধরেছে।আর জ্যাকেটের হাতের উপর থাকা একটা বোতাম শ্রীয়াঙ্কার হাতের চাপে কেটে যায়।এদিকে নামার সময় হয়ে যায়।
নীলিমা আর আশিস শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে হেসে ফেলে।নামার সময় হলে নীলিমা বলে-বৌদি চোখটা খোলো।সব তো মিস করলে।
শ্রীয়াঙ্কা চোখ খোলে।সে দেখে সে শুভ্রর হাত ধরে।আর একটা বোতাম তার হাতে।যেটা কেটে গেছে।শ্রীয়াঙ্কা সরে বসে।বোতামটা শক্ত করে নিজের মুঠোয় রাখে।বোতামটা যেহেতু ডিজাইং করা,কজের নয়।তাই কোনো অসুবিধা হয় না।এদিকে বোতামটা সে নিজের ব্যাগে রেখে দেয়।
সব জায়গা ঘুরে সেদিন তারা বাইরে ডিনার করে ঘরে ফিরে আসে।
পরদিন সকালেই তারা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চলে যায়।সোনালি রোদে কাঞ্চনজঙ্ঘা যেন এক রূপময়ী নারী।শ্রীয়াঙ্কা আর নীলিমা তো সেই রূপ দেখে নড়তেই চায় না।সেখান থেকে আসার সময় toy train এ চা বাগান আর পাহাড়ি রাস্তা ঘুরে বেরিয়ে তারা ফিরে আসে।শ্রীয়াঙ্কা ট্রয় ট্রেনে উঠে খুব ভালো লাগে।শুভ্র দেখে বুঝতে পারে।এদিকে আশিস আর নীলিমা নিজেদের মধ্যে কথা বলতে থাকে।কারন তাদেরও নতুন বিয়ে হয়েছে।তারাও একসাথে সময় কাটাতে চায়।শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পেরে সরে আসে।শুভ্রর পাশে বসে।
এদিকে তারা বাইরে খাওয়া দাওয়া করে সবুজ চায়ের বাগান ঘুরে দেখতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা চায়ের পাতাতে হাত বোলাতে থাকে।এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসলে তারা হোটেলে ফিরে যেতে চায়।কিন্তু নীলিমা যেতে নারাজ।সে দার্জিলিং মার্কেট ঘুরে দেখতে চায়।সাথে আশিসও।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার শরীরটা খারাপ লাগতে থাকে।সে বলে যাবে না।তাতে নীলিমাও বলে অন্যদিন যাবে।তারা হোটেলে ফিরে আসে।
শ্রীয়াঙ্কা এসে জানলা দিয়ে পাহাড়ি প্রকৃতির নিস্তব্ধ রূপ দেখতে থাকে।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কাকে।কিন্তু কিছু বলতে পারে না।
অনেক সংকোচ করার পর বলে-তোমার কী শরীরটা খারাপ।
শ্রীয়াঙ্কা পিছনে ফিরে বলে-ঠিক আছি আমি।
শুভ্র-তুমি কী খাবে অর্ডার দিয়ে দাও।
শ্রীয়াঙ্কা-না,আমি কিছু খাব না।
শুভ্র আর কিছু বলে না।ঘরে দুজন তাও মুখে কোনো কথা নেই।দুজনই খাটের দুপ্রান্তে বসে।শ্রীয়াঙ্কা নিজের মোবাইল দেখতে থাকে।শুভ্র কিছুক্ষণ শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়।আস্তে আস্তে সে ঘুমিয়ে পরে।শ্রীয়াঙ্কা কিছুক্ষণ পরে দেখে শুভ্র ঘুমিয়ে পড়েছে।কিন্তু চশমা খোলেনি।শ্রীয়াঙ্কা কী করবে ভেবে পায় না।একবার চশমা খুলতে গিয়ে ফিরে আসে।তারপর আবার খুলতে গিয়েও সে খুলতে পারে না।আলোটা না নিভিয়েই শুয়ে পরে।
এদিকে রাতে শুভ্রর ঘুম ভেঙ্গে যায়।সে দেখে শ্রীয়াঙ্কা ঘুমিয়ে পড়েছে।সেও শুয়ে পরে।
তারপর দিন সকালে শ্রীয়াঙ্কা আগে ঘুম থেকে ওঠে।কিন্তু সে নিজেকে যে ভাবে আবিষ্কার করে তাতে সে আঁতকে ওঠে।শুভ্রর গায়ের উপর ওর হাত।আর শুভ্রও তার হাতের উপর হাত রেখেছে।শ্রীয়াঙ্কা কিন্তু নিজেকে ছাড়বার চেষ্টা করে না।সে চুপ করে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে।
শ্রীয়াঙ্কার চোখে জল এসে পরে।মনে মনে বলে-কেন এমন করেছিলেন।আমি যে খুব ভালোবাসতাম,অমনভাবে আমাকে নাই বলতে পারতেন।কেন,কেন করেছিলেন।আর কেন আমি বুঝতে পারছি না আপনার কাছে আছি।কী কারনে,কী জন্য।আমি তো আপনাকে চোখের সামনে দেখতে চাই না।কিন্তু কেন বারবার দু চোখ আপনাকেই খোঁজে।আপনার মুখের দিকে তাকালে আমি আর কিছু বলতে পারি না।ইচ্ছা করে আপনাকে কষ্ট দিতে।কিন্তু কেন পারছি না।
এই বলে সে শুভ্রর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।এতো কাছে যে তারা শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর নিশ্বাস শুনতে পাচ্ছে।এদিকে হঠাৎ শুভ্রর ঘুম ভেঙ্গে যায় সে দেখে শ্রীয়াঙ্কা তার খুব কাছে।দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে।হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কা তাড়াতাড়ি করে উঠে ওয়াশরুমে চলে যায়।শুভ্র কী হল বুঝতেই পারল না।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা ওয়াশরুমে গিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।আর মনে মনে বলে-আমি অমনভাবে কী দেখছিলাম।আর উনি কী ভাবলেন।
এদিকে শুভ্র মনে মনে শ্রীয়াঙ্কার মুখটা মনে করে।আর বলে-ও কী করছিল।
অনেকপরে শ্রীয়াঙ্কা বার হয়।কিন্তু সে শুভ্রর দিকে তাকায় না।সারাক্ষণ মাথা নীচু করেই থাকে।নিজের কেমন অস্বস্তি হতে থাকে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকাবার চেষ্টা করে।কিন্তু সে শ্রীয়াঙ্কার মুখটাই ঠিক মত দেখতে পায় না।
এদিকে শুভ্র সকালের খাবার অর্ডার দেবে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কা কে জিজ্ঞাসা করলেও কিছু উত্তর পায় না।তাই শুভ্র অর্ডার দেয় না।
বেলা বাড়লে আশিস ফোন করে তাদের বার হওয়ার কথা বলে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে বলে।শ্রীয়াঙ্কা রেডি হয়।মুখে কোনো কথা নেই।শুভ্র ভাবে কী হল।এদিকে তারা সবাই একসাথে খেয়ে রক গার্ডেন দেখতে যায়।অনেকরকমের ফুলে সজ্জিত রক গার্ডেন দেখতে মনোমুগ্ধকর।শ্রীয়াঙ্কা তো ঝর্না দেখেই তার কাছে চলে যায়।এদিকে আশিস আর নীলিমাও নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে আলাদা হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা ঝর্নার দিকে তাকিয়ে আছে।শুভ্র কাছে এসে দাঁড়ায়।
শুভ্র-আমার তোমাকে কিছু বলার আছে।
শ্রীয়াঙ্কা একবার শুভ্রর দিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে নেয়।
শুভ্র-প্লিজ একবার আমার কথাটা শোনো।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।উঠে চলে এসে একটা জায়গায় বসে দূরে তাকিয়ে থাকে।শুভ্রও এসে পাশে বসে।
শুভ্র-আমার কিছু বলার আছে তোমাকে।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ থেকে বলে-বলুন।
শুভ্র-আমি জানি আমার কোনো কথা তুমি বিশ্বাস কর না।কিন্তু আমি তোমাকে কী করে বোঝাব আমি সত্যি তোমাকে ভালোবাসতাম।কলেজে তোমাকে দেখার পর আস্তে আস্তে তোমার প্রতি আমি দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম।কিন্তু নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য তোমাকে দূরে সরিয়ে রাখতাম।আর সেদিন রাতে যা হয়েছিল তা সত্যি আমার ভুল।জানি না কী কারনে আমি সেদিন----।বিশ্বাস কর আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।শুধু তুমি ভয় পেয়েছিলে তাই তোমাকে আমি----।তারপর যখন তুমি চলে গেলে আমি বুঝতে পারলাম তোমাকে ছাড়া আমি থাকতে পারব না।
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে-তাই বুঝি আমাকে ওরকম ভাবে অপমান করলে।কী তাই তো?
শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কার চোখে জল।
শুভ্র-আমি----
শ্রীয়াঙ্কা-আপনি সেদিন তো বলে চলে গেলেন আর আমি পরীক্ষা দিতে গিয়ে----।সবাই আমাকে দেখে----
শ্রীয়াঙ্কা আর কিছু বলতে পারে না।
শুভ্র-আমি সেদিন জেনেছিলাম আমার ছোটোবেলার কথা।তাই পরদিন তোমাকে----।
শ্রীয়াঙ্কা-আপনি অন্যভাবে বলতে পারতেন।আমাকে আলাদা ভাবে।
শুভ্র-জানি বলতে হয়তো পারতাম।কিন্তু আমি জানি সেদিন তুমি শুনতে না।তোমাকে বললেও তুমি বুঝতে না।
শ্রীয়াঙ্কা অল্প হাসে আর বলে-এটাই শোনার বাকি ছিল।আমি বুঝতে চাইতাম না!
শুভ্র-তুমি----
শ্রীয়াঙ্কা-প্লিজ থাক আর নয়।আমার ভালো লাগছে না।
শুভ্র আর কিছু বলে না।উঠে চলে যায়।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা ভাবতে থাকে সত্যি কী আমি বুঝতাম না।
হঠাৎ নীলিমা বলে-কী হল তুমি এখানে,শুভ্রদা কোথায়?
নীলিমার কথায় শ্রীয়াঙ্কার ভাবনার ছেদ ঘটে।সে নীলিমার দিকে তাকিয়ে থাকে।
কী হল শুভ্রদা কোথায়?-নীলিমা
আশিস শুভ্রকে দেখতে পায়।সে দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।
আরে,ওই তো।তোমরা এসো-এই বলে আশিস শুভ্রর দিকে এগিয়ে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা আর নীলিমাও যায়।আশিস বলে-এখন ফিরে চল,সন্ধ্যাতে আবার বার হব।
শুভ্র মাথা নাড়ে।বিকালের দিকে তারা ফিরে আসে।কিন্তু হোটেলে আসার কিছুক্ষণ পর বৃষ্টি আসে।আর থামে না।আশিস ফোন করে বলে আজ বার হওয়া যাবে না।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার শরীরটা খারাপ লাগতে থাকে।সে চুপ করে শুয়ে থাকে।
শুভ্র একবার জিজ্ঞাসা করতে গিয়েও করে না।সন্ধ্যা হলেও শ্রীয়াঙ্কা ওঠে না।শুভ্র চেয়ারে বসে থাকে।এদিকে প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে।রাত বাড়ছে তত বৃষ্টি বাড়ছে।হঠাৎ শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার গলার আওয়াজ শুনতে পায়।অস্পষ্ট ভাবে কথা বলছে।
শুভ্র বুঝতে পারে না।শ্রীয়াঙ্কার কাছে যায়।শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলার চেষ্টা করছে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার চোখ বন্ধ।শুভ্র প্রথম বুঝতে পারে না।
শুভ্র-কী হয়েছে শ্রীয়াঙ্কা?
শ্রীয়াঙ্কা একবার চোখ চেয়ে বন্ধ করে নেয়।শুভ্রর ভয় করে।সে তাড়াতাড়ি করে শ্রীয়াঙ্কাকে ডাকতে থাকে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার সাড়া নেই।
শুভ্রর সন্দেহ হয়।সে শ্রীয়াঙ্কা কপালে হাত রাখে।দেখে শ্রীয়াঙ্কার গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে।
শুভ্র-এই শ্রীয়াঙ্কা কথা বল।
শুভ্র ভয় পেয়ে যায়।কী করবে বুঝতে পারে না।তাড়াতাড়ি করে জলপট্টির ব্যবস্থা করে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা জ্বরের ঘোরে বিরবির করতে থাকে।শুভ্রর চোখে জল এসে যায়।সে ভাবে ওষুধ আনবে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কাকে ফেলে যাবে কী করে।এদিকে বৃষ্টি হচ্ছে।সে একবার আশিসকে ফোন করে।কিন্তু ফোনে ফোন যায় না।আর রাতও হয়ে গেছে।নীলিমার নম্বর আছে কিন্তু শুভ্র আর করে না।এতো রাতে ফোন করা যায় না এই ভেবে রেখে দেয়।
শুভ্র জলপট্টি দিতে থাকে।অনেকক্ষণ জলপট্টি দেওয়ার পর জ্বর একটু কমে।শ্রীয়াঙ্কাও বুঝতে পারে শুভ্র তার পাশে।কিন্তু তার চোখ খোলার শক্তি নেই।    এদিকে শ্রীয়াঙ্কা ঠোঁট জ্বরে শুকিয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা নিজের জিভ দিয়ে তা ভেজানোর চেষ্টা করে।শুভ্র বুঝতে পেরে আস্তে করে গ্লাস থেকে একটু জল শ্রীয়াঙ্কার ঠোঁটে দিয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা তাও অনুভব করে।
অনেক রাতে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার জ্বর কমেছে।তাই জলপট্টি দেওয়া বন্ধ করে দেয়।আর জ্বর কমলে শ্রীয়াঙ্কা ঘুমিয়ে পরে।শুভ্রও খাটে হেলান দিয়ে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকে।ধীরে ধীরে সেও ঘুমিয়েও পরে।
দুজনের কারোর ঘুম ভাঙ্গে না।অনেক বেলাতে শ্রীয়াঙ্কার ঘুম ভেঙ্গে যায়।সে পাশে শুভ্রকে দেখে।তার রাতের কথা মনে পরে।সারারাত যে শুভ্র তার জলপট্টি দিয়েছে সে বুঝতে পারে।শুভ্রর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।তারপর সে শুভ্রর চোখের চশমা খুলে দেয়।আজ সে কিন্তু দ্বিধা করে না।তারপর হালকা ব্যালানকেটটা  শুভ্রর গায়ে দিয়ে দেয়।
তারপর শুভ্র সেই বলা কথাটা তার হঠাৎ মনে পরে- "জানি বলতে হয়তো পারতাম।কিন্তু আমি জানি সেদিন তুমি শুনতে না।তোমাকে বললেও তুমি বুঝতে না"।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে-সত্যি আমি বুঝতাম না?কিন্তু----
হঠাৎ ফোনের আওয়াজে শ্রীয়াঙ্কা চমকে যায়।দেখে শুভ্রর ফোনে আশিসদার ফোন।কী করবে শুভ্র ডাকবে কী এই ভাবতে থাকে সে।তারপর ফোনটা ধরে।
হ্যালো,শুভ্র-আশিস
না,দাদা,আমি শ্রীয়াঙ্কা-শ্রীয়াঙ্কা
ও,শুভ্র রাতে ফোন করেছিল।আমার ফোনে চার্জ ছিল না।তাই সকালে দেখে ফোন করলাম।ও কোথায়?-আশিস
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে একবার চেয়ে বলে-ঘুমাচ্ছে।
ও আমরা তোমাদের ওখানেই যাচ্ছি।আজ রাত্রে তো ট্রেন।একটু এদিক ওদিক ঘুরে চলে আসব।-আশিস
আচ্ছা-শ্রীয়াঙ্কা
শ্রীয়াঙ্কা ফোন রেখে দেয়।তারপর শুভ্রর দিকে একবার তাকিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।এদিকে শুভ্রও ঘুম থেকে উঠে যায়।সে যে ঘুমিয়ে পড়েছিল সে বুঝতে পারেনি।নিজের চশমা খুঁজতে থাকে।আর ভাবে চশমা কে খুলল।চশমাটা পড়ে নেয়।
শ্রীয়াঙ্কা তখন ওয়াশরুম থেকে রেডি হয়ে বেরিয়ে আসে।শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে শুভ্র এগিয়ে আসে।কিন্তু বলতে পারে না।শ্রীয়াঙ্কা কী বলবে।যদি রেগে যায়।তাও সে বলে-বলছি,শরীর কেমন?
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে চেয়ে বলে-ভালো।
শুভ্র দেখে আজ শ্রীয়াঙ্কা যেন বড্ড শান্ত।শ্রীয়াঙ্কা তারপর শুভ্রর থেকে মুখ ফিরিয়ে অন্য দিকে তাকিয়ে বলে-আশিসদাদা ফোন করেছিল।এখন আসছে।
শুভ্র-ও 
এই বলে শুভ্রও রেডি হতে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।এইদিকে নীলিমা আর আশিস ওদের জন্য বাইরে অপেক্ষা করতে থাকে।শুভ্র বার হতেই ফোন আসলে দুজনেই বেরিয়ে পরে।সবাই দার্জিলিং মার্কেটে সারাদিন ঘরোফেরা করতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা লক্ষ্য করে শুভ্র বারেবারে তার দিকে তাকাচ্ছে।আর শুভ্রর ভয় করছে এতো ঘোরাতে সে আবার অসুস্থ হয়ে না পরে।শেষে তারা বিভিন্ন খাবার দোকানের সামনে দিয়ে হাঁটতে থাকে।
আশিস আর নীলিমা বলে-মোমো খাওয়ার কথা।
শুভ্র ভয় পেয়ে বলে-না,না,শ্রীয়াঙ্কা খাবে না।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথায় অবাক হয়ে যায়।নীলিমা আর আশিসও তাকিয়ে থাকে।
নীলিমা-কেন বৌদির কী শরীর খারাপ?
শুভ্র-না,মা-নে----
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে।
শুভ্র-না,বলছি আমরা তো অনেক রোদে ঘুরলাম।আর বেলা পড়ে গেছে।তাই এখন মোমো খেলে যদি শরীর খারাপ করে তাই বলছি অন্য কিছু খেলে হয় না।
আশিস-অন্য কী খাবি বল।
শুভ্র-চল কোথাও বসে ভাত খেয়ে নি।তাতে উল্টো পাল্টা খাওয়া হবে না।
আশিস-হুম,ঠিক বলেছিস।রাতে ট্রেনে থাকতে হবে।
শ্রীয়াঙ্কা অবাক হয়ে যায়।তার সন্দেহ হয়।কিন্তু শুভ্রকে কিছু জিজ্ঞাসা করে না।সবাই খেয়ে নেয়।তারপর বিকালের দিকে হোটেলে আসে।প্যাকিং করে নেয়।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা আড়ে আড়ে শুভ্রকে দেখতে থাকে।সন্ধ্যাতে ট্রেন।তারা তখন বেরিয়ে পরে।আশিস আর নীলিমাও এসে পরে।
সবাই স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।ট্রেন দাঁড়িয়েই ছিল।সবাই ট্রেনে উঠে পরে।সারাদিন ঘোরাঘুরিতে সবাই ক্লান্ত তাই কেউ আর বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারে না।বসে থেকেই বা কী হবে।কথা তো বলছে আশিস আর নিলীমা।শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কা চুপ।তারা দুজনেই শুধু মাথা নাড়ছে।
পরদিন বেলাতে তারা ট্রেন থেকে নামে।তারা দেশের বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হয়।বাড়িতে মমতা দেবী ওদেরকে দেখে জড়িয়ে ধরে।শ্রীয়াঙ্কাকে বরণ করে ঘরে তোলে।কারন শ্রীয়াঙ্কা প্রথম এলো।সেদিন মমতা দেবী শ্রীয়াঙ্কার খেয়াল রাখে।শ্রীয়াঙ্কা তাদের সাথে থেকে খুব আনন্দ পায়।বাড়ির আশেপাশে থেকে তাকে দেখতে আসে।সবাই বলে-তোমার বৌমার তো পুরো লক্ষ্মী প্রতিমার মত দেখতে।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করে চুপ করে থাকে।এদিকে শুভ্র বাড়ি ফিরে তার বন্ধুদের সাথে দেখা করতে যায়।আশিস আর নীলিমাও ওদের ওখানেই একেবারে থেকে যায় পূজা উপলক্ষ্যে।বাড়িতে লোকজন ভর্তি।রাতে নীলিমা আর শ্রীয়াঙ্কা একঘরে থাকে।
পরদিন পুজো।সকাল থেকেই সবাই ব্যস্ত।মমতা দেবী শ্রীয়াঙ্কাকে একটি শাড়ি আর কিছু গয়না দিয়ে দেয় আর বলে-ছুটকি স্নান সেরে এটা পরে নিবি।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়ে।
শ্রীয়াঙ্কা স্নান সেরে শাড়িটা পরে।নীলিমা দেখে বলে-তোমাকে খুবই সুন্দর লাগছে।
দুজন পূজোর দিকে এগিয়ে যায়।এদিকে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে চোখ ফেরাতেই পারছে না।লাল সাদা রংয়ের একটা শাড়ি পড়েছে,হালকা গয়না আর সিঁথিতে চওড়া সিন্দুর।শুভ্র তখন মন্দিরের বাইরে ফুল দিয়ে সাজাচ্ছিল।কিন্তু তার সাজানো বন্ধ হয়ে যায়।সে তাকিয়েই থাকে।
এদিকে শুভ্রর কাকার ছোটো ছেলে নীচে দাঁড়িয়ে ছিল।সে বলে-এই দাদা কী হল।এই ধরো ফুলটা।
শুভ্র চমকে উঠে বলে-কী হল?
কখন থেকে ধরে আছি ফুলটা।তুমি তো কোন দিকে তাকিয়েই আছো।----
ছেলেটি কিছু বুঝতেই পারে নি।নিতান্তই সে বালক।
শুভ্র ফুলের মালাটা নিয়ে লাগাতে লাগাতে শ্রীয়াঙ্কার দিকে আড়ে আড়ে দেখতে থাকে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা দেখে মমতা দেবী শ্রীয়াঙ্কার কপালে চুমু খায়।আর হাতের আঙুল কামড়ে দিয়ে বলে-আমার ছুটকির যেন নজর না লাগে।
এই বলে তিনি শুভ্রকে ডাকে।শুভ্র বুঝতে পারে নি।এখনই তার ডাক পরবে।কিন্তু তার মনে আনন্দ হয়।কারন শ্রীয়াঙ্কাকে সে কাছ থেকে দেখতে পারবে।
শুভ্র এলে মমতা দেবী বলেন-পুরোহিত মশাই আসার আগে তুই আর ছুটকি মিলে রাধা কৃষ্ণকে সাজিয়ে দিবি।কী বুঝলি তো।এটা এই বাড়ির নিয়ম।নতুন বৌমাকে করতে হয়।আর সাথে বাড়ির ছেলেকে।
শুভ্র মাথা নাড়ে।মমতা দেবী শুভ্রকে বলেন-ওকে নিয়ে যা।
এই বলে তিনি চলে যান।সাথে নীলিমাও।শুভ্র মন্দিরের দিকে এগিয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা পিছনে পিছনে যায়।
আগে মন্দিরে ঢোকে শুভ্র।তারপর শ্রীয়াঙ্কা।শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কা দুজনেই ফুল দিয়ে রাধা কৃষ্ণকে সাজাতে থাকে।আর শ্রীয়াঙ্কা মাঝে মাঝে শুভ্রকে দেখতে থাকে।সাদা পাঞ্জাবিতে শুভ্রকে কত সুন্দর লাগছে।তার শুভ্রকে দেখার প্রথম দিনের কথা মনে পরে যায়।আর মাঝে মাঝে শুভ্রর হাত শ্রীয়াঙ্কার হাত ছুঁয়ে যাচ্ছে।তাতে শ্রীয়াঙ্কা শিহরিত হচ্ছে।
কৃষ্ণর হাতের রুপোর বাঁশিটা খুঁজে পাচ্ছে না শুভ্র।এদিক ওদিক খুঁজতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা দেখতে পেয়ে বলে-কী খুঁজছেন?
শুভ্র-কৃষ্ণের বাঁশিটা কোথায় গেল?
এই বলে সে এদিক ওদিক তাকাতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কাও খুঁজতে থাকে।হঠাৎ তার পাশে চোখ পরে।বাঁশিটা হাতে তুলে নিয়ে বলে-এই তো।
শুভ্র দেখে যেন নিশ্চিন্ত হয়।
শুভ্র-তুমি দিয়ে দাও।
শ্রীয়াঙ্কা দিতে যায়।কিন্তু দিয়ে দিলেও হঠাৎ পরে যাচ্ছে।তখন শ্রীয়াঙ্কা ধরতে যায় আর সাথে শুভ্রও।দুজনের হাতের আঙুল দুজনকে ছুঁয়ে আছে।আর দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে।
হঠাৎ বাইরে থেকে-এই দাদা,জেঠিমা বলল পঞ্চ প্রদীপটা জ্বালিয়ে দিতে।
এ হল সেই ছেলেটি।ছেলেটির কথায় দুজনের হুঁশ ফেরে।
এদিকে পাড়ার একটি ছেলে এসে বলে-এই শুভ্র তাড়াতাড়ি চল।নগেন কাকার মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে।এখনও ১২ বছর হয়নি।
শুভ্র-কী!
হ্যাঁ,রে----
শুভ্র-চল,চল।
শুভ্র চলে যায়।আর যাওয়ার সময় বলে যায়-তুমি পঞ্চ প্রদীপটা জ্বালায়ে নিতে পারবে।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়ে।শুভ্র তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যায়।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা পঞ্চপ্রদীপ জ্বালাতে থাকে।কিন্তু শুভ্রর 
মুখটা তার মনে পড়তে থাকে।হঠাৎ তার মনে পড়ে যায় সেই কথা- "জানি বলতে হয়তো পারতাম।কিন্তু আমি জানি সেদিন তুমি শুনতে না।তোমাকে বললেও তুমি বুঝতে না।"
শ্রীয়াঙ্কা প্রদীপ জ্বালাতে থাকে আর ভাবতে থাকে-সত্যি আমি কী শুনতাম না।কেন বুঝতাম না।আমি কী এতোই ছেলেমানুষ।আমি কী----। 
এই বলে ঠাকুরের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কার মনে পড়ে যায় তার বাবার কথা।সে মনে মনে বলে-আমার তো বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল তা জেনেও তো  আমি ওনাকে মনের কথা বলতে গিয়েছিলাম।আমি তো বাবার কথা তো শুনিনি।তাহলে কী আমি শুনতাম ওনার কথা।
শ্রীয়াঙ্কা অস্পষ্ট ভাবে বলে-আমি হয়তো তো শুনতাম না।কারন সে সময় আমি ওনাকে পাবার জন্য বাবার সম্মানের কথা ভাবিনি।তাহলে----
আপনমনে প্রদীপ জ্বালাতে গিয়ে হাতে অল্প দেশলাইয়ের  ছাঁকা লাগে।সে দেশলাইয়ের কাঠিটা ফেলে দেয়।দু চোখ জ্বলে ভরে গেছে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা খুঁজতে থাকে শুভ্রকে।সে বুঝতে পেরে গেছে।সে উঠে গিয়ে শুভ্রকে খুঁজতে থাকে।কিন্তু দেখতে পায় না।বুকের ভিতর কান্নার ঢেউ যেন সব বাঁধা পেরিয়ে বেরিয়ে আসতে চায়।
এদিকে শুভ্র ফেরে না।পূজা শুরু হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা অস্থির হয়ে যায়।




আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ২৩

শুভ্র ফেরে না।এদিকে পূজা শুরু হয়ে যায়।আর শ্রীয়াঙ্কা অস্থির হয়ে যায়।
মন্দির থেকে বেরিয়ে তার দুচোখ শুধু শুভ্রকে খুঁজতে থাকে।মন যেন কিছুতেই মানে না।
এদিকে মমতা দেবী শ্রীয়াঙ্কাকে জিজ্ঞাসা করেন-শুভ্র কোথায়?
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলতে পারে না।মনের ভেতর অসহ্য কষ্ট হতে থাকে।
মমতা দেবী আবার বলেন-শুভ্র তো এমন করে না।পূজা হবে জেনেও বাইরে থাকার ছেলে তো ও নয়।
তিনি আশিসকে বলেন শুভ্রকে খুঁজতে যাওয়ার কথা।আশিস এদিক ওদিক দেখে ফিরে আসে।শ্রীয়াঙ্কার মাথা ঘুরতে থাকে।কিছু বলার ভাষা সে খুঁজে পায় না।কী ভুল সে করেছে সেই অনুভব তার হতে থাকে।কিন্তু কাকে বলবে সেই তো নেই।
শ্রীয়াঙ্কা অনেকক্ষন পরে বলে-একজন কে ডা-ক-তে এসেছিল তাই----
তখন কাকার ছেলে রিক পাশেই ছিল।
সে বলে-হ্যাঁ,জেঠিমা,সন্দীপদা ডাকতে এসেছিল।নগেন কাকার ছোটো মেয়েটার বিয়ে দিচ্ছে তাই----
মমতা দেবী-নগেনের ছোটো মেয়ে!ও তো সবে স্কুলে পড়ে।
মমতা দেবী রিককে বলেন-রিক আশিসদাকে সঙ্গে করে ওখানে নিয়ে যা।যা ছেলে কিছু না করে ফেলে।সবার বিপদে নিজের বিপদ ডেকে না ফেলে।
আশিস-হ্যাঁ,ঠিক বলছ,ও অন্যায় একদম সহ্য করতে পারে না।
মমতা দেবী-যা,যা তাড়াতাড়ি যা।
শ্রীয়াঙ্কার শুনে হাত পা কাঁপতে থাকে।একবার সে শুভ্রর সাথে কথা বলতে চায়।তার যে অনেক কিছু বলার আছে।কিন্তু সে এখন সামনে নেই।এরকম বুঝিই হয়।জীবন বড় অদ্ভুত।কাউকে দূরে ঠেলে দিলে সে যেমন কাছে আসে।আবার কাউকে কাছে চাইলে সে আবার দূরে যায়।তাকে পাওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
আশিস আর রিক বার হতে যাবে তখন বাইরে চেঁচামিচি হওয়ার আওয়াজ শোনা যায়।
মমতা দেবী-কী হল রে?
আশিস-হ্যাঁ,বাইরে কাদের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে।চল বাইরে চল।
সবাই বাইরে বেরিয়ে আসে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার হাত পা নড়তে চায় না।সে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে বাইরে চোখ রাখে।
এদিকে শুভ্র আর পাড়ার কয়েকটা ছেলে বাড়িতে ঢোকে।তাদের সাথে একটা ছোট্ট মেয়ে।
মমতা দেবী শুভ্রকে দেখে-কী হয়েছে রে?
তখন সন্দীপ বলে-কাকিম নগেন কাকার মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিল।আমরা গিয়ে বলি ও তো ছোটো মেয়ের বিয়ে দিচ্ছ কেন?
মমতা দেবী-ওরা কী বলল?
সন্দীপ-কী বলবে,শুধু ঝগড়া করছে।বলে আমার মেয়ে আমি বুঝব।
মমতা দেবী-ওর মা?
সন্দীপ-ওর মা চুপ করে আছে।নগেন কাকার সাথে পেরে ওঠে না।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা দরজার আড়াল থেকে শুভ্রকে দেখে।সে কারোর সাথে কথা বলছে।মুখ চোখ লাল হয়ে গেছে।
মমতা দেবী শুভ্রর কাছে এগিয়ে গিয়ে বলে-তুই কী চেঁচামিচি করেছিস?
শুভ্র-চেঁচামিচির কী আছে মা।ওরা অন্যায় করছে আর আমি কিছু বলব না।
সন্দীপ-না,কাকিমা ও তেমন কিছু বলেনি।শুধু মিতার বিয়ে দিতে বারন করেছে।আর তাতে----
মমতা দেবী-তাতে কী?
সন্দীপ-তাতে নগেন কাকা তো শুভ্রকে মারতে যায় যায়।
কল্যান বাবুও তখন এসে গিয়েছিলেন।তিনি বলেন-কী বললি নগেন ওকে মারতে গিয়েছে।
শুভ্র-বাবা তুমি শান্ত হও।তেমন কিছু হয়নি।
মমতা দেবী-মিতাকে নিয়ে চলে এলি।এখন ওকে নিয়ে কী করবি?
সন্দীপ-ওর দিদি তো কলকাতায় থাকে।আমরা ভিডিও কল করেছিলাম।ও তো কিছুই জানে না।ও তো বাড়ি নেই।বরের বন্ধুর বিয়ে তে গিয়েছে।
শুভ্র তখন বলে-আর তাই আমি মিতাকে নিয়ে ওর দিদির কাছে দিয়ে দেব।ও মিতার বড় দিদি।মিতা ওর কাছে থাকবে।
কল্যান বাবু-ওর দিদি তাই বলেছে?
সন্দীপ-হ্যাঁ,ওর দিদি বলল ওরা কয়েকদিনের মধ্যে ফিরে আসবে।তাই শুভ্রকে কলকাতায় মিতাকে নিয়ে যেতে।
মমতা দেবী-কিন্তু ওর দিদি তো এখানে আসতে পারত।আর মিতা নয় আমাদের কাছে থাকত।
সন্দীপ-সেতো আমরাও ভেবেছিলাম।কিন্তু নগেন কাকা তো মানুষ ভালো নয়।যা ছেলেদের পুষে রেখেছে।এখানে থাকলে জোর করে নিয়ে যাবে।
মমতা দেবী-তোরা মিতাকে আনলি।আর ওরা কিছু বলেনি?
সন্দীপ-মানে,শুভ্র জোর করে মিতাকে এনেছে।
কল্যান বাবু-কী!
এদিকে বাইরে থেকে
আমার মেয়েকে লুকিয়ে রাখা।কলকাতাতে পড়াশোনা করে নিজেকে খুব বড় ভাবছে না----
শুভ্র মমতা দেবীকে বলে-ও মা তুমি মিতাকে ঘরে নিয়ে  যাও।
মমতা দেবী ভয়ে-এই এতো নগেনের গলা।
শুভ্র-তুমি ঘরে যাও মা আমি দেখছি।
অন্যান্য ছেলেরাও বলে-হ্যাঁ,আমরা সবাই শুভ্রর সাথে আছি।তুমি কিছু চিন্তা কর না।
মমতা দেবী মিতাকে বাড়ির ভিতর নিয়ে যায়।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা সবই দেখছে।আর তাকিয়ে আছে শুভ্রর দিকে।
নগেন-এই শুভ্র আমার মেয়ে কোথায়?
শুভ্র-নগেন কাকা মিতার বয়স কম।এতো ছোটো বয়সে বিয়ে দেওয়া উচিত নয়।
নগেন-তুই  আমাকে শেখাচ্ছিস আমি কী করব।নিজেকে কী খুব শিক্ষিত মনে করিস?
একটি ছেলে তখন বলে-শিক্ষিতের কী দরকার নগেনকা।এখন সবাই জানে ছোটো বয়সে বিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
সন্দীপ-হ্যাঁ,ঠিক বলেছিস।শুভ্র না থাকলেও তোমার মেয়ের আমরা বিয়ে দিতে দিতাম না।
নগেন-তোদের বড্ড সাহস হয়েছে।
এতে সাহসের কী দেখলে নগেন দা।----আর একটি ছেলে।
শুভ্র-তোরা সবাই চুপ কর।
এই  বলে সে নগেন কাকার কাছে এসে বলে-তুমি একটু শান্ত হয়ে ভেবে দেখ।
নগেন-এতে ভাববার কী আছে রে।আমি আজই আমার মেয়ের বিয়ে দেব।
শুভ্রর মুখ কঠিন হয়ে যায়।
শুভ্র বলে-তাহলে ঠিক আছে নগেন কাকা।আমি মিতাকে তোমার বড় মেয়ের কাছে দিয়ে দেব।ও কী করবে ওই বুঝবে।
নগেন-তোরা ভালো করিস নি ওকে খবর দিয়ে।
সন্দীপ-তাহলে নগেন কা আমরা পুলিশে খবর দিয়ে দিয়ে দি।কী বল?
নগেন ছুটে সন্দীপকে মারতে আসে।সবাই আটকায়।
নগেন-কাজটা তোরা ভালো করলি না।জানিস তো আমাকে।কোনো কাজ আমি পারি না এমন নয়।
সন্দীপ-ঠিক আছে দেখা যাবে।
নগেন ছুটে এসে কী দেখবি রে।
সবাই নগেনকে ধরে একেবারে বাড়ির বাইরে নিয়ে যায়।
নগেন চেল্লাতে থাকে।আর শুভ্র চুপচাপ ঘরের ভিতরে চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা তখন ঘরের ভিতরে মিতার পাশে বসে।মিতা চুপ করে আছে।শ্রীয়াঙ্কা মিতাকে দেখতে থাকে।ছোট্ট  মেয়ে।মুখ চোখ ভয়ে শুকনো।চুপ করে নীচের দিকে তাকিয়ে বসে আছে।
শ্রীয়াঙ্কা কী বলবে বুঝতে পারে না।শুভ্র ঘরে এসে।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখে কিছু বলতে যাবে কিন্তু শুভ্র চলে যায়।একবার মিতাকে দেখে বেরিয়ে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা ঘর থেকে বার হতে যাবে।তখন মিতা বলে-আমার খুব ভয় করছে।
শ্রীয়াঙ্কা ফিরে এসে বলে-কেন কী হয়েছে?
মিতা-আমি বিয়ে করব না।আমি পড়াশোনা করতে চাই।
শ্রীয়াঙ্কা মিতার কাছে এসে হাতটা ধরে বলে-হ্যাঁ,অবশ্যই পড়বে।তোমাকে বিয়ে করতে হবে না।
মিতার চোখ মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে-সত্যি বিয়ে হবে না।বাবা আমার বিয়ে দেবে না।
শ্রীয়াঙ্কা-না,দেবে না।
মিতা আনন্দে  শ্রীয়াঙ্কাকে জড়িয়ে ধরে।
অন্যদিকে শুভ্র মমতা দেবীকে গিয়ে বলে-মা,আমরা আজ চলে যাব।
মমতা দেবী-আজ!
শুভ্র-হ্যাঁ,আবার যদি নগেন কাকা আসে তখন কিন্তু হবে।মিতাকে নিয়ে চলে গেলে আর কোনো ঝামেলা হবে না।
মমতা দেবী-তুই ঝামেলার কথা বলছিস।আমার তো নগেনের কথাতেই ভয় করছে। মিতার দিদি কী বলেছে?
শুভ্র-মিতার দিদি বলল এ সবের কিছু জানে না।মিতাকে আমার সাথে কলকাতাতে নিয়ে যেতে বলল।সন্দীপ ভিদিও কল করেছিল।
মমতা দেবী-পরে যদি তুই বিপদে পরিস।
শুভ্র-গ্রামের লোকের সামনে ভিডিও কল করা হয়েছে।সবাই দেখছে।আমি পুলিশে খবর দেওয়ার কথা ভেবেছিলাম কিন্তু ওর দিদি বলল ওর বোন ওর কাছেই থাকবে।পুলিশে খবর দেওয়ার দরকার নেই।
মমতা দেবী-তাহলে তো ভালো কথা।কিন্তু ওকে তোর কাছে নিয়ে যাবি তোর বিপদ হবে না?
শুভ্র-কীসের বিপদ।নগেন কাকা তো আমার বাড়ি চেনে না।আর অতো বড় কলকাতা শহরে বাড়ি খুঁজে পাওয়া কী সোজা।
মমতা দেবী-কিন্তু----
শুভ্র-কয়েকদিনের তো ব্যাপার মা।তারপর মিতাকে ওর বোনের কাছে দিয়ে দেব।
মমতা দেবী-আমার খুব ভয় করে।তোরা দুজনে একা ওখানে----
শুভ্র-মা মানুষ হয়ে যদি মানুষের মত কাজ না করলাম তাহলে তো মানুষ হওয়া বৃথা।তাছাড়া মা কথাতেই আছে  অন্যায় যে  করে আর অন্যায় যে সহ্য করে দুজনেই সমান অপরাধী।তোমরা ছোটোবেলা থেকে তাই বলে এসেছো।
মমতা দেবী-হ্যাঁ,তুই ঠিক করেছিস।কিন্তু ভয় করে।ওকে সাবধানে ওর দিদির কাছে দিয়ে দিবি।
শুভ্র-ওর দিদি তো খুব ভালো।
মমতা দেবী-হ্যাঁ,ভালো।কিন্তু তোরা আজ যাবি না।কাল যাবি।ছুটকি সকাল থেকে কিছু খায়নি।বাড়িতে আজ পুজো আর তোরা চলে যাবি।
শুভ্র-কিন্তু মা নগেন কাকা আবার এলে তখন।
মমতা দেবী-তুই ভালোর জন্য  লড়াই করেছিস।সবাই তোর পাশে থাকবে।তাছাড়া বাড়িতে একটা মঙ্গল অমঙ্গলের ব্যাপার আছে তো।বাড়ির নতুন বৌ পূজার দিন বাড়ি থেকে চলে যাবে।
শুভ্র-কিন্তু মা----
এইসময় কল্যান বাবু ঘরে আসেন।আর বলেন-নগেনকে তোর বন্ধুরা জোর করে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।আর বলেছে এই বাড়ির সামনে দেখলে ওকে আর ছাড়বে না।
মমতা দেবী-তাহলে তো ভয়ের কিছু নেই।তোরা কাল যাবি।
শুভ্র-আচ্ছা।
মমতা দেবী-চল,মিতার কাছে যাই।বাচ্চা মেয়েটা ভয় পেয়ে আছে।
শুভ্র,মমতা দেবী আর কল্যান বাবু শ্রীয়াঙ্কা আর মিতা যে ঘরে আছে সেই ঘরের দিকে এগিয়ে যায়।
মমতা দেবী আর কল্যান বাবু আগে ঘরে ঢোকেন।মমতা দেবীকে দেখে শ্রীয়াঙ্কা বলে-মানি,ওর বাবা আর আসবে না তো।
শুভ্র তখন ঘরে ঢোকেনি।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখতে পায়নি।
মমতা দেবী বলেন-কেন তোর ভয় করছে।
শ্রীয়াঙ্কা-না,মানে----
মমতা দেবী-জানি রে মা,আমি মা হয়ে যেখানে ভয় পাচ্ছি আর তুই তো----
এই বলে তিনি মিতার পাশে বসেন।
শুভ্র সব শুনেছে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখে শুভ্রর দিকে তাকায়।শুভ্র একবার শ্রীয়াঙ্কাকে  দেখে মিতার দিকে এগিয়ে যায়।
মিতার কাছে গিয়ে বলে-তুই ঠিক আছিস তো?
মিতা মাথা নাড়ে।
শুভ্র-তুই খুশি তো।আমরা তোর ভালোর জন্যই এসব করেছি।
মিতা-জানি দাদা।আর আমি খুব খুশি।আমি তো বিয়ে করতে চাই নি।বাবা জোর করে তো----
এই বলে মিতা কেঁদে ফেলে।
মমতা দেবী-চুপ কর মিতা কাঁদিস না।তোর দিদির কাছে তোকে দিয়ে আসা হবে।
মিতা-তাই
শুভ্র,হ্যাঁ,রে।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখতে থাকে।তার ভালোবাসার মানুষটিকে।তার মনে হতে থাকে জীবনে সে কোনো ভুল করেনি।এরকম একজনকে কাছে পেয়ে সত্যি তার জীবন পরিপুর্ণ।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর সাথে আলাদাভাবে কথা বলতে পারছে না।এরকম পরিস্থিতিতে সে কী করে বলবে।আর নিজের ভুল বুঝতে সে শুভ্রর চোখের দিকে তাকাতে পারছে না।নিজের ভুলের জন্য সে যে কী করে শুভ্রর  কাছে ক্ষমা চাইবে,কী করে শুভ্রর চোখের দিকে তাকাবে সে বুঝতে পারছে না।
মমতা দেবী-চল ওদিকে পূজা মনে হয় শেষ হয়ে গেল।যা হল আমি তো পূজার কাছে থাকতে পারলাম না।
সবাই পূজার দিকে যায়।পূজা তখন শেষ।নীলিমা,আশিস আর বাড়ির কিছু লোক পূজার কাছে ছিল।
শ্রীয়াঙ্কা আর শুভ্রকে মমতা দেবী একসাথে প্রনাম করতে বলেন।দুজনে একসাথে প্রনাম করে।
শ্রীয়াঙ্কা মনে মনে-জানি না আমি কী করে তোমাকে ধন্যবাদ দেব।আজ তোমার সামনেই আমি আমার সব ভুল বুঝে ফেলেছি।আশীর্বাদ কর আমি আর যেন কোনো ভুল কাজ না করি।
প্রনাম করা হয়ে গেলে মমতা দেবী-চল,তোরা কিছু খেয়ে নিবি চল।
শুভ্র-মা আমি একটু পরে খাচ্ছি।একটু বাইরে দেখে----
মমতা দেবী-এই একদম বাইরে যাবি না।খেয়ে নিয়ে বাড়িতেই থাক।
শুভ্র চুপ করে যায়।
মমতা দেবী-ছুটকি চল।
শ্রীয়াঙ্কা-হুম
মমতা দেবী,শ্রীয়াঙ্কা আর মিতা চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কার শুভ্রকে কিছু বলা হয় না।
কল্যান বাবু-কী রে চল।
শুভ্র-হুম,চল।
সবাই খেতে বসছে।তখন বাইরে থেকে আবার চেল্লামিল্লির আওয়াজ শোনা যায়।শুভ্র তখন একবার খাবার মুখে দিয়েছে। শুভ্র খাওয়া ছেড়ে উঠতে যাবে মমতা দেবী শুভ্রর হাত ধরে বসিয়ে দিয়ে বলে-একদম খাওয়া ছেড়ে উঠবি না।আমি দেখছি।
তখন শ্রীয়াঙ্কা খেতে বসে নি।সে মমতা দেবীর সাথে খাবে।আর মিতাকে বসতে বললে সে বলে সে শ্রীয়াঙ্কার সাথে বসবে।
মমতা দেবী বাইরে যান।
শ্রীয়াঙ্কাও বাইরে এসে দাঁড়ায়।আর শ্রীয়াঙ্কার পিছনে এসে মিতা দাঁড়িয়ে।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ২৪

শ্রীয়াঙ্কা বাইরে এসে দাঁড়ায়।আর শ্রীয়াঙ্কার পিছনে এসে মিতা দাঁড়ায়।
আর নগেন আবার ফিরে এসেছে।শুভ্রর বন্ধুরা ছিল না।নগেন গ্রামের তিন চারজনকে তার দলে টেনেছে।আর তার সাথে তার কিছু সাঙ্গপাঙ্গ।নগেন চেল্লাতে চেল্লাতে-দেখবেন আসুন আমার মেয়েটাকে জোর করে ধরে রেখেছে।
মমতা দেবী-কী বলছ,তোমার মেয়েকে আমরা জোর করে রেখেছি।
নগেন মমতাদেবীর দিকে আঙুল তুলে গ্রামের লোকদের বলে-এই দেখুন,ছেলের কীভাবে শিক্ষা দিয়েছে।পরের বাড়ির মেয়েকে কীভাবে তুলে আনে।
এদিকে কল্যান বাবু বেরিয়ে এসে বলেন-কী বলছিস নগেন।তোর মাথা ঠিক আছে।
নগেন-আমার মাথা ঠিক আছে।তোমাদের মাথা গেছে।আর সাথে তোমার ছেলের।কলকাতাতে পড়ে ছেলে বেহায়াপনা শিখেছে।
মমতা দেবী-আমার ছেলের সম্পর্কে উল্টো পাল্টা একদম বলবেন না।
এদিকে শুভ্র চেঁচামিচিতে বাইরে আসতে গেলে আশিস আটকায়।বলে-মাসি যেতে বারণ করেছে।একদম যাবি না।চুপ করে খেয়ে নে।
শুভ্র-আমি একটু দেখে আসি।
আশিস-একদম না।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা সব দেখতে থাকে।আর শুভ্রর নামে উল্টো পাল্টা কথা শুনে সে রেগে যেতে থাকে।
গ্রামের একটি লোক-ওনার মেয়ে উনি বুঝবেন।যান মিতাকে বের করে দিন।
মমতা দেবী-মিতা যাবে না।
নগেন-আমার মেয়ে আমার সাথেই যাবে।
নগেনের এক সাঙ্গ এগিয়ে এসে-যান,যান নগেন দার মেয়েকে বার করে দিন।
কল্যান বাবু-যদি না বার করি কী করবে।
তখন সেই ছেলেটি বলে-কী করব দেখবেন এই বলে তিনি কল্যান বাবুর গায়ে হাত তুলতে যাবে আর তখন শ্রীয়াঙ্কা এগিয়ে আসে।সে আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না।
শ্রীয়াঙ্কা-এই কী করছেন।গায়ে হাত তুলছেন।
ছেলেটি শ্রীয়াঙ্কার কথায় হাত নামিয়ে নেয়।
শ্রীয়াঙ্কা-এ ভাবে বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়েছেন।আবার গায়েও হাত তুলছেন।আপনাদের সাহস তো কম নয়।
নগেন-সাহসের কী দেখলে?আর তুমি কে যে এইসব বিষয়ে নাক গোলাচ্ছ।
শ্রীয়াঙ্কা রেগে গিয়ে বলে-আমি এ বাড়ির বৌ।যে আপনার মেয়েকে এখানে এনেছে আমি তার স্ত্রী।
নগেন-ওও তুমিই সেই কলকাতার মেয়ে।শুনেছিলাম শুভ্র কলকাতায় বিয়ে করেছে।তা তুমিও তো দেখছি পুরো লক্ষীছাড়া।যেমন বর তেমন তার বৌ।
কল্যান বাবু-এই কী বললি আমার বৌমার নামে।
এই বলে তিনি নগেনের দিকে তেড়ে যাচ্ছে।তখন মমতা দেবী তাকে আটকায়।
মমতা দেবী-এসব বলে কোনো কাজ হবে না।মিতা এখানেই থাকবে।তোমরা বাড়ি চলে যাও।
নগেন-আমি আমার মেয়েকে নিয়ে যাব।
নগেনের সাথের সবাই-হ্যাঁ,হ্যাঁ মিতাকে বার করে দিন।
শ্রীয়াঙ্কা তখন বলে-মিতা যদি যেতে না চায়।
নগেন-ও যাবে।
শ্রীয়াঙ্কা-আচ্ছা,দেখা যাক।
এই বলে শ্রীয়াঙ্কা বাড়ির ভিতরে যায়।আর মিতা তখন ভয়ে কাঁপছে।
শ্রীয়াঙ্কা-চল,মিতা বাইরে চল।তুমি কী করতে চাও তুমি বলবে।
মিতা-আমি যাব না বৌদি।
শ্রীয়াঙ্কা-আমি জানি আর তুমি সেটা ওদের সামনে বলবে।
মিতা-কিন্তু----
শ্রীয়াঙ্কা-নিজের লড়াই নিজেকে করতে হয় মিতা।
মিতা চুপ করে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা-যাবে তো?
মিতা মাথা নাড়ে।
দুজন বাড়ির বাইরে আসে।
নগেন মিতাকে দেখতে পেয়ে বলে-মিতা মা চলে আয়।
মিতা কিছু বলে না।
নগেন এসে মিতার হাত ধরলে।মিতা হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে-আমি যাব না আর বিয়েও করব না।তুমি চলে যাও।আমি দিদির কাছে যাব।
নগেন-তুই কিন্তু----
শ্রীয়াঙ্কা নগেনের কথা শেষ হতে দেয় না।বলে-শুনেছেন এবার আসতে পারেন।মিতাকে আমরা জোর করে রাখিনি সেটা বুঝে গিয়েছেন।
শ্রীয়াঙ্কা নগেনের সাথে আসা লোকদের বলে-আপনারাও শুনেছেন।
সবাই চুপ করে যায়।গ্রামের লোকদের কিছু বলার থাকে না তারা আস্তে আস্তে চলে যায়।
নগেন যাওয়ার সময় বলে যায়-তোমাদের দেখে নেব।
মমতা দেবী- নগেনের দিয়ে কিছু বিশ্বাস নেই।আমার খুব ভয় করছে।
শ্রীয়াঙ্কা মমতা দেবীর হাত ধরে বলে-মানি ভয় পেও না।কিছু হবে না।
কল্যান বাবু-ছুটকি ঠিক বলেছে।ওর মত লোককে ভয় পেয়ে কী হবে।
মমতা দেবী নিশ্বাস ফেলেন আর বলেন-চল বেলা পড়ে গেল খেয়ে নিবি চল।
ওরা ভেতরে আসতেই শুভ্র বলে-কী হল মা।কারা এসেছিল।
মমতা দেবী-মিতার বাবা সঙ্গে করে লোক এনেছিল।
শুভ্র-কী বলল?
মমতা দেবী-সেই এক কথা।মিতাকে নিয়ে যেতে চায়।
শুভ্র-তোমরা কী বললে?
মমতা দেবী-যা বলেছে ছুটকি বলেছে।মিতাকে ওর বাবার সামনে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করেছে ও কী চায়।আর মিতা যাবে না বলেছে।তাই ওরা চলে গেছে।
আশিস পাশেই ছিল।বলে-বুদ্ধি আছে।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।শ্রীয়াঙ্কা তখন নীলিমার সাথে কথা বলছে।পাশে মিতা দাঁড়িয়ে।
মমতা দেবী-আজ তুই কোথাও বার হবি না।কাল সকালে তোরা কলকাতায় যাবি।
মমতা দেবীর কথায় শুভ্রর হুঁশ ফেরে।
শুভ্র-ঠিক আছে।
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কার দিকে একবার তাকিয়ে চলে যায়।
সেদিন রাত্রে শ্রীয়াঙ্কা, নীলিমা আর মিতা একসাথে থাকে।শ্রীয়াঙ্কার ঘুম আসে না।কী করে শুভ্রর সাথে কথা বলবে সেই ভাবতে থাকে।সে ঠিক করে কলকাতায় গিয়ে সে শুভ্রর সাথে কথা বলবে।
পরদিন ভোরে শুভ্র, শ্রীয়াঙ্কা আর মিতা কলকাতায় যাওয়ার জন্য বেরিয়ে পরে।মমতা দেবীর মন খারাপ। শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পেরে তাকে ভয় পেতে বারণ করেন।সেদিন বেলার দিকে তারা কলকাতার বাড়িতে আসে।শুভ্র মিতার দিদির ফোন নম্বর নিয়েছিল।বাড়ি এসে তাকে ফোন করে।সে বলে-কাল পরশু আসছে।
মিতা এসে খুব চুপচাপ।শুভ্রর অফিসে একটু দরকার আছে তাই সে বার হবে।শ্রীয়াঙ্কা মিতার কাছে অন্য ঘরে ছিল।
শুভ্র ঢুকে একবার মিতার দিকে তাকিয়ে তারপর শ্রীয়াঙ্কাকে বলে-আমার অফিসে একটু কাজ আছে।আমি একটু যাচ্ছি।আর রমাদি মনে হয় পাশের বাড়িতে আছে আমি পাঠিয়ে দিচ্ছি।ও রান্না করে গেলে তোমরা খেয়ে নিও।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলতে যাবে তখন শুভ্র মিতাকে বলে-তোর দিদিকে ফোন করে দিয়েছি ও দুদিনের মধ্যে আসবে।
শুভ্র বেরিয়ে যাচ্ছে তখন শ্রীয়াঙ্কা পিছন পিছন এসে বলে-আপনি কিছু খাবেন না।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কথায় শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।শুভ্রর চোখের দিকে তাকাতে পারে না শ্রীয়াঙ্কা।মাথা নীচু করে নেয়।
শুভ্র-আমি অফিসে কিছু খেয়ে নেব।আর আমার চিন্তা না করলেও হবে।
এই বলে শুভ্র বেরিয়ে যায়।আর শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে।এদিকে রমা এসে রান্না করে যায়।সন্ধ্যার দিকে শুভ্র ফিরে আসে।চেঞ্জ করে নিজের স্টাডিরুমে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা একবার স্টাডিরুমের কাছে এসেও চলে যায়।রাতের দিকে শুভ্র আসে।মিতা তখন টি ভি দেখছিল।আর শ্রীয়াঙ্কা নিজের ঘরে পড়া করছিল।সুপর্ণা ফোন করে বলেছে ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষার রুটিন দিয়েছে।কিন্তু পড়তে বসে তার মন শুধু অন্য দিকে চলে যাচ্ছিল।
শুভ্র মিতাকে দেখে শ্রীয়াঙ্কাকে খুঁজতে থাকে।ঘরে এসে দেখে শ্রীয়াঙ্কা বইয়ের দিকে তাকিয়ে চুপ করে বসে আছে।বই যে পড়ছে না বোঝা যাচ্ছে।
রাত হয়েছে।খেয়ে নেবে চল।মিতা ওখানে বসে আছে-শুভ্র
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কা চমকে গিয়ে বলে-হ্যাঁ,হ্যাঁ যাচ্ছি।
শুভ্র  আর কিছু বলে না।চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা উঠে এসে।একসাথে সবাই খেয়ে নেয়।শ্রীয়াঙ্কা আর মিতা অন্য ঘরে শোয়।আর শুভ্র অন্যঘরে।শ্রীয়াঙ্কা তার দুচোখের পাতা এক করতে পারে না।শুভ্রর সাথে সে কথা বলতে পারছে না।আর শুভ্রর অফিস যাওয়ার আগে যে কথাটা বলে যায় তা শ্রীয়াঙ্কাকে ভাবাচ্ছে।আর তার দু চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পরছে।
পরদিন শুভ্র অফিস যাওয়ার আগে খেতে বসে মিতার দিদিকে ফোন করছে।শ্রীয়াঙ্কা একটু দূরে দাঁড়িয়ে শুনছে।ফোন ধরে না।শ্রীয়াঙ্কা এগিয়ে আসে।মিতা তখন ওখানে ছিল না।
শ্রীয়াঙ্কা এগিয়ে এসে বলে-মিতার দিদি কবে আসবে?
শুভ্র খেতে খেতে বলে-কাল বলেছে কাল পরশু আসবে।
শ্রীয়াঙ্কা-বলছি কী ওর দিদিকে যখন ফোন করবেন সব ফোনগুলো রেকর্ড করে রাখবেন তাহলে----
শ্রীয়াঙ্কা দেখে শুভ্র তার দিকে তাকিয়ে।
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে আছে।
শুভ্র চোখ সরিয়ে নিয়ে বলে-কেন?
শ্রীয়াঙ্কা-মিতার বাবা ভালো নয়।কখন কোন দিক থেকে বিপদ আসে তাই বললাম।
শুভ্র কিছু বলে না।চুপ করে খেয়ে অফিসে বেরিয়ে যায়।যাওয়ার সময় শুধু বলে-তুমি কী আজ বার হবে?
শ্রীয়াঙ্কা-না,আমার সামনে পরীক্ষা তাই----
শুভ্র আর দাঁড়ায় না বেরিয়ে যায়।আর যেতে যেতে বলে-বাড়ি থেকে একদম বার হবে না।
শ্রীয়াঙ্কার খুব কষ্ট হয়।সে বুঝতে পারে শুভ্র রেগে আছে।সেদিনের সেই কথা,তাকে বারবার বোঝানোতে শুভ্র তার আর কোনো কথা শুনতে চাইছে না।শ্রীয়াঙ্কা ঠিক করে এইসব মিটে গেলে সে শুভ্রকে সব বলবে।
শ্রীয়াঙ্কা ঘরে চলে যায়।মিতাকে খাবার দিয়ে সে নিজে পড়তে বসে।কিন্তু পড়তে পড়তে আবার উঠে এসে মিতার কাছে যায়।শ্রীয়াঙ্কা দেখে মিতা চুপ করে বসে।
শ্রীয়াঙ্কা পাশে গিয়ে বসে বলে-তুমি বই পড়তে ভালোবাসো?
মিতা মাথা নাড়ে।
শ্রীয়াঙ্কা-এসো আমার সাথে।
এই বলে সে মিতাকে শুভ্রর স্টাডি রুমে নিয়ে যায়।
বলে-দেখ,তুমি কোন বইটা পড়তে চাও।
মিতা অবাক হয়ে-এতো বই!
শ্রীয়াঙ্কা হেসে বলে-তুমি দেখ কোন বইটা পড়বে।
মিতা দেখতে থাকে।দেখতে দেখতে সে একটু অন্যদিকে গিয়ে বলে-এই বইটা।
শ্রীয়াঙ্কাও যায়।শ্রীয়াঙ্কা দেখে এইদিকের বইগুলো একটু ছোটোদের।সে একবার এসেছিল এইদিকে।তারপর আর আসেনি।
শ্রীয়াঙ্কা মিতাকে বইটা দেয়।কিন্তু বইটা নিতে গিয়ে একটা কী নীচে পড়ে যায়।সে মিতাকে বইটা দিয়ে নীচে পরা জিনিসটা হাতে তুলে নেয়।কিন্তু জিনিসটা দেখে সে স্তব্ধ হয়ে যায়।
একটা পেন প্যাকিং করা।ওপরে লেখা শুভ্র স্যর।শ্রীয়াঙ্কা দেখে বুঝতে পারে এ কলেজে দেওয়া তাদের পেন।আর উপরে মনির হাতের লেখা।শ্রীয়াঙ্কা দেখে পেনটা যেভাবে দেওয়া সেইভাবেই আছে।প্যাকিং খোলা হয়নি।আর দেখে মনে হয় না এটা অযত্নে ছিল।শ্রীয়াঙ্কা দু চোখ জলে ভরে যায়।
মিতা-ও বৌদি কী হল?
শ্রীয়াঙ্কা আড়ালে চোখের জল মুছে বলে-না,কিছু নয়।চল।
এই বলে সে পেনটা রেখে দিয়ে বেরিয়ে আসে।
শ্রীয়াঙ্কা সারাদিন নিজের পড়া করে।আর মিতা কখনও বই পড়ে আবার কখনও চুপ করে বসে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারে মিতার সময় কাটছে না।
সন্ধ্যার আগে শ্রীয়াঙ্কা মিতাকে বলে-চল মিতা ফুচকা খেতে যাবে?
মিতা আনন্দে মাথা নাড়ে।
দুজন বেরিয়ে পরে।কাছাকাছি ফুচকার দোকানটা বসেনি।তাই তারা একটু দূরেই যায়।
শ্রীয়াঙ্কা-কাকু ভালো করে ঝাল দিয়ে ফুচকা দাও।
মিতা-তুমি ঝাল খাও বৌদি।
শ্রীয়াঙ্কা-ঝাল না দিয়ে ফুচকা খাওয়াই বৃথা।
মিতা হাসে।
দুজন ফুচকা খেতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা ফুচকা খেতে খেতে অন্যদিকে একটি ছেলের উপর নজর পরে।প্রথম সে বুঝতে পারে নি।তারপর ভালো ভাবে দেখে সে বুঝতে পারে সেই ছেলেটি যে শুভ্রর বাবাকে মারতে গিয়েছিল।
শ্রীয়াঙ্কা দেখে তার সাথে আরো তিনজন।তাদের দিকেই আড়ে আড়ে তাকাচ্ছে।শ্রীয়াঙ্কা কী করবে বুঝতে পারে না।হাত পা তার ভয়ে কাঁপতে থাকে।এদিকে ফুচকার দোকানদারকে বলে আর খাবে না।টাকা মিটিয়ে দেয়।এদিকে দেখে তাদের সামনে একটা অটো এসে দাঁড়ায়।আর ভিতরের লোকগুলো নেমে যায়।আর শ্রীয়াঙ্কা তখন দেরি না করে উঠে বলে-দাদা  যাবেন তো?
অটো লোকটি-যাবো তো।কিন্তু কোথায় যাবেন?
শ্রীয়াঙ্কা ঠিকানা বলে।লোকটি অটো স্টার্ট দেয়।এদিকে পিছনের ছেলেগুলো দৌড়ে আসতে থাকে।তার মধ্যে অটো বেরিয়ে যায়।
মিতা-কী হয়েছে বৌদি?
শ্রীয়াঙ্কা মিতাকে বলে
শ্রীয়াঙ্কা বাড়ির সামনে এসে অটোকে টাকা মিটিয়ে বাড়ির ভিতর ঢুকবে তখন দেখে শুভ্র এসে গেছে।শ্রীয়াঙ্কা তাড়াতাড়ি করে বাড়ির বাইরের দরজা  লাগিয়ে দেয়।
শ্রীয়াঙ্কা হাঁপাতে থাকে।
শুভ্র-তোমরা কোথায় গিয়েছিলে?
এদিকে মিতা সব বলে দেয়।
শুভ্র শুনে ভীষণ রেগে যায়।মিতাকে বলে ঘরে যেতে।মিতা চলে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা তখন জল খাচ্ছে।শুভ্র এসে বলে-তোমরা বাইরে বার হয়েছিলে কেন?
শ্রীয়াঙ্কা-না,মানে মিতার মন খারাপ তাই----
শুভ্র-তাই মিতার মন ভালো করতে বাইরে যেতে হল।বাড়ি থেকে মন ভালো করা যেত না।
শ্রীয়াঙ্কা দেখে শুভ্র রেগে গেছে।তাই সে আর কথা বাড়ায় না।কারন সে আর ঝগড়া করতে চায় না।
শ্রীয়াঙ্কা তাই চলে যাচ্ছে শুভ্র হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কার হাত ধরে টানে।আর শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর একবারে কাছে এসে পরে।
শুভ্র-কী ভাব তুমি নিজেকে।কারোর কথা শুনবে না।যা ইচ্ছা তাই করবে।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
শুভ্র-কী হল চুপ করে আছো কেন?তুমি বোঝোনা বাইরে গেলে কী হবে।
শ্রীয়াঙ্কা তাও কিছু বলে না।শুভ্রও চুপ করে যায়।দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকে।শুভ্র হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা বসে পরে।শুভ্র একেবারে স্টাডি রুমে চলে যায়।সেও চুপ করে বসে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা ঘরে চলে আসে।জানলার কাছে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।শুভ্রর মুখটা মনে পরতে থাকে।আর শুভ্রর বলা কথাগুলো মনে পরে।সত্যি সে কী করে মিতাকে নিয়ে বাইরে গেল।মিতার যদি কিছু হয়ে যেত তাহলে তো শুভ্রর-----
শ্রীয়াঙ্কা বলে-না,না ওনার কিছু হবে না।আমি হতে দেব না।
এদিকে সেইদিন রাতে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্র কেউ কারোর সাথে কথা বলে না।শ্রীয়াঙ্কা রাতে খায় না।মিতাকে খাইয়ে নিয়ে ঘরে চলে আসে।শুভ্র তা দেখতে পেয়ে নিজেও খায় না।
পরদিন শুভ্র অফিস যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে হঠাৎ বাইরে থেকে-এটা কী শুভ্রর বাড়ি।
শুভ্র বেরিয়ে আসে।শ্রীয়াঙ্কা শুনতে পেয়ে সেও বেরিয়ে আসে।
শুভ্র দেখে পুলিশ।সাথে নগেন কাকা।
শুভ্র-আমী শুভ্র।
ও আপনি।চলুন থানায় চলুন।----
কেন?-শুভ্র
ওনার মেয়েকে আটকে রাখার অপরাধে।----
শ্রীয়াঙ্কার শুনে ভয় করতে থাকে।
কিন্তু আমি তো মিতাকে জোর করে আটকে রাখি নি।উনি মিতার----শুভ্র 
শুভ্রর কথা শেষ করতে দেয় না নগেন।
নগেন-মিথ্যা বলছে।এখন সব বানিয়ে বানিয়ে বলবে।
চলুন থানায় চলুন।----
শ্রীয়াঙ্কা কী করবে বুঝতে পারছে না।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কাছে গিয়ে বলে-বলছি কী আপনি কী ওর দিদির ফোন রেকর্ড----
এই বলে সে শুভ্রর দিকে তাকায়।
শুভ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে-করেছি।
শ্রীয়াঙ্কার চোখ মুখ উজ্বল হয়ে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা-ফোন?
শুভ্র-ঘরে।
শ্রীয়াঙ্কা ছুটে ঘরে চলে যায়।ফোনটাকে নিয়ে  রেকর্ডার খুলতে খুলতে আসে।ততক্ষণে শুভ্রকে থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ওরা তৈরি।আর মিতা চুপ দাঁড়িয়ে।তাকে পুলিশ জিজ্ঞাসা করছে।কিন্তু নগেন তার সামনে দাঁড়িয়ে।মিতা বারবার তার বাবার দিকে দেখছে।আর নগেন ইশারাতে তাকে কথা বলতে বারণ করছে।
শ্রীয়াঙ্কা পুলিশকে ফোনটা দেখায়।সবাই দাঁড়িয়ে শুনতে থাকে।এদিকে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কা দেখতে থাকে।সে পুলিশকে সব বলছে।
কিন্তু ওনাকে থানায় যেতে হবে।ওর দিদি না আসা পর্যন্ত----পুলিশ
এদিকে মিতার দিদি জ্যামাই বাবু তখনই শুভ্রর বাড়িতে আসে।শুভ্র তার বাড়ির ঠিকানা আগে বলেছিল।
মিতা তার দিদিকে দেখে ছুটে গিয়ে-দিদি দেখ বাবা শুভ্রদাকে পুলিশে ধরিয়ে দিচ্ছে।
মিতার দিদি-কেন?
পুলিশ এগিয়ে এসে-আপনি মিতার দিদি।
হ্যাঁ-মিতার দিদি।
আপনার বাবা এনাকে আপনার বোনকে জোর করে এনেছে এই অভিযোগ করছে-পুলিশ
না,আমাকে কেউ জোর করে আনে নি।-মিতা চিল্লিয়ে বলে।
মিতার দিদি-না,শুভ্র তো আমার বোনকে জোর করে আনে নি।
এই বলে সে তার বাবার সব কথা বলে।মিতার বিয়ে দেওয়া শুভ্র কীভাবে আটকিয়েছে সব সে পুলিশকে বলে।আর বলে শুভ্রর কোনো দোষ নেই।ওর জন্যই আমার বোন আজ বেঁচে গেছে।
পুলিশ সব শুনে শুভ্রকে ছেড়ে দেয়।আর নগেনকে বলে যায় পরের বার এরকম করলে সে আর ছাড় পাবে না।আর মিতার দায়িত্ব তার দিদিকে দিয়ে চলে যায়।নগেন ভয়ে চলে যায়।যেখানে তার মেয়েরা তার বিরুদ্ধে সে আর কী করতে পারে 
মিতার দিদি শুভ্রর কাছে তার বাবার জন্য ক্ষমা চায়।তারপর মিতা তার দিদির সাথে চলে যায়।
শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কা কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।যেন একটা ঝড় তাদের উপর দিয়ে চলে গেল।এদিকে শুভ্র ঘড়ি দেখে আর বলে-আমার দেরি হয়ে গেল।আজ অফিসে যেতেই হবে তাই----
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা তার দিকেই তাকিয়ে।
শুভ্র তাকিয়ে থাকে শ্রীয়াঙ্কার দিকে।হঠাৎ শুভ্রর ফোনে ফোন আসে।তার হুঁশ ফেরে।মমতা দেবীর ফোন।সে মাকে বলে যে মিতার দিদি ওকে নিয়ে গেছে।কিন্তু পুলিশের কথা বলে না।জানে শুনলে তার মা চিন্তা করবে।
শুভ্র কথা বলে অফিসে যাওয়ার জন্য বেরিয়ে যাচ্ছে।তখন শ্রীয়াঙ্কা বলে-আমার আজ ইউনিভার্সিটি যেতে হবে।সামনে পরীক্ষা তো তাই একটু দরকার----
শ্রীয়াঙ্কা আর কিছু বলতে পারে না।শুভ্র তখন ঘুরে তার দিকে তাকায়।
শ্রীয়াঙ্কা কেটে কেটে বলে-তাই বলছি যদি আজ পৌঁছে  দিতেন।না মানে যদি আপনার অসুবিধা না থাকে।
শুভ্র কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে-হুম,চল।
দুজন বাইকে বেরিয়ে যায়।দুজনেই চুপ করে আছে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে ফোন রেকর্ডের জন্য ধন্যবাদ দিতে চায়।কিন্তু কিছু বলতে পারছে না।শুভ্র ভাবতেই পারেনি শ্রীয়াঙ্কা এভাবে তার পাশে দাঁড়াবে।মমতা দেবীর কথাও তার মনে পরে।সবার সামনে কী ভাবে সে নগেনকে ফিরিয়ে দিয়েছিল।শুভ্র ভাবে শ্রীয়াঙ্কা মুখে হয়তো তাকে বলছে ভালোবাসে না।কিন্তু মনে হয়তো----।মিতার ঘটনায় শুভ্রর মনে এই ভাবনাকে জাগিয়ে তোলে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা তার মনের কথা বলার জন্য আকুল হয়ে উঠেছে।কিন্তু কিছু বলতে পারছে না।
শ্রীয়াঙ্কার ইউনিভার্সিটি এসে গেলে সে নেমে যায়।শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে।শুভ্রও দাঁড়িয়ে থাকে।শুভ্র বলে-ওই ফোন রেকর্ডের ব্যাপার‌টা----
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।শুভ্র চুপ করে যায়।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে বলে- আ-মা-র কিছু ব-লার ছিল----
শুভ্র-কী?
শ্রীয়াঙ্কা বলতে যাবে কিন্তু শুভ্রর চোখের দিকে তাকিয়ে সে আর কিছু বলতে পারে না।শুভ্রকে কীভাবে সে বারবার অপমান করেছিল তা মনে পরে যায়।আর তার মুখ থেকে কথা বার হয় না।
শুভ্র-কী হল?
শ্রীয়াঙ্কা-না,আমি মানে----
শুভ্র ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলে-আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে তাই বলছি অফিস থেকে ফিরে শুনব।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ।
শুভ্র-তোমারও দেরি হয়ে যাচ্ছে তাই বললাম----
শ্রীয়াঙ্কা-ঠিক আছে।
এই বলে সে চলে যায়।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কার মুখে অদ্ভুত এক হাসি লেগে।সে শ্রীয়াঙ্কার চলে যাওয়ার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে চলে যায়।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কার মন সারাদিন এক আনন্দে ভরে থাকে।বাড়ি গিয়ে সে শুভ্রকে সব বলবে।আর তখন কী হবে সেই ভেবে সেই নিজেই মনের আনন্দে ভুল কাজ করতে থাকে।যেমন সুপর্ণাকে মাঝে মাঝে জড়িয়ে ধরে,মনিকে গাল টিপে যায়।ওরা অবাক হতে থাকে।
সুপর্ণা-আজ শ্রীর মন যে খুব ভালো দেখছি।
মনি-হ্যাঁ রে।
শ্রীয়াঙ্কা হাসতে থাকে।
মনি-এই চল আমরা আজ ছুটির পর কোথাও ঘুরে আসি।অনেক দিন আমরা কোথাও যায় না।
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যাঁ,হ্যাঁ চল।
সুপর্ণাও বলে যাবে।
তারা ছুটির পর বেরিয়ে পরে।এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করতে থাকে।
মনি তো সবার আগে চলেছে।শ্রীয়াঙ্কা আর সুপর্ণা পিছনে পিছনে।হঠাৎ তাদের সামনে কৌশিক এসে হাজির হয়।ওকে দেখে দুজনেই চমকে যায়।এতোদিন পর কৌশিককে দেখে শ্রীয়াঙ্কা বলে-কী রে কেমন আছিস?
কৌশিক-আমার কথা বাদ দে।তুই কেমন আছিস বল?
শ্রীয়াঙ্কা-ভালো।
কৌশিক হেসে বলে-ভালো না খারাপ?
কৌশিক শ্রীয়াঙ্কাকে ভালো করে দেখে বলে-ও তোর বিয়ে হয়ে গেছে।তা বরটা কে?শুভ্র স্যর নয় তো।
সুপর্ণা কৌশিকের কথায় অবাক হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে থাকে।
কৌশিক-সেদিনের কথা আমি সব শুনেছি।তা স্যারের অপমান কেমন লাগল।আমি এতোদিন তোর পিছনে পরে ছিলাম।আর তুই----
এই বলে কৌশিক হাসতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা চোখ জ্বালা করতে থাকে।সুপর্ণা তখন আর বন্ধুর অপমান সহ্য করতে পারে না।সে কিছুটা শুনেছিল।কিন্তু বিশ্বাস করে নি।পরে শ্রীয়াঙ্কার বিয়েতে শুনেছিল শ্রীয়াঙ্কার ছোটোবেলাতে বিয়ে ঠিক হয়েছিল।তাই আর কিছু সে জানতে চায়নি।কারন শ্রীয়াঙ্কাকে সে কষ্ট দিতে চায় না।
সুপর্ণা-কী বলছিস রে তুই?তোর মাথা ঠিক আছে।তার মানে তুই এসব কলেজে রটিয়েছিলিস যে শ্রীয়াঙ্কা স্যারের কাছে অপমানিত হয়েছে।
কৌশিক-কী বলছিস তুই?
সুপর্ণা-ঠিকই বলছি।
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কা আর শুভ্রর বিয়ের ফোটো তার ফোন থেকে বার করে কৌশিককে দেখায় আর বলে-দেখ কার সাথে শ্রীর বিয়ে হয়েছে।দেখেছিস আর তুই কোনদিনের কথা বলছিস।এই সব ভুল কথা কে বলেছে।আর কোনোদিন যদি শুনেছি তাহলে তোকে আমি দেখে নেব।
কৌশিকের সব মাথার উপর দিয়ে যায়।সে কিছু বুঝতে পারে না।
সুপর্না-কী রে যাবি এখান থেকে।
কৌশিক চলে যায়।আর ভাবে তাহলে সে যা শুনেছিল সব ভুল।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা বলে-আমি বাড়ি যাচ্ছি।
সুপর্না-এই শ্রী শোন।
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা চলে যায়।তার খুব কষ্ট হচ্ছে।যে কোনো ভাবে সে বাড়ি ফিরে আসে।বাড়ি ফিরেই সে ভেঙ্গে পরে।দু চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে আসে।জানলার ধারে দাঁড়িয়ে শুধু চোখের জল মুছতেই থাকে।
এদিকে সন্ধ্যা হয়ে যায়।শুভ্র ফিরে আসে।সারাদিন সে ভেবেছে শ্রীয়াঙ্কা আজ কী বলবে তাকে।
বাড়ি ফিরে সে শ্রীয়াঙ্কা খুঁজতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কাকে দেখতে পেয়ে সে এগিয়ে গিয়ে বলে-বলছি তুমি সকালে কী বলতে চেয়েছিলে?
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথায় শুভ্রর কথাতে শুভ্রর দিকে ফেরে।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কার চোখ দুটো লাল হয়ে গেছে।
শুভ্র-তোমার কী----
শ্রীয়াঙ্কা কিছু শোনে না।ঘর থেকে বেরিয়ে সে অন্য ঘরে চলে যায়।আর নিজের ব্যাগ টা নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।
শুভ্র বুঝতে পারে না।শ্রীয়াঙ্কার কী হয়েছে।আর শুভ্র বুঝতে পারে শ্রীয়াঙ্কা কাঁদছিল কিন্তু কেন।তাই সেও শ্রীয়াঙ্কার সাথে কথা বলতে যায়।
বাইরে এসে দেখে শ্রীয়াঙ্কা বেরিয়ে যাচ্ছে।
শুভ্র দেখতে পেয়ে বলে-এখন তুমি কোথায় যাচ্ছ?
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।
শুভ্র-কী হল বল।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু না বলে চলে যাচ্ছে।তখন শুভ্র পথ আটকিয়ে বলে-কী হল, এই সময় তুমি কোথায় যাচ্ছ?
শ্রীয়াঙ্কা-মাসির বাড়ি।
এই বলে সে চলে যেতে থাকে।
শুভ্র-কিন্তু এখন কিছু কী হয়েছে?আমি কী তোমার সাথে যাব?
শ্রীয়াঙ্কা দাঁড়িয়ে পরে বলে-না,কিছু হয়নি।আর আপনাকে আমার কথা না ভাবলেই চলবে।
এই বলে শ্রীয়াঙ্কা বেরিয়ে যায়।শুভ্রর মাথায় কিছু ঢোকে না।শ্রীয়াঙ্কা চলে যায়।শুভ্র ভাবতে থাকে কী হল,সকালে যে এতো ভালো ভাবে কথা বলল।সে এরকম ভাবে----।শুভ্র কিছু বুঝতে পারে না।সে বসে পরে।তার কাছে সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা মাসির বাড়ি আসে।মাসি জিজ্ঞাসা করলে বলে তার খুব মাসির কথা মনে পরছে। তার মাসি বিশ্বাস করে।কারন সে তো আগে মাসির বাড়ি কয়েকদিন ছিল।আর শ্রীয়াঙ্কা তার মাসিকে খুব ভালোবাসে।আর মাসিও।তার মাসি শুভ্র কেন আসল না জিজ্ঞাসা করলে বলে তার কাজ আছে।মাসি জানে শুভ্র একটু কাজপাগল।তিনি শুনেছিলেন শ্রীয়াঙ্কার সাথে তার বাড়িতে গিয়েও সে অফিসে গিয়েছিল।শ্রীয়াঙ্কা ঘরে চলে যায়।এদিকে শুভ্র চিন্তা করতে থাকে।তাই  শ্রীয়াঙ্কাকে ফোনে ফোন করতে থাকে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।
শ্রীয়াঙ্কা ঘরে এসে ঘর অন্ধকার করে বসে থাকে।কৌশিকের কথাগুলো সে ভাবতে থাকে।রাত হয়ে গেলে মাসির ডাকে সে কোনোমতে খেয়ে চলে আসে।কিন্তু ঘুমাতে পারে না।রাত শেষে ঘুমিয়ে পরে।কিন্তু সকালে যখন ঘুম ভাঙ্গে তখন তার আগেরদিনের কথা মনে পরে যায়।আর মনে পরে কীভাবে সে শুভ্রর ওখান থেকে চলে এসেছে।অনুভব করে সে আবার ভুল করে ফেলেছে।কৌশিকের উপর রাগ দেখাতে গিয়ে সে শুভ্রর সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে।
আসলে শ্রীয়াঙ্কার তখন হুঁশ ছিল না।কৌশিকের কথাগুলো আবার তাকে পুরনো কথা মনে করিয়ে দিয়েছিল।তাই রাগে সে চলে আসে।কিন্তু শান্ত হলে সে বুঝতে পারে সে ভুল করেছে।
শ্রীয়াঙ্কার দু চোখ জলে ভরে যায়।মনে মনে বলতে থাকে-কী করে আমি পারলাম আবার ওনাকে কষ্ট দিতে।কেন কৌশিকের কথায় আমি কষ্ট পেয়ে ওনাকে ছেড়ে এলাম।এবার আমি কী করব।কী করে আমি ওনার সামনে দাঁড়াব।আমি যে কাল ওনাকে সব বলে দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করে ছিলাম।কিন্তু কেন আমি এখানে এলাম।কেন,কেন।
শ্রীয়াঙ্কা বালিশটা আঁকড়ে ধরে।চোখের জলে বালিশ ভিজতে থাকে।

আবেগি ভালোবাসার গল্প পর্ব ২৫ - শেষ পর্ব 

শ্রীয়াঙ্কা বালিশটা আঁকড়ে ধরে।চোখের জলে বালিশ ভিজে যেতে থাকে।
এদিকে শুভ্র সারারাত ঘুমাতে পারে নি।শ্রীয়াঙ্কাকে ফোন করেও ফোনে পায়নি।শুভ্রর মনে শুধু একটাই প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে শ্রীয়াঙ্কা কী বলতে চেয়েছিল।আর কী জন্যই সে কাল চলে গেল।শ্রীয়াঙ্কার চিন্তায় শুভ্র সারারাত বসে কাটিয়েছে।সকালে ক্লান্ত শরীর নিয়ে সে অফিস চলে গেছে।যাওয়ার আগেও শ্রীয়াঙ্কার ফোনে কল করতে ভোলে নি।
শ্রীয়াঙ্কা ফোন ধরে নি।কারন ফোনটা সে যে ব্যগেই রেখেছিল তা সেখানেই রয়ে গেছে।সকালে শ্রীয়াঙ্কা নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে নিজেকে দোষারোপ করতে থাকে।মাসি তাকে ব্রেকফ্রাস্ট করতে ডাকে সে না করে দেয়।কিন্তু মাসি আবার ডাকে।তাতে শ্রীয়াঙ্কা খেতে যায়।কিন্তু খাবার খাওয়ার চেয়ে বেশি নষ্ট করে।ঘরে সে চুপ করে বসে থাকে।তারপর ভাবে শুভ্রকে ফোন করবে।তাই ফোনটা খুঁজতে থাকে।ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে।শ্রীয়াঙ্কা দেখে শুভ্র অনেকবার তাকে ফোন করেছে।তার দুচোখ জলে ভরে যায়।সে তাড়াতাড়ি করে ফোন করতে যায়।কিন্তু ভাবে হয়তো সে অফিসে বার হয়ে গেছে।ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সত্যি বেলা হয়ে গেছে।তাই শ্রীয়াঙ্কা ফোন রেখে দেয়।ঠিক করে এখনই বাড়ি ফিরে যাবে।তাই সে ড্রেস পরতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কার মাসি অন্নপুর্ণা দেবী ঘরে এসে শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে-কী রে কোথায় চললি?
শ্রীয়াঙ্কা-বাড়ি।
কাল এলি আর আজ সকালেই চলে যাবি-অন্নপুর্ণা দেবী।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে রেডি হতে থাকে।
সত্যি করে বলতো শুভ্রর সাথে তোর কী কিছু হয়েছে?-অন্নপুর্ণা দেবী।
মাসির কথায় সে একটু চমকে যায়।তারপর হেসে বলে-কী হবে মাসি।কিছু হয়নি।কাল তোমার কথা মনে পড়ছিল তাই চলে এলাম।
অন্নপুর্ণা দেবী-তাহলে মনে যখন পড়েছে মাসির কাছে দুদিন থেকে যা।
শ্রীয়াঙ্কা-দু দিন!
শ্রীয়াঙ্কা ভাবে সে এখন চলে যেতে যায়।আর মাসি বলে দু দিন।
শ্রীয়াঙ্কা-না,মাসি।আমি পরে আসব।
অন্নপুর্ণা দেবী-আচ্ছা আজ দুপুরে রান্নাটা করি খেয়ে যাস।
শ্রীয়াঙ্কা আর না করে না।
এদিকে মাসি চলে যায়।সে চুপ করে জানলার ধারে গিয়ে দাঁড়ায়।হঠাৎ ফোনের শব্দে সে চমকে ওঠে।আর ভাবে হয়তো শুভ্র ফোন করেছে।তাই সে আনন্দে নাম না দেখেই ফোন ধরে।
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যালো
ওপার থেকে-হ্যালো,কী রে,কেমন আছিস।কাল ওভাবে চলে গেলি।আর তোকে কতবার ফোন করেছি ফোন ধরিস নি কেন?----
শ্রীয়াঙ্কা ফোনের ওপারের গলা শুনে নিরাশ হয়ে যায়।
হ্যাঁ,বল-শ্রীয়াঙ্কা
ফোনটা সুপর্না করেছে।কাল ও শ্রীয়াঙ্কাকে ফোন করেছিল।কিন্তু পায়নি।
এই আমি তোর কাছে আসছি।-সুপর্না
না রে আমি ঠিক আছি।-শ্রীয়াঙ্কা
তুই চুপ কর।আমি আর মনি তোর বাড়িতে যাচ্ছি।-সুপর্না
আমি মাসির বাড়ি আছি।-শ্রীয়াঙ্কা
মাসির বাড়ি!-সুপর্না
হ্যাঁ-শ্রীয়াঙ্কা
আচ্ছা ঠিক আছে।আমরা মাসির বাড়িতেই যাচ্ছি।-সুপর্না
শ্রীয়াঙ্কার মাসির বাড়িতে ওরা অনেকবার এসেছিল।তাই চিনতে তাদের ভুল হয় না।সহজেই চলে আসে।অন্নপূর্ণা দেবী ওদেরকে দেখে খুব খুশি হয়।ওরা শ্রীয়াঙ্কার কাছে যায়।মনি কালকের ব্যাপারে কিছু জানে না।সে বলে-কাল তোর নাকি শরীর খারাপ করেছিল তাই তুই চলে এসেছিস।তা এখন কেমন আছিস?
শ্রীয়াঙ্কা সুপর্নার দিকে তাকায়।সুপর্না ইশারা করে।
হুম,ভালো আছি।-শ্রীয়াঙ্কা 
তোর পরীক্ষার প্রিপারেশন কেমন?-মনি
সুপর্না দেখতে থাকে শ্রীয়াঙ্কার মন খারাপ।কথা বলার ইচ্ছা নেই।
সে তাই মনিকে বলে-উফ্ফ,চুপ কর তো।শুধু পরীক্ষা আর পরীক্ষা আর অন্য কোনো কথা নেই।
মনি একটু ঘাবরে যায়।তারপর বলে-তাহলে অন্য কথা বলি।
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কাকে বলে-তোর বিয়ের গল্প বল।কীভাবে শুভ্র দার  সাথে বিয়ে ঠিক হল?বল বল 
এই বলে সে হাসতে থাকে।
সুপর্না ভাবে কী বিপদে পড়লাম।এক কথা বলতে বারণ করলাম এ আবার অন্য কথা ধরেছে।সে শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।শ্রীয়াঙ্কা মনির কথায় কিছু বলে না।
সুপর্না বলে-তুই জানিস না যেন।ওদের তো ছোটোবেলাতেই বিয়ে ঠিক হয়েছিল।
মনি-হ্যাঁ,শুনেছি।কিন্তু----
সুপর্না-এই কিন্তু আবার কী?
মনি-আসলে জানিস তো আমাদের কলেজে যখন ফাইনাল পরীক্ষা হল তখন পরীক্ষার আগে তো শ্রী আর কলেজ যায়নি।আমি আর তুই যেতাম তখন শুভ্র দা কয়েকবার জিজ্ঞাসা করেছিল যে শ্রী কেন কলেজ যাচ্ছে না,শরীর খারাপ কিনা,ও কেমন পড়াশোনা করছে এইসব জিজ্ঞাসা করেছিল।আমি তখন ওতো বুঝতে পারিনি।কারন ও কলেজে ভালো নম্বর পেত।তাই কলেজ না গেলে অনেক স্যার ম্যডাম ওর খোঁজ নিত।তাই আমিও তাই ভেবেছিলাম।কিন্তু শুভ্রদার সাথে বিয়ে হওয়ার পর ভাবলাম হয়তো ওদের হয়তো চেনাজানা ছিল।তাই ----
শ্রীয়াঙ্কা মনির কথা শুনে বুকের ভিতর কষ্ট অনুভব করে।সে ভাবতে থাকে আপনি সত্যি আমাকে----।কেন যে আমি কাল এলাম এখানে।কেন আমি প্রথম থেকে আপনার কথা বিশ্বাস করলাম না।আমি আর এখানে থাকতে পারছি না।আমি একবার আপনার সামনে দাঁড়াতে চাই।
এদিকে সুপর্না মনিকে ধমক দিয়ে বলে-এই তুই চুপ করবি।যতসব উল্টো পাল্টা কথা।পরীক্ষার সময় এখন এইসব নিয়ে ভাবছিস।
মনি সুপর্নার বকাতে মুখ ছোটো করে বলে-তুই তো বললি অন্য কথা বলতে।তাই তো আমি----।তোরা সবসময় আমাকে বকিস।
শ্রীয়াঙ্কা দেখে মনি কষ্ট পেয়েছে।সে বলে-কী রে সুপর্না ওকে বকছিস কেন?ওর মত ভালো মেয়ে কটা হয় বলত।
মনি হেসে ফেলে।আর সাথে শ্রীয়াঙ্কাও।সুপর্না শ্রীয়াঙ্কার হাসি দেখে স্বস্তি পায়।এদিকে মনির বাড়ি থেকে ফোন আসলে সে উঠে কথা বলতে যায়।
তখন সুপর্না বলে-মনি যা বলল তা সত্যি।
শ্রীয়াঙ্কা সুপর্ণার কথায় সুপর্ণার দিকে তাকায়।
সুপর্না আবার বলতে শুরু করে-শুভ্রদাও আমাকে কলেজে তোর কথা জিজ্ঞাসা করেছিল।আমিও মনির মতো ভেবেছিলাম।কিন্তু----।আমি কী বলতে চাইছি শ্রী তুই বুঝতে পারছিস।সেদিনে কী ঘটেছিল আমি তোর কাছে কোনোদিন জানতে চাইব না।কিন্তু এটা ঠিক সেদিনের কথায় তুই কী এখনও শুভ্রদার সাথে----
শ্রীয়াঙ্কা-না সেদিনের সেই কথাতে আমি হয়তো কষ্ট পেয়েছিলাম তারপর বিয়ের মন্ডপে ওনাকে দেখে আমি----।
শ্রীয়াঙ্কা আর কিছু বলে না।চুপ করে যায়।সুপর্না সব বুঝতে পারে।যে শুভ্রদার সাথে বিয়ে হচ্ছে তা শ্রী জানত না।
শ্রীয়াঙ্কা আবার বলতে শুরু করে-আমি ভীষণ খুশি রে সুপর্না।যে ওনার মতো মানুষকে পেয়েছি।আমি সত্যিই খুব ভাগ্যবতী।
সুপর্না দেখে শ্রীয়াঙ্কার চোখে জল।
সুপর্না-তোদের মধ্যে সব----
শ্রীয়াঙ্কা-সব ঠিক আছে।আমি খুব খুশি আছি রে।আর তোদের মতো বন্ধুদের কাছে পেলে কেউ কী খারাপ থাকে।তুই যেভাবে কাল কৌশিককে----
সুপর্না-ওসব কথা বাদ দে তো।
এই বলে সুপর্না শ্রীয়াঙ্কার হাতটা শক্ত করে ধরে।শ্রীয়াঙ্কাও সুপর্নার হাতটা ধরে।এদিকে মনি এসে বলে-বাবা!কীসের শপথ নিচ্ছিস রে তোরা?
মনির কথায় শ্রীয়াঙ্কা আর  সুপর্না হাসতে থাকে।
এদিকে দুপুর হয়ে যায়।অন্নপুর্ণা দেবী তাদের ডেকে নিয়ে যায়।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার মন ওদের মধ্যে নেই।সে ভাবছে কখন বার হবে।খাওয়া হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা ছড়িয়ে ছিটিয়ে যে কোনো ভাবে খেয়ে উঠে পরে।অন্নপূর্ণা দেবী খুব বকাবকি করতে থাকেন।খাওয়া হয়ে গেলে সুপর্না আর মনি চলে যায়।আর শ্রীয়াঙ্কাও বেরিয়ে পরে।
মাসির বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে ঠিক করে বাড়ি যাবে না।শুভ্রর সাথে অফিসে দেখা করতে যাবে।কারন সে এখনই শুভ্রর সাথে কথা বলতে চায়।গাড়িতে উঠতে যাবে হঠাৎ তার ফোনে ফোন আসে।সে দেখে শুভ্রর ফোন।আনন্দে সে ফোনটা ধরে।
ওপার থেকে বলে-হ্যালো,আমি শুভ্রর বন্ধু বলছি।
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারে না।
হ্যাঁ,বলুন-শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র আজ অফিসে এসে অসুস্থ হয়ে পরেছিল।তাই ওকে ডাক্তারের কাছে আমরা এনেছিলাম----
শ্রীয়াঙ্কা আর কিছু শোনে না।
কেমন আছে,কোথায় এখন-শ্রীয়াঙ্কা
আমরা ওকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি।ওর ফোনে লাস্ট কল আপনার দেখলাম তাই করলাম----
হ্যাঁ,আমি ওনার স্ত্রী।-শ্রীয়াঙ্কা
ওও,আচ্ছা।আমরা ওকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি----
ফোন কেটে যায়।শ্রীয়াঙ্কার মাথা ঘুরতে থাকে।সে টলতে টলতে যে কোনো ভাবে গাড়ি ধরে।বুকের ভিতর অসহ্য কষ্ট হতে থাকে।চোখ জ্বালা করতে থাকে।কিছুক্ষণের মধ্যে সে বাড়ির কাছে এসে যায়।বাড়ি ঢুকতে যাবে দেখে দুজন বাড়ি থেকে বার হচ্ছে।তারা শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে চিনতে পারে।কারন তারা শুভ্রর বিয়েতে গিয়েছিল।
একজন বলে-আপনি শুভ্রর স্ত্রী তো?
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যাঁ,কী হয়েছে,এখন কেমন আছে?
সে একনাগাড়ে কথাগুলো বলে যায়।
এখন ভালো আছে।অফিসে হঠাৎ মাথা ঘুরে যায়।তারপর চোখ মুখে জল দিয়ে জ্ঞান ফেরানো হলেও ও ঠিকমত উঠে দাঁড়াতে পারছিল না।তাই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই-----
কী বলেছেন ডাক্তার?-শ্রীয়াঙ্কা
তেমন কিছু নয়।প্রেসার লো তাই শরীর দুর্বল হয়ে----
ও,আর কোনো অসুবিধা নেই তো-শ্রীয়াঙ্কা
না,না তেমন কিছু নয়।আমরা ওষুধ কিনে এনেছি।সব ঘরে রেখে দিয়েছি।আমরা যেতে চাইছিলাম না।কিন্তু শুভ্র জোর করে বলে যে ও ঠিক আছে।তাই আমরা----।আপনি চলে এসেছেন এখন তাহলে আমরা আসছি।-----
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়ে।ওরা চলে যাওয়ার সাথে সাথে শ্রীয়াঙ্কা ছুটে ঘরে আসে।
শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে শুভ্র উঠে বসতে যাবে শ্রীয়াঙ্কা ছুটে গিয়ে শুভ্রকে ধরে বলে-উঠছেন কেন?
শুভ্র-তুমি কেন এসেছ?কী চাই?
এই বলে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার হাত ছাড়িয়ে উঠে যেতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা-আপনার শরীর খারাপ।এ ভাবে----
শুভ্র-এখানে আবার কেন এসেছ?চলে গিয়েছিলে কেন এলে আবার।
শুভ্র উঠতে গিয়ে টাল সামলাতে না পেরে পাশের টেবিলে ধাক্কা লাগে তাতে কাঁচের জগটা পরে যায়।আর শুভ্র তার উপর পা দিতে যাবে তখন শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে টেনে সরিয়ে নেয়।
শুভ্র-ছাড় বলছি।কাল আমার কথা না শুনে চলে গেলে।আমার ফোনও ধরলে না।আমি বুঝে গেছি তুমি আমার সাথে থাকতে চাও না।সত্যি তুমি আমাকে ভালোবাসো না।তাই হবে তোমাকে আমার সাথে থাকতে হবে না।আমি তোমাকে----
এই দিকে শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কার দুচোখ জলে ভরতে থাকে।সে তাও শুভ্র হাত ছাড়ে না।
শুভ্র চিল্লিয়ে বলে-চলে যাও এখান থেকে।
শ্রীয়াঙ্কা হঠাৎ শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে বলে-না আমি যাব না।কে বলেছে আমি তোমাকে ভালোবাসি না।কে বলেছে আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাব।আমি যে তোমাকেই ভালোবাসি।শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।শুধু তোমাকেই----এই বলে শ্রীয়াঙ্কা কাঁদতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কার বুকের ভিতর কান্নার আওয়াজ শুভ্র অনুভব করে।কারন শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে আছে।আর শ্রীয়াঙ্কা এমনভাবে কাঁদছে যে সেই কান্নার আওয়াজও শুভ্রর বুকের আছে সেই আওয়াজ পৌঁছে যাচ্ছে।
শুভ্র বুঝতে পারছে না।শ্রীয়াঙ্কা এমনভাবে তাকে জড়িয়ে ধরেছে আর তাকে তুমি করে বলছে।
শ্রীয়াঙ্কা কাঁদতেই থাকে আর বলতে থাকে-আমি তোমাকেই ভালোবাসি।ভুল করেছিলাম তোমার ভুল বুঝে।কিন্তু যখন ভুল জানতে পারলাম তখন তোমাকে জানাতে পারলাম না।কিন্তু কাল কৌশিক সেদিনের কথা তোলায় তাই আমি রাগে ওভাবে----।আমি কোথাও যাব না।আর কোথাও যাব না।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে যায়।শুভ্র কিছু বলতে পারে না।তার মুখের ভাষা হারিয়ে গেছে।যে কথা শোনার জন্য সে এতদিন অপেক্ষা আজ সেই কথা শুনে সে নিজেই কথা বলতে পারে না।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা কেঁদেই চলেছে।তার সব মান অভিমান জলের সাথে বেরিয়ে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর পা ধরতে যায়।শুভ্র-এই কী করছ তুমি?
শ্রীয়াঙ্কা-প্লিজ আমাকে তাড়িয়ে দিও না।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে ধরে তোলে।
শুভ্র বুঝতে পারে।আস্তে আস্তে নিজেকে শ্রীয়াঙ্কার থেকে ছাড়িয়ে শ্রীয়াঙ্কা মুখটা দু হাতের মধ্যে নেয়।শ্রীয়াঙ্কা নীরবে কেঁদে চলেছে।দুজন দুজনের দিকে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার চোখের জল মুছিয়ে দেয়।
শ্রীয়াঙ্কা বলতে থাকে-আমি খুব ভুল করে ফেলেছি।তোমাকে ভুল বুঝে আমি----
আর বলতে পারে না।কাঁদতে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কার কান্নাতে শুভ্রর কষ্ট হতে থাকে।তার চোখেও জল এসে যায়।
শুভ্র-চুপ কর।প্লিজ এইভাবে কেঁদ না।
শ্রীয়াঙ্কা-আমি----
শ্রীয়াঙ্কার গলা আটকে যেতে থাকে।বেশি কাঁদার ফলে সে আর ঠিক করে কথা বলতে পারে না।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে খাটের উপর বসায়।শুভ্র কাছে রাখা জলের গ্লাসটা শ্রীয়াঙ্কার দিকে এগিয়ে দেয়।
খেয়ে নাও-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা গ্লাসটা নেয়।জলটা খায়।তারপর গ্লাসটা রেখে দেয়।
তারপর শুভ্রর দিকে তাকায়।দেখে শুভ্রও তার দিকে তাকিয়ে।
শ্রীয়াঙ্কা-কাল আমি তোমাকে সব বলতে চেয়েছিলাম কিন্তু সব----।তুমি আমাকে তাড়িয়ে দিও না।আমি যে তোমাকে ছাড়া বাঁচব না।আমি তোমাকে যে----
এই বলে সে চুপ করে মাথা নীচু করে নেয়।
শুভ্র সব বুঝতে পারে।কাল শ্রীয়াঙ্কা এই কথাটাই বলতে চেয়েছিল।
শ্রীয়াঙ্কার মুখটা তুলে বলে-কী করে ভাবলে আমি তোমাকে তাড়িয়ে দেব।কী করে।আমিও যে তোমাকে ছাড়া থাকতে পারব না।আমিও যে তোমাকে খুব ভালোবাসি।শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।আর সারাজীবন ভালোবাসব।আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি শ্রীয়াঙ্কা।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর চোখের দিকে তাকিয়ে বলে-শ্রীয়াঙ্কা নয়,শ্রী।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কথায় অস্ফুট ভাবে বলে-শ্রী----
শুভ্র কথায় শ্রীয়াঙ্কা আবার দু চোখ জলে ভরতে থাকে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে জড়িয়ে ধরে।
শুভ্র-আর নয় শ্রী।এবার শান্ত হও।
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা তাও কাঁদতেই থাকে।অনেকপরে শ্রীয়াঙ্কা শান্ত হয়।দুজনে চুপ।দুজন দুজনকে জড়িয়ে ধরে আছে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে।আর শ্রীয়াঙ্কা নিশ্চিন্তে শুভ্র বুকের আছে চোখ বন্ধ করে আছে।
শুভ্র একবার শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকায়।তারপর মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা একবার তাকিয়ে আবার চোখ বন্ধ করে নেয়।তারপর বলে-কী হল?
শ্রীয়াঙ্কা চুপ।
শুভ্র-আমি কাল থেকে কিছু খায়নি শ্রী।আমার খুব খিদে পেয়েছে।
শ্রীয়াঙ্কা উঠে বলে-কী!
শুভ্র-হুম,তাই তো সকালে ওভাবে----
শ্রীয়াঙ্কার চোখে জল এসে যায়।সে বলে-আচ্ছা আপনি বসুন।আমি কিছু করে আনছি।
শুভ্র অবাক হয়ে বলে-তুমি!
শ্রীয়াঙ্কা-কেন আমি কিছু করতে পারি না।
শুভ্র একটু হেসে বলে-সে তুমি পারো।কিন্তু তা খেতে পারব।
শ্রীয়াঙ্কা কিন্তু রাগে না।বলে-দেখা যাক।
এই বলে সে চলে যেতে থাকে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার হাত ধরে তার একেবারে কাছে টেনে নেয়।দুজন দুজনের খুব কাছাকাছি।শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করে নেয়।
শুভ্র-এটা কী হল শ্রী?
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথা বুঝতে না পেরে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে-কী?
এই তুমি একটু আগে আমাকে তুমি করে বললে আর এখন আবার আপনি কেন শ্রী?-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারে।সে কাঁদতে কাঁদতে শুভ্রকে তার মনের কথা বলতে গিয়ে তাকে তুমি করে বলে ফেলেছে।
শুভ্র-কী হল?
শ্রীয়াঙ্কা-না,মানে----
শুভ্র-আপনিটা যে অনেক দূরের শ্রী।আপনি বললে মনে হয় তুমি আবার দূরে চলে----
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে বলে-কোথাও যাব না।তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না।
শুভ্র নিজের ঠোঁট থেকে শ্রীয়াঙ্কার আঙ্গুলটা সরিয়ে দেয়।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা মাথা নামিয়ে নিলে শুভ্র আবার শ্রীয়াঙ্কার থুতনিটা তুলে ধরে। হঠাৎ শুভ্রর ফোন আসার শব্দে দুজনের হুঁশ ফেরে।শ্রীয়াঙ্কা লজ্জা পেয়ে চলে যায়।
শুভ্র ফোনটা ধরে।অফিস থেকে ফোন।সে কেমন আছে তা জানার জন্য।শুভ্র কথা বলে শ্রীয়াঙ্কার কাছে যাওয়ার জন্য উঠে পরে।ভাঙ্গা জগটা পরিষ্কার করে তুলে নেয়।তার ভয় করে যদি শ্রীয়াঙ্কার লাগে।
শ্রীয়াঙ্কা কিচেনে যায়।কিন্তু কী করবে বুঝতে পারে না।এদিকে শুভ্র তখন কিচেনে এসে গেছে।
শুভ্রকে দেখে শ্রীয়াঙ্কা বলে-তুমি কেন আসতে গেলে তোমার শরীর ঠিক নেই।
শুভ্র-আমি ঠিক আছি।তোমাকে কাছে পেয়ে আমি সুস্থ হয়ে গেছি।
শ্রীয়াঙ্কা লজ্জায় মাথা নীচু করে নেয়।তারপর সে কিচেনে এদিক ওদিক দেখতে থাকে।ফ্রিজ খুলে দেখে।
শুভ্র-কী খুঁজছ?
শ্রীয়াঙ্কা-আজ রমাদি কী রান্না করেছে?
শুভ্র-রমাদিকে আজ আমি ফিরিয়ে দিয়েছিলাম।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে।তারপর বলে-এখন কী খাবে?
শুভ্র-তুমি যা করে খাওয়াবে?
শ্রীয়াঙ্কা তো রান্নার কিছুই জানে না।সে কী করবে বুঝতে পারছে না।
শুভ্র বুঝতে পেরে বলে-এখন আপাতত পাস্তা বানাও তারপর রাতে রমাদি এলে দেখা যাবে।
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়ে।শুভ্র দেখতে থাকে শ্রীয়াঙ্কা পাস্তা জলে দিয়ে সব্জি বার করে সেগুলো কাটতে থাকে।শুভ্র দেখে সব্জিগুলো ঠিক কাটছে।সব্জিগুলো কাটতে কাটতে হঠাৎ সে পাস্তাগুলো নামাতে যায়।
শুভ্র-এখন নামাচ্ছ কেন?
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে।
শুভ্র-আমি করছি তুমি দেখ।
শ্রীয়াঙ্কা-না,আমি করব।
শুভ্র-একদম চুপ।
কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে করতে দেবে না বলে।তখন শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কোমর ধরে তাকে গ্যাসওভেন যেখানে রয়েছে সেই স্লাপের উপর উঠে বসিয়ে দেয়।শুভ্রর ব্যবহারে শ্রীয়াঙ্কা অবাক হয়ে যায়।
শুভ্র-চুপ করে বস।
শুভ্র রান্না করতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা দেখতে থাকে।শুভ্র দেখতে থাকে শ্রীয়াঙ্কা তার দিকেই তাকিয়ে আছে।আর শুভ্রর চোখ পড়লেই সে মাথা নীচু করে নিচ্ছে।শুভ্রর পাস্তা বানানো হয়ে যায়।পাস্তা নিয়ে শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে চামচ দিয়ে শ্রীয়াঙ্কার মুখে পাস্তা দিতে যাবে তখন শ্রীয়াঙ্কা চামচটা নিয়ে শুভ্রর মুখে দিয়ে দেয়।
শুভ্র-আমি তোমাকে দিলাম আর তুমি----
শ্রীয়াঙ্কা-কাল থেকে তুমি কিছু খাওনি।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কা দিকে তাকিয়ে থাকে তারপর আর এক চামচ পাস্তা শ্রীয়াঙ্কার মুখের কাছে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা খেয়ে  বলে-তোমার হাতের রান্নার কোনো তুলনা হয় না।
শুভ্র-তাই?
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে।
শুভ্র পাস্তার বাটি রেখে শ্রীয়াঙ্কার একদম কাছে এসে দুহাত দিয়ে শ্রীয়াঙ্কার কোমরটা ধরে।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর স্পর্শে কেঁপে ওঠে।শ্রীয়াঙ্কা জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকে।শুভ্র আরো ওকে কাছে নিয়ে আসে।শ্রীয়াঙ্কা চোখ বন্ধ করে নেয়।হঠাৎ শুভ্র তাকে নীচে নামিয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কা চোখ চেয়ে শুভ্রর দিকে তাকায়।কী হল সে বুঝতে পারে না।
শুভ্র-যাও।
শ্রীয়াঙ্কা অবাক হয়ে বলে-কোথায়?
শুভ্র-তোমার তো সামনে পরীক্ষা।যাও পড়তে বস।
শ্রীয়াঙ্কা-কী!
শুভ্র-হুম,যাও।
শ্রীয়াঙ্কা-কিন্তু----
শুভ্র-যাও।পরীক্ষার খারাপ নম্বর হলে কিন্তু আমি খুব বকব।
শ্রীয়াঙ্কা গজগজ করতে করতে চলে যায়।শুভ্র বুঝতে পারে শ্রীয়াঙ্কা তার কাছে থাকতে চায়।শুভ্রও তাই চায়।কিন্তু----
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে আর মনে মনে বলে-আমি জানি শ্রী তুমি এখন আমার কাছেই থাকতে চাও।আমারও যে তোমাকে দূরে রাখতে মন চায় না।কিন্তু সামনে তোমার পরীক্ষা।এইসময় তোমাকে----।তাই আর কিছুদিন তারপর আমি তোমাকে----
শুভ্র চুপ করে যায়।এদিকে সন্ধ্যা হয়ে আসে।রমা এসে যায়।তারপর সে স্টাডি রুমে চলে যায়।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কার পড়ায় মন বসে না।সে কিছুক্ষণ বসে থেকে উঠে পরে।শুভ্রকে খুঁজতে থাকে।দেখে শুভ্র স্টাডি রুমে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে বলে-কিছু দরকার।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ।
উঠে এলে কেন?-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা কী বলবে বুঝতে পারে না।সেতো শুভ্রকে দেখতে এসেছিল।তাই বুদ্ধি করে সে বলে-আমি একটা পড়া বুঝতে পারছি না।তাই----
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করে ভাবে-ধরা পরে গেলাম নাতো।
শুভ্র-আচ্ছা কী পড়া দেখি।
শ্রীয়াঙ্কা-আমি এখনই আনছি।
শ্রীয়াঙ্কা দৌড়ে তার একটা বই আনে।আর শুভ্রর সামনে একটা পেজ খুলে দিয়ে বলে-এই টা।
শুভ্র দেখে বলে-ও ,তুমি বস।
শ্রীয়াঙ্কা পাশের চেয়ারে বসে।শুভ্র বোঝাতে থাকে।আর শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে।শুভ্র বরাবরই ভালো পড়ায়।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা পড়া শোনার থেকে বেশি শুভ্রকেই দেখে।
শুভ্র-কী বুঝেছ?
শ্রীয়াঙ্কা চমকে গিয়ে বলে-হুম বুঝেছি কিন্তু লিখে নিলে ভালো হয়।
শুভ্র-ঠিক আছে লিখে নাও।
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কার দিকে একটা পেন আর খাতা এগিয়ে দেয়।
শ্রীয়াঙ্কা লেখার কথাটা ইচ্ছা করে বলেছিল।সে বলে-এই পেনে নয়।
শুভ্র বুঝতে পারে না।শ্রীয়াঙ্কা উঠে যায় আর সেই পেনটা নিয়ে আসে।শুভ্র অবাক হয়ে-তুমি----
শ্রীয়াঙ্কা-সেই দিন পেনটা দেওয়ার সময় আমার দিকে একবারও তাকাও নি।আর এইভাবে পেনটা গুছিয়ে----
শ্রীয়াঙ্কা আর কিছু বলতে পারে না।শুভ্র তাকে একটানে তাকে কোলের উপর বসিয়ে দিয়েছে।শ্রীয়াঙ্কা কখনই ভাবেনি শুভ্র এরকম করবে।সে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে।
শুভ্র-কেন তাকায়নি তোমাকে আগেও বলেছি আর ওই পেনটা দিয়ে লেখা যাবে না।
শ্রীয়াঙ্কা-কেন?
শুভ্র-ওই পেনটা ওরকম ভাবেই থাকবে।কারন আমার ভয় করে আবার তুমি আমাকে ভুল বুঝে যদি চলে যাও।তাহলে পেনটা তোমার স্মৃতি----
শ্রীয়াঙ্কা চিল্লিয়ে বলে-না কখনও না।কখনও যাব না।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার দিকে তাকিয়ে থাকে।
শ্রীয়াঙ্কা বলতে থাকে-জানি আমি তোমার কথা শুনতে চায়নি।জানি আমি বড় অবুঝ।তুমি ঠিক যে আমি সেদিন তোমার কথা শুনতাম না।কারন আগের দিন আমিও জেনেছিলাম।তাও আমি তোমাকে----
শুভ্র-আমি সেদিন তোমার চোখে অন্য কিছু দেখেছিলাম।আমার মনে হয়েছিল তোমাকে বললে তুমি শুনবে না।তাই ওভাবে----।আমি তোমাকে খুব কষ্ট দিয়ে ফেলেছি।
শ্রীয়াঙ্কা-কষ্ট তো আমি তোমাকে দিয়েছি তোমার কথা না শুনে তোমাকে অপমান করে।আর যদি কখনও আমি তোমার কথা না শুনি তুমি আমাকে তোমার কথা শুনতে বাধ্য করবে।আমি অবুঝ হলেও আমাকে বোঝাবে।
শুভ্র-তাও যদি তুমি বুঝতে না চাও।
শ্রীয়াঙ্কা-তাহলে তুমি আমাকে বকবে আমাকে মারবে।
শ্রীয়াঙ্কার কথায় শুভ্র অবাক হয়ে যায় আর বলে-আমি তোমাকে বকব!আমি তোমাকে মারব!
শ্রীয়াঙ্কা মাথা নাড়িয়ে বলে-হুম,হুম
শুভ্র হেসে বলে-পাগলী একটা।
তারপর শ্রীয়াঙ্কার দিকে একভাবে তাকিয়ে থাকে।আস্তে আস্তে কেমন ঘোরের মধ্যে চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কার কপালে আস্তে করে ঠোঁট ছোঁয়ায়।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর জামাটা শক্ত করে ধরে চোখ বন্ধ করে নেয়।
তারপর কপাল থেকে ঠোঁট সরিয়ে শুভ্র বলতে থাকে-আমি তোমাকে কোনোদিন বকতেও পারব না আর মারতেও পারব না।শুধু ভালোবাসতে পারব।
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কা চোখ খুলে শুভ্রর দিকে তাকায়।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার বুকের ভিতর ধুকপুক করতে থাকে।সে কিছু বলতে পারছে না।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে-কী হয়েছে শ্রী।
শ্রীয়াঙ্কা লজ্জায় শুভ্রর বুকের উপর ঝাঁপিয়ে পরে।শুভ্র হাসতে হাসতে শ্রীয়াঙ্কাকে শক্ত করে ধরে।দুজনের মুখে কথা নেই।
হঠাৎ শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে নিজের থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলে-অনেক হয়েছে,এবার যাও পড়তে বসতে।আমার কাছে আসার জন্য যে পড়া না বোঝার বাহানা করেছ তা আমি ভালো করেই জানি।
শ্রীয়াঙ্কা লজ্জা পেয়ে বলে-না,মা-নে।এরকম কোনো ব্যাপার নয়।
এই বলে সে শুভ্রর কোলের উপর থেকে উঠে যায়।
শুভ্র-তাই তাহলে আমি ভুল বুঝেছি।
শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে চলে যেতে থাকে।
শুভ্র দুষ্টুমি হেসে বলে-কী হল,আমি তাহলে ভুল বুঝেছি না ঠিক?
শ্রীয়াঙ্কা ঘুরে তাকিয়ে বলে-কোনটাই নয়।
এই বলে সে দৌড়ে চলে যায়।অন্য ঘরে চলে যায়।তার বুকের ভিতর তোলপাড় হতে থাকে।খাটের উপর বসে পরে।এদিকে শুভ্র কিছু  দরকারে ঘরে আসে।ঘরে এসে দেখে শ্রীয়াঙ্কা চোখ বন্ধ করে চুপ করে বসে আছে।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে বলে-আমার বৌ কিন্তু পরীক্ষাতে কম নম্বর পাবে আমি এটা পছন্দ করব না।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথায় চমকে ওঠে।
পড়তে বসে কী করছ?কাল অফিস থেকে এসে আমি পড়া ধরব।তাই রেডি থাক।-শুভ্র
কী!তুমি আমার পড়া ধরবে।আর কী ভাব আমি পড়াশুনা করি না।-শ্রীয়াঙ্কা
তা আমি কী জানি।কাল পড়া ধরলেই বুঝব।-শুভ্র
শ্রীয়াঙ্কা-খারাপ লোক একটা।
এই বলে সে পড়তে বসে।এদিকে শুভ্রও ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।রাত হয়ে এলে শুভ্রর ডাকে সে খেতে যায়।তারপর দুজনে ঘরে আসে।কিন্তু ঘরে এসে শ্রীয়াঙ্কা অস্বস্তিতে পরে।শুভ্রর পাশে শুতে আজ তার কেমন যেন হতে থাকে। শুভ্র তা বুঝতে পারে।
শুভ্র-কী হল শোবে না।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু না বলে শুয়ে পরে।আর শুভ্রও লাইট নিভিয়ে পাশে শুয়ে পরে।আজ মাঝে কোনো বালিশ নেই।দুজন দুদিকে ফিরে আছে।
শ্রীয়াঙ্কা প্রথম কথা বলে-শরীর এখন কেমন আছে?
শুভ্র-ভালো।
শ্রীয়াঙ্কা-ওষুধগুলো খেয়েছ।
শুভ্র-হুম।
এই কথাই শেষ।আর কোনো কথা নেই।তারপর দুজনেই ঘুমিয়ে পরে।সকালে ঘুম ভাঙ্গলে শ্রীয়াঙ্কা দেখে সে আর শুভ্র মুখোমুখি।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে।এদিকে শুভ্ররও ঘুম ভেঙ্গে যায়।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা তার দিকে তাকিয়ে আছে।শুভ্র তাকাতেই শ্রীয়াঙ্কা উঠতে যাবে তখন শুভ্র তার পাশে রাখা শ্রীয়াঙ্কার হাতের উপর হাত রাখে।শ্রীয়াঙ্কা উঠে যায় না।দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকে।হঠাৎ কলিং বেলের শব্দে দুজনের হুঁশ ফেরে।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর থেকে হাত ছাড়িয়ে পালিয়ে যায়।
কিছুক্ষণের মধ্যে শুভ্রও উঠে পরে।সে আজ অফিস যাবে।তাই রেডি হতে থাকে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কাও পড়তে বসে।এদিকে শুভ্রও ওয়াশরুম থেকে বার হয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।কিন্তু শুভ্রর চোখ পড়তেই সে বইয়ের দিকে তাকায়।শুভ্রর চোখ তা এড়ায় না।সে হাসে।তারপর ঘর থেকে বেরিয়ে অন্য ঘর থেকে রেডি হয়ে অফিসের কাগজপত্র নিতে আবার এই ঘরে আসে।ড্রয়ার খুলে ব্যাগ গোছাতে থাকে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা আড়ে আড়ে শুভ্রকে দেখছে।আর শুভ্রর চোখ পড়তেই সে বইয়ের দিকে তাকাচ্ছে।
শ্রীয়াঙ্কা এবার বুদ্ধি করে বইটাকে মুখের সামনে ধরে।আর উঁকি মেরে শুভ্রকে দেখতে থাকে।এরকম করতে থাকে সে অনেকবার।হঠাৎ শুভ্র তার সামনে এসে বইটা কেড়ে নিয়ে বলে-কী হচ্ছে শ্রী?
শ্রীয়াঙ্কা ঢোক গিলে বলে-কী আবার পড়া হচ্ছে।
শুভ্র-আমি সব দেখেছি।
শ্রীয়াঙ্কা-কী দেখেছ,হ্যাঁ কী দেখেছ?
শুভ্র-এই তুমি পড়া না করে----
শ্রীয়াঙ্কা-দেখ তুমি কিন্তু আমাকে ভুল ভাবছ,তাছাড়া তুমি তো জানো আমি পড়াতে কোনোদিন ফাঁকি দিই না।কলেজে তুমি তো দেখেছ।
শুভ্র-সে কলেজে,এখন তো জানি না কী অবস্থা তোমার।
শ্রীয়াঙ্কা-কী বললে আমি ফাঁকিবাজ।
শুভ্র-তুমি যা ভাববে।
শ্রীয়াঙ্কা রেগে গিয়ে বলে-কী বললে তুমি।
এইদিকে শুভ্র ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে যেতে বলে-খাবে এসো।তারপর পড়তে বসবে।
শ্রীয়াঙ্কা-কী ভাবে নিজেকে।আমি পরীক্ষাতে দেখিয়ে দেব।
এই বলে সেও ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।শুভ্র তখন খেতে বসেছে।আর রমা চলে গেছে।শ্রীয়াঙ্কা কিচেনে গিয়ে নিজের খাবারটা নিয়ে টেবিলে বসে খেতে থাকে।শুভ্র বুঝতে পারে শ্রীয়াঙ্কা রাগ করেছে।সে খেয়ে উঠে হাত ধুয়ে চেয়ারটা শ্রীয়াঙ্কার কাছে এনে শ্রীয়াঙ্কার একদম কাছে বসে বলে-কী হল,রাগ হয়েছে?
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলে না।
শুভ্র-আমি জানি আমি হয়তো বেশি বকাবকি করেছি।কিন্তু তুমি কম নম্বর পেলে কে বেশি কষ্ট পাবে জানো?
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলে-কে?
শুভ্র-তুমি কারন তুমি কম নম্বর কোনোদিন পাওনি।তাই তুমি সহ্য করতে পারবে না।আর তোমাকে অনেক দূর যেতে হবে শ্রী।
এই বলে সে চুপ করে শ্রীয়াঙ্কার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা বুঝতে পারে শুভ্র কী বলতে চাইছে।সে মাথা নীচু করে বলে-তোমার অফিস যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার  দিকে তাকিয়ে অফিসে বেরিয়ে যায়।সারাদিন শ্রীয়াঙ্কা নিজের পড়া করে আর মাঝখানে ফোন করে শুভ্রকে ডিসট্রাব করতে ছাড়ে না।সন্ধ্যাতে শুভ্র ফিরে আসে।শুভ্রকে দেখেও শ্রীয়াঙ্কা না দেখার ভান করে থাকে।শুভ্র চেঞ্জ করে আসলে শ্রীয়াঙ্কা বলে-কী হল পড়া ধরবে না।
শুভ্র হেসে বলে-ওটা তো আমি ইচ্ছা করে বলেছিলাম।আমি জানি তুমি পড়েছ।
এই বলে শুভ্র চলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা বোকার মত তাকিয়ে থাকে।
এরকম ভাবে দিন এগোয়।এর মধ্যে তারা একদিন শ্রীয়াঙ্কার বাড়ি থেকে ঘুরে আসে।শ্রীয়াঙ্কার পরীক্ষার দিনও এগিয়ে আসে।সে মন দিয়ে পরীক্ষা দেয়।শুভ্রও তার সাথে পরীক্ষার কয়েকদিন রাত জাগে।আর পরীক্ষার দিনগুলোতে ছুটি নেয়।
আজ শ্রীয়াঙ্কার পরীক্ষার শেষ দিন।শ্রীয়াঙ্কা পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে আসে।চোখে মুখে আনন্দের ছাপ।
শ্রীয়াঙ্কা বেরিয়ে এসে বলে-জানো আজ পরীক্ষা----
শ্রীয়াঙ্কাকে বলতে না দিয়ে শুভ্র বলে-খুব ভালো হয়েছে তাই তো।
শ্রীয়াঙ্কা হেসে বলে-খু-ব
শুভ্র-তাহলে আজ যাবে তো বাড়ি?
শ্রীয়াঙ্কা-হ্যাঁ,আজ মা বাবা আর বোনেকে দেখতে ইচ্ছা করছে।
আজ সকালেই শুভ্রকে শ্রীয়াঙ্কা এই কথাটা বলেছে।তাই শুভ্র জিজ্ঞাসা করল।
শুভ্র-তাহলে আমি তোমাকে পৌঁছে দিয়ে আসি।তুমি কয়েকদিন থেকে তারপর আমাকে বলো আমি নিয়ে আসব।
শ্রীয়াঙ্কা-কয়েকদিন!আমি আর তুমি আজ যাব।তারপর দুজনে দেখা করে ফিরে আসব।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে ছেড়ে থাকতে চায় না।
শুভ্র-তুমি তো কয়েকদিন----
শ্রীয়াঙ্কা-সে অন্য সময়।আজ দুজনে আবার ফিরে আসব।
শুভ্র-ঠিক আছে।
দুজনে বাইকে চেপে শ্রীয়াঙ্কার বাড়িতে যায়।শ্রীয়াঙ্কা আর শুভ্রকে দেখে সবাই খুশি হয়।কিন্তু চলে আসার সময় তাদেরকে ছাড়তে চায় না।শ্রীয়াঙ্কা বলে হঠাৎ করেই তারা এসেছে।তারা আবার আসবে।শুভ্রও কথা দেয় কিছুদিনের মধ্যে তারা যাবে।
দুজনে বাড়ির দিকে রওনা দেয়।হঠাৎ একটা ফুচকার দোকান দেখতে পেয়ে শ্রীয়াঙ্কা বলে-এই দাঁড়াও দাঁড়াও ফুচকা।
শুভ্র বাইক দাঁড় করায়।শ্রীয়াঙ্কা নেমে বলে-চল।
শুভ্র-তুমি খাও।আমি খাব না।তুমি ভীষণ ঝাল খাও শ্রী।আমি খেতে পারব না।
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কা হাসতে থাকে।
শুভ্র-তুমি হাসছ।আমাকে নিয়ে হাসা।
শ্রীয়াঙ্কা হাসি থামিয়ে বলে-আচ্ছা,আমি তোমারটাতে ঝাল দিতে বারণ করে দেব।
এই বলে সে শুভ্রর হাত ধরে ফুচকার দোকানের দিকে নিয়ে যায়।
কাকু এক জায়গায় ঝাল বেশি আর একজায়গায় ঝাল কম দেবেন-এই বলে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে ইশারা করে জিজ্ঞাসা করে ঠিক আছে তো।কিন্তু শুভ্র মুখ ফুলিয়ে আছে।
শ্রীয়াঙ্কা দেখে হাসে।এদিকে ফুচকা দেওয়া শুরু করে।শুভ্র প্রথম একটা ফুচকা গালে দিয়ে বলে-ঝাল ঝাল
শ্রীয়াঙ্কা-ঝাল!কাকু আপনি কী ওনারটাতে ঝাল----
ফুচকাওয়ালা তাকিয়ে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা বলে-আমারই তো ভুল।আমিই তো বলে দিলাম না।কাকু ওনাকে ঝাল দেবেন না।
এদিকে শুভ্র ঝালে কাশতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা ব্যাগ থেকে জল বার করে দেয়।শুভ্র জল খেয়ে বলে-আমি আর খাব না।
শ্রীয়াঙ্কা-কেন?এবার খেয়ে দেখ আর ঝাল লাগবে না।
শুভ্র-না,আমি খাব না।
শ্রীয়াঙ্কা-তাহলে আমিও খাব না।
শুভ্র-আচ্ছা ঠিক আছে।আমি খাব।
তারা আবার ফুচকা খেতে থাকে।শুভ্র খেয়ে দেখে এবার তারটাতে ঝাল নেই।ফুচকা খেয়ে তারা বাড়ি ফিরে আসে।
শ্রীয়াঙ্কা ওয়াসরুম থেকে চেঞ্জ করে বার হয়েছে শুভ্র দেখতে থাকে শ্রীয়াঙ্কাকে।চুলগুলো উপর করে বাঁধা।মুখ অল্প অল্প ভিজে।আর শ্রীয়াঙ্কা তোয়ালে দিয়ে মুখ মুচছে।তারপর আয়নার সামনে গিয়ে চুলটা আঁচড়িয়ে আবার তাকে আলগা করে খোঁপা করে নিল।হঠাৎ শুভ্র মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি আসে।সে বলে-কী ফুচকা খাওয়ালে।ঝালে আমার এখনও কান থেকে ধোঁয়া বার হচ্ছে।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্র কথা শুনে অবাক হয়ে শুভ্রর পাশে বসে বলে-কী!এখনও তোমার ঝাল কমেনি।একটা ঝাল ফুচকা খেয়ে----
শুভ্র-একটা আর দুটো।যা ঝাল।
শ্রীয়াঙ্কা-সত্যি এখনও ঝাল লাগছে?
শুভ্র-তা আমি কী মিথ্যা বলছি।
শ্রীয়াঙ্কা-না,তা আমি বলিনি।আমি জল আনছি।
শুভ্র-জল তো তখন খেলাম।জলে কিছু হবে না।
শ্রীয়াঙ্কা-তাহলে----
শুভ্র-মিষ্টি লাগবে।
শ্রীয়াঙ্কা একটু চিন্তা করে বলে-মিষ্টি!কিন্তু মিষ্টি তো বাড়িতে নেই।
শুভ্র-কে বলল নেই, বাড়িতে আছে।
শ্রীয়াঙ্কা-কিন্তু আমি যতদূর জানি ফ্রিজে তো মিষ্টি নেই।
শুভ্র হঠাৎ শ্রীয়াঙ্কাকে কাছে টেনে বলে-ফ্রিজের মিষ্টি কে চেয়েছে।আমি তো অন্য মিষ্টি চেয়েছি।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর মুখের দিকে তাকায়।শুভ্রর মুখ অদ্ভুত এক হাসিতে ভরা।চোখ যেন অন্য কিছু ইশারা করছে।শ্রীয়াঙ্কা আর বুঝতে বাকি থাকে না।শুভ্র কী বলছে।সে মাথা নীচু করে নেয়।
শুভ্র-কী মিষ্টি পাব না?
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথায় লজ্জা পেয়ে পালাতে যাবে শুভ্র পিছন থেকে ধরে ফেলে।
কী হল শ্রী?-শুভ্র
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কাকে নিজের দিকে ঘোরায়।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা লজ্জায় শুভ্রর বুকে মুখ লোকায়।শুভ্র চেষ্টা করেও মুখ তুলতে পারে না।তারপর সে হাসতে হাসতে শক্ত করে শ্রীয়াঙ্কা জড়িয়ে ধরে।
এরকম করে পাঁচদিন কেটে যায়।
আজ সুপর্নার বিয়ে।শ্রীয়াঙ্কার খুব আনন্দ।সে শুভ্রকে বলেছিল তাড়াতাড়ি অফিস থেকে আসতে।আর শুভ্র তাই করেছে।সে এসে ওয়াশরুমে গেছে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা আজ নিজের বিয়ের বেনারসি পরেছে।আর আয়নার কাছে দাঁড়িয়ে দুল পরতে থাকে।কিন্তু সে কিছুতেই দুলটা পরতে পারছে না।এদিকে শুভ্র ওয়াশরুম থেকে শ্রীয়াঙ্কাকে দেখিয়ে এগিয়ে আসতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা এখনও সাজেনি শুধু শাড়িটাই পড়েছে আর তাতে শুভ্র চোখ ফেরাতে পারছে না।শুভ্র দেখে শ্রীয়াঙ্কা দুলটা পরতে পারছে না।সে শ্রীয়াঙ্কার কাছে এসে দাঁড়িয়ে নিজের হাত বাড়িয়ে ইশারা করে দুলটা দেওয়ার জন্য।শ্রীয়াঙ্কা বলে আমি পারব।কিন্তু শুভ্র তাও তার হাত বাড়িয়েই রাখে।সে শুভ্রর হাতে দুলটা দেয়।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার এক দিকের কানের পাশের চুলগুলোকে সরিয়ে একটা দুল পড়িয়ে দেয়।আর তাতেই শ্রীয়াঙ্কার অবস্থা খারাপ।শুভ্রর হাতের স্পর্শে সে শিহরিত হচ্ছে।শুভ্র আর এক কানের দুলটা চায়।
শ্রীয়াঙ্কা বলে আমি করে নিচ্ছি।কিন্তু শুভ্র শোনে না।সে নিজেই দুলটা খুঁজে নেয়।তারপর সেটাও পড়িয়ে দেয়।এবার সে শ্রীয়াঙ্কার হারটা পড়িয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কার পিঠের চুলগুলোকে সরিয়ে সে হারটা আটকিয়ে দেয়।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা তার শাড়িটাকে শক্ত করে নিজের মুঠোয় ধরে রেখেছে।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার সামনে এসে দাঁড়ায়।শ্রীয়াঙ্কা চোখ বন্ধ করে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার মুখটা তোলে তারপর আয়নার কিছু যেন খুঁজতে থাকে।তারপর একটা লাল টিপ শ্রীয়াঙ্কার কপালে পড়িয়ে দিয়ে বলে-অপূর্ব লাগছে তোমাকে শ্রী।
শ্রীয়াঙ্কা চোখ খোলে।দুজন দুজনের দিকে অপলকে চেয়ে আছে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা লজ্জা পেয়ে শুভ্রকে সরিয়ে দিয়ে নিজে চলে যেতে গেলে হঠাৎ সে টাল সামলাতে না পেরে পরে যেতে থাকে।শুভ্র ধরে ফেলে আর বলে-এই নিয়ে ক বার হল?
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে ছাড়িয়ে বলে-কী?
শুভ্র-এই নিয়ে আমি তোমাকে চার বার পড়ে যাওয়া থেকে ধরলাম।আগে ছেড়ে দিয়েছি এইবার কিন্তু ছেড়ে দেব না।
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কার দিকে এগোতে থাকে।আর শ্রীয়াঙ্কা পিছতে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা দেখে শুভ্রর মুখে দুষ্টুমির হাসি।
শ্রীয়াঙ্কা হঠাৎ শুভ্রর কাছে এসে শুভ্রর হাত ধরে বলে-তুমি এখন বাইরে যাও।আমি রেডি হব।সুপর্ণার বিয়েতে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।
শুভ্র-হুম,ঠিক বলেছ।চল একসাথে রেডি হই।আমি তোমাকে রেডি করি আর তুমি আমাকে।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কথায় অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।তারপর শুভ্রর হাত ধরে ঘরের বাইরে নিয়ে আসে।
শুভ্র-এই শ্রী কী করছ?
শ্রীয়াঙ্কা ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলে-ওই ঘরে তুমি রেডি হবে।
শুভ্র-কী!
শ্রীয়াঙ্কা-হুম
এই বলে সে দরজা আটকে দেয়।
এদিকে শুভ্র কী করে রেডি হবে তার তো জামা ওই ঘরে।সে তো কিছুই বলতে পারল না।এদিকে শ্রীয়াঙ্কা দরজা আটকে দিয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ায়।চোখ বন্ধ করে শুভ্রর ছোঁয়া অনুভব করে।তারপর চোখ খুলে শুভ্রর পড়িয়ে দেওয়া হারে হাত বোলাতে থাকে আর নিজে নিজে লজ্জা পেতে থাকে।
কিছুক্ষণের মধ্যে শ্রীয়াঙ্কা রেডি হয়ে আসে।শুভ্র দেখে অবাক।লাল বেনারসি আটপৌড়ে করা পরা,হাতে সোনার শাঁখা,পলা আর চুরিতে ভর্তি,গলায় তার পড়িয়ে দেওয়া নেকলেস আর লকেট দেওয়া ছোটো চেন,কানে তার পড়িয়ে দেওয়া ঝুমকো,হালকা মেক আপ,কপালে লাল টিপ,সিঁথিতে সিঁন্দুর,আর চুলটা খোপা করে সুন্দর করে বাঁধা।শ্রীয়াঙ্কাকে দেখে শুভ্রর হার্ট জোরে চলতে শুরু করেছে।
এদিকে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে দেখে বলে-তুমি এখনও রেডি হওনি?
শ্রীয়াঙ্কার কথায় শুভ্রর হুঁশ ফেরে।বলে-কী করে রেডি হব।ওই ঘরে তো আমার জামা কাপড় রাখা।
শ্রীয়াঙ্কা-ও।ভুল হয়ে গেছে।
শুভ্র-ভুল যখন হয়ে গেছে তাহলে রেডিটা তুমি করিয়ে দেবে চল।
শ্রীয়াঙ্কা-কী!
শুভ্র হাসতে হাসতে চলে যায়।শুভ্র রেডি হয়ে এলে দুজনে বেরিয়ে পরে সুপর্ণার বিয়েতে।
রাহুল তখন এসে গেছে।শ্রীয়াঙ্কা আর শুভ্র রাহুলের সাথে কথা বলতে থাকে।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা কথা বলতে বলতে শুভ্রকে দেখতে থাকে।নীল পাঞ্জাবিতে তাকে খুব সুন্দর লাগছে আর শুভ্রর হাসি শ্রীয়াঙ্কাকে পাগল করে দিচ্ছে।
এদিকে মনি আর মাম্পি এসে শ্রীয়াঙ্কাকে ডেকে সুপর্ণার কাছে নিয়ে চলে যায়।সে শুভ্রকে কিছু বলার সুযোগ পায় না।সুপর্ণার সাথে দেখা করতে গেলে সুপর্না বলে-এই শ্রী তোকে পুরো কনের মত লাগছে রে।
শ্রীয়াঙ্কা হেসে বলে-তার মানে তোর মতো তো।
শ্রীয়াঙ্কার কথায় তিনজন হাসতে থাকে।সুপর্না বলে-শুভ্রদা কই রে?
শ্রীয়াঙ্কা-রাহুলের কাছে ছিল।দাঁড়া ডেকে আনছি।
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে ডাকতে গিয়ে খুঁজে পায় না।সে খুঁজতে থাকে।কিন্তু খুঁজে না পেয়ে শুভ্রকে ফোন করে।কিন্তু শুভ্র ফোন ধরে না।শ্রীয়াঙ্কা চিন্তা করতে থাকে।বারবার ফোন করেও ফোনে পায় না।অনেকক্ষণ পরে সে শুভ্রকে দেখতে পায়।শুভ্রকে দেখতে পেয়ে কাছে গিয়ে বলে-কোথায় গিয়েছিলে?
শ্রীয়াঙ্কার কথায় শুভ্র যেন থতমত খেয়ে যায়।বলে-কই কোথাও যায়নি তো।
শ্রীয়াঙ্কা-কিন্তু----
শুভ্র-ওইদিকে মনে হয় বিয়ে শুরু হয়ে গেল।আর তুমি এখানে দাঁড়িয়ে।চল চল।
দুজনে চলে যায়।বিয়ে সবে শুরু হয়েছে।দুজনে শেষ পর্যন্ত বিয়েতে থাকে।তারপর রাত বাড়লে খাওয়া দাওয়া শেষে বাড়ি ফেরে।
শ্রীয়াঙ্কা সারা রাস্তা বিয়ের কথা করতে থাকে।কিন্তু শুভ্র চুপ।শুধু হুম হুম করতে থাকে।তার মনে এই চিন্তা ঘুরপাক করছে।বাড়ি গিয়ে দেখলে শ্রী কী ভাববে।
এদিকে তারা বাড়ি এসে পরে।শ্রীয়াঙ্কা ঘরে ঢোকে।কিন্তু ঢুকে অবাক হয়ে যায়।ঘরে ছোটো একটা আলো জ্বলছে।আর খাটটা সুন্দর করে ফুল দিয়ে সাজানো।শ্রীয়াঙ্কা খাটের কাছে এগিয়ে যায়।শুভ্রও তখন ঘরে এসে পরেছে।দরজা বন্ধ করে সে শ্রীয়াঙ্কার দিকে এগিয়ে যায়।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর দিকে তাকায়।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার হাত ধরে খাটে বসায়।শুভ্রও পাশে বসে।এদিকে শ্রীয়াঙ্কার হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।শুভ্র কী করতে চাইছে সে বুঝতে পারছে না।
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার হাত ধরে তার দিকে চেয়ে থাকে।তারপর পকেট থেকে কিছু বার করে।শ্রীয়াঙ্কা দেখতে থাকে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার অনামিকতে একটা আংটি পড়িয়ে দেয়।শ্রীয়াঙ্কার আংটি দেখে বলে-এইসবের কী দরকার----
শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার ঠোঁটে আঙ্গুল দিয়ে চুপ করতে বলে।শ্রীয়াঙ্কা চুপ করে শুভ্রর দিকে তাকিয়ে থাকে।
শুভ্র বলতে থাকে-সেদিনের সেই দিন আমাদের মান অভিমান ভুল বোঝাবুঝিতে কেটে গেছে।আর আমার দেওয়া কষ্টে তোমার চোখে জল এসেছিল।তোমাকে আমি শুধু কষ্টই দিয়েছিলাম।
এই বলে শুভ্র চুপ করে যায়।শ্রীয়াঙ্কা মাথা নীচু করে থাকে।
শুভ্র-আমি তোমাকে ভালোবাসি শ্রী।তুমি আমার প্রথম ভালোবাসা।আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।আর সারাজীবন ভালোবাসব।
শ্রীয়াঙ্কা কিছু বলতে পারে না।
শুভ্র-শ্রী----
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে কিছু বলতে দেয় না।শুভ্রকে জড়িয়ে ধরে আর বলে-আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি,শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।আর বাসব।
এই বলে সে শুভ্রকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।শুভ্রও শ্রীয়াঙ্কাকে দুহাত দিয়ে নিজের বুকের মধ্যে ধরে।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর কাছে ধরা দিয়ে দেয়।শুভ্র তার  ভালোবাসাতে শ্রীয়াঙ্কাকে ভরিয়ে দেয়।মান অভিমান ভুলে দুটি হৃদয় এক হয়ে যায়।দুটি হৃদয় আজ ভালোবাসাতে পরিপূর্ণ হয়।
ছয় বছর পর
মিষ্টু উঠে পড়।-শুভ্র
ছোটো ছোটো চোখ খুলে তাকায় একটি ছোট্ট মেয়ে।
বাপি,আমি আজ স্কুলে যাব না।----
না,মিষ্টু ওরকম বলতে নেই।-শুভ্র
মেয়েটি উঠে বসে।তখন শ্রীয়াঙ্কা ঘরে ঢুকেছে-এই তুমি এখন কেন ওকে ডাকলে।একটু পরে তো ডাকতে পারতে।
মামনি,আমি আজ যাব না।----
না,সোনা এরকম বলতে নেই-শ্রীয়াঙ্কা
মেয়েটি তখন খাটের উপর উঠে দাঁড়িয়ে বলে-উফ্ফ,আমার তো একটা নাম আছে।আমার নাম শুভাঙ্গী।আর তোমরা আমাকে কী সব নামে ডাক।
এই বলে শুভাঙ্গী ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
শুভ্র-দিলে তো সকাল সকাল আমার মেয়েটাকে রাগিয়ে।
শুভাঙ্গী হল শুভ্র আর শ্রীয়াঙ্কার মেয়ে।দুজনের নামের মিল করে তারা তাদের মেয়ের নাম রেখেছে।
শ্রীয়াঙ্কা-আমি রাগিয়ে দিলাম?তুমিই তো সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠিয়ে ওর মেজাজ খারাপ করে দিলে।
শুভ্র-সকাল কোথায়।আর ওর তো মর্নিং স্কুল।
শ্রীয়াঙ্কা-একটু দেরি করে ডাকলেও হত।সত্যি সারাজীবন শুধু পড়াশোনা আর পড়াশোনা।কোনো কিছু তোমার মধ্যে নেই।আর ছিলও না।তা তো আমি জানি।
শুভ্র-কী নেই আমার মধ্যে,আর কী ছিল না?
শ্রীয়াঙ্কা-কী আবার,এই পড়াশোনা ছাড়া আর কিছু নেই।না ছিল কোনো রোমান্স----
শ্রীয়াঙ্কা মনে মনে হাসতে থাকে।সে বুঝতে পারছে শুভ্র রেগে যাচ্ছে তাও সে থামে না।
শুভ্র রেগে বলে-কী আমার মধ্যে রোমান্স নেই?আর তুমি পড়াশোনা নিয়ে এমন বলছ তুমি যে একজন শিক্ষিকা সেটা কী ভুলে গেছ।
হ্যাঁ,ঠিক শুনেছেন।শ্রীয়াঙ্কা একজন হাইস্কুলের বাংলার শিক্ষিকা।আর তা শ্রীয়াঙ্কার চেষ্টায় আর শুভ্রর অনুপ্রেরনায় সফল হয়েছে।আর শুভ্রর উদ্যেগে শ্রীয়াঙ্কা একটা ছোটোদের নাচের স্কুল খুলেছে।শ্রীয়াঙ্কা আগেও নাচ শেখাত।কিন্তু বিয়ের পর তা আর করা হয়নি।কিন্তু পরে শুভ্র জানতে পেরে শ্রীয়াঙ্কাকে এগিয়ে দিয়েছে।শ্রীয়াঙ্কা সপ্তাহে একদিন করে নাচ শেখায়।আর শুভ্র এখনও আড়াল থেকে শ্রীয়াঙ্কার নাচ দেখে কারন শ্রীয়াঙ্কার নাচ এখনও তার মনে দাগ কেটে যায়।
শ্রীয়াঙ্কা-ভুলে যাব কেন?তাই বলে সারাক্ষণ পড়াশোনা নিয়ে থাকতে হবে।
শুভ্র-এই তুমি----
এই সময় শুভাঙ্গী ঘরে আসে।আর পিছনে পিছনে আসে মমতা দেবী-শুভা ওরকম কর না।দুধটা খেয়ে নাও।
মমতা দেবী আর কল্যান বাবুকে শ্রীয়াঙ্কা নিজের কাছে এনে রেখেছে।তারা আসতে চায়ছিল না।কিন্তু শ্রীয়াঙ্কা শোনে না।মমতা দেবী তার রাধা কৃষ্ণকে ছেড়ে  আসতে না চাইলে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে বলে তাদের বাড়িতে রাধা কৃষ্ণকে আনে।আবার বড় করে পূজা করে প্রতিষ্ঠিত করে।
মমতা দেবী-শুভা দুধটা খেয়ে নাও।
শুভা তখন শ্রীয়াঙ্কার পিছনে লুকিয়ে থাকে।শ্রীয়াঙ্কা শুভাঙ্গীর হাত ধরে মমতা দেবীর কাছে দিয়ে বলে-দিদুনের কথা শোনো।
শুভাঙ্গী-না,শুনব না।
শুভ্র-কেন মা,কী হয়েছে?
শুভাঙ্গী-কী আবার আমার তো একটা নাম আছে।তোমরা আমাকে সেইনামে ডাক না কেন?
শুভাঙ্গীর কথায় সবাই হেসে ফেলে।ছোটো শুভাঙ্গী সবাইয়ের চোখের মনি।তাই যে যখন পারে তাদের আদরের নাম দিয়ে তাকে ডাকে।
শ্রীয়াঙ্কা কাছে এসে বলে-ঠিক তো,আমার মেয়ের তো একটা নাম আছে।তোমরা কেউ সেই নামে কেন ডাক না।তাই না শুভাঙ্গী।
শুভাঙ্গী আনন্দে মাথা নাড়ে।তার দুদিকে বেঁধে দেওয়া ঝুটি দুটো নড়তে থাকে।
মমতা দেবী দুধের গ্লাস এগিয়ে দিলে সে দুধ খেয়ে নিয়ে বলে-চল বাপি।দেরি হয়ে যাচ্ছে।
শুভ্র-লক্ষী মেয়ে আমার।
শুভ্রর সাথে শুভাঙ্গী স্কুলে চলে যায়।মমতা দেবী শ্রীয়াঙ্কাকে জিজ্ঞাসা করেন-তুই আজ কখন বার হবি।
শ্রীয়াঙ্কা-দেরি আছে মানি।বাবা কোথায় মানি?
মমতা দেবী-চা খাচ্ছে।আমি রমার কাছে যাচ্ছি।ওকে বলি কী রান্না হবে।
শ্রীয়াঙ্কা-আচ্ছা মানি।
মমতা দেবী চলে যান।শ্রীয়াঙ্কা নিজের ঘর গোছাতে থাকে।এদিকে শুভ্র শুভাঙ্গীকে স্কুলে দিয়ে ফিরে আসে।ঘরে এসে সে দরজা বন্ধ করে দেয়।দরজা বন্ধ করার শব্দে শ্রীয়াঙ্কা তাকিয়ে দেখে শুভ্রকে।
কী হল দরজা বন্ধ করলে কেন?-শ্রীয়াঙ্কা
শুভ্র এগিয়ে আসে আর বলতে থাকে-তখন তুমি কী বলছিলে?
শ্রীয়াঙ্কা বিছানা তুলতে তুলতে বলে-কী?
শুভ্র-এই আমার মধ্যে কিছু নেই,রোমান্স----
শ্রীয়াঙ্কা ফিরে তাকিয়ে বলে-কই আমি এসব কখন বললাম।আর ডিসট্রাব কর না।দেরি হয়ে যাচ্ছে।দুজনকেই বার হতে হবে তো।
শ্রীয়াঙ্কা ইচ্ছা করে বলে।
শুভ্র-তুমি বলনি?
শ্রীয়াঙ্কা মুখে হাসি চেপে বলে-না,আমি বলিনি।
শুভ্র-তাই
এই বলে সে শ্রীয়াঙ্কাকে ধরতে গেলে শ্রীয়াঙ্কা খাটের উপর দাঁড়িয়ে বলে-এই আসবে না।
শুভ্রও খাটে উঠতে যাবে তখন শ্রীয়াঙ্কা নীচে নেমে পরে।দুজনে ছোটাছুটি করতে থাকে।শেষে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কাকে ধরতে গিয়ে খাটের উপর দুজনেই পরে যায়।শ্রীয়াঙ্কার গায়ের উপর শুভ্র।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার হাত দুটো শক্ত করে ধরে।
শুভ্র-কী বলনি?
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকে আর বলে-হুম,বলেছি।এবার সরো।
শুভ্র-ও তাই।এই কয়েক বছরে আমার মধ্যে কোনো রোমান্স ছিল না।তাহলে আবার সেইরাতের ব্যাবস্থা করি।সেইভাবেই আবার ঘরটা----
শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রকে ঠেলে ফেলে দিয়ে বলে-শুধু উল্টো পাল্টা কথা।
এই বলে শ্রীয়াঙ্কা উঠে যাচ্ছে তখন শুভ্র আবার শ্রীয়াঙ্কার হাত ধরে টানে।শুভ্রর গায়ের উপর শ্রীয়াঙ্কা পরে যায়।তাতে শ্রীয়াঙ্কা আলগা খোঁপা খুলে যায়।শ্রীয়াঙ্কা উঠতে গেলে শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কোমর ধরে নিজের কাছে টেনে আনে।দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার চুলগুলোকে কানের পাশে গুঁজে দেয়।তারপর শ্রীয়াঙ্কার মুখটা কাছে এনে কপালে কিস করে।শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর জামা শক্ত করে ধরে আছে।শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কানে আস্তে করে বলে-আমার মিষ্টিটা দেবে শ্রী?
শুভ্রর কথায় শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে বলে-অসভ্য।
শুভ্র হেসে শ্রীয়াঙ্কার চুলের মধ্যে হাত বোলাতে থাকে আর বলে-পাগলী একটা।
মান অভিমানে ভরা এই হল তাদের ভালোবাসার নীড়।কয়েকবছরের ছোটো ছোটো মান অভিমানে তাদের ভালোবাসার নীড় আরো শক্ত হয়ে উঠেছে।ভালোবাসার বন্ধন দৃঢ় হয়েছে।শ্রীয়াঙ্কা বারবার শুভ্রর প্রেমে পড়েছে।আর শুভ্র শ্রীয়াঙ্কার কাছে নিজের ভালোবাসাকে উজার করে দিয়েছে।তাদের জীবন এখন ভালোবাসাতে কানায় কানায় পূর্ণ।দুজন দুজনের বিপদের সাথী হয়ে পথ চলতে শুরু করেছে।যেখানে তাদের কেউ আলাদা করতে পারবে না।কিন্তু তাদের মান অভিমান চলতেই থাকবে।আর সেই মান অভিমানে সম্পর্কের দৃঢ়তা বাড়বে।আবার মান অভিমান দূরে সরিয়ে শ্রীয়াঙ্কা শুভ্রর বুকে ঝাঁপিয়ে পরবে।আর শুভ্র তার শ্রীয়াঙ্কাকে শক্ত করে নিজের মধ্যে আগলে রাখবে।এই ভাবেই তাদের ভালোবাসার নীড় গড়ে উঠবে।এই ভাবেই হয়ে উঠবে তারা পরস্পরের সুখ দুঃখের সাথী।আর তাদের মুখে একটাই কথা শোনা যাবে- আমি শুধু তোমাকেই ভালোবাসি।
                               সমাপ্ত

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ

বিঃদ্রঃ - এই পোস্টের কিছু ছবি গুগল ফেইসবুক ও বিভিন্ন সাইট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে । কারো কোনো আপত্তি থাকলে কমেন্ট করুন - ছবি রিমুভ করে দেয়া হবে।

আপনি আসলেই নিওটেরিক আইটির একজন মূল্যবান পাঠক । শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story এর আর্টিকেলটি সম্পন্ন পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ ধন্যবাদ । এই আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কেমন লেগেছে তা অবস্যয় আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন । আরো পড়ুনঃ -

শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story, শুধু তোমাকেই ভালোবাসি - আবেগি ভালোবাসার গল্প - Emotional love story
পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
কোন মন্তব্য নেই
এই পোস্ট সম্পর্কে আপনার মন্তব্য জানান

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন - অন্যথায় আপনার মন্তব্য গ্রহণ করা হবে না ।

comment url